আজকের পত্রিকা:’৩০টি দলের কোনো নারী প্রার্থী নেই’
৬ জানুয়ারি ২০২৬ ০৯:২৪
আজ ৬ জানুয়ারি মঙ্গলবার ২০২৬। আজকের পত্রিকায় প্রকাশি প্রধান প্রধান খবর: ইংরেজি দৈনিক দ্য ডেইলি স্টারের শিরোনাম ‘No women on tickets of 30 parties’ অর্থাৎ ‘৩০টি দলের কোনো নারী প্রার্থী নেই’।
খবরে বলা হচ্ছে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রতিযোগিতায় নারী প্রার্থীরা বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই অনুপস্থিত। নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী ৫১টি রাজনৈতিক দলের মধ্যে ৩০টি দল কোনো নারী প্রার্থী দেয়নি। নির্বাচন কমিশন সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
এ ধরনের পরিসংখ্যান ব্যাপক ভারসাম্যহীনতা প্রকাশ করে। জনসংখ্যার অর্ধেক নারী হওয়া সত্ত্বেও, প্রার্থীদের মধ্যে তাদের উপস্থিতি এখনও সীমিত।
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচনে দুই হাজার ৫৬৮ জন প্রার্থীর মধ্যে মাত্র ১০৯ জন নারী প্রার্থী। অর্থাৎ প্রার্থীদের মধ্যে মাত্র চার দশমিক ২৪ শতাংশ নারী। তাদের মধ্যে ৭২ জন দলীয় প্রার্থী, বাকিরা স্বতন্ত্র।
এক্ষেত্রে জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশের নাম সবার আগে আসে। দলটি ২৭৬টি আসনে মনোনয়ন দিয়েছে, যার মধ্যে কোনো নারী প্রার্থী নেই। ছোট-বড় বেশ কয়েকটি দলও কেবল পুরুষ প্রার্থীদের মনোনয়ন দিয়েছে। বিএনপিসহ কোনো দলই ১০ জনের বেশি নারীকে মনোনয়ন দেয়নি।
যে ২১টি দল নারীদের মনোনয়ন দিয়েছে, তাদের মধ্যে সংখ্যাটি খুবই সামান্য। জাতীয় পার্টি (জিএম কাদের) এবং নতুন নিবন্ধিত বাসদ (মার্কসবাদী) নয়জন করে নারীকে মনোনয়ন দিয়েছে।
সমকালের শিরোনাম ‘বিএনপির ৮৩ শতাংশ প্রার্থী কোটিপতি, শতকোটি ৭ জন’।
খবরে বলা হচ্ছে,আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থীদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি সম্পদ দেখিয়েছেন ফেনী-৩ আসনের আবদুল আউয়াল মিন্টু।
স্থাবর ও অস্থাবর মিলিয়ে তার সম্পদমূল্য ৫০৭ কোটি ৮০ লাখ ১৮ হাজার ১৭১ টাকা। স্ত্রী নাসরিন ফাতেমা আউয়ালের সম্পদ যোগ করলে তা দাঁড়ায় ৬০৭ কোটি চার লাখ ৬৬ হাজার ৮৬৯ টাকা।
বিএনপির প্রার্থীদের মধ্যে এ রকম শতকোটি টাকার বেশি সম্পদের মালিক রয়েছেন আরও অন্তত ছয়জন। চট্টগ্রাম-৪ আসনের আসলাম চৌধুরী পেশা হিসেবে সাংবাদিকতা ও ব্যবসা দেখালেও তাঁর রয়েছে ৪৫৬ কোটি ৯৫ লাখ টাকার সম্পদ।
এ ছাড়া জালাল উদ্দিনের (চাঁদপুর-২) ২২০ কোটি টাকা, জাকারিয়া তাহের সুমনের (কুমিল্লা-৮) ২০৪ কোটি, মো. সফিকুর রহমান কিরণের (শরীয়তপুর-২) ১৭৭ কোটি, হারুনুর রশিদের (চাঁদপুর-৪) ১৬০ কোটি ও সাইদ আহমেদের (শরীয়তপুর-১) ১৫০ কোটি টাকার সম্পদ রয়েছে।
নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া হলফনামা বিশ্লেষণ করে এসব তথ্য মিলেছে। সারাদেশে ৩০০ আসনের মধ্যে ২৯২টিতে প্রার্থী দিয়েছে বিএনপি।
‘বাংলাদেশ-ভারত টানাপোড়েন: মুস্তাফিজকে ছাপিয়ে বৈরী সম্পর্কের দিকে মোড়’ এটি কালের কণ্ঠের শিরোনাম।
খবরে বলা হচ্ছে, ক্রিকেটার মুস্তাফিজ ঝড় এখন খেলার মাঠ ছাড়িয়ে বাংলাদেশ-ভারতের রাজনীতির মাঠে। আইপিএলে বাংলাদেশের মুস্তাফিজকে বাদ দেওয়ার ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়ায় উভয় দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কে এখন চলছে পাল্টাপাল্টি।
বাংলাদেশ আর ভারতেই খেলতে যাবে না—সাফ জানিয়ে দেওয়ার পর এখন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বের খেলার সূচিই পরিবর্তন নিয়ে জোর আলোচনা। এদিকে বাংলাদেশ শুধু খেলতে যাওয়াই বাতিল করেনি; একই সঙ্গে বাংলাদেশে আইপিএলের সম্প্রচারও নিষিদ্ধ করেছে।
আগের দিন থেকেই বাংলাদেশে ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের (আইপিএল) খেলা সম্প্রচার বন্ধের সম্ভাবনার কথা হচ্ছিল। তবে গতকাল সেটি বাস্তবতার মুখ দেখে ফেলল।
মুস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএলে কলকাতা নাইট রাইডার্স (কেকেআর) থেকে অব্যাহতি দেওয়ার ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে ‘জনস্বার্থে’ এই নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে তথ্য মন্ত্রণালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে।
সরকারি সংস্থার তরফ থেকে এমন সিদ্ধান্ত আসায় মুস্তাফিজ এবং দুই দেশের ক্রিকেটকে ছাপিয়ে বাংলাদেশ-ভারতের সম্পর্কই এখন রাজনৈতিক বৈরিতার দিকে মোড় নিয়েছে।
‘পুলিশ ও প্রশাসনে থেমে গেছে কাজের গতি: পরবর্তী সরকারের দিকে তাকিয়ে সবাই’ যুগান্তরের শিরোনাম।
খবরে বলা হচ্ছে, আগামী ১২ই ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে শুরু হয়েছে ক্ষণগণনা। সে হিসাবে নির্বাচনের বাকি আছে আর ৩৬ দিন। এ দিনগুলো দেশের মানুষের জন্য স্বস্তির নাকি উৎকণ্ঠার হবে, তা নির্ভর করছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আন্তরিকতার ওপর।
সরকারের হয়ে নির্বাচন অনুষ্ঠানে কাজ করার কথা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর। তবে পরবর্তী সরকার কে বা কোন দলের হবে, সে হিসাবনিকাশ শুরু হয়েছে পুলিশসহ বেসামরিক প্রশাসনে।
আর এ কারণেই কাজের চেয়ে আগামী সরকারের ঘনিষ্ঠ হওয়ার চেষ্টা করছেন অনেকে। পুলিশ তথা আইনশৃঙ্খলা বাহিনী রুটিন কিছু কাজ নিয়ে আছে। তবে রুটিন কাজ চললেও বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের অধিকাংশ কর্মকর্তা আড্ডায় পার করছেন সময়।
‘বিদ্রোহী নিয়ে চিন্তিত শরিকরা সমাধানের আশ্বাস বিএনপি’র’ মানবজমিনের শিরোনাম। খবরে বলা হচ্ছে, জোটসঙ্গীদের ছেড়ে দেওয়া প্রতিটি আসনেই বিএনপি’র হেভিওয়েট নেতারা বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন।
শুধু জোটসঙ্গীদের আসন নয়, অন্তত শতাধিক আসনে ধানের শীষের প্রার্থীদের বিরুদ্ধে রয়েছে দলের বিদ্রোহী প্রার্থী। তবে নির্বাচনী মাঠে কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছেন জোটের প্রার্থীরা।
এসব প্রার্থীকে প্রত্যক্ষভাবে মেনে নিতে অনীহা দেখা যাচ্ছে স্থানীয় বিএনপি নেতাদের মধ্যে। ফলে তারা নির্বাচনী বৈতরণী পার হতে দ্বারস্থ হয়েছেন বিএনপি’র হাইকমান্ডের।
বিদ্রোহীদের ডেকে সমাধানের আশ্বাসও দিয়েছেন বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান। ইতোমধ্যে বিদ্রোহী প্রার্থী হওয়ায় দলের নয়জন নেতাকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
বিএনপি’র দলীয় সূত্র জানিয়েছে, রোববার ও সোমবার রাজধানীর গুলশান কার্যালয়ে বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে ধারাবাহিকভাবে বৈঠক করেন জোটসঙ্গীদের ছেড়ে দেওয়া আসনের প্রার্থীরা।
