কে হচ্ছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট : কমলা না ট্রাম্প


১ নভেম্বর ২০২৪ ১৭:১৯

॥ ফেরদৌস আহমদ ভূইয়া॥
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বের এক নম্বর পরাশক্তি। বলা যায়, অপ্রতিদ্বন্দ্বী এক পরাশক্তি। আর হবেই না কেন- বিশ্বের রাজনীতি, অর্থনীতি, শিক্ষা, বিজ্ঞান ও প্রকৌশল এবং কূটনীতি থেকে শুরু করে সামরিক সক্ষমতায় দেশটি এখনো সবার ওপরে। এমনই একটি ধনী ও সমৃদ্ধ রাষ্ট্রে আগামী ৫ নভেম্বর মঙ্গলবার প্রেসিডেন্ট নির্বাচন হতে যাচ্ছে। ব্যতিক্রম পদ্ধতির এক ভোটের মাধ্যমে নির্বাচিত হবেন যুক্তরাষ্ট্রের ৬০তম প্রেসিডেন্ট। সারা বিশ্বের নজর এখন এ নির্বাচনের দিকে। ঐতিহ্যগতভাবেই মার্কিন এ প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডেমোক্রেটিক পার্টি ও রিপাবলিকান পার্টির দুই প্রার্থীর মধ্যে লড়াই হয়। সেই ধারাবাহিকতায় এবার লড়াই হচ্ছে। কমলা হ্যারিস ও ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যে। আগামী ৫ নভেম্বর মঙ্গলবার মার্কিন ভোটাররা যুক্তরাষ্ট্রে ৫০ অঙ্গরাজ্যের ৫৩৮ জন ইলেক্টোরাল কলেজ নির্বাচন করবেন। যুক্তরাষ্ট্রের ভোটাররা সরাসরি প্রেসিডেন্ট নির্বাচন করেন না, ইলেক্টোরাল কলেজ প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত করে থাকেন। এ ইলেক্টোরাল কলেজ প্রতিনিধিরা আগামী জানুয়ারি মাসের প্রথম সপ্তাহে ওয়াশিংটন ডিসিতে মিলিত হয়ে পরবর্তী চার বছরের জন্য একজন প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত করবেন।
ইলেক্টোরাল কলেজ
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জনগণের সরাসরি ভোটে নির্বাচিত হন না। ইলেক্টোরাল কলেজের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ও ভাইস প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়ে থাকেন। যুক্তরাষ্ট্রের ৫০টি অঙ্গরাজ্যের ৫৩৮টি ইলেক্টোরাল কলেজ রয়েছে। প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হতে কমপক্ষে ২৭০টি ইলেক্টোরাল কলেজ ভোট পেতে হয়। বিজয়ী প্রার্থীর রানিংমেট ভাইস প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন। প্রতিটি অঙ্গরাজ্যের প্রতিনিধি পরিষদের আসন সংখ্যা ও সিনেটের দুই আসনের বিপরীতে ইলেক্টোরাল কলেজের সংখ্যা নির্ধারণ করা হয়।
যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় রাজ্য ক্যালিফোর্নিয়ায় সবচেয়ে বেশি ৫৪টি ইলেক্টোরাল কলেজ ভোট রয়েছে। অন্যদিকে কম জনসংখ্যার অঙ্গরাজ্য যেমন ওয়াইওমিং, আলাস্কা ও নর্থ ডাকোটা এবং রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসিতে ন্যূনতম তিনটি ইলেকটোরাল কলেজ ভোট রয়েছে।
সাধারণত কোনো একটি অঙ্গরাজ্যে সাধারণ ভোটারদের ভোটে যিনি জয়ী হন, সেখানের সব ইলেক্টোরাল কলেজ ভোট পান তিনি। উদাহরণস্বরূপ যদি একজন প্রার্থী ক্যালিফোর্নিায় ৫০ দশমিক ১ শতাংশ ভোট পান, তাহলে তাকে সেই রাজ্যের সবকটি তথা ৫৪টি ইলেকটোরাল কলেজ সেই প্রার্থী পাবেন। একজন প্রার্থী যদি বিপুল ভোটেও জয় পান, তবুও তিনি সেখানের একইসংখ্যক ইলেক্টোরাল কলেজ ভোট পাবেন।
