শত্রুর সাথে বসবাস, অর্থনীতির সর্বনাশ

প্রিন্ট ভার্সন
১৫ জানুয়ারি ২০২৬ ১০:৫৩

॥ হারুন ইবনে শাহাদাত ॥
২০২৪ সালের তারুণ্যের ৩৬ জুলাই বিপ্লবের পর আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন নোবেল বিজয়ী অর্থনীতি অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রথম বছর কেটেছে ফ্যাসিস্ট হাসিনার ফেলে যাওয়া লুটপাটে ফোকলা অর্থনীতি পুনর্গঠন প্রচেষ্টায়। কিন্তু সেই চেষ্টা হয়েছে হাসিনার রেখে যাওয়া ফ্যাসিস্ট আমলাতন্ত্রকে সাথে নিয়ে। যারা ৩৬ বিপ্লবকে মনে করেন, তাদের ঘুষ-দুর্নীতি, অর্থ পাচারে গড়া সাম্রাজ্যের শত্রু। তাই ২০২৪-এর ৫ ও ২০২৫-এর ১২ মাস পরও আশার বাতি জ্বালাতে ব্যর্থ এ সরকার। শত্রুর সাথে বসবাসই দেশের অর্থনীতির কাক্সিক্ষত উন্নয়নের পথে বাধা বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা। এক কথায় শত্রুর সাথে বসবাস দেশের অর্থনীতির সর্বনাশ।
তবে সামগ্রিকভাবে অন্তর্বর্তী সরকার অর্থনীতির পতনের ধারা ঠেকাতে সক্ষম হয়েছে এবং কিছু সামষ্টিক অর্থনৈতিক সূচকে উন্নতি ঘটিয়েছে। তবে দীর্ঘমেয়াদি প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করতে প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরিয়ে আনা এখনো বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়ে গেছে। এ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় উপদেষ্টারা যতটা আন্তরিকতা নিয়ে কাজ করছেন, আমলাদের অনেকের মধ্যেই তা দেখা যাচ্ছে না বলে মনে করেন পর্যবেক্ষকরা। তাই উন্নয়নের গতি দৃশ্যমান নয়, জনগণও সুফল পাচ্ছে না। এজন্য ব্যক্তি ও গোষ্ঠীস্বার্থের সাথে রাজনৈতিক স্বার্থও দায়ী।
রাজনৈতিক স্বার্থের প্রতিফলন
এ সরকারের ব্যর্থতার নেপথ্যের কারণ বিশ্লেষণ করে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান মন্তব্য করেছেন, অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদের চেয়ে আমলাতন্ত্রের একটি অংশ বেশি প্রভাবশালী। উপদেষ্টা পরিষদ কোন কাগজে স্বাক্ষর করবে, কোন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে, সেটি আসলে উপদেষ্টা পরিষদ সিদ্ধান্ত নিতে পারে না। এ সিদ্ধান্ত নেন আমলাতন্ত্রের ভেতরের অত্যন্ত ক্ষমতাবান ব্যক্তিরা।
উপদেষ্টারা কেন আমলাদের কাছে নতিস্বীকার করেন বা করছেন- এ প্রশ্নের উত্তরে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, এ প্রশ্নের সুনির্দিষ্ট উত্তর তার কাছে নেই। তবে দীর্ঘসময় সরকারকে কাছ থেকে দেখে তিনি বুঝেছেন, কোন সিদ্ধান্তে কোন উপাদান থাকবে, কোনটি থাকবে না, তা নির্ধারণ করে দেয় আমলাতন্ত্রের প্রভাবশালী অংশ। এক্ষেত্রে শুধু তাদের গোষ্ঠীস্বার্থ নয়, বরং রাজনৈতিক স্বার্থেরও প্রতিফলন ঘটে।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকমহল, অর্থনীতি বিশ্লেষক এবং জনগণের ভোগান্তির চিত্র ও অর্থনীতির সূচকগুলোও এ বার্তাই দিচ্ছে। প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স ছাড়া আর্থিক খাতগুলোয় এখনো গতি ফেরাতে পারেনি অন্তর্বর্তী সরকার।
২০২৪ সালের আগস্টে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার বাংলাদেশের ভঙ্গুর অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিয়েছে। ২০২৬ সালের বর্তমান পরিস্থিতি অনুযায়ী অর্থনীতির উন্নতি ও অবনতির প্রধান দিকগুলো নিচে তুলে ধরা হলো-
অর্থনীতির অবনতির চিত্র
২০২৪ সালে রিজার্ভের যে সংকট ছিল, তা কাটিয়ে ২০২৫ সালের শেষ নাগাদ রিজার্ভের পরিমাণ ২৮.১ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত হয়েছে। কিন্তু মূল্যস্ফীতি থেকে জনগণ মুক্তি পায়নি।
২০২৬ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত তথ্যানুযায়ী, রেমিট্যান্সপ্রবাহে ৮১.৪% প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে এবং চলতি অর্থবছরের প্রথম ১১ দিনে ১ হাজার ৩৩৬ মিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স এসেছে। গত বছর দেশে ৩ বিলিয়ন ডলারের প্রবাসী আয় এসেছে, যা ডলার সংকট কাটাতে সাহায্য করেছে। অন্যদিকে ব্যাংক থেকে ডলার কেনায় বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রার মোট রিজার্ভ ৩৩ বিলিয়ন ডলার বা ৩ হাজার ৩০০ কোটি ডলার ছাড়িয়েছে, যা গত তিন বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। এর আগে ২০১৭ সালে প্রথমবারের মতো রিজার্ভ ৩৩ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছিল, আর ২০২১ সালে ৪৮ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছিল। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের সময় রিজার্ভ নেমেছিল ২৬ বিলিয়ন ডলারে।
মূল্যস্ফীতি থেকে মুক্তি মেলেনি
মূল্যস্ফীতি থেকে মুক্তি মেলেনি এবং বড় কোনো সম্ভাবনাও নেই। জাতিসংঘের অর্থনীতি ও সামাজিক সম্পর্ক বিভাগের প্রতিবেদনে বাংলাদেশের অর্থনীতির এমন হতাশার চিত্রই তুলে ধরা হয়েছে।
চলতি মাসে প্রকাশিত এ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশি মূল্যস্ফীতি বিরাজমান। সর্বোচ্চ মূল্যস্ফীতির দিক থেকে ২০২৫ সালে বাংলাদেশ শীর্ষে ছিল। ২০২৬ সালেও বাংলাদেশে সর্বোচ্চ মূল্যস্ফীতি থাকবে। জাতিসংঘের প্রতিবেদন অনুসারে, ২০২৫ সালে বাংলাদেশের গড় মূল্যস্ফীতি ছিল ৮ দশমিক ৯ শতাংশ, যা দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ। জাতিসংঘ পূর্বাভাস দিয়ে বলেছে, ২০২৬ সালে বাংলাদেশের গড় মূল্যস্ফীতি কিছুটা কমে ৭ দশমিক ১ শতাংশ হতে পারে। তখনো বাংলাদেশের মূল্যস্ফীতি দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে সর্বোচ্চ থাকবে।
জাতিসংঘ বলছে, বাংলাদেশ অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের চেষ্টা করছে। বাংলাদেশের মোট দেশজ উৎপাদনের প্রবৃদ্ধি (জিডিপি) ২০২৬ সালে ৫ দশমিক ১ শতাংশ হতে পারে। তিন বছর ধরে দেশে উচ্চ মূল্যস্ফীতি বিরাজ করছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) হিসাবে, ২০২৫ সালে গড় মূল্যস্ফীতি হয়েছে ৮ দশমিক ৭৭ শতাংশ।
