আজকের পত্রিকা:‘ধানের শীষে’ বিদ্রোহের শিস
১২ ডিসেম্বর ২০২৫ ১১:৩৮
ধানের শীষে’ বিদ্রোহের শিস— দেশ রূপান্তরের প্রথম পাতার খবর এটি।প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছে, দলের মনোনয়ন না পেয়ে বিভিন্ন জেলার বিএনপির গুরুত্বপূর্ণ নেতারা ‘ধানের শীষ’-এর বিরুদ্ধেই স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে লড়াইয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
অন্তত অর্ধশত আসনে বিএনপির নেতারা স্বতন্ত্র প্রার্থী হতে পারেন। আর ইতোমধ্যে দলটির অন্তত ১০ জন নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।
দলটির শীর্ষ নেতৃত্বও এ অভ্যন্তরীণ সংকটের চাপে রয়েছে।
বিএনপির একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, কমপক্ষে অর্ধশতাধিক আসনে বিএনপির প্রার্থীদের বিরুদ্ধে একাধিক বিদ্রোহী দাঁড় করিয়ে মাঠে রাখতে চায় একটি বিশেষ মহল। বিদ্রোহী প্রার্থীদের পেছনে মোটা অঙ্কের টাকা খরচের পরিকল্পনা করে মহলটি কাজ শুরু করেছে।
এমন ষড়যন্ত্রের কথা বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্ব জানার পর মাঠপর্যায়ের নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ থাকতে কঠোর নির্দেশনা দিয়েছে।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, ‘একক প্রার্থীর মাঠে থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করতে শিগগির আমরা কঠোর নির্দেশনা দেব। ধানের শীষের প্রার্থীর পক্ষে না থাকলে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হবে দল।’
মানবজমিনের প্রথম পাতার খবর— ১৫০ আসনে প্রার্থী পরিবর্তনের আভাস জামায়াতের।
প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছে, আসন্ন সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে ৩০০ আসনে প্রার্থী ঘোষণা করেছে জামায়াত ও ইসলামী আন্দোলন। এসব প্রার্থীদের প্রায় সবাই নিজ নিজ এলাকায় নির্বাচনী তৎপরতায় সক্রিয়।
তবে ৮ দলের আসন সমঝোতা বা ঐকমত্যের নির্বাচনের স্বার্থে দল দুইটির প্রত্যেকের অন্তত ১৫০ প্রার্থীকে সরে দাঁড়াতে হবে।
ইসলামী আন্দোলনের প্রেসিডিয়াম সদস্য অধ্যাপক আশরাফ আলী আকন বলেছেন, ৮ দলভুক্ত সব দলের রাজনৈতিক অবস্থান শক্তি সামর্থ্য সমান নয়। সে ক্ষেত্রে যার যার অবস্থান বিবেচনায় আসন বণ্টন করা হবে। তবে সবার লক্ষ্য থাকবে আট দলকে জয়ী করা।
বেআইনি সভা-সমাবেশ কঠোর হাতে দমন— আজকের পত্রিকার প্রথম পাতার খবর এটি।
এতে বলা হয়েছে, নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার প্রেক্ষাপটে গতকাল বৃহস্পতিবার উপদেষ্টা পরিষদের সভায় দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়।
পরে প্রেস ব্রিফিংয়ে এসে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব বলেন, ‘তফসিলের পর অন্যায় দাবি-দাওয়া নিয়ে রাস্তা বন্ধ করে যারা নামবে, তাদের কঠোর হস্তে দমন করা হবে। জাতি একটা ভালো নির্বাচনের জন্য অপেক্ষা করছে, আর আমরা সেটা চেষ্টা করছি।’
এদিকে, উপদেষ্টা পরিষদের সভায় ক্যারিবীয় অঞ্চলের দ্বীপরাষ্ট্র গ্রেনাডাকে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন শফিকুল আলম।
ইলেক্টিভ ভেন্টিলেটর সাপোর্টে খালেদা জিয়া— বণিক বার্তার প্রথম পাতার খবর এটি।
এতে বলা হয়েছে, ঢাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার আবারো অবনতি হয়েছে। তাই ইলেক্টিভ ভেন্টিলেটর সাপোর্টে নিয়ে বর্তমানে তাকে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।
তার চিকিৎসায় গঠিত মেডিকেল বোর্ড গতকাল বৃহস্পতিবার এক বিবৃতির মাধ্যমে এ তথ্য জানিয়েছে।
