১৮ কোটি মানুষের অধিকার রক্ষার আন্দোলনে নেমেছে ১১ দলীয় ঐক্য : বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান
৬ আগস্ট ২০২৬ ১৪:৩১
জনগণের দুর্ভোগ লাঘব, তেল, গ্যাসসহ নিত্য পণ্যের মূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদে আজ বৃহস্পতিবার ৬ আগস্ট রাজধানীর মুক্তাঙ্গণে ১১ দলীয় ঐক্যের উদ্যোগে এক অবস্থান কর্মসূচিতে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন বিরোধীদলীয় নেতা ও আমীরে জামায়াত ডা. শফিকুর রহমান
বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ১১ দলীয় ঐক্য ১৮ কোটি মানুষের অধিকার রক্ষার আন্দোলনে নেমেছে, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।
তিনি বলেন, গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন, সকল ক্ষেত্রে বৈষম্য দূরীকরণ, তেল, গ্যাস বিদ্যুতের দাম নিয়ন্ত্রণ করে কমিয়ে আনা, জনভোগান্তির নিরসন, দ্রুব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, খুনীদের বিচার নিশ্চিত ও সম্পদ লুণ্ঠণকারীদের বিচার নিশ্চিত করার দাবিতে আমাদের আন্দোলন চলমান।
জনগণের দুর্ভোগ লাঘব, তেল, গ্যাসসহ নিত্য পণ্যের মূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদে আজ বৃহস্পতিবার ৬ আগস্ট রাজধানীর মুক্তাঙ্গণে ১১ দলীয় ঐক্যের উদ্যোগে এক অবস্থান কর্মসূচিতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, জনগণের ১১ দফা জনগণের হাতে তুলে দেয়ার জন্য আমরা আজ এখানে এসেছি। এ ১১ দফা কোনো দলের নয়,কোনো ব্যক্তির নয়, কোনো গোষ্ঠীর নয়- ১৮ কোটি মানুষের অধিকার রক্ষার জন্য। আমরা জনগণের অধিকারের পক্ষে লড়াই করতে নেমেছি। আমাদের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।
তিনি আরও বলেন, যারা এদেশের নিরীহ মানুষের বুকে গুলি চালিয়ে বিভিন্নভাবে গুম ও খুনের আশ্রয় নিয়ে জনগণের উপর জুলুম করেছে, আমরা জীবিত থাকা অবস্থায় তারা আর দেশে আস্ফালন করার সুযোগ পাবে না। ইতোমধ্যে ১১ দল অনেকগুলো কর্মসূচি পালন করেছে। পরে তিনি ১১ দলের নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করে সরকারকে সতর্ক করে বলেন, এই লংমার্চ জনগণের দাবি আদায়ের জন্য। অতীতের মতো যেন বাধা দেয়া না হয়। যদি বাধা দেয়া হয় তাহলে দ্বিগুন গতিতে গন্তব্যে পৌঁছবে। ঘোষিত নতুন কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে-
৫ সেপ্টেম্বর- ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম লংমার্চ ; ১৯ সেপ্টেম্বর- ঢাকা থেকে রংপুর লংমার্চ; ১০ অক্টোবর ঢাকা থেকে খুলনা লংমার্চ; ২৪ অক্টোবর- ঢাকা থেকে সিলেট লংমার্চ (রেলপথ); ১৪ নভেম্বর- ঢাকায় মহাসমাবেশ।
কর্মসূচি ঘোষাণা করে আমীরে জামায়াত সচিবালয়ের দিকে রওনা হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, সচিবালয়ে যারা বসে আছেন মন্ত্রী, এমপি, সচিব তাদের জনগণের কথা শুনতে হবে, মানতে হবে। সচিবালয় কোনো দলের নয়। সংসদে যেন আর মিথ্যা বিবৃতি না দেয়া হয়, বলেন তিনি।