দক্ষিণ এশিয়ার অন্য দেশে মূল্যস্ফীতি কত
জাতিসংঘের প্রতিবেদন অনুসারে, বাংলাদেশের মূল্যস্ফীতি ৮ শতাংশের বেশি থাকলেও অন্য দেশগুলোর মূল্যস্ফীতি ৫ শতাংশের নিচে আছে। বাংলাদেশের পরে ২০২৫ সালে মালদ্বীপের মূল্যস্ফীতি ৪ দশমিক ৯ শতাংশ হয়েছে। আর পাকিস্তানের মূল্যস্ফীতি মূল্যস্ফীতি হলো ৪ শতাংশ। অন্যদিকে বিদায়ী বছরে ভারতের মূল্যস্ফীতি হয়েছে ২ দশমিক ৭ শতাংশ।
এছাড়া ২০২৫ সালে ভুটানে ৩ দশমিক ৪ শতাংশ, নেপালে ৩ দশমিক ৪ শতাংশ এবং শ্রীলঙ্কায় দশমিক ৬ শতাংশ মূল্যস্ফীতি হয়েছে।
২০২১ সালে শ্রীলঙ্কার মূল্যস্ফীতি ৪৯ শতাংশে উঠেছিল। আর ২০২২ সালে পাকিস্তানের মূল্যস্ফীতি ৩০ শতাংশে উঠেছিল। এ দুই দেশ মূল্যস্ফীতি ব্যাপকভাবে কমাতে পেরেছে। বাংলাদেশে কমানো সম্ভব হলেও এখনো তা ৮ শতাংশের বেশি। এ হিসাবে দক্ষিণ এশিয়ার আরেক দেশ আফগানিস্তানকে বিবেচনায় আনেনি জাতিসংঘ।
রপ্তানি আয় কমেছে
বিদায়ী বছরের শেষ মাস ডিসেম্বরে দেশের রপ্তানি আয় ১৪ দশমিক ২৫ শতাংশ কমে যাওয়ার তথ্য দিয়েছে রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি)। এ নিয়ে চলতি অর্থবছরে ছয় মাসের মধ্যে ৫ মাসই রপ্তানিতে নিম্নমুখী প্রবণতা দেখল দেশের অর্থনীতি।
গত ৪ জানুয়ারি রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) হালনাগাদ তথ্য বলেছে, গত ডিসেম্বরে রপ্তানি আয় ছিল ৩৯৬ কোটি ৮২ লাখ ডলার। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে রপ্তানির পরিমাণ ছিল ৪৬২ কোটি ৭৪ লাখ ডলার। সেই হিসাবে রপ্তানি আয় কমেছে ১৪ দশমিক ২৫ শতাংশ।
গত ছয় মাসে রপ্তানির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৩৯৯ কোটি ডলার. যা আগের অর্থবছরের একই সময়ে ছিল ২ হাজার ৪৫৩ কোটি ডলার। ছয় মাসের হিসাবে রপ্তানি কমেছে ৫৩ কোটি ৬৬ লাখ ডলার বা ২ দশমিক ১৯ শতাংশের মতো। ইপিবির প্রতিবেদনের হিসাবে, গত মাসে তৈরি পোশাক খাতে পণ্য রপ্তানি হয় ৩২৩ কোটি ৪১ লাখ ডলারের, যা এক বছর আগের তুলনায় ১৪ দশমিক ২৩ শতাংশ কম। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে তৈরি পোশাক খাতে রপ্তানি হয় ৩৭৭ কোটি ডলারের পণ্য। খাতভিত্তিক রপ্তানি আয়ে দেখা যায়, গত ডিসেম্বরে কৃষি খাতে সবচেয়ে বেশি ২৭ দশমিক ৫৬ শতাংশ আয় কমেছে। এ খাত থেকে আসে ৭ কোটি ২৫ লাখ ডলার, যা ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে ছিল ১০ কোটি ডলার। অন্যদিকে গত মাসে পাট ও পাটজাত পণ্য রপ্তানি কমেছে ৪ দশমিক ৪১ শতাংশ। ডিসেম্বরে এ খাতে রপ্তানি হয় ৭ কোটি ২৩ লাখ ডলারের পণ্য, যা ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে ছিল ৭ কোটি ৫৬ লাখ ডলার। বছরের ব্যবধানে এ খাতে রপ্তানি কমল ৩৩ লাখ ৪০ হাজার ডলার। চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয় ৬ হাজার ৩৫০ কোটি ডলার। চলতি অর্থবছরে রপ্তানি আয়ের ২৪ দশমিক ৭৬ শতাংশ আসে গত জুলাই মাসে। এরপর থেকে শুরু হয় নিম্নমুখী প্রবণতা। গত আগস্টে ২ দশমিক ৯৩ শতাংশ, সেপ্টেম্বরে ৪ দশমিক ৬১ শতাংশ, অক্টোবরে ৭ দশমিক ৪৩ শতাংশ ও নভেম্বরে রপ্তানি আয় কমে যায় ৫ দশমিক ৫৪ শতাংশ। সর্বশেষ অর্থবছরে মোট রপ্তানির পরিমাণ ছিল ৪ হাজার ৮২৮ কোটি ডলার।
