ফের সংক্রামণ করোনা ভাইরাসের
১৩ জুন ২০২৫ ০৭:৩৭
প্রতিদিনই হচ্ছে নতুন শনাক্ত, ঘটেছে প্রাণহানিও
সব হাসপাতালকে করোনার শয্যা প্রস্তুতের নির্দেশ
স্টাফ রিপোর্টার : দেশে নতুন করে চোখ রাঙ্গাচ্ছে করোনা ভাইরাস। প্রতিদিনই কারো না কারো শরীরে এ ভাইরাসের উপস্থিতি মিলছে। গত ৫ জুন একজনের মৃত্যুর খবরও জানানো হয়েছে সরকারের তরফ থেকে। গত ১১ জুন সন্ধ্যায় এ রিপোর্ট লেখার দিনেও সরকারের পক্ষ থেকে নতুন আরও ১০ জনের শরীরে করোনা শনাক্তের খবর জানানো হয়েছে। ২০২০ সালের ৮ মার্চ দেশে প্রথম করোনা ভাইরাস শনাক্ত হয়। এরপরই টানা দুই বছর দেশজুড়ে তাণ্ডব চালাতে থাকে এ ভাইরাস। এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে প্রাণ হারান হাজারো মানুষ। প্রায় এক বছর করোনামুক্ত ছিল দেশ। গত বছরের মাঝামাঝি সময় থেকে গত মাস (মে ২০২৫) পর্যন্ত করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে কোনো মানুষের মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি। কিন্তু নতুন করে আবার নিয়মিত করোনা শনাক্ত ও মৃত্যুর খবরে মানুষের মধ্যে টেনশন শুরু হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে সতর্কতা জারির পাশাপাশি দেওয়া হচ্ছে নানা পরামর্শ। আর হাসপাতালগুলোকেও প্রস্তুত করা হচ্ছে চিকিৎসা দেওয়ার জন্য।
করোনা প্রতিরোধে ১২ নির্দেশনা
করোনা সংক্রমণ ঠেকাতে সব বন্দরে নজরদারি জোরদার করার পাশাপাশি জনসাধারণের উদ্দেশ্যে বেশ কিছু সতর্কতামূলক নির্দেশনা দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। গত ১১ জুন দুপুরে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব নির্দেশনার কথা জানান, অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবু জাফর। তিনি বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে করোনা সংক্রমণের হার বেড়েছে। ভাইরাসটির কয়েকটি নতুন সাব-ভ্যারিয়েন্ট এরই মধ্যে চিহ্নিত হয়েছে। আন্তর্জাতিক ভ্রমণকারীদের মাধ্যমে বাংলাদেশে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণের বিস্তার প্রতিরোধে, দেশের সব স্থল-নৌ-বিমান বন্দরের আইএইচআর ডেস্কে নজরদারি এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার বিষয়গুলো জোরদার করার বিষয়ে এরই মধ্যে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলেও জানান ডা. আবু জাফর।
নির্দেশনাগুলো হচ্ছে- এক. জনসমাগম যথাসম্ভব এড়িয়ে চলুন। একান্ত প্রয়োজন হলে অবশ্যই মাস্ক পরুন। দুই. শ্বাসতন্ত্রের রোগ থেকে নিজেকে সুরক্ষিত রাখতে নিয়মিত মাস্ক ব্যবহার করুন। তিন. হাঁচি বা কাশির সময় নাক-মুখ ঢেকে রাখুন (কনুই বা টিস্যু ব্যবহার করে)। চার. ব্যবহৃত টিস্যু হাতে না রেখে দ্রুত ঢাকনাযুক্ত কোনো ময়লার ঝুড়িতে ফেলুন। পাঁচ. সাবান ও পানি অথবা হ্যান্ড স্যানিটাইজার দিয়ে ঘন ঘন (২০ সেকেন্ড ধরে) হাত ধুয়ে ফেলুন। ছয়. অপরিষ্কার হাতে চোখ, নাক, মুখ স্পর্শ করা থেকে বিরত থাকুন। সাত. আক্রান্ত ব্যক্তিদের সংস্পর্শ থেকে যথাসম্ভব দূরে থাকুন এবং অন্তত ৩ ফুট দূরত্ব বজায় রাখুন। আট. অসুস্থ হলে ঘরে থাকুন, মারাত্মক অসুস্থ হলে নিকটস্থ হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। নয়. সংক্রমণ প্রতিরোধে জনসচেতনতা বাড়াতে রোগ প্রতিরোধ নির্দেশনাগুলো প্রচার করুন। দশ. আক্রান্ত রোগীর নাক-মুখ ঢাকার জন্য মাস্ক ব্যবহার করতে বলুন। এগারো. রোগীকে যারা চিকিৎসাসেবা দেবেন তারাও সতর্কতার অংশ হিসেবে মাস্ক পরুন এবং বারো. প্রয়োজনে আইইডিসিআর-এর হটলাইন নম্বরে যোগাযোগ করুন (০১৪০১১৯৬২৯৩)।
সব হাসপাতালে কোভিড শয্যা প্রস্তুতের নির্দেