প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের স্বচ্ছ তালিকা করে সাধারণ মুক্তিযোদ্ধাদের ভাতা ও সুযোগ-সুবিধা বাড়ানোর দাবি জামায়াতের

সোনার বাংলা অনলাইন
১ আগস্ট ২০২৬ ২০:৩৬

মুক্তিযোদ্ধাদের স্বচ্ছ তালিকা করে সাধারণ মুক্তিযোদ্ধাদের ভাতা ও সুযোগ-সুবিধা বাড়ানোর দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সংগঠন জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা পরিষদ। শনিবার ১ আগস্ট এক যৌথ বিবৃতিতে সংগঠনটির সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা ইঞ্জিনিয়ার মোসলেম উদ্দিন ও সেক্রেটারি জেনারেল বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. তাজিরুল ইসলাম এই দাবি জানান।

বিবৃতিতে তারা বলেন, “জাতীয় দৈনিক পত্রিকাসমূহে প্রকাশিত মুক্তিযোদ্ধাদের নতুন পে-স্কেলটি আমাদের দৃষ্টিগোচর হয়েছে। তাতে দেখা যাচ্ছে যে, খেতাবপ্রাপ্ত ও আহত মুক্তিযোদ্ধাদের ভাতা বাড়ানো হলেও অন্যান্য সাধারণ মুক্তিযোদ্ধাদের ভাতা ও সুযোগ-সুবিধা বাড়ানো হয়নি। ফলে সাধারণ মুক্তিযোদ্ধারা খুবই মর্মাহত ও হতবাক হয়েছে। আমরা সাধারণ বীর মুক্তিযোদ্ধাদের বিষয়ে সরকারের এই বৈষম্যমূলক আচরণের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই।

তারা আরও বলেন, স্বাধীনতার অব্যাবহিত পরে আওয়ামী লীগ সরকার তাদের সমর্থনকারী একশ্রেণির সুবিধাবাদী মুক্তিযোদ্ধা এবং শতশত অমুক্তিযোদ্ধা নিয়ে ‘বাংলাদেশ আওয়ামী মুক্তিযোদ্ধা লীগ’ নামে একটি সংগঠন তৈরি করে। আওয়ামী লীগ দীর্ঘ দিন ধরে এই সংগঠনকে নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করে আসছে। তাছাড়া বিগত ফ্যাসিস্ট আওয়ামী সরকার শতশত অমুক্তিযোদ্ধা ও সচ্ছল আওয়ামী দোসরদের মুক্তিযোদ্ধা তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করে তাদের নামে মুক্তিযোদ্ধা ভাতা বরাদ্দ দিয়ে নজিরবিহীন জালিয়াতি করেছে। ফলে স্বাধীনতার ৫৫ বছর পরও বীর মুক্তিযোদ্ধাদের যেমন সম্মানিত করা যায়নি, তেমনি তাদের জাতীয় সম্পদে রূপ দেওয়াও সম্ভব হয়নি। এটা মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে জন্ম নেওয়া স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশের জন্য লজ্জার বিষয়। এমতাবস্থায় আওয়ামী লীগ সৃষ্ট অমুক্তিযোদ্ধাদের সংমিশ্রণে তৈরি ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা তালিকা বাতিলপূর্বক প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের একটি স্বচ্ছ ও সর্বজনগ্রাহ্য তালিকা প্রণয়ন করার জন্য আমরা বর্তমান সরকারের প্রতি জোর দাবি জানাচ্ছি।

তারা বলেন, আমরা সরকারের কাছে জোর দাবি জানাচ্ছি, বিগত সরকারের আমলে অমুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে আশ্রয় বণ্টনের বিষয়ে একটি শ্বেতপত্র প্রকাশ করা হোক। এর মাধ্যমে আওয়ামী ফ্যাসিস্টদের দলীয়করণের মাধ্যমে আশ্রয় বণ্টনের অনিয়ম ও লুটপাটের প্রকৃত চিত্র জাতির সামনে উন্মোচিত হবে।

সর্বোপরি, সরকার প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের স্বচ্ছ তালিকা প্রণয়নপূর্বক সাধারণ মুক্তিযোদ্ধাদের ভাতা ও সুযোগ-সুবিধা বাড়ানোর জোর দাবি পূরণ করে মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য একটি ইনসাফপূর্ণ পে-স্কেল তৈরি ও তা বাস্তবায়ন করে তাদের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করবে বলে আমরা আশা করি।