কে হবেন নতুন রাষ্ট্রপতি?
২১ আগস্ট ২০২৫ ১৪:৪৯
বেশ ক’দিন ধরে রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন চুপ্পু রাষ্ট্রপতি পদ থেকে বিদায় গ্রহণের জল্পনা চলে আসছে। নানা ধরনের চাপে তিনি শারীরিকভাবে অসুস্থ হয়ে বিদেশে চিকিৎসার জন্য যেতে চেয়েছেন। কিন্তু দেশের বিদ্যমান পরিস্থিতিতে সেটি সংশ্লিষ্টরা সম্ভবত চাইছে না। বলা হচ্ছে, রাষ্ট্রপতি তার পদ থেকে ইস্তফা দিয়ে বিদেশে চিকিৎসা গ্রহণের কথা ভাবছেন। প্রশ্ন হলো তেমন কিছু হলে কে হবেন নতুন রাষ্ট্রপতি?
স্থায়ী রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয় সংসদে। কোনো কারণে রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে দায়িত্ব নেন স্পিকার। এখন স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার কেউই তাদের পদে বহাল নেই। এরপর এ দায়িত্ব গ্রহণ করতে পারেন প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদ। কেউ কেউ আবার চাইছেন প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূসই রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করুন। স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় এটি কি সম্ভব? সেটি দুটি পথে আপাতত সম্ভব বলে মনে করছেন সংবিধান বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, সংবিধান স্থগিত করলে যে কারো রাষ্ট্রপতি হতে সংবিধান বাধা হয়ে দাঁড়াবে না। কেউ কেউ এমনও বলছেন, সংবিধান তো আসলেই কার্যকর সেভাবে নেই। কিন্তু যতটাই থাকুক না কেন, সম্ভবত সংবিধানের বন্ধন ছিন্ন করতে চান না অধ্যাপক ইউনূস বা অন্তর্বর্তী সরকার। এ অবস্থায় ইস্যুটি নিয়ে অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের সময়ের মতো রাষ্ট্রপতির পক্ষ থেকে একটি রেফারেন্স পাঠানো যেতে পারে সুপ্রিম কোর্টে। সুপ্রিম কোর্ট যদি ইতিবাচক মত দেন, তাহলে অধ্যাপক ইউনূস হতে পারেন পরবর্তী রাষ্ট্রপতি। তবে এখানে প্রশ্ন হলো, প্রধান উপদেষ্টার পদে থেকেই কি প্রফেসর ইউনূস অস্থায়ী রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব নেবেন? সে ধরনের সম্ভাবনা একবারেই কম। রাষ্ট্রপতির পদ গ্রহণে সম্মত হলে অধ্যাপক ড. ইউনূস প্রধান উপদেষ্টার পদ ছেড়ে দিতে পারেন। সেক্ষেত্রে আরেকটি অন্তর্বর্তী প্রশাসন বা তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠন করতে হবে। অরাজনৈতিক ব্যক্তি প্রধান উপদেষ্টা হলে এ দায়িত্ব প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেয়ার সম্ভাবনা থাকতে পারে। তিনি আগামী ২৭ ডিসেম্বর ৬৭ বছর পূর্তি শেষে প্রধান বিচারপতির পদ থেকে অবসরে যাচ্ছেন। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিধান নিয়ে রাজনৈতিক ঐকমত্য হলে তিনি এ দায়িত্ব গ্রহণ করতে পারেন। সেক্ষেত্রে তার উপদেষ্টা পরিষদে টেকনিক্যাল লোক ছাড়াও ফ্যাসিবাদবিরোধী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বরাও থাকতে পারেন। এ সময়ের আগেই রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে সেক্ষেত্রে চাইলে প্রধান বিচারপতি পদ থেকে ইস্তফা দিয়ে সৈয়দ রেফাত আহমেদ প্রধান উপদেষ্টার দায়িত্ব নিতে পারেন।
প্রধান বিচারপতির সাথে একটি প্রভাবশালী দেশের রাষ্ট্রদূতের সাম্প্রতিক এক বৈঠকের পর তার বড় কোনো দায়িত্ব গ্রহণের ব্যাপারে গভীর ক্ষমতাবলয়ে নানা গুঞ্জরণ শোনা যায়।
রাষ্ট্রপতির শূন্যতা পূরণে সংবিধান কী বলে?
বাংলাদেশে রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে সংবিধান তার সমাধানের পদ্ধতি নির্দিষ্ট করে দিয়েছে। সংবিধানের ৫০ ও ৫৪ অনুচ্ছেদ এ বিষয়ে বলা আছে।
রাষ্ট্রপতির মেয়াদ ও বিদায় সংক্রান্ত অনুচ্ছেদ ৫০-এ বলা হয়েছে রাষ্ট্রপতির মেয়াদ ৫ বছর। নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়ে দায়িত্ব নেওয়া পর্যন্ত বিদায়ী রাষ্ট্রপতি দায়িত্বে থাকতে পারেন। অর্থাৎ মেয়াদ শেষ হলেও হঠাৎ শূন্যতা তৈরি হয় না, বরং নতুন রাষ্ট্রপতি শপথ নেওয়া পর্যন্ত তিনিই দায়িত্বে থাকেন।
আর রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে বা অনুপস্থিত থাকলে কী হবে, সেটি অনুচ্ছেদ ৫৪-এ বলা আছে। এ অনুচ্ছেদ অনুসারে রাষ্ট্রপতি মৃত্যুবরণ করলে, পদত্যাগ করলে, অভিযোগ প্রমাণিত হয়ে অপসারিত হলে বা অন্য কোনো কারণে পদ শূন্য হলে তখন জাতীয় সংসদের স্পিকার রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন। একইভাবে রাষ্ট্রপতি যদি বিদেশে যান বা অন্য কোনো কারণে সাময়িকভাবে দায়িত্ব পালন করতে অক্ষম হন, তখনো স্পিকার ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হন।
নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন প্রসঙ্গে বলা হয়েছে, এ পদ শূন্য হওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে জাতীয় সংসদে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করতে হবে (অনুচ্ছেদ ৪৮ ও ৫০-এর সাথে পড়তে হয়)। নতুন নির্বাচিত রাষ্ট্রপতি শপথ নেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে স্পিকারের ভারপ্রাপ্ত দায়িত্ব শেষ হয়। এখন দেশে স্পিকার বা ডেপুটি স্পিকার দুটি পদই শূন্য। ফলে রাষ্ট্রপতি পদ পূরণের জন্য বিকল্প পথে তাকাতে হচ্ছে।
এক্ষেত্রে বিধান হলো, ‘যদি স্পিকারও দায়িত্ব পালনে অক্ষম হন, তবে প্রধান বিচারপতি ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন।’ যেহেতু শিরীন শারমিন চৌধুরী স্পিকার পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন, তাই রাষ্ট্রপতির পদ যদি শূন্য হয় (যেমন সাহাবুদ্দিন চুপ্পু পদত্যাগ করেন), তাহলে দায়িত্ব প্রধান বিচারপতির হাতে যাবে। প্রধান বিচারপতি তখন ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হবেন। সংসদকে নতুন স্পিকার নির্বাচিত করতে হবে। রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হওয়ার পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করতে হবে। সংসদ যেহেতু নেই, তাই বিধানটি এখন কার্যকর করা সম্ভব হচ্ছে না।
বিষয়টি দাঁড়াচ্ছে রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে স্পিকার দায়িত্ব নেবেন। যদি স্পিকার না থাকেন, প্রধান বিচারপতি দায়িত্ব নেবেন। এখনকার বাস্তবতায় যেহেতু শিরীন শারমিন চৌধুরী স্পিকার পদে নেই, তাই সাহাবুদ্দিন চুপ্পু যদি পদত্যাগ করেন, তাহলে দায়িত্ব যাবে প্রধান বিচারপতির হাতে।
প্রধান বিচারপতি যদি এ দায়িত্ব নিতে না চান, তাহলে অনেকে ড. ইউনূূসকে এ দায়িত্ব গ্রহণে অনুরোধ করতে চান। রাষ্ট্রপতি হওয়ার সাংবিধানিক শর্ত (বাংলাদেশ সংবিধান, অনুচ্ছেদ ৪৮-৫০) হলো, বাংলাদেশের নাগরিক হতে হবে। ন্যূনতম বয়স ৩৫ বছর হতে হবে। জাতীয় সংসদে নির্বাচিত হওয়ার যোগ্য হতে হবে।
ড. মুহাম্মদ ইউনূস এখন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা। তিনি জনগণের ভোটে নির্বাচিত এমপি নন। তবে রাষ্ট্রপতি হতে সরাসরি এমপি হওয়ার দরকার নেই, শুধু সংসদে নির্বাচিত হওয়ার যোগ্যতা থাকতে হবে। সুতরাং বয়স, নাগরিকত্ব, অযোগ্যতা না থাকলে তিনি প্রার্থী হতে পারবেন। রাষ্ট্রপতি হতে চাইলে তাকে প্রধান উপদেষ্টার পদ ছেড়ে দিতে হবে।
এখানে বাস্তব কিছু জটিলতাও আছে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় সংসদের কার্যকারিতা, নির্বাচন প্রক্রিয়া ইত্যাদি বিষয়ে বিশেষ ব্যবস্থা থাকতে পারে। তাই আইনগতভাবে সম্ভব হলেও রাজনৈতিক সমঝোতা ও সাংবিধানিক ব্যাখ্যা এখানে বড় ভূমিকা রাখবে।
প্রশ্ন হতে পারে- যদি ড. ইউনূস রাষ্ট্রপতি হওয়ার সিদ্ধান্ত নেন, তবে কোন ধাপে কী ঘটবে? বিষয়টি হতে পারে এরকম- তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে জানালেন যে রাষ্ট্রপতি প্রার্থী হবেন। সংঘাত এড়াতে প্রধান উপদেষ্টার পদ থেকে পদত্যাগ বা অব্যাহতি নেন (রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী হতে ‘সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার যোগ্যতা’ থাকা জরুরি; তাই লাভজনক বা কার্যনির্বাহী পদ রাখা উচিত নয়)। অন্তর্বর্তী ব্যবস্থায় জ্যেষ্ঠতম উপদেষ্টা বা নির্ধারিত ব্যক্তি ভারপ্রাপ্ত প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে কাজ শুরু করেন (যে নীতিমালা বা চুক্তিতে অন্তর্বর্তী সরকার চলছে, সেটি অনুযায়ী)। স্পিকার না থাকলে সংবিধান অনুযায়ী প্রধান বিচারপতি ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব নেন- যতক্ষণ পর্যন্ত নতুন রাষ্ট্রপতি শপথ না নেন।
সংসদ না থাকা অবস্থায় রাষ্ট্রপতি পদ শূন্য হলে ড. ইউনূস রাষ্ট্রপতি কীভাবে হতে পারবেন, সেটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। সংসদ না থাকায় কার্যত প্রধান বিচারপতি ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। কিন্তু নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করতে গেলে আগে জাতীয় সংসদ গঠন করতে হবে (অর্থাৎ নির্বাচন আয়োজন করে সংসদে সদস্য আনতে হবে)। সেক্ষেত্রে সংসদ না থাকা অবস্থায় ড. ইউনূস রাষ্ট্রপতি হতে চাইলে বাস্তবসম্মত পথ রয়েছে।
