নূরুল হুদা কমিশন ও বিতর্কিত নির্বাচন

সরদার আবদুর রহমান
৩ জুলাই ২০২৫ ১২:১৭

আওয়ামী লীগের তথাকথিত ‘গণতান্ত্রিক’ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বার বার ক্ষমতায় আরোহণের মোজেজা জাতি নিশ্চয়ই বুঝতে সমর্থ হয়েছে। পুরো নির্বাচন-ব্যবস্থাকে কব্জায় নিয়ে নিজেদের বিজয় নিশ্চিত করার পরই কেবল ভোটের আয়োজন করা হতো। শুধু কি সরকারি দল, বিরোধীদলও নির্ধারণ করা হতো এ প্রক্রিয়ায়। এজন্য এ নির্বাচন ব্যবস্থার প্রতিটি স্তরকে কলুষিত করা হয়। এমনকি নির্বাচন কমিশনও এমন লোকদের দ্বারা গঠন করা হতো, যারা আওয়ামী লীগের ইচ্ছা পূরণের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারবে। এ যেন এক বিবস্ত্র দৃশ্য! বিশ্লেষকরা এমনও বলেন, অতীতে আওয়ামী লীগ যে কয়টি নির্বাচনে ‘বিজয়ী’ হয়েছে, সেগুলোর কোনোটিই সন্দেহের ঊর্ধ্বে ছিল না। তবে এর মধ্যে ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪-এর নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হওয়ার ধারেকাছেও ছিল না। নির্বাচনী প্রক্রিয়ার কেবল ওপরের খোলসটা বহাল রেখে ভেতরের সব মাংস-গুর্দা নিঃশেষ করে ফেলা হয়েছিল।
সর্বশেষ তিনটি নির্বাচনের বিষয়ে ইতোমধ্যে আদালতে মামলা দায়ের হয়েছে। সেই সূত্রে ২০১৮ সালের নির্বাচনের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নূরুল হুদাও গ্রেফতার হয়েছেন। তাঁকে রিমান্ডে নেয়ার জন্য আদালতে শুনানিকালে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ওমর ফারুক ফারুকী বলেন, ‘২০১৮ সালের নির্বাচনে কোনো নিরাপত্তা ছিল না। বিরোধীদলীয় প্রার্থীর ও ভোটারের বাড়িঘর ভাঙচুর করা হয়। এগুলোর ব্যাপারে কোনো ব্যবস্থা নেননি নূরুল হুদা। ২০১৮ সালে রাত ৩টার মধ্যে ২০০ আসনের প্রার্থীকে বিজয়ী ঘোষণা করে ফলাফল ঘোষণা করেন তিনি। তিনি কীভাবে এটা করলেন, সেটা তাকে জানাতে হবে। এছাড়া রাতে প্রিসাইডিং অফিসারদের বিভিন্ন নির্দেশ দেয়াসহ তাদের পাহারায় ও নির্দেশনায় এ রাতের ভোট সম্পন্ন হয়েছে। এ পাতানো নির্বাচনের হোতা ছিলেন উনি (নূরুল হুদা) এবং তার সচিব ও প্রশাসন কাজ করেছে তার নির্দেশে। ফ্যাসিস্ট হাসিনার সঙ্গে উনার যে সম্পর্ক, সেই সম্পর্কের খাতিরেই এসব পলিসি হয়েছে। নির্বাচনের নামে হাজার হাজার কোটি টাকা লোপাট করেছেন। এতবড় একটা নির্বাচন ছিল প্রহসনমূলক।’
লেভেলপ্লেয়িং ফিল্ড করা হয়নি
২০১৮ সালে অনুষ্ঠিত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ময়নাতদন্ত করে এ নির্বাচন অনেক ত্রুটিপূর্ণ ও প্রশ্নবিদ্ধ ছিল বলে রিপোর্ট প্রকাশ করে বিভিন্ন সংস্থা। এর একটি রিপোর্টে বলা হয়, এই নির্বাচনে নির্বাচন কমিশন (ইসি) বিভিন্ন ক্ষেত্রে যথাযথ ভূমিকা পালনে ব্যর্থ হয়েছে। কার্যত ইসি সব দল ও প্রার্থীর জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে পারেনি। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) গবেষণায় উল্লেখ করা হয়, প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠতে পারেননি। তার আত্মীয়ের মনোনয়ন নিয়ে তিনি কোনো ব্যাখ্যা দিতে পারেননি। ৫০টি আসনের মধ্যে ৪৭টিতে ত্রুটিপূর্ণ নির্বাচন হয়েছে, ৩৩টিতে আগের রাতেই ব্যালটে সিল মারা হয়েছে। এ পর্যবেক্ষণ তুলে ধরে প্রতিবেদনে বলা হয়, ৫০টি আসনের মধ্যে ৩৬টিতে বিরোধীদলের প্রচারে বাধা দেয়া হয়। ৪৪টি আসনে বিরোধীদলীয় প্রার্থীদের মনোনয়ন চূড়ান্ত হওয়ার পর থেকে দলীয় নেতাকর্মীদের নামে মামলা, পুলিশ বা প্রশাসনের হুমকি ও হয়রানি, প্রার্থী ও নেতাকর্মী গ্রেফতার এবং ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থী ও কর্মীরা বিভিন্ন সময়ে ভয়ভীতি দেখানোর তথ্য পাওয়া যায়।