যুক্তরাষ্ট্রের কোন রাজ্যে কতটি ইলেক্টোরাল কলেজ
আলাবামা-৯, কেনটাকি-৮, উত্তর ডাকোটা-৩, আলাস্কা-৩, লুইসিয়ানা-৮, ওহিও-১৭, অ্যারিজোনা-১১, মেইন-৪, ওকলাহোমা-৭, আরকানসাস-৬, মেরিল্যান্ড-১০ ওরেগন-৮, ক্যালিফোর্নিয়া-৫৪, ম্যাসাচুসেটস-১১, পেনসিলভানিয়া-১৯, কলোরাডো-১০, মিশিগান-১৫, রোড আইল্যান্ড-৪, কানেকটিকাট-৭, মিনেসোটা-১০, দক্ষিণ ক্যারোলাইনা-৯, ডেলাওয়্যার-৩, মিসিসিপি-৬, সাউথ ডাকোটা-৩, ডিস্ট্রিক্ট অব কলম্বিয়া-৩, মিসৌরি- ১০, টেনেসি- ১১, ফ্লোরিডা-৩০, মন্টানা-৪, টেক্সাস-৪০, জর্জিনিয়া-১৬, নেব্রাস্কা-৫, উটাহ-৬, হাওয়াই-৪, নেভাদা-৬, ভার্মন্ট-৩, আইডাহো-৪, নিউ হ্যাম্পশায়ার-৪, ভার্জিনিয়া-১৩, ইলিনয়-১৯, নিউ জার্সি-১৪, ওয়াশিংটন-১২, ইন্ডিয়ানা-১১, নিউ মেক্সিকো-৫, ওয়েস্ট ভার্জিনিয়া-৪, আইওয়া-৬, নিউইয়র্ক-২৮ , উইসকনসিন-১০, কানসাস-৬, উত্তর ক্যারোলাইনা-১৬ ও ওয়াইওমিং-৩ ভোট।
রাজনৈতিক দলের মনোনয়ন
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে অসংখ্য রাজনৈতিক দল থাকলেও প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে বড় দুই দল ডেমোক্রেটিক পার্টি ও রিপাবলিকান পার্টির মধ্যেই প্রতিন্দ্বন্দ্বিতা হয়ে থাকে। এবারও যুক্তরাষ্ট্রে ডেমোক্রেটিক পার্টির মনোনয়ন পেয়ে প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হিসেবে লড়াইয়ে আছেন বর্তমান ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিস আর রিপাবলিকান পার্টির মনোনীত প্রার্থী হচ্ছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট প্রার্থী মনোনয়নও একটি দীর্ঘ প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে হয়ে থাকে। প্রতিটি অঙ্গরাজ্যের দলের প্রাইমারিতে ডেলিগেটদের ভোটে প্রেসিডেন্ট প্রার্থী মনোনীত হন। যে প্রার্থী দলের ডেলিগেটদের বেশি ভোট পান, সেই প্রার্থীই প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের দলের প্রার্থী হিসেবে লড়াই করে থাকেন। বাংলাদেশের মতো দলের প্রধানই বা দলের প্রধান যাকে পছন্দ করেন, তাকে প্রার্থী করার কোনো সুযোগ নেই। যেমন ডেমোক্রেটিক দলের প্রেসিডেন্ট হচ্ছে জো বাইডেন ও দলের চেয়ারপারসন টম পেরেজ। কিন্তু এবারের প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হচ্ছেন কমলা হ্যারিস। এ কমলা হ্যারিস কিন্তু দলের প্রধান নন, কিন্তু দলের ডেলিগেটরা তাকে ভোট দিয়ে প্রেসিডেন্ট প্রার্থী করেছেন। অপরদিকে রিপাবলিকান পার্টির চেয়ারপারসন হচ্ছেন মাইকেল হোয়াটন, কিন্তু দলের প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। রিপাবলিকান পার্টিতেও দলের ডেলিগেটদের ভোটে ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রে যেমন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে সুষ্ঠু ভোট হয়, তেমনিভাবে প্রার্থী নির্বাচনেও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াই অনুসরণ করা হয়ে থাকে। বাংলাদেশের মতো যাকে ইচ্ছা তাকেই প্রার্থী মনোনয়ন করার কোনো সুযোগ নেই। যুক্তরাষ্ট্র তার নেতা নির্বাচনে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে সুষ্ঠুভাবে মেনে চলেন।
যুক্তরাষ্ট্রের পরিচিতি
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইংরেজিতে যার নাম United States of America বলা হয়ে থাকে। উত্তর আমেরিকা মহাদেশে অবস্থিত পঞ্চাশটি অঙ্গরাজ্য, একটি যুক্তরাষ্ট্রীয় জেলা ও পাঁচটি অঞ্চল এবং কিছু ক্ষুদ্র বহিঃস্থ দ্বীপপুঞ্জ নিয়ে গঠিত যুক্তরাষ্ট্রীয় সাংবিধানিক প্রজাতন্ত্র। এ দেশটি ‘আমেরিকা’ নামেও পরিচিত।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আয়তন প্রায় ৯৮.৩ লাখ বর্গকিলোমিটার (৩৭.৯ লাখ বর্গমাইল)। দেশটির জনসংখ্যা প্রায় ৩২ কোটি ৮২ লাখ । স্থলভূমির আয়তন ও জনসংখ্যার হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম দেশ। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বের বৃহত্তম তথা এক নম্বর অর্থনীতি দেশ। ২০০৮ সালে দেশের আনুমানিক জিডিপি হার ছিল ১৪.৪ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা বিশ্ব জিডিপির এক-চতুর্থাংশ এবং ক্রয়ক্ষমতা সমতায় বিশ্ব জিডিপির এক-পঞ্চমাংশ।
প্রেসিডেন্ট নির্বাচন ও মার্কিন পররাষ্ট্রনীতি
প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের সাথে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতি ও সামরিকনীতি বিশেষভাবে জড়িত। বিশেষ করে দেশটি অভিবাসননীতি থেকে শুরু করে বিশে^র গণতন্ত্র, শান্তি, উন্নয়ন, যুদ্ধ ও স্থিতিশীলতাসহ অনেক কিছুই এ নির্বাচনের সাথে সম্পৃক্ত। যুক্তরাষ্ট্র তার বিশেষ ক্ষমতা ব্যবহার করে বিশ^ ব্যবস্থায় একটি বিশেষ প্রভাব বজায় রাখার পাশাপাশি ক্রমাগতভাবে বাড়ানোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। আর ভোটের দিন যতই এগিয়ে আসছে, নির্বাচন-পরবর্তী মার্কিন পররাষ্ট্রনীতি কি হবে- তা নিয়ে বিশ^ব্যাপী আগ্রহ বাড়ছে এবং প্রশ্ন সৃষ্টি হচ্ছে। বিশেষ করে ফিলিস্তিনিদের স্বাধিকার, ইসরাইলের আগ্রাসীনীতি ও ফিলিস্তিনিদের ওপর অব্যাহত হামলা, ইউক্রেন যুদ্ধ, রাশিয়া ও ইরানের সাথে যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক সম্পর্ক, ভারত, পাকিস্তান ও বাংলাদেশনীতি, চীনের সাথে বাণিজ্যনীতি থেকে শুরু করে বিশ^ব্যাপী গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থা নিয়ে পরবর্তী প্রেসিডেন্ট কি পররাষ্ট্রনীতি, সামরিকনীতি ও বাণিজ্যনীতি প্রণয়ন ও প্রয়োগ করবেন, তা নিয়ে বিভিন্ন রকম বিচার-বিশ্লেষণ চলছে।