জানানো হয়, গত কয়েক দিনের বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষায় খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্যে বেশকিছু জটিলতা পরিলক্ষিত হয়। তার শ্বাসকষ্ট বেড়ে যাওয়া, রক্তে অক্সিজেনের পরিমাণ কমে যাওয়া এবং কার্বন ডাই-অক্সাইডের মাত্রা বেড়ে যাওয়ায় তাকে হাই ফ্লো নাসাল ক্যানোলা অ্যান্ড বিআইপিএপি মেশিনের মাধ্যমে চিকিৎসা দেয়া হয়।
কিন্তু অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় তার ফুসফুস ও অন্য অর্গানকে বিশ্রাম দিতে তাকে ইলেক্টিভ ভেন্টিলেটর সাপোর্টে নেয়া হয়।
স্বাস্থ্য ব্যয়ে ৪৪% পরিবারে বিপর্যয়— কালের কণ্ঠের শেষ পাতার খবর এটি।
প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছে, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও বিশ্বব্যাংকের হিসাব বলছে, স্বাস্থ্য সেবার ব্যয়ে দেশের ৪৪ শতাংশ পরিবার আর্থিক বিপর্যয়ের মুখে পড়ে, এমনকি অনেকে দারিদ্র্যসীমার নিচে চলে যায়।
যা বাংলাদেশের সর্বজনীন স্বাস্থ্য সুরক্ষার লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে বড় অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
স্বাস্থ্য সংস্কার কমিশনের সদস্য ও আইসিডিডিআরবির শিশু ও মাতৃস্বাস্থ্য বিভাগের বিজ্ঞানী আহমেদ এহসানুর রাহমান বলেছেন, চিকিৎসা করতে গিয়ে আর্থিক সংকটে পড়ে মূলত দরিদ্র জনগোষ্ঠী। কিন্তু এই দরিদ্র মানুষের প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে গত আট থেকে ১০ বছরে সরকারের কোনো প্রোগ্রাম ছিল না। এজন্য কোনো ফান্ড বা কোনো উদ্যোগ ছিল না।
‘এনসিপিতে যেতে পদ নিয়ে দেনদরবারে মাহফুজ, আসিফ’
শুক্রবার ঢাকা থেকে প্রকাশিত সংবাদপত্রগুলোর প্রথম পাতায় ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের তফসিল, এ নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতিক্রিয়া প্রাধান্য পেয়েছে।
এনসিপিতে যেতে পদ নিয়ে দেনদরবারে মাহফুজ, আসিফ— সমকালের প্রথম পাতার একটি সংবাদের শিরোনাম এটি।
খবরটিতে বলা হয়েছে, অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পদ ছেড়ে দেওয়া মাহফুজ আলম ও আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার নির্বাচন ও দলে অংশগ্রহণ নিয়ে নানা গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে।
এর মধ্যে পদত্যাগের আগের দিন রাতে আসিফ মাহমুদের বাসায় বৈঠক করেন গণঅধিকার পরিষদের শীর্ষ দুই নেতা। তারা আসিফ মাহমুদকে গণঅধিকারে যোগ দেয়ার আহ্বান জানান। এরপর দলটিতে যোগ দিয়ে বিএনপি জোটের প্রার্থী হওয়া নিয়ে ছড়িয়েছে গুঞ্জন।
তবে রাজনৈতিক সূত্রের খবর, প্রত্যাশিত পদমর্যাদা পেলে এনসিপিতেই যাবেন সদ্য সাবেক দুই উপদেষ্টা।
এনসিপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব বলেছেন, তারা অভ্যুত্থানের ছাত্র নেতৃত্বের গঠিত দলে আসবেন। তবে সরকারি দায়িত্ব থেকে মুক্ত হয়ে তারা কয়েকদিন সময় নিচ্ছেন। কয়েকদিনের মধ্যে সব স্পষ্ট হয়ে যাবে।
এনসিপি সূত্রের খবর, আসিফ দলটিতে যোগ দিতে গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক দায়িত্ব পাওয়ার নিশ্চয়তা চান। আহ্বায়কের পরের পদমর্যাদা চান।
উপদেষ্টার পদ ছাড়তে অনিচ্ছুক থাকা মাহফুজ আলম সাংগঠনিক ক্ষমতা না চাইলেও দলে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান চান।
ইংরেজি দৈনিক দ্য ডেইলি স্টারের প্রধান শিরোনাম— Election on February 12; অর্থাৎ নির্বাচন ১২ই ফেব্রুয়ারি।