অর্থনীতির চ্যালেঞ্জসমূহ
বিনিয়োগ স্থবিরতা ও আস্থার সংকট : সুশাসন ও সংস্কারের উদ্যোগ থাকলেও বেসরকারি খাতে বিনিয়োগে এখনো আস্থার অভাব রয়েছে। ঋণের উচ্চ সুদহার ও রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার কারণে অনেকে নতুন বিনিয়োগে পিছিয়ে আছে।
রাজস্ব ঘাটতি ও এনবিআর সংস্কার : লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী রাজস্ব আদায়ে এখনো বড় ধরনের ঘাটতি রয়েছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরের প্রথম চার মাসেই ঘাটতি ছিল ৩০ হাজার কোটি টাকার বেশি। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা এখনো পুরোপুরি বাস্তবায়ন হয়নি।
বেকারত্ব ও কর্মসংস্থান : ২০২৪ সালের শেষার্ধে প্রায় ২১ লাখ মানুষ কাজ হারিয়েছেন, যার মধ্যে বড় অংশই নারী। কলকারখানা বন্ধ হওয়া এবং উৎপাদন কমে যাওয়ায় কর্মসংস্থানের সুযোগ সংকুচিত হয়েছে ।
খাদ্য সরবরাহ ও বাজার নিয়ন্ত্রণ : নিত্যপণ্যের দাম ৩৬ জুলাইয়ের পর চাঁদাবাজি ও সিন্ডিকেট বন্ধ হওয়ায় জনগণের নাগালে এসেছিলো। কিন্তু সরকারের নজরদারি আগের চেয়ে কমে যাওয়ায় আবার আগের অবস্থা চলছে, দ্রব্যমূল্য এখনো সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে। চাঁদাবাজি ও বাজার সিন্ডিকেট ছাড়াও এর অন্য কারণ খাদ্যশস্য উৎপাদনে লক্ষ্যমাত্রা অর্জন না হওয়া এবং আমদানি নির্ভরশীলতা বাড়া বলে মনে করেন বাজার বিশ্লেষকরা।
পুঁজিবাজারের মন্দা : দেশের পুঁজিবাজার এখনো চরম চাপের মুখে রয়েছে। ২০২৫ সালের শেষে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ বোর্ড ইনডেক্স (ডিএসইএক্স) সূচক গত পাঁচ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ের কাছাকাছি অবস্থানের রেকর্ড হয়েছে এ সরকারের আমলে। তাছাড়া ফ্যাসিস্ট আমলের লুটপাটের সাথে জড়িতরা এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকায় শেয়ারবাজারে স্থিতিশীলতা আসছে না।
অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদ আর খুব একটা নেই। তাই তারা তাদের প্রতিশ্রুত অর্থনৈতিক সংস্কার লুট ও পাচার হওয়া অর্থ উদ্ধার এবং বিনিয়োগের যে আশার বাতি জ্বেলেছিল তাতে দেশের অর্থনীতিতে সমৃদ্ধ আলো জ্বলবে- এমন আশা করা যায় না। তবে পরবর্তীতে সৎ, দক্ষ, দুর্নীতি ও চাঁদাবাজমুক্ত সরকার এলে আশা করা যায় দেশের অর্থনীতি ঘুর দাঁড়াবে।
আশার কথা
হাসিনার লুটপাটে ব্যাংকিং ও আর্থিক খাত ভেঙে পড়েছিল। সরকার দুর্বল ব্যাংকগুলোর পর্ষদ পুনর্গঠন এবং খেলাপি ঋণ উদ্ধারে কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে। পাচার হওয়া অর্থ ফেরত আনতে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয় শুরু হয়েছে। তবে এর সুফল এখনো ফলতে শুরু করেনি।
