জামায়াতে ইসলামীর ইতিবাচক রাজনীতিতে এগিয়ে যাচ্ছে দেশ

প্রিন্ট ভার্সন
২৬ মার্চ ২০২৬ ২০:৫১

॥ হারুন ইবনে শাহাদাত ॥
২০২৪-এর ৩৬ জুলাইয়ের পর দেশের রাজনীতিতে একটি নতুন গতি লক্ষ করা গেছে। পুলিশ পালিয়ে গেলেও জনগণের প্রচেষ্টায় শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষা হয়েছে কম করে হলেও ১০ দিন, সফলভাবে কাজ করেছে বিপ্লবী ছাত্র-জনতা। তাদের তৎপরতার কারণে নব্য পরিচয়ে চাঁদাবাজ, সন্ত্রাসীরা উঁকি দিতে গিয়ে নিজেরাই আবার মুখ লুকিয়েছিল। ফ্যাসিস্টবিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে লক্ষ করা গেছে ঐক্যের সুর। ফ্যাসিস্টদের রেখে যাওয়া সংবিধান ছুড়ে ফেলে ইনসাফভিত্তিক নতুন রাষ্ট্র গড়ার প্রত্যয়ে সংবিধান ও রাষ্ট্র সংস্কারের কাজও শুরু হয়েছিল জোরেশোরে। সংখ্যানুপাতিক বা সমানুপাতিক নির্বাচন ব্যবস্থার পক্ষে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীসহ অনেকগুলো রাজনৈতিক দলের প্রচারে জনগণের প্রত্যাশা বাড়ছিল।
চাঁদাবাজি, দখলবাজির পুরনো সামন্তবাদী রাজনৈতিক বন্দোবস্তের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর শক্ত অবস্থানের কারণে ইতিবাচক ধারায় গতি আসে। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল- বিএনপিসহ পুরনো ধারার দলগুলোর মধ্যে ইতিবাচক পরিবর্তন লক্ষ করে রাজনীতি বিশ্লেষকরা ফারসি ভাষার বিখ্যাত কবি শেখ সাদীর কবিতা- “একদা স্নানের আগারে বসিয়া হেরিনু মাটির ঢেলা,/নাকে লয়ে তারে শুকায়ে দেখিনু সুবাস রয়েছে মেলা।/কহিনু, ‘কস্তুরি তুমি? না কি আতর-দান,/তোমার গায়েতে রয়েছে সুবাস, তুমি কি গুলিস্তান?’/মাটি কহে, ‘আমি ক্ষুদ্র মাটির ঢেলা,/কোনো গুণ নাই মোর, আমি অতি অবহেলা।’/কিন্তু গোলাপের সাথে ছিলাম বসে,/তাই গোলাপের সুবাস মিশেছে মোর শেষে।/সৎ সঙ্গে স্বর্গবাস, অসৎ সঙ্গে সর্বনাশ।” নতুন করে স্মরণ করছিলেন।
বিএনপির ইতিবাচক পরিবর্তনগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো- ১. চাঁদাবাজির কারণে বিপুলসংখ্যক নেতা-কর্মীকে বহিষ্কার। ২. বিতর্কিতদের অনেককেই মনোনয়ন না দেয়া। ৩. সরকার গঠনের সময় বাকি বিতর্কিতদের মন্ত্রিপরিষদের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব না দেয়া। ৪. ট্যাক্স ফ্রি গাড়ি এবং সরকারি প্লট না নেওয়ার ঘোষণা। ৫. নির্বাচনের আগে হ্যাঁ ভোটের পক্ষে অবস্থান। ৬. বার বার সংবিধানের কথা বললেও এখন পর্যন্ত জুলাই বিপ্লবের পক্ষে অবস্থান ঘোষণা। ৭. ভারতের তীব্র চাপের পরও জনগণের আবেগকে গুরুত্ব দিয়ে নিরাপদ অবস্থান বজায় রেখে দেশটির সাথে সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়া।