এরমধ্যে রয়েছেন- ব্রাহ্মণবাড়িয়া-১ আসনের জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের মাওলানা জুনায়েদ আল হাবিব, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬ আসনের গণসংহতি আন্দোলনের সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি, ঢাকা-১২ আসনের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাইফুল হক, বগুড়া-২ আসনে নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না।
‘তারেকের ব্যয় নিজের টাকায়, শফিকুরের বড় অংশ দল থেকে’ প্রথম আলোর শিরোনাম। খবরে বলা হচ্ছে, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দুটি আসনে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সম্ভাব্য ব্যয় ৬০ লাখ টাকা। এই খরচ আসবে তার নিজস্ব আয় (কৃষি খাত ও ব্যাংক আমানত) থেকে।
জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমানের নির্বাচনী ব্যয়ের বড় অংশ আসবে তার দলের তহবিল থেকে। আর নির্বাচনী ব্যয় নির্বাহে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের মূল ভরসা জনসাধারণ। মূলত ক্রাউড ফান্ডিং বা গণ-অনুদানের মাধ্যমে সংগ্রহ করা টাকায় নির্বাচনী ব্যয় সারবেন তিনি।
নির্বাচনে প্রার্থী হতে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার সময় নির্বাচনী ব্যয় নির্বাহের জন্য অর্থ প্রাপ্তির সম্ভাব্য উৎসের বিবরণও দিতে হয়। সেখানে প্রার্থীরা সম্ভাব্য কোন উৎস থেকে নির্বাচনী ব্যয়ের জন্য কত টাকা পেতে পারেন, তার বর্ণনা থাকে।
নির্বাচন কমিশনের (ইসি) ওয়েবসাইটে প্রার্থীদের হলফনামার পাশাপাশি নির্বাচনী ব্যয় নির্বাহের জন্য অর্থ প্রাপ্তির সম্ভাব্য উৎসের বিবরণও প্রকাশ করা হয়েছে।
একজন প্রার্থী নির্বাচনে সর্বোচ্চ কত টাকা ব্যয় করতে পারবেন, তা নির্বাচনী আইনে নির্দিষ্ট করে দেওয়া আছে। আগে প্রার্থীদের সর্বোচ্চ ব্যয়সীমা ছিল ২৫ লাখ টাকা। এবার এখানে পরিবর্তন আনা হয়েছে।
‘আইএমএফের প্রেসক্রিপশন কাজ করছে না, মূল্যস্ফীতি আবার বাড়তে শুরু করেছে’ বণিক বার্তার শিরোনাম। খবরে বলা হচ্ছে, সুদহার বাড়িয়ে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের যে প্রেসক্রিপশন আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) থেকে দেওয়া হয়েছিল, সেটি কাজে আসছে না। দেশে মূল্যস্ফীতি আবারো বাড়তে শুরু করেছে।
গত নভেম্বরের পর ডিসেম্বরেও মূল্যস্ফীতি বেড়ে প্রায় সাড়ে ৮ শতাংশে উন্নীত হয়েছে বলে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) থেকে জানানো হয়েছে।
মূল্যস্ফীতি এমন এক সময় বাড়ছে যখন দেশের ডলার সংকট অনেকটা কেটে গেছে, ব্যালেন্স অব পেমেন্ট (বিওপি) উদ্বৃত্তের ধারায় ফিরেছে, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বেড়েছে এবং বিনিময় হারও স্থিতিশীল হয়েছে।
জ্বালানি তেলসহ ভোগ্যপণ্যের মূল্য বিবেচনায় সদ্য সমাপ্ত ২০২৫ সাল ছিল বৈশ্বিকভাবে স্বস্তির বছর। এ সময়ে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম অনেকটা কমেছে। মূল্য কমেছে চাল, গম, সয়াবিন তেল, গুঁড়া দুধ, মসলাসহ বিভিন্ন পণ্যের।
দামের পাশাপাশি গত বছর সমুদ্রপথে পণ্য পরিবহন ব্যয়ও কমেছে। যদিও বিশ্ববাজারে দাম ও পরিবহন ব্যয় কমার সুফল বাংলাদেশের মানুষ পায়নি। উল্টো আগের দুই বছরের মতো বিদায়ী বছরজুড়েও তাদের ভুগতে হয়েছে উচ্চ মূল্যস্ফীতির চাপে।