এছাড়া কে এম নূরুল হুদার নেতৃত্বাধীন নির্বাচন কমিশনের মেয়াদের সমাপনী উপলক্ষে ‘একটি বিতর্কিত নির্বাচন কমিশনের আমলনামা’- এ শিরোনামে প্রকাশিত একটি নিবন্ধে উল্লেখ করা হয়, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগ নিয়ে পথচলা কে এম নূরুল হুদা কমিশনের। এ নির্বাচনের মাধ্যমে ‘রাতের ভোট’ শব্দটির সঙ্গে দেশের মানুষ পরিচিত হয়। এরপর একের পর এক নির্বাচন হয়েছে আর ব্যর্থতার ঝুলি পূর্ণ করেছে এ কমিশন। নানা সময়ে বিরোধীদল, সুশীল সমাজ ও সাধারণ মানুষের সমালোচনার মুখে থাকা এ কমিশনের বিরুদ্ধে বড় অভিযোগ তারা নির্বাচন ব্যবস্থাকে ধ্বংস করে খাদের কিনারে রেখে যাচ্ছে। সময়ে সময়ে অভিযোগ এলেও সিইসিসহ অন্য তিন কমিশনার নিজেদের পক্ষে সাফাই গেয়েছেন বরাবরই। ব্যতিক্রম ছিলেন একমাত্র কমিশনার মাহবুব তালুকদার (বর্তমানে মৃত)। তিনি সময়ে সময়ে অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনা নিয়ে কথা বলেছেন। নোট অব ডিসেন্ট জমা দিয়েছেন। তার ভাষায় এটি ছিল তার গণতান্ত্রিক প্রতিবাদ। তিনি এও বলেছেন, ৫ জনের কমিশনে একা লড়ে কোনো লাভ নেই। যা হওয়ার তাই হয়। একজনের বাধায় এখানে কোনো কিছু আটকে থাকে না। বাকি চারজন এক হলে যেকোনো কাজ অনায়াসেই করে ফেলা যায়। হুদা কমিশন তাই করেছে। মাহবুব তালুকদার কেবল কথা বলে গেছেন। তার কোনো কথাই আমলে নেয়া হয়নি। নির্বাচন বিশ্লেষকরা বলছেন, এ কমিশন চাইলে ভালো নির্বাচন করতে পারতো। কিন্তু তাদের সেই মানসিকতা ছিল না।
৫৯০টি কেন্দ্রের বৈধ ভোটের সবগুলোই মাত্র ১টি প্রতীকে পড়েছে
অপর একটি বিশ্লেষণে উল্লেখ করা হয়, হুদা কমিশনের অধীনে অনুষ্ঠিত নির্বাচনের শুরুটাই বড় বিতর্ক দিয়ে। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সারা দেশে কেন্দ্রভিত্তিক ফলাফল বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ২১৩টি কেন্দ্রে শতভাগ ভোটার ভোট দিয়েছেন। এসব কেন্দ্রে মৃত মানুষের ভোটও পড়েছে। ১ হাজার ১৭৭টি কেন্দ্রে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থীরা শূন্য ভোট পেয়েছেন। ২টি কেন্দ্রে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের পক্ষে কোনো ভোট পড়েনি। এছাড়া ৫৯০টি কেন্দ্রে বৈধ ভোটের সবগুলোই মাত্র একটি প্রতীকে পড়েছে। নির্বাচন বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের ফলাফল কোনোভাবেই সুষ্ঠু ভোটের চিহ্ন বহন করে না। পরবর্তী নির্বাচনগুলোয়ও এ রাতের ভোটের ধারাবাহিকতা ছিল লক্ষণীয়। স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের প্রতিটি নির্বাচনে নূরুল হুদা কমিশনের ভূমিকা ছিল প্রশ্নবিদ্ধ। সবশেষ ৮ ধাপে অনুষ্ঠিত ইউনিয়ন পরিষদে শতাধিক মানুষের প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। এসব ঘটনায় নির্বাচন কমিশনের কোনো দায় নেই বলে সাফ জানিয়ে দেন সিইসি কে এম নূরুল হুদা। অতীতেও ইসির বিরুদ্ধে পক্ষপাতমূলক নির্বাচন আয়োজন ও লেভেলপ্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত না করার অভিযোগ থাকলেও নির্বাচন কমিশনারদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ ছিল না। কিন্তু নূরুল হুদা কমিশন ছিল এর ব্যতিক্রম। এ কমিশনের বিরুদ্ধে নির্বাচন সংক্রান্ত গুরুতর অসদাচরণের পাশাপাশি আর্থিক অনিয়মের অভিযোগও রয়েছে।