উল্লেখিত বিষয়গুলো নিয়ে সরকারের সুস্পষ্ট অবস্থান এখনো ধোঁয়াশার মধ্যে মনে হওয়ার কারণ সম্পর্কে বিএনপির একাধিক সূত্রে জানা গেছে, এটি দলের সর্বসম্মত অবস্থানের চিত্র নয়। ইন্ডিয়ান লবির বেশামাল ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, ‘বিএনপিকে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বিপরীতে দাঁড় করানোর অপচেষ্টা সফল হবে না। কোনো একটি রাজনৈতিক দল নয়, সকল রাজনৈতিক দল যারা ফ্যাসিবাদবিরোধী গণতান্ত্রিক সংগ্রামে অবদান রেখেছে, অবিরাম সংগ্রাম করেছে, তাদের সকলের অবদানের প্রেক্ষিতেই সংঘটিত হয়েছে ছাত্র-গণঅভ্যুত্থান-২০২৪। মাত্র ৩৬ দিনের মধ্যে যদি আমরা মনে করি যে, একটা ফ্যাসিস্ট সরকার বা ফ্যাসিস্ট শাসকের পতন হয়েছে, সেটা সঠিক নয়। এটা হচ্ছে পরিণতি যে, ১৬ বছরের ধারাবাহিক আন্দোলন-সংগ্রামের ফসল।’
তিনি আরো বলেন, ‘জুলাই ছাত্র গণঅভ্যুত্থানে এ পর্যন্ত আমাদের যে পরিসংখ্যান বেরিয়েছে ৪২২ জন, আমরা ছবি সহকারে আমাদের নেতা-কর্মীদের তালিকা প্রকাশ করেছি, এ সংখ্যা আরো বেশি হবেÑ যারা জুলাই ছাত্র-গণঅভ্যুত্থানে নিজেদের প্রাণ বিসর্জন করেছেন, শহীদ হয়েছেন। দীর্ঘ ১৬ বছরের ফ্যাসিবাদবিরোধী গণতান্ত্রিক আন্দোলনে বিএনপি যে ভূমিকা, যে সংগ্রাম, যে ত্যাগ করেছে, সেই রক্তের সিঁড়ি বেয়ে জুলাই গণঅভ্যুত্থান সংঘটিত হয়েছে। এখানে শুধু বিএনপি নয়, বাংলাদেশের ফ্যাসিবাদবিরোধী গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দলগুলোর অবিরাম সংগ্রাম, ত্যাগ, রক্তদানের মধ্য দিয়েই ধারাবাহিকভাবে সেই রক্তের সোপানগুলো তৈরি হয়েছে। শাপলা চত্বরের যে নৃশংস হত্যাকাণ্ড, সেটা পৃথিবীর ইতিহাসে বিরল।’
এখন প্রশ্ন হলো- তাহলে সমস্যা কোথায়? এ প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে বিশ্লেষকরা বিএনপির এমন অবস্থানকে দ্বিচারিতা উল্লেখ করে মন্তব্য করেছেন, ‘বিএনপি আসলে একটা সুবিধাবাদী গোষ্ঠী স্বার্থকেন্দ্রিক রাজনৈতিক দল। দলটির অধিকাংশ নেতা যখন যে দিকে সুবিধা মনে করেন, সেই দিকেই অবস্থান নেন। এজন্য সরকার ও বিএনপিকে সোজা পথে রাখতে জুলাই বিপ্লবী ছাত্র-জনতা, রাজনৈতিক দল ও নাগরিক সমাজের ঐক্যবদ্ধ অবস্থানের বিকল্প নেই। এর ব্যত্যয় ঘটলে রাজনীতিতে ‘সুবিধাবাদ, জিন্দাবাদ গোষ্ঠীর সংখ্যা বাড়বে। ফলে দেশে রাজনৈতিক সঙ্কটও বাড়বে।’
সুবিধাবাদ জিন্দাবাদ
বিএনপির একাধিক নেতা-কর্মী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেছেন, সুবিধাবাদ জিন্দাবাদ এবং বসন্তের কোকিলের সংখ্যা বিএনপিতে বাড়ছে। দীর্ঘদিন নিষ্ক্রিয় ও সুবিধাবাদী হাইব্রিড নেতাদের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। অন্যদিকে বিগত সময়ে আন্দোলন-সংগ্রামে বিভিন্নভাবে ক্ষতিগ্রস্ত ও ত্যাগী নেতাকর্মীরা সুবিধাবাদীদের ষড়যন্ত্র-তত্ত্বে কোণঠাসা হয়ে পড়ছেন। এমনকি দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতার ন্যূনতম মূল্যায়ন থেকেও বঞ্চিত হচ্ছেন তারা। এতে অসন্তোষ বাড়ছে দলটির কেন্দ্র থেকে তৃণমূলে।