তিনি বলেন, চুলায় গ্যাস চাই, ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ চাই, খাবার জন্য বিশুদ্ধ পানি চাই। গাড়ির জন্য পর্যাপ্ত গ্যাস চাই। এলপিজির বর্ধিত মূল্য প্রত্যাহার করুন। আর গ্যাসের দাম বাড়ানোর পাঁয়তারা করবেন না। সংকট তৈরির পরবর্তী পদক্ষেপ হলো দাম বাড়ানো। আমরা তা হতে দেবো না। প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট দফতর ঘেরাও করতে বাধ্য হবো, বলেন বিরোধীদলীয় নেতা।
এনসিপির আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম এমপি বলেন, বৃষ্টির মধ্যে বসে আমরা সমাবেশ করছি। এটি সরকারের জন্য একটি বার্তা। সরকার ৫ মাসে সম্পূর্ণরূপে ব্যর্থ হয়েছে। গ্যাস দিতে পারছে না, বিদ্যুত দিতে পারছে না।
তিনি বলেন, ক্যাম্পাসগুলোতে ছাত্রদল বিরোধীদলের ছাত্রসংগঠন ছাত্রশিবির ও ছাত্রশক্তির উপর হামলা চালাচ্ছে। ছাত্রলীগের মতো তারা হামলা করছে। ক্যাম্পাসগুলো কোনো অবস্থাতে তাদের হাতে ছেড়ে না দেয়ার আহ্বান জানান তিনি।
নাহিদ বলেন, ঢাকা শহরে মানুষের উপর তারা অত্যাাচার করছে। সরকার গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না করে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে। প্রতি পদে পদে বিশ্বাসঘাতকতা করে যাচ্ছে। সরকার যদি গ্যাস বিদ্যুতের চাহিদা পূরণ না করে, তাহলে ক্ষমতায় থাকতে পারবে না। বাংলাদেশের জনগণ এই সরকারকে এ ধরনের আচরণ করতে দিবে না। সরকার গ্যাসের দাম দফায় দফায় বাড়িয়েছে। আবার বাড়ানোর পাঁয়তারা করলে গদিতে বসে থাকতে পারবেন না, সতর্ক করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, সরকার যদি গ্যাস বিদ্যুৎ ও কর্মসংস্থান নিশ্চিত করতে না পারে তাহলে এই সরকার যেন ক্ষমতায় থাকার স্বপ্ন না দেখে।
লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রেসিডেন্ট কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীরবিক্রম বলেন, বিএনপির ২০ লক্ষাধিক লোক চাঁদাবাজিতে নেমেছে। তিন মাসে ৩১ হাজার কোটি টাকা ঋণ খেলাপি হয়েছে। সরকার চালাতে শিক্ষিত, জ্ঞানী ও দক্ষ লোকের প্রয়োজন। ব্যাংক খেলাপি দুর্নীতিবাজদের দিয়ে দেশ চালানো যাবে না। জনগণের দাবি আদায়ের জন্য আমাদের যা যা প্রয়োজন, তা আমরা করব।
জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ক্যাম্পাকগুলোতে বিশৃঙ্খলা করা হচ্ছে। জুলাইযোদ্ধাদের পরিবারগুলোর চোখে পানি এসেছে। বিরোধীদলের পক্ষ থেকে দাবি করছি- ছাত্রদলকে সংযত করে জনগণের আকাঙ্ক্ষা পূরুণ করুন।
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব মাওলানা জালালুদ্দিন বলেন, দেশে যদি তেল, গ্যাস, জ্বালানির সংকট থাকে, ২০ দিন গ্যাস না থাকে এবং দ্রব্যমূল্য বাড়তে থাকে, তাহলে সরকারের দায়িত্ব কি? যদি জনগণের দুঃখ না বুঝে সরকার তাহলে তাদের ক্ষমতায় থাকার অধিকার রাখে না। আমরা জনগণের সাথে আছি। অবিলম্বে জ্বালানি ও তেলের দাম কমাতে হবে।
বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিকুর রহমান ইরান বলেন, আমরা বিদ্যুৎ চাই, আমরা বিশুদ্ধ পানি চাই। বিদ্যুৎ গ্যাসের অভাবে শিল্প কারখানা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। টাকা ছাপিয়ে ব্যাংকে দেয়া হচ্ছে। এভাবে একটি দেশ চলতে পারে না। আপনারা ব্যর্থ হয়ে গেছেন, দেশ চালাতে পারবেন না। বিএনপি জুলাইয়ে বিশ্বাস করে না, সংস্কার চায় না। রাষ্ট্র সংস্কারের জন্য এদেশের মানুষ বিপ্লব করেছে।
জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান এমপি বলেন, সরকারের পায়ের নিচে মাটি নেই। সরকার বেসামাল হয়ে গেছে। প্রধানমন্ত্রী জানেন না, তাকে কোথায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। হামলা, মামলা, দলীয়করণ ও দখলদারিত্ব বন্ধ করতে হবে। নতুবা ক্ষমতায় থাকা যাবে না।
এবি পার্টির জেনারেল সেক্রেটারি ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ বলেন, একসময় আমরা গ্যাসে স্বয়ংসম্পূর্ণ ছিলাম, যা আজ শূণ্যের কোঠায় নিয়ে গেছে। আমাদের গ্যাস ব্লকগুলো থেকে গ্যাস ভারত ও মিয়ানমার পাইপের মাধ্যমে নিয়ে যাচ্ছে। আমাদের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্বকে হুমকির মধ্যে ফেলা দেয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, মিয়ানমার থেকে এলএনজি আমদানির কথা বলা হচ্ছে। দেশকে নিরাপত্তা ও জ্বালানি ঝুঁকিতে ফেলে দেয়া হচ্ছে। সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তা রক্ষার আহ্বান জানান তিনি।
বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির নায়েবে আমীর মুফতি মোখলেসুর রহমান কাসেমী বলেন, সরকার এখন জনগণকে বাদ দিয়ে ক্ষমতা ক্ষমতা করছেন । অতীতের সরকার এমন কথার কারণে দেশ ছেড়ে পালিয়েছে।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ এমপি ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের সহকারী সেক্রেটারি ডা. ফখরুদ্দিনের সঞ্চালনায় আরও বক্তব্য রাখেন সাবেক সংসদ সদস্য মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান, জাগপার সহসভাপতি ও মুখপাত্র ইঞ্জিনিয়ার রাশেদ প্রধান, বিডিপির চেয়ারম্যান এডভোকেট আনোয়ারুল ইসলাম চান, বিপিডিসির শ্রমিক কল্যাণ পরিষদের সভাপতি আনম মজনুর রহমান, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের মহাসচিব মাওলানা ফখরুল ইসলাম, ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্য মুগদার আছিয়া খাতুন, ভুক্তভোগী গার্মেন্টস ফ্যাক্টরির মালিক জুয়েল শুক্কর, কামাল হোসেন এমপি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের নির্বাহী পরিষদ সদস্য মাওলানা আনোয়ার হোসেন রাজী, সিএনজি চালক মিজানুর রহমান ,লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বিল্লাহ হোসেন মিয়াজী ,এলডিপির প্রেসিডিয়াম সদস্য আওরঙ্গজেব বেলাল, শ্রমিক কনস্ট্রাকশনের নেতা ইউসুফ আলী আকন ,জাগপার সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসাইন, বাংলাদেশ লেবার পার্টির মুখপাত্র নাজমুল ইসলাম তালুকদার।
এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি ১১ দলীয় ঐক্যের সমন্বয়ক ড. এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ, জামায়াতের ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমীর নূরুল ইসলাম বুলবুল এমপি ও ব্যারিস্টার নাজিবুর রহমান মোমেন এমপি।