কেনীয় সাংবাদিক প্যাট্রিক গাটারা আল-জাজিরায় এক নিবন্ধে বলেছেন, ‘কমলা হ্যারিস ও ডোনাল্ড ট্রাম্প উভয়েই গাজা ও লেবাননে ইসরাইলি আগ্রাসন বিষয়ে চরমপন্থি শ্বেতাঙ্গ দৃষ্টিভঙ্গিকে সমর্থন করছেন। অর্থাৎ যুক্তরাষ্ট্রের সহযোগী ইসরাইল যে ধ্বংস ও জাতিগত নির্মূল অভিযান পরিচালনা করছে, সেখানে তাদের সায় আছে। যদিও কমলা হ্যারিস ‘যুদ্ধ’ শেষ করার আহ্বান জানিয়েছেন। বর্তমান প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনই তার পছন্দের উত্তরসূরি হিসেবে তাকে মনোনয়ন দিয়েছেন। জো বাইডেনের হুমকিÑ ইসরাইল যদি যুদ্ধের অস্ত্র হিসেবে মানুষকে অনাহারে মারার পরিকল্পনা করে, তবে ইসরাইলকে অস্ত্র সরবরাহ বন্ধ করে দেবেন। তার সহযোগীদের কথা, এটা শুধু রাজনৈতিক বয়ান। কমলা হ্যারিস বলেছেন, তিনি ১৯৬৭ সাল থেকে ফিলিস্তিনের জমি অবৈধভাবে দখল করে থাকা রাষ্ট্র ইসরাইলে অস্ত্র সরবরাহ অব্যাহত রাখবেন। যদিও ইসরাইলের সাবেক জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের উপপরিচালক ইরান এটজিয়ন স্বীকার করেছেন, ইসরাইল গাজায় যুদ্ধাপরাধ এবং ফিলিস্তিনিদের জাতিগতভাবে নির্মূল কাজে যুক্ত রয়েছে।
ডোনাল্ড ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টিকে খ্রিষ্টানবাদী চরমপন্থি জঙ্গিদের রাজনৈতিক শাখা হিসেবে বিবেচনা করা হয়, যারা বিশ্বাস করে ইসরাইল প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে বিশ্বের শেষ ভালো ও মন্দের মধ্যে চূড়ান্ত যুদ্ধের সূচনা হবে। এ যুদ্ধে অংশগ্রহণ তাদের স্বর্গে মসিহর সঙ্গে দেখা করার মাধ্যম হবে। সে কারণেই রিপাবলিকানদের ইসরাইলে অস্ত্র সরবরাহের ওপর কোনো বিধিনিষেধের বিরোধিতা না করা আশ্চর্যজনক বিষয় নয়। তাছাড়া ট্রাম্প ও কমলা হ্যারিস উভয়েই ইসরাইলী দখলদারিত্বকে অবৈধ ঘোষণা করে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতের রায়কে মানতে অস্বীকার করেছেন। অর্থাৎ তারা আন্তর্জাতিক মানবিক আইন এবং আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন প্রয়োগের বিরোধিতা করেছেন। এমনকি অনেক আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থার পাশাপাশি জাতিসংঘের অনুসন্ধানেও যে বের হয়ে এসেছে, ইসরাইল ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে বর্ণবাদী আচরণ করছে, তাও তারা স্বীকার করেন না।’ তাই ইসরাইল পলিসির ব্যাপারে কমলা হ্যারিস ও ডোনাল্ড ট্রাম্পের নীতিমালা একই। নির্বাচনে অওচঅঈ উভয় উভয় প্রার্থীকে তহবিল যোগান দেয়। তবে মার্কিন পররাষ্ট্রনীতি কি হবে তাও পেছনে কলকাঠি নাড়ছে ইহুদি লবি আইল্যান্ড।
বর্তমান প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের পররাষ্ট্রনীতির একটি বড় থিম ছিল বিশ^ব্যাপী গণতন্ত্রকে এগিয়ে নেয়া। কিন্তু তার উত্তরসূরি কমলা হ্যারিস যদি প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন, তাহলে কী করবেন, তা স্পষ্ট করে কিছু জানা যাচ্ছে না। তবে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগে প্রার্থীরা যত ভালো কথাই বলুক না কেন, পরবর্তী পর্যায়ে তারা সেই নীতির ওপর টিকে থাকেন না। বিশ^ব্যাপী বিভিন্ন ঘটনাপ্রবাহ ও বিশ^ রাজনীতিতে বিশ^ রাজনৈতিক নেতাদের আচরণ ও নীতিমালার কারণে মার্কিন প্রেসিডেন্ট তাদের পররাষ্ট্রনীতি থেকে সরে যান। তবে সব শেষে মার্কিন প্রেসিডেন্টরা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থেই তাদের পররাষ্ট্রনীতি থেকে শুরু করে সামরিক ও অর্থনৈতিক নীতিমালা প্রণয়ন ও প্রয়োগ করে থাকেন।
