অস্ট্রেলিয়ায় শিশুদের জন্য নিষিদ্ধ হচ্ছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম
২২ নভেম্বর ২০২৪ ১২:০০
অস্ট্রেলিয়ার সরকার পরিকল্পনা করেছে, ১৬ বছর বয়স পর্যন্ত শিশুদের এক্স, টিকটক, ফেসবুক ও ইন্সটাগ্রাম-সহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে দূরে সরিয়ে রাখতে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হবে। এ পরিকল্পনা রাজনৈতিকভাবে জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে। বিরোধীদলও বলেছে, সরকার যদি না দ্রুত পদক্ষেপ নিত তাহলে কয়েক মাসের মধ্যে অনুষ্ঠিত হতে চলা নির্বাচনে বিজয় লাভের পর তারাও একই কাজ করত। অস্ট্রেলিয়ার আটটি প্রদেশ ও মূল ভূখণ্ডের নেতারা সবাই এ পরিকল্পনাকে সমর্থন করেছেন। যদিও ক্ষুদ্রতম রাজ্য তাসমানিয়ার দাবি, বয়সের সীমা ১৪-তে নামিয়ে আনা হোক। তবে প্রযুক্তি ও শিশু কল্যাণবিষয়ক বিশেষজ্ঞরা এ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে সরব হয়েছেন। ১৪০ জনের বেশি এমন বিশেষজ্ঞ প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজকে লেখা খোলা চিঠিতে ১৬ বছরের বয়সসীমাকে নিন্দা জানিয়েছেন। তাদের মতে, এটা ঝুঁকিকে কার্যকরীভাবে সমাধান করার ক্ষেত্রে এটা অতি স্থুল একটা হাতিয়ার।
সরকারের প্রস্তাবের অন্যতম সমর্থক সাইবার নিরাপত্তাবিষয়ক প্রচারক সোনিয়া রায়ান। ব্যক্তিগত ট্র্যাজেডি থেকে তিনি জানেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম শিশুদের জন্য কতটা বিপজ্জনক হতে পারে। দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়ার এক প্রদেশে তার ১৫ বছর বয়সী মেয়ে কারলি রায়ানকে ২০০৭ সালে হত্যা করে ৫০ বছর বয়সী এক শিশুকামী (পেডোফাইল)। অনলাইনে আততায়ী নিজেকে কিশোর বলে পরিচয় দিয়েছিল। ডিজিটাল যুগের নির্মম ও নৃশংস এ মাইলফলকে লেখা রয়েছে কারলির নাম। তিনিই অস্ট্রেলিয়ার প্রথম ব্যক্তি, যিনি অনলাইন শিকারীর হাতে প্রাণ দিয়েছেন। কার্টিন বিশ্ববিদ্যালয়ের ইন্টারনেটবিদ্যার অধ্যাপক টমা লিভারের আশঙ্কা, সরকার উল্টা প্ল্যাটফর্মগুলোকে ব্যবহারকারীদের পরিচয় বা শনাক্তকরণের তথ্য ধারণে সুবিধা করে দেবে। সরকার ইতোমধ্যে বলেছে, প্রত্যেকের নির্ধারিত বয়সসীমা পূরণ হচ্ছে কি না, তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব শিশু বা তার অভিভাবকের নয়, বরং এ দায়িত্ব থাকবে প্ল্যাটফর্মগুলোর ওপর। ভিওএ।