সংসদ না থাকায় যদি অবিলম্বে রাষ্ট্রপতি প্রয়োজন হয়, তাহলে অন্তর্বর্তী সরকার ও রাজনৈতিক শক্তির সমঝোতায় অস্থায়ী সাংবিধানিক সংশোধন করা যেতে পারেÑ যাতে অন্তর্বর্তী প্রক্রিয়ায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার সুযোগ থাকে (যেমন বিশেষ নির্বাচকমণ্ডলী গঠন, উপদেষ্টা-নির্বাচিত প্রতিনিধি-সিভিল সোসাইটি সমন্বয়ে)। অথবা অস্থায়ী জাতীয় পরিষদ বা কনভেনশন তৈরি করে সেই ফোরামের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন হতে পারে। এক্ষেত্রে জনগণের অভিপ্রায়ের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ বিবেচিত হয়। জনগণের অভিপ্রায়ে যেভাবে বর্তমান অন্তর্বর্তী গঠিত হয়েছে, সেই একইভাবে ড. ইউনূস প্রার্থী হতে পারবেন।
ড. ইউনূস যদি এখনই রাষ্ট্রপতি হতে চান, তা হবে কেবল অস্থায়ী সাংবিধানিক সংশোধন বা সমঝোতার মাধ্যমে অথবা বিপ্লোত্বর জনগণের অভিপ্রায়ের যুক্তিতে। এর বাইরে সংসদ না থাকলে ড. ইউনূস সরাসরি রাষ্ট্রপতি হতে পারবেন না।
সংবিধান অনুসারে সবচেয়ে স্বাভাবিক পথ হলো আগে সংসদ নির্বাচন করাতে হবে। অথবা একটি বিশেষ সাংবিধানিক সংশোধন বা সমঝোতা করে অন্তর্বর্তী ব্যবস্থায় তাঁকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত করার বিধান করতে হবে।
প্রশ্ন হলো- বিশেষ সাংবিধানিক সংশোধন বা সমঝোতা করে অন্তর্বর্তী ব্যবস্থায় ড. ইউনূসকে অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত করা সম্ভব হলে এজন্য সুপ্রিম কোর্টের রেফারেন্স প্রয়োজন হবে কিনা?
যদি সংসদ না থাকে এবং রাজনৈতিক ঐকমত্যে সিদ্ধান্ত হয় যে, অন্তর্বর্তী প্রক্রিয়ায় রাষ্ট্রপতি দরকার, তাহলে দুটি পথ খোলা থাকে- একটি হলো সাংবিধানিক সংশোধন। সংসদ না থাকায় কার্যত ‘সংবিধান সংশোধন’ করা কঠিন। তবে সংবিধানের অস্থায়ী ধারাসমূহ (যেমন ১৯৭২-৭৫ এ ব্যবহৃত ট্রানজিশনাল ক্লজ) যুক্ত করে বিশেষ ব্যবস্থায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত করা যায়, যদি রাজনৈতিক শক্তিগুলো সমঝোতা করে একটি অস্থায়ী আইনসভা, জাতীয় পরিষদ বা কনভেনশন গঠন করে।
অন্য বিকল্প হলো সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১০৬ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি সুপ্রিম কোর্টের কাছে পরামর্শমূলক মতামত চাইতে পারেন এ বিষয়ে সাংবিধানিক ব্যাখ্যা প্রশ্নে। বর্তমান রাষ্ট্রপতি এটি করতে পারেন। তিনি পদত্যাগ করলে তখন ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি (প্রধান বিচারপতি) এ রেফারেন্স পাঠাতে পারেন। সুপ্রিম কোর্ট মতামত দেবে- সংসদবিহীন পরিস্থিতিতে ‘সমঝোতা/অন্তর্বর্তী প্রক্রিয়ায়’ রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সংবিধানসঙ্গত কিনা।
এ বিষয়ে ঐতিহাসিক নজির হলো বাংলাদেশে ১৯৯৬ সালে বিচারপতি হাবিবুর রহমানের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার হয়েছিল। তবে সেটা সংসদ ভেঙে নতুন নির্বাচনের আগে, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রশ্নে নয়। তবে পাকিস্তান ও ভারতের সাংবিধানিক ইতিহাসে সুপ্রিম কোর্টের পরামর্শমূলক মতামত নিয়ে অস্থায়ী সাংবিধানিক প্রশ্নে পথ খোঁজা হয়েছে। বাংলাদেশে বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের সময়ও সেটি করা হয়েছে।
ড. ইউনূসকে সংসদ ছাড়া রাষ্ট্রপতি করতে চাইলে শুধু রাজনৈতিক সমঝোতা যথেষ্ট নয়, সুপ্রিম কোর্টের ব্যাখ্যা নেওয়া ছাড়া এর সাংবিধানিক বৈধতা প্রতিষ্ঠা করা কঠিন।
সার কথা হলো- ড. ইউনূস রাষ্ট্রপতি হওয়ার সম্ভাব্য পথসমূহ (সংসদ ছাড়া অবস্থায়)- পথ-১: কেবল রাজনৈতিক সমঝোতা। এর প্রক্রিয়া হলো অন্তর্বর্তী সরকার ও রাজনৈতিক দলগুলো সমঝোতা করে ড. ইউনূসকে ‘অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি’ ঘোষণা করবে। সংসদ ছাড়াই ‘জাতীয় পরিষদ বা অন্তর্বর্তী মঞ্চ’ গঠন করে নির্বাচন দেখানো হতে পারে। পথ-২: রাজনৈতিক সমঝোতার সাথে সাথে সুপ্রিম কোর্টে রেফারেন্স। এর প্রক্রিয়া হলো রাষ্ট্রপতি বা ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি (প্রধান বিচারপতি) অনুচ্ছেদ ১০৬ অনুযায়ী সুপ্রিম কোর্টে রেফারেন্স পাঠাবেন। জানতে চাইবেন, ‘সংসদ না থাকলে কি বিকল্প নির্বাচকমণ্ডলী দ্বারা রাষ্ট্রপতি নির্বাচন বৈধ হবে?’ সুপ্রিম কোর্ট ব্যাখ্যা দিলে সেই অনুযায়ী ড. ইউনূস নির্বাচিত হতে পারবেন। পথ-৩ : অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি হওয়ার পর সংসদ গঠন হলে স্থায়ী নির্বাচনের ব্যবস্থা করা।
পথ-১: দ্রুত, কিন্তু সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ (বৈধতা দুর্বল)। অর্থাৎ পথ-১ দ্রুততম, পথ-৩ সবচেয়ে স্থিতিশীল। আর পথ-২ মাঝামাঝি সমাধানÑ যেখানে আদালতের মতামত ড. ইউনূসের রাষ্ট্রপতি হওয়ার সাংবিধানিক বৈধতা কিছুটা রক্ষা করবে।
প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, বর্তমানে সৈয়দ রেফাত আহমেদ বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি ২০২৪ সালের ১০ আগস্ট রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন কর্তৃক নিয়োগপ্রাপ্ত হন এবং ১১ আগস্ট শপথ গ্রহণ করেন। সৈয়দ রেফাত আহমেদের জন্ম ১৯৫৮ সালের ২৮ ডিসেম্বর। ফলে তিনি ২০২৫ সালের ২৮ ডিসেম্বর ৬৭ বছর পূর্ণ করবেন। তাহলে তাঁর অবসর গ্রহণের সম্ভাব্য সময় ২০২৫ সালের ২৮ ডিসেম্বর হতে পারেন। যদি এর আগে তিনি নিজে পদত্যাগ না করেন বা রাষ্ট্রপতি তাঁকে অবসর না দেন। তবে বিচার বিভাগের অভ্যন্তরীণ সিদ্ধান্ত ও রাষ্ট্রপতির আদেশের ওপর নির্ভর করে এ সময়সীমা পরিবর্তন হতে পারে।