দুঃসময়ে মামলা-হামলার ভয়ে যারা নিজেদের গুটিয়ে রেখেছিলেন, তারা এখন খোলস পালটে নানা অপকর্মে লিপ্ত; আবির্ভাব ঘটছে হাইব্রিডদেরও। সামাজিক ও রাজনৈতিক বিভিন্ন অনুষ্ঠান; এমনকি প্রশাসনিক দপ্তরে বিএনপির দাপুটে ‘হর্তাকর্তা’ হিসেবেও জাহির করছেন। এসব ব্যক্তির নানা কর্মকাণ্ডের দায় বিএনপির ওপর চাপছে। নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে দলের ওপর। এদিকে দলে দুঃসময়ে অনেক নেতাই বিদেশে চলে যান। ছিলেন আরাম-আয়েশে। ৫ আগস্টের পটপরিবর্তনের পর দেশে ফিরে দলে ভিড়তে নানা তৎপরতা চালাচ্ছেন। নিজেদের ‘নির্যাতিত’ নেতা প্রমাণে মিথ্যার আশ্রয় নিচ্ছেন কেউ কেউ। যদিও সুযোগসন্ধানী, সুবিধাবাদী ও হাইব্রিড নেতাদের বিরুদ্ধে অভিযোগের পাহাড় জমেছে দলটির কেন্দ্রে।
সূত্রে প্রকাশ, বিএনপি আগের চেয়ে এখন অভিযোগগুলো গুরুত্বের সাথে নিচ্ছে। কারণ তাদের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী এবং জাতীয় সংসদে প্রধান বিরোধীদল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মোকাবিলায় নিজের ইতিবাচক ইমেজ গড়তে না পারলে জনবিচ্ছিন্ন হওয়ার আশঙ্কা তাদের তাড়া করছে। তাই বসন্তের কোকিল সুবিধাবাদ জিন্দাবাদপন্থীদের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি প্রয়োগ করার কথা ভাবছেন বিএনপির নীতিনির্ধারকরা।
অন্য একটি সূত্রে জানা গেছে, নেপালের নির্বাচনের ফলাফলের পর জামায়াতে ইসলামীর বুদ্ধিবৃত্তিক রাজনীতি এবং সমানুপাতিক নির্বাচন পদ্ধতির দাবির মোকাবিলা করা এখন বিএনপির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। বিশেষ করে নেপালের জাতীয় নির্বাচনের বড় সমানুপাতিক নির্বাচন পদ্ধতির বিপক্ষের যুক্তি মিথ্যা প্রমাণ হওয়ার পর এর পক্ষে বাংলাদেশের জনগণের জোরালো আন্দোলনের আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা।
সমানুপাতিক পদ্ধতির পক্ষে জনমত বাড়বে
২০২৪-এর ৩৬ জুলাই বিপ্লবের পর বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে সমানুপাতিক নির্বাচন পদ্ধতির দাবি করা হয়। জুলাই সনদে জাতীয় সংসদের উচ্চকক্ষ এ পদ্ধতিতে গঠন করার কথা বলা হয়েছে। অবশ্য বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর দাবি উভয় কক্ষের নির্বাচন সমানুপাতিক পদ্ধতিতে করার। আগামী চতুর্দশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে জাতীয় সংসদে নির্দলীয় কেয়ারটেকার সরকার এবং সমানুপাতিক পদ্ধতিতে নির্বাচনের দাবি সংক্রান্ত আইন পাস করার গণদাবির পক্ষে জামায়াতে ইসলামীর জোরালো অবস্থান থাকবে বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা।
এ প্রসঙ্গে রাজনীতি বিশ্লেষক আলতাফ পারভেজের মতামত হলো, ‘বাংলাদেশে গণঅভ্যুত্থানের সময় নির্বাচনী ব্যবস্থার পরিবর্তন তথা সংখ্যানুপাতিক পদ্ধতি নিয়ে কথা উঠেছিল। তখন এই প্রস্তাবের বিরুদ্ধবাদীরা বলতেন, সংখ্যানুপাতিক পদ্ধতিতে ঝুলন্ত পার্লামেন্ট হয় এবং সরকার গঠনের বেলায় নানা দলের টানাপড়েনে পড়ে দেশ। কিন্তু নেপালে মিশ্র ব্যবস্থায় আরএসপি বা রাষ্ট্রীয় স্বতন্ত্র পার্টি কেবল সাধারণ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নয়, পার্লামেন্টে প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ আসন তথা সুপার মেজরিটি পেয়েছে। এককভাবেই তারা সরকার গঠন করতে পারবে। চাইলে পুরো মেয়াদ একাই নির্বিঘ্নে চালিয়ে নিতে পারবে দেশকে। ভোট পদ্ধতির সঙ্গে রাজনৈতিক বা সরকার গঠনজনিত অস্থিতিশীলতার যে চিরস্থায়ী কোনো সম্পর্ক নেই, সেটাই দেখা যাচ্ছে এখানে।’