গতকাল সন্ধ্যায় নির্বাচন কমিশন ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের তফসিল ঘোষণা করেছে। এ সংক্রান্ত খবর এবং তফসিল নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতিক্রিয়া প্রাধান্য পেয়েছে আজ শুক্রবারের পত্রিকার পাতাজুড়ে।
এই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, নির্বাচনে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ তারিখ ২৯শে ডিসেম্বর, যা যাচাইবাছাই চলবে ৩০শে ডিসেম্বর থেকে ৪ঠা জানুয়ারি।
রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিলের শেষ তারিখ ১১ই জানুয়ারি। আপিলের শুনানি ১২ই জানুয়ারি থেকে ১৮ই জানুয়ারি। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ তারিখ ২০শে জানুয়ারি।
২১শে জানুয়ারি রিটার্নিং কর্মকর্তা কর্তৃক চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ ও প্রতীক বরাদ্দ দেয়া হবে।
এরপর ২২শে জানুয়ারি থেকে ১০ই ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টা পর্যন্ত নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা চলবে।
তারপর ১২ই ফেব্রুয়ারি কাঙ্ক্ষিত জাতীয় সঙসদ নির্বাচন।
এদিকে, ভোটের ঘণ্টা বাজায় দেশের বেশিরভাগ রাজনৈতিক দল তফসিলকে স্বাগত জানিয়েছে।
বছরে বিদ্যুতে লোকসান ৫৫ হাজার কোটি টাকা— যুগান্তরের প্রথম পাতার খবর এটি।
এই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বেশি দামে বিদ্যুৎ কিনে কম দামে বিক্রির কারণে গত অর্থবছরে সরকার লোকসান দিয়েছে ৫৫ হাজার কোটি টাকা। এর আগের বছরও বিদ্যুৎ খাতে লোকসান হয়েছিল প্রায় ৫০ হাজার কোটি টাকা।
এর মধ্যে গত অর্থবছর অন্তর্বর্তী সরকার বিদ্যুৎ খাতে ভর্তুকি দিয়েছে ৩৮ হাজার কোটি টাকা। বাকি ১৭ হাজার কোটি টাকার লোকসানের বোঝা এখন বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) ঘাড়ে।
গত বুধবার পিডিবির বোর্ড সভায় বিদ্যুৎ খাতের আয়-ব্যয়ের হিসাব অনুমোদন করা হয়। সেখানে বড় লোকসানের এই চিত্র উঠে আসে।
মূলত বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর (আইপিপি) ক্যাপাসিটি চার্জ দিতেই কয়েক হাজার কোটি টাকা খরচ হয় সরকারের।
পিডিবি জানিয়েছে, গত অর্থবছরে বিদ্যুতের দাম বাড়েনি। কিন্তু বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং সরবরাহ ব্যয় বেড়েছে আগের চেয়ে অনেক বেশি। বিশেষ করে গ্যাসের সরবরাহ দিন দিন কমছে। এতে ফার্নেস অয়েল ও কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ বেশি কিনতে হচ্ছে পিডিবিকে।
সংবাদের দ্বিতীয় প্রধান শিরোনাম— ‘অপমানবোধ’ করছেন রাষ্ট্রপতি, ভোটের পরে পদত্যাগ করতে চান: রয়টার্স।
এই খবরে বলা হয়েছে, আগামী ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় সংসদ নির্বাচন হয়ে গেলে নিজের পদ থেকে সরে যেতে চান রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন।
তিনি জানালেন, মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারে থাকতে অপমান বোধ করছেন। তবে সাংবিধানিক দায়িত্বের কারণে তিনি এখনও এ পদে আছেন।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে হোয়াটসঅ্যাপে দেয়া সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা জানান।
মো. সাহাবুদ্দিন বলেছেন, প্রায় সাত মাস হলো প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস তার সঙ্গে কোনো ধরনের সাক্ষাৎ করেননি। তার প্রেস ডিপার্টমেন্ট কেড়ে নেয়া হয়েছে।
বিভিন্ন দেশের দূতাবাস থেকে নিজের ছবি সরিয়ে ফেলার কথাও বলেন রাষ্ট্রপতি। এ বিষয়ে মুহাম্মদ ইউনূসকে চিঠি লিখেছিলেন তিনি, কিন্তু কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি।