দৈনিক জালালাবাদ কোনো দলের নয়, জনগণের মুখপাত্র হিসেবে নীতির প্রশ্নে আপসহীন থাকুক : ডা. শফিকুর রহমান এমপি
১ আগস্ট ২০২৬ ১৮:৩৯
জালালাবাদ পত্রিকার ৩৪তম বছরে পদার্পণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন আমীরে জামায়াত ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান
জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সম্মানিত আমীর ডা. শফিকুর রহমান এমপি বলেছেন, গণমাধ্যম সমাজের চতুর্থ স্তম্ভ। একটি স্বাধীন, বস্তুনিষ্ঠ ও দায়িত্বশীল গণমাধ্যমই সমাজকে সজাগ রাখে এবং মানুষের মধ্যে আস্থা ফিরিয়ে আনে।
তিনি আরও বলেন, মিডিয়াকে সমাজের আয়না বলা হয়। আয়নার সামনে দাঁড়ালে যেমন কোনো কিছু আড়াল থাকে না, তেমনি একজন প্রকৃত সাংবাদিকও কোনো তথ্য বিকৃত বা পরিবর্তন না করে মানুষের সামনে সত্য তুলে ধরেন। এ কারণেই সাংবাদিকদের সমাজের বিবেক বলা হয়। মিডিয়া যতদিন জাগ্রত থাকে, একটি সমাজও ততদিন জাগ্রত থাকে। আর বিবেকের মৃত্যু হলে সমাজেরও মৃত্যু ঘটে।
শনিবার ১ আগস্ট বেলা ১১টায় সিলেটের বন্দরবাজারস্থ কুদরত উল্লাহ মসজিদ কমপ্লেক্স দৈনিক জালালাবাদ পত্রিকার ৩৪ বছরে পদার্পণ উপলক্ষে আয়োজিত সুধী সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, জালালাবাদ পরিবারের একজন সদস্য হিসেবে আমি এই পত্রিকার প্রতি একটি অনুরোধ রাখব- জালালাবাদ কোনো রাজনৈতিক দলের মুখপাত্র হবে না; এটি হবে জনগণের মুখপাত্র। কোন দল কখন রাষ্ট্রক্ষমতায় আসবে, সেটি আল্লাহ তাআলার ফয়সালা। কিন্তু জালালাবাদকে অবশ্যই নিরপেক্ষ অবস্থান ধরে রাখতে হবে।
তিনি আরও বলেন, এই নীতিগত অবস্থান বজায় রাখতে গিয়ে যদি কোনো রাজনৈতিক দলের রোষানলে পড়তে হয়, তাতেও আপত্তি নেই। এমনকি এ পথে চলতে গিয়ে যদি পত্রিকাটি বন্ধও হয়ে যায়, তবুও নীতির প্রশ্নে যেন কখনো আপস না করা হয়। পত্রিকার পৃষ্ঠাসংখ্যা ছোট হতে পারে, কিন্তু তার সংবাদ অবশ্যই বস্তুনিষ্ঠ হতে হবে এবং জনগণের কথা বলতে হবে।
তিনি বলেন, সত্য প্রকাশ করতে গিয়ে যদি কোনো সংবাদ আমার বিরুদ্ধে যায়, কিংবা আমার দলের বিরুদ্ধেও যায়, তবুও জালালাবাদ যেন সত্য প্রকাশে পিছপা না হয়। একটি গণমাধ্যম যখন নির্ভয়ে সত্য তুলে ধরে, তখন মানুষের আস্থা স্বাভাবিকভাবেই তার প্রতি বৃদ্ধি পায়।
বর্তমান সমাজে পারস্পরিক বিশ্বাসের সংকটের কথা উল্লেখ করে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, আজ আমাদের সমাজের সবচেয়ে বড় সংকটগুলোর একটি হলো আস্থার সংকট। মানুষ মানুষকে বিশ্বাস করতে চায় না। আমি প্রত্যাশা করি, দৈনিক জালালাবাদ তার বস্তুনিষ্ঠ, নিরপেক্ষ ও দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার মাধ্যমে এই আস্থার সংকট কাটিয়ে উঠতে সমাজকে সহায়তা করবে।
বক্তব্যের শেষে তিনি দৈনিক জালালাবাদ পরিবারের উত্তরোত্তর সাফল্য, সমৃদ্ধি ও দীর্ঘায়ু কামনা করে মহান আল্লাহর নিকট দোয়া করেন এবং দেশের গণমাধ্যমে সত্য, ন্যায় ও জনস্বার্থভিত্তিক সাংবাদিকতার ধারা আরও শক্তিশালী হোক- সেই প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
সুধী সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও সিলেট মহানগরী আমীর মুহাম্মদ ফখরুল ইসলাম, কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও সিলেট জেলা আমীর মাওলানা হাবিবুর রহমান, দৈনিক জালালাবাদ পত্রিকার বর্তমান সম্পাদক ও প্রতিষ্ঠাতা মুকতাবিস উন নূর, মানারাত ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আব্দুর রব, সিলেট মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইমদাদ হোসেন চৌধুরী এবং ফিলিপাইন ক্রিশ্চিয়ান ইউনিভার্সিটির সহযোগী অধ্যাপক আনোয়ারুল ওয়াদুদ টিপুসহ সিলেটের প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সিনিয়র সাংবাদিকরা।