উল্লেখ নেপালে আরএসপি বা রাষ্ট্রীয় স্বতন্ত্র পার্টি সদ্য শেষ হওয়া নির্বাচনে ২৭৫ সদস্যের ‘প্রতিনিধি সভা’য় ১৮২টি আসনে বিজয়ী হয়েছে। নেপালের সাধারণ নির্বাচনে ভোটারদের পছন্দে ১৬৫ জন এমপি সরাসরি নির্বাচিত হন। পার্লামেন্টের বাকি ১১০ জন সদস্য নির্বাচিত হন দলগুলোর প্রাপ্ত ভোটের ভিত্তিতে সংখ্যানুপাতিক হিসাবে। ভোটের দিন একই সময় ভোটারদের দুটি ব্যালট দেওয়া হয়। একটি ব্যালট দিয়ে তাঁরা বিভিন্ন দল থেকে দাঁড়ানো এলাকাভিত্তিক প্রার্থীদের ভোট দেন। দ্বিতীয় ব্যালটের মাধ্যমে একই ভোটার নির্বাচনে অংশ নেওয়া যেকোনো একটা জাতীয় দলকে পছন্দ করেন। অর্থাৎ নেপালের নির্বাচনে একজন ভোটার যেমন সরাসরি তাঁর নির্বাচনী এলাকায় প্রার্থী হওয়া যেকোনো দলের প্রার্থীকে বাছাই করতে পারেন, তেমনি পছন্দসই অন্য দলকেও জাতীয়ভাবে ভোট দিতে পারেন। এরকম দুই প্রক্রিয়া মিলে (১২৫+৫৭) আরএসপি ১৮২টি আসন পেল এবার। তারা একক প্রার্থীকেন্দ্রিক সরাসরি ভোট পেয়েছে ৪৪ শতাংশ। দল হিসেবে পছন্দের ভোট পেয়েছে প্রায় ৪৮ শতাংশ। অর্থাৎ বিভিন্ন আসনে তাদের প্রার্থীরা যত ভোট পেয়েছেন, তার চেয়েও বেশি মানুষ তাদের ভোট দিয়েছেন জাতীয়ভিত্তিক দল হিসেবে। একই রকমভাবে বিরোধী নেপালি কংগ্রেসের প্রার্থীরা প্রার্থীভিত্তিক ভোট পেয়েছে প্রদত্ত ভোটের ১৯ শতাংশ, জাতীয় দল হিসেবে পেয়েছে ১৬ শতাংশ। অর্থাৎ ১৯ শতাংশ ভোটার তাঁদের এলাকাভিত্তিক প্রার্থীদের পছন্দ করলেও দল হিসেবে তাদের পছন্দ করেছেন কম ভোটার।
নেপালের জাতীয় নির্বাচনের ফলাফলের পর বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর উত্থাপিত বুদ্ধিবৃত্তিক দাবির যৌক্তিকতা প্রমাণ হয়েছে। জামায়াতের এমন আরো অনেক বুদ্ধিবৃত্তিক সংস্কার প্রস্তাব, জুলাই সনদে আছে। গণতন্ত্রের প্রতি সম্মান এবং দেশ ও জনগণের স্বার্থ অগ্রাধিকার দিলে বিএনপির পক্ষে তা না মানার বিকল্প নেই। তাই রাষ্ট্র ব্যবস্থার নতুন বন্দোবস্তের পক্ষের জনগণ বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর উত্থানকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন দেশ-বিদেশের রাজনীতি বিশ্লেষকরা। এই ইতিবাচক উত্থান ঠেকাতে পুরনো বন্দোবস্তের পক্ষের একটি গোষ্ঠী দেশি-বিদেশি লবিস্টদের মাঠে নামিয়ে পুরনো কাসুন্দি বা চেতনার বয়ান সামনে এনে এ উত্থান ঠেকানোর ষড়যন্ত্র করছে।
পুরনো কাসুন্দি হালে পানি পাবে না
বাংলাদেশের ৫৬তম স্বাধীনতা দিবসের ৬ দিন আগে ২০ মার্র্চ ২০২৬-এ ১৯৭১ সালে বাংলাদেশে পাকিস্তানি বাহিনীর গণহত্যার বিচার ও স্বীকৃতি চেয়ে মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদে প্রস্তাব তুলেছিলেন কংগ্রেস সদস্য গ্রেগ ল্যান্ডসম্যান। অপরাধীদের কথা বলতে গিয়ে মার্কিন কংগ্রেস সদস্য দখলদার পাকিস্তানি বাহিনীর সহযোগী ইসলামীপন্থীদের কথাও উল্লেখ করেছেন।