কে হচ্ছেন পরবর্তী প্রেসিডেন্ট
যুক্তরাষ্ট্রের পরবর্তী প্রেসিডেন্ট কে হচ্ছে, তা ৫ নভেম্বরের আগে বলা কঠিন। তবে যেসব জরিপ করা হয়েছে, তাতে বোঝা যাচ্ছে, ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিস ও সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যে ভোটে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে। অনেক বিশ্লেষক মনে করেন, কয়েক দশকের মধ্যে এবারই নির্বাচনে সবচেয়ে বেশি প্রতিদ্বন্দ্বিতা হতে চলেছে। যুক্তরাষ্ট্রে ভোটের আগে বিভিন্ন সংস্থা হরেক রকমের জরিপ ও সমীক্ষা করে থাকে। যদিও সবসময় এসব জরিপের ফলাফল সঠিক হয় না। আল-জাজিরা, সিএনএন ও বিবিসিসহ বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম এ নির্বাচনের ওপর জরিপ চালিয়েছে।
মার্কিন জাতীয় জরিপগুলোর গড়ে ট্রাম্পের চেয়ে কিছুটা এগিয়েই আছেন কমলা হ্যারিস। এবিসি নিউজ মালিকানাধীন ওয়েবসাইট ফাইভথার্টিএইটের সর্বশেষ হালনাগাদ জরিপ অনুযায়ী দেখা গেছে, জরিপে ৪৮ শতাংশ সমর্থন কমলার এবং ৪৬ দশমিক ৬ শতাংশ ট্রাম্পের। প্রচারণার প্রথম কয়েক সপ্তাহেই সমর্থনে এগিয়ে যান কমলা হ্যারিস। এরপর থেকে অব্যাহত সমর্থনে আগস্টের শেষ নাগাদ ৪ পয়েন্টে এগিয়ে যান তিনি।
আল-জাজিরার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নির্বাচনে শেষ পর্যন্ত কে জিততে চলেছেন, সে সম্পর্কে আপনাকে ধারণা দিতে পারে যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ারবাজারের পরিস্থিতি। অন্তত বিগত অনেকগুলো বছরের শেয়ারবাজারের রেকর্ড দেখে আপনি ভোটের ফলাফল সম্পর্কে একটি ধারণায় পৌঁছাতে পারেন।
যুক্তরাষ্ট্রের ৫০০টি বড় তালিকাভুক্ত কোম্পানির শেয়ারের লেনদেন আর মূল্য পরিস্থিতি সম্পর্কে আপনাকে জানায় এসঅ্যান্ডপি ৫০০ সূচক। ১৯২৮ সাল থেকে তারা এ কাজটি করছে। এ সূচক বিশ্লেষণ করে গত ২৪টি নির্বাচনের মধ্যে ২০টির ফলাফল সম্পর্কে অগ্রিম ধারণা পাওয়া গেছে বলে বিশ্লেষণ করেছে আর্থিক সেবা কোম্পানি এলপিএল ফাইন্যান্সিয়াল।
গত ১৫টি নির্বাচনের ১২টিতেই দেখা গেছে, ভোটের দিনের তিন মাস আগে থেকে যদি শেয়ারবাজারের ঊর্ধ্বগতি বজায় থাকে, তাহলে হোয়াইট হাউস ক্ষমতাসীন দলের নিয়ন্ত্রণেই থেকে যায়। অন্যদিকে বাজারে নেতিবাচক পরিস্থিতি বিরাজ করলে ক্ষমতাসীন দল নির্বাচনে হারে। ৯টি নির্বাচনের মধ্যে ৮টির ক্ষেত্রেই এমনটা দেখা গেছে। পূর্বাভাস দেওয়ার যত মডেল আছে, সেগুলোর বিবেচনায় এটিকে খুব খারাপ বলা যাবে না।
ভোটের বাকি আছে মাত্র কয়েকদিন। আগস্ট মাসের গোড়ার দিকের তুলনায় এখন পর্যন্ত এসঅ্যান্ডপি ৫০০ সূচক ১১ দশমিক ৮ শতাংশ বেড়েছে। সুতরাং আগামী কয়েকদিনে যদি নাটকীয় কিছু না ঘটে এবং শেয়ারবাজারে বড় ধরনের পতন না ঘটে, তাহলে ঐতিহাসিক এ ধারা কমলা হ্যারিসের পক্ষেই যাবে। তবে কে হচ্ছেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ৬০তম প্রেসিডেন্ট, তা জানতে আগামী ৫ নভেম্বর মঙ্গলবার পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।