দুর্নীতি ছড়িয়ে পড়ে মাঠ পর্যায়েও
এসব অনিয়মের অভিযোগ সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল গঠন করে তদন্তসাপেক্ষে ব্যবস্থা নিতে প্রেসিডেন্টের কাছে চিঠি দিয়েছিলেন দেশের ৪২ বিশিষ্ট নাগরিক। অভিযোগগুলো নিম্নরূপ-
* ‘বিতর্কিত’ ১৫টি পদ সৃষ্টির মাধ্যমে প্রধান নির্বাচন কমিশনার, অন্য চারজন কমিশনার, সচিব, ট্রেনিং ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালকসহ কিছু উচ্চপদস্থ ব্যক্তিকে অন্যায় ও অনৈতিক আর্থিক সুবিধা দেয়ার অভিযোগ উত্থাপিত হয় নাগরিকদের পক্ষ থেকে।
* ২০১৮-১৯ সালে অল্প কিছু কর্মকর্তা প্রশিক্ষণ বাজেট থেকে ১১ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন বলে অভিযোগ করা হয়। এর মধ্যে অন্তত সাড়ে তিন কোটি টাকা নিয়েছেন সিইসি ও অন্য চার কমিশনার, নির্বাচন কমিশনের সচিব, প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের প্রধানসহ মাত্র ১৮ জন কর্মকর্তা। গণমাধ্যমে প্রকাশিত বক্তব্যে কমিশনের বর্তমান সচিবও এমন অর্থ ভাগাভাগি করে নেয়ার নীতিগত দিক নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।
* কমিশনের নেতৃত্বে অনিয়ম ও দুর্নীতিতে জড়িয়েছেন নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের কর্মকর্তারাও। দুর্নীতির অনুশীলন গড়িয়েছে মাঠ পর্যন্তও। রিটার্নিং অফিসারের দায়িত্বে থাকা নির্বাচন কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ঘুষ গ্রহণের অভিযোগ এসেছে।
* সিলমারা ব্যালটসহ কেন্দ্রের বাইরে হাতেনাতে গ্রেপ্তার হয়েছেন সিলেটের এক থানা নির্বাচন অফিসার। বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন তিনি। এছাড়া দেশের বিভিন্ন স্থানে টাকার বিনিময়ে প্রার্থীদের জিতিয়ে দেয়ার অভিযোগ করেছেন প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা।
* ইউপি নির্বাচনে বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হওয়ার সংখ্যাও ছিল উল্লেখযোগ্য।
* নূরুল হুদা কমিশন অসততার যেসব উদাহরণ সৃষ্টি করেছে, তার অন্যতম হলো ইভিএম (ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন) ব্যবহারের ব্যাপারে কমিশনের অঙ্গীকার রক্ষা না করা। সিইসি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর নূরুল হুদা একাধিকবার প্রকাশ্য অঙ্গীকার করেছিলেন যে, রাজনৈতিক দলগুলো একমত না হলে কমিশন ভবিষ্যতে নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহার করবে না। সব বিরোধীদলের অসম্মতি সত্ত্বেও কমিশন সব নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নেয়।
* শুধু তাই নয়, কমিশন ভিভিপিএটি (ভেরিফায়েভল ভোটার পেপার অডিট ট্রেইল) ছাড়াই প্রায় চার হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে এবং কমিশন কর্তৃক গঠিত কারিগরি কমিটির উপদেষ্টা অধ্যাপক জামিলুর রেজা চৌধুরীর মতামত উপেক্ষা করে দেড় লাখ ইভিএম ক্রয়ের সিদ্ধান্ত নেয়। অধিকাংশ স্টেকহোল্ডারের প্রতিবাদ আমলে না নিয়ে এ ত্রুটিপূর্ণ ইভিএম ব্যবহার চালিয়ে যায় নূরুল হুদা কমিশন।
* নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে শতভাগ কেন্দ্রে ইভিএমের ব্যবহার হয়। ইভিএমের মাধ্যমে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে স্বল্প সময়ে ভোটের ফল প্রকাশের কথা থাকলেও তা সম্ভব হয়নি কারিগরি ত্রুটির কারণে।
* রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের অভিমত উল্লেখ করে বলা হয়, ৫ বছরে মেয়াদকালে বর্তমান ইসির পক্ষপাতদুষ্টতার বড় দৃষ্টান্ত তৈরি হয়েছে এ জাতীয় নির্বাচনে। বিরোধীদলের ওপর সরকারের দমন-পীড়ন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মদদে গত জাতীয় নির্বাচনের প্রাক্কালে বিরোধীদলের প্রার্থীদের নির্বাচনী প্রচার থেকে বিরত রাখা এবং ভোটের ক্ষেত্রে অনিয়ম কারসাজি-জবরদস্তির বিষয়ে কমিশন ছিল নির্বিকার।
এমন বিতর্কিত নির্বাচন আয়োজন ছাড়াও ব্যক্তিগত আক্রমণ ও আক্রোশমূলক বক্তব্য প্রদানেরও অভিযোগ রয়েছে সিইসি কে এম নূরুল হুদার বিরুদ্ধে। সেসময় এসব অভিযোগ উত্থাপিত হলেও এর কোনোপ্রকার তদন্ত করা দূরে থাকুক, কোনো আমলেই নেয়া হয়নি।
তিন জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠানে জড়িতদের কাজের তদন্ত
আদালতে মামলা করা ছাড়াও সরকারিভাবে বিতর্কিত একাদশ নির্বাচনসহ তিনটি জাতীয় নির্বাচন আয়োজনে জড়িতদের ভূমিকা তদন্ত করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। ইতোমধ্যে এজন্য একটি কমিটিও গঠন করা হয়েছে। এতে বিতর্কিত এ নির্বাচনসমূহ আয়োজনে জড়িত সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার, নির্বাচন কমিশনারগণ ও নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সচিবদের ভূমিকা তদন্ত করা হবে। এক ঘোষণায় বলা হয়েছে, বিগত তিনটি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের বিষয়ে উত্থাপিত অভিযোগের তদন্ত এবং ভবিষ্যতে সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে ‘সুপারিশ প্রণয়ন কমিটি’ গঠন করেছে সরকার। পাঁচ সদস্যের এ কমিটির সভাপতি নিযুক্ত হয়েছেন হাইকোর্ট বিভাগের সাবেক বিচারপতি শামীম হাসনাইন। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন- সাবেক অতিরিক্ত সচিব শামীম আল মামুন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক কাজী মাহফুজুল হক, আইনজীবী ব্যারিস্টার তাজরিয়ান আকরাম হোসাইন ও নির্বাচন বিশেষজ্ঞ মো. আবদুল আলীম।
সুষ্ঠু নির্বাচনের দিকে ধাবিত হচ্ছে বাংলাদেশ
নির্বাচন কমিশনের একজন প্রধান হিসেবে কে এম নূরুল হুদার গ্রেফতারের বিষয়টি বাংলাদেশের প্রেক্ষিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। কেননা এটি একটি সাংবিধানিক পদ। এর মধ্য দিয়ে পরবর্তী সিইসি ও ইসিদের জন্য সতর্কতামূলক বার্তা পৌঁছাবে। এখন নূরুল হুদা কমিশনের কার্যক্রম ও ভূমিকা পর্যালোচনা করে যে ত্রুটি ও অপরাধমূলক বিষয়সমূহ চিহ্নিত হবে, তার আলোকে পরবর্তী নির্বাচনগুলোর জন্য প্রয়োজনীয় নীতিমালা প্রণয়ন এবং সেগুলো বাস্তবায়ন করা হবে বলে আশা করা যায়। একই সঙ্গে এসব অপরাধের ইন্ধনদাতা, মন্ত্রণাদাতা, অর্থের জোগানদাতা এবং এর বাস্তবায়নকারী সকলকে আইনের আওতায় আনার দৃঢ় পদক্ষেপ নিতে হবে। অতঃপর বাংলাদেশে সর্বদা অবাধ, নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ, সুষ্ঠু ও বিতর্কহীন নির্বাচনী ব্যবস্থার দিকে ধাবিত হবে বাংলাদেশ।