বর্তমান সরকার ৭ মাসেই বিগত ফ্যাসিবাদী সরকারকেও হার মানিয়েছে : মোবারক হোসাইন


১০ অক্টোবর ২০২৬ ১৮:২১

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও যশোর-কুষ্টিয়া অঞ্চল পরিচালক মো. মোবারক হোসাইন বলেছেন, বর্তমান সরকার মাত্র সাত মাসেই বিগত ফ্যাসিবাদী সরকারকেও হার মানিয়েছে। দেশের রন্ধ্রে রন্ধ্রে দলীয়করণ ছড়িয়ে পড়েছে, ঘরে ঘরে চাঁদাবাজির অভিযোগ উঠছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে যাচ্ছে। জ্বালানি তেলের দাম বাড়িয়ে সরকার জনগণের আস্থা হারিয়েছে। এ অবস্থা থেকে উত্তরণে জনগণের প্রত্যাশাকে গুরুত্ব দিয়ে সরকারকে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।

শনিবার ১০ অক্টোবর বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী যশোর জেলা শাখার উদ্যোগে আয়োজিত রুকন শিক্ষা শিবিরে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

রুকনদের উদ্দেশে তিনি বলেন, একটি আদর্শ সমাজ গঠনের পূর্বশর্ত হলো সৎ চরিত্র, নৈতিকতা, তাকওয়া ও আল্লাহভীতি। ব্যক্তিজীবনে এসব গুণের চর্চা ছাড়া একটি ন্যায়ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়। একজন দায়িত্বশীলকে নিজের কথা, কাজ ও আচরণের মাধ্যমে সততা, ন্যায়পরায়ণতা এবং মানুষের প্রতি দায়িত্ববোধের পরিচয় দিতে হবে।

তিনি আরও বলেন, ইসলামী আন্দোলনের মূল লক্ষ্য কোনো পার্থিব স্বার্থ অর্জন নয়; বরং আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন এবং আখেরাতে সফলতা লাভ। তাই আন্দোলনের প্রতিটি কর্মীকে দুনিয়ার ক্ষণস্থায়ী লাভ-লোকসানের ঊর্ধ্বে উঠে আখেরাতমুখী জীবন গড়ে তুলতে হবে। প্রতিটি কাজের উদ্দেশ্য হতে হবে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন। ব্যক্তিগত আমল, পারিবারিক জীবন, সামাজিক দায়িত্ব ও সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড- সব ক্ষেত্রেই ইসলামী আদর্শের প্রতিফলন ঘটাতে হবে।

তিনি বলেন, সংগঠনের দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি আত্মশুদ্ধি, নিয়মিত অধ্যয়ন, পারস্পরিক সহযোগিতা এবং সাংগঠনিক শৃঙ্খলা বজায় রাখা প্রত্যেক রুকনের কর্তব্য। মানুষের সুখে-দুঃখে পাশে দাঁড়ানো, অসহায় ও বঞ্চিত মানুষের অধিকার রক্ষা করা এবং সমাজে ন্যায় ও ইনসাফ প্রতিষ্ঠার জন্য কাজ করতে হবে। যোগ্যতা, দক্ষতা ও নৈতিকতার সমন্বয়ে এমন নেতৃত্ব গড়ে তুলতে হবে, যারা মানুষের আস্থা অর্জন করতে সক্ষম হবে।

মো. মোবারক হোসাইন বলেন, জনগণ একটি বৈষম্যহীন, ন্যায়ভিত্তিক ও জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থার প্রত্যাশা করে। কিন্তু সরকার যদি জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষাকে উপেক্ষা করে এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে দলীয় স্বার্থে ব্যবহারের পথে হাঁটে, তাহলে গণতান্ত্রিক পরিবেশ ও জনআস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হবে। জনগণের ভোট, মতামত ও অধিকারকে যথাযথ মর্যাদা দিতে হবে। রাষ্ট্র পরিচালনায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও আইনের শাসন নিশ্চিত করা সরকারের দায়িত্ব।