বৈদেশিক বিনিয়োগ (এফডিআই) : রাজনৈতিক অস্থিরতা কাটিয়ে ২০২৬ সালের শুরুতে বিদেশি বিনিয়োগ পুনরায় বাড়তে শুরু করেছে। টেক্সটাইলসহ বিভিন্ন খাতে নতুন বিনিয়োগের চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে । তবে তা কাক্সিক্ষত পর্যায়ের নয়।
জিডিপি প্রবৃদ্ধি : ২০২৬ অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) জিডিপি প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৪.৫০% । পুরো অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি ৪.৬% থেকে ৫.৫% হতে পারে বলে বিভিন্ন সংস্থা আশা করছে ।
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় নির্বাচনের পর যারা সরকার গঠন করবেন, তাদের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ মূল্যস্ফীতি। কারণ এর প্রভাব জনগণের ওপর সরাসরি পড়ে। অর্থনীতি বিশ্লেষকরা মনে করেন, মূল্যস্ফীতি এক ধরনের করের মতো। এতে একজন ব্যক্তির প্রতি মাসে আয়ের পুরোটাই সংসার চালাতে খরচ হয়ে যায়। কিন্তু হঠাৎ জিনিসপত্রের দাম বাড়লে এবং সে অনুযায়ী আয় না বাড়লে তাকে ধারদেনা করে সংসার চালাতে হবে কিংবা খাবার, কাপড়চোপড়, যাতায়াতসহ বিভিন্ন খাতে কাটছাঁট করতে হয়। মূল্যস্ফীতির চেয়ে মজুরি বা আয় কম হলে সাধারণ মানুষের কষ্ট বাড়ে। প্রকৃত আয় কমে যায়। ফলে মানুষ দিশেহারা হয়ে পড়ে, তাদের মনে ক্ষোভ বাড়তে থাকে।
অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতায় আসার পর সুদের হার বাড়িয়ে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করা হয়। এনবিআরও তেল, আলু, পেঁয়াজ, ডিমসহ বেশকিছু নিত্যপণ্যে শুল্ক-কর কমিয়ে দেয়। বাজারে নিত্যপণ্যের আমদানিপ্রবাহ ঠিক রাখার চেষ্টা করা হয়। তারপরও দুই মাস ধরে মূল্যস্ফীতি বেড়েছে।
২০২৬ সাল শেষে মূল্যস্ফীতি কমবে নাকি বাড়বে, তা নিয়ে জাতিসংঘ কী পূর্বাভাস দিয়েছে? জাতিসংঘের পূর্বাভাস অনুসারে, বাংলাদেশের মূল্যস্ফীতি কমে ৭ দশমিক ১ শতাংশ হতে পারে। অবশ্য এ বছরও দক্ষিণ এশিয়ায় সর্বোচ্চ মূল্যস্ফীতি থাকবে বাংলাদেশে। এছাড়া ভারতে ৪ দশমিক ১ শতাংশ, পাকিস্তানে ৭ শতাংশ এবং শ্রীলঙ্কায় ৩ দশমিক ৯ শতাংশ মূল্যস্ফীতি হতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে জাতিসংঘ।
বিশ্লেষকরা মনে করেন, ফ্যাসিস্ট রাজনৈতিক চেতনার ধারক শক্তিশালী আমলাতন্ত্রের সংশোধন ছাড়া ৩৬ জুলাই বিপ্লবের কাক্সিক্ষত লক্ষ্য অর্জন করা কোনো সরকারের পক্ষেই সম্ভব হবে না।

হারুন ইবনে শাহাদাত

বাংলা সাহিত্যে রোজা
১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১১:০৬

আল মাহমুদের গল্পে প্রেম ও প্রকৃতি
১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১১:০৫

প্রেরণার বাতিঘর : আল মাহমুদ
১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১১:০৪

বাবারা এমনই হয়
১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১১:০৩

সম্পর্কিত খবর