এ প্রস্তাব প্রসঙ্গে কবি ও সাংবাদিক সোহরাব হাসান তার লেখা একটি মন্তব্য প্রতিবেদনে হতাশার সুরে উল্লেখ করেছেন, ‘আপাতদৃষ্টিতে কংগ্রেস প্রতিনিধির এ প্রস্তাবকে বিবেকতাড়িত সত্য ভাষণ মনে হলেও খুব বেশি আশ্বস্ত হওয়া যায় না। প্রথমত, মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদে যখন প্রস্তাবটি আনা হয়, তখন ইরানের ওপর যুদ্ধ চাপিয়ে দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল শত শত মানুষকে হত্যা করছে। অথচ প্রতিনিধি পরিষদ সেই আগ্রাসনের বিরুদ্ধে একটি কথাও বলেনি। দ্বিতীয়ত, মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদে এর আগেও কংগ্রেস সদস্যরা অনুরূপ প্রস্তাব রেখেছিলেন, যা হিমাগারে চলে গেছে। এবারে মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদে আনা প্রস্তাবটির পেছনে অন্য উদ্দেশ্যও থাকতে পারে। অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে সই হওয়া বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে বাংলাদেশে ব্যাপক সমালোচনা হচ্ছে। সেই সমালোচনার ধার কমাতে এবং নিজেদের বাংলাদেশের বন্ধু প্রমাণ করতেও তাঁরা এই প্রস্তাব এনে থাকতে পারেন। কংগ্রেস প্রতিনিধি এমন এক প্রেসিডেন্টের কাছে বাংলাদেশে সংঘটিত গণহত্যার স্বীকৃতি দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন, যিনি দ্বিতীয় দফায় দায়িত্ব গ্রহণের পর গাজায় ইসরাইলি গণহত্যাকে মদদ দিয়েছেন, ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট ও তাঁর স্ত্রীকে ধরে এনে বিচারের নাটক করছেন, ইরানের ওপর অন্যায় যুদ্ধ চাপিয়ে দিয়ে গোটা বিশ্বকে মহাবিপর্যয়ের দিকে ঠেলে দিচ্ছেন।’ (দৈনিক প্রথম আলো, ২৫ মার্চ ২০২৬)।
পর্যবেক্ষকরাও মনে করেন, পুরনো কাসুন্দি হালে পানি পাবে না। বাংলাদেশে ইসলাম ও ইসলামী রাজনৈতিক দলের বিরুদ্ধে সব ষড়যন্ত্র জনগণের ইতিবাচক তৎপরতায় নস্যাৎ হবে।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি মিয়া গোলাম পরওয়ার এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘প্রথমত, আমরা মনে করি, জামায়াত একটি আদর্শবাদী রাজনৈতিক দল। এর ওপর ভিত্তি করেই আমাদের রাজনীতিবিদদের মনন, বিশ্বাস ও জীবন গড়ে ওঠে। আমরা এটিকে জীবনেরই লক্ষ্য মনে করি। এমন একটি দলে কার ফাঁসি হয়ে গেল কিংবা কে জেলে গেল, তা দিয়ে দুর্বল করা যায় না। এটিই আমাদের অদম্য শক্তির উৎস, যা অন্য রাজনৈতিক দলগুলোর মতো না। দ্বিতীয়ত, আমাদের ওপর দেশব্যাপী যে জুলুম হয়েছে। এতে মানুষের মধ্যে সমবেদনা ও সহানুভূতি তৈরি হয়েছে, সেটি এখানে কাজ করেছে। তৃতীয়ত, ফ্যাসিবাদী হাসিনার বিদায়। এতে আমাদের ওপর যে খড়গ ছিল, তা দূর হয়েছে। আমরা মানুষের কাছে যেতে পারছি। জনগণকে সাথে নিয়ে আমরা আল্লাহর রহমতে সকল ষড়যন্ত্র ইতিবাচকভাবেই মোকাবিলা করব, ষড়যন্ত্রকারীরা ব্যর্থ হবেই, ইনশাআল্লাহ।’

হারুন ইবনে শাহাদাত

সম্পর্কিত খবর