তিনি আরও বলেন, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি সাধারণ মানুষের জীবনকে দুর্বিষহ করে তুলছে। নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো সংসারের ব্যয় নির্বাহ করতে হিমশিম খাচ্ছে। বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণ, জ্বালানি খাতে জনস্বার্থ রক্ষা এবং চাঁদাবাজি ও দুর্নীতি প্রতিরোধে সরকারকে কার্যকর ভূমিকা পালন করতে হবে। জনগণের মৌলিক সমস্যার সমাধান না করে শুধু প্রতিশ্রুতি দিয়ে মানুষের আস্থা অর্জন করা সম্ভব নয়।

আগামী ৩১ অক্টোবরের লংমার্চ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ১১ দলীয় ঐক্যের সাত দফা দাবি জনগণের অধিকার, ন্যায়বিচার ও রাষ্ট্রীয় সংস্কারের প্রত্যাশার সঙ্গে সম্পর্কিত। লংমার্চের আগেই এসব দাবি মেনে নিয়ে সরকারকে জনআকাঙ্ক্ষার প্রতি সম্মান প্রদর্শন করতে হবে। অন্যথায় জনগণের ন্যায্য দাবি আদায়ে শান্তিপূর্ণ ও নিয়মতান্ত্রিক গণতান্ত্রিক কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।

যশোর জেলা জামায়াতের আমীর অধ্যাপক গোলাম রসুল এমপির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত শিক্ষা শিবিরে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ড. আবু সাদিক, যশোর-৫ ও যশোর-৬ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট গাজী এনামুল হক এমপি ও অধ্যাপক মিক্তার আলী এমপি।

এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি অধ্যক্ষ আবু জাফর সিদ্দীকী, সহকারী সেক্রেটারি বেলাল হোসাইন, গোলাম কুদ্দুস, মাওলানা রেজাউল করিম, অধ্যাপক শামসুজ্জামান ও অধ্যাপক মনিরুল ইসলাম; জেলা কর্মপরিষদ সদস্য মাওলানা আরশাদুল আলম, মাওলানা আব্দুস সামাদ ও আব্দুল্লাহ আল মামুন; মনিরামপুর উপজেলা আমীর অধ্যাপক ফজলুল হক, কেশবপুর উপজেলা সেক্রেটারি মাস্টার রফিকুল ইসলাম, মনিরামপুর উপজেলা সেক্রেটারি মাওলানা ইব্রাহিম খলিল, অভয়নগর উপজেলা সেক্রেটারি অধ্যাপক মহিউল ইসলামসহ জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।

ঝিকরগাছা ও শার্শায় মহিলা রুকনদের পৃথক সমাবেশ

রুকন শিক্ষা শিবির শেষে মো. মোবারক হোসাইন ঝিকরগাছা ও শার্শায় আয়োজিত পৃথক দুটি সমাবেশে যশোর জেলার মহিলা রুকনদের উদ্দেশে বক্তব্য দেন।

তিনি বলেন, নীতি-নৈতিকতা ও ইসলামী আদর্শের আলোকে নিজেদের গড়ে তুলতে হবে। ন্যায়, ইনসাফ ও মানবকল্যাণভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠার জন্য ব্যক্তি গঠন, আত্মশুদ্ধি, দাওয়াতি কার্যক্রম এবং সাংগঠনিক শৃঙ্খলার কোনো বিকল্প নেই। সততা, আমানতদারিতা, তাকওয়া ও দায়িত্বশীলতার মাধ্যমে সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব।

তিনি আরও বলেন, পরিবার ও সমাজে নৈতিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠায় নারীদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। বিশেষ করে যুবসমাজকে আদর্শিক, নৈতিক ও যোগ্য নেতৃত্ব হিসেবে গড়ে তুলতে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। ব্যক্তিগত ও সাংগঠনিক জীবনে শৃঙ্খলা বজায় রেখে মানুষের কল্যাণে কাজ করতে হবে।

আগামী ৩১ অক্টোবর ঢাকা-খুলনা-যশোর-কুষ্টিয়া লংমার্চ সফল করার বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করে তিনি বলেন, এ কর্মসূচিতে যশোর জেলার মহিলাদের ঐতিহাসিক উপস্থিতি ও স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ দেখা যাবে বলে তিনি আশা করেন। জনগণের ন্যায্য দাবি আদায় এবং একটি ন্যায়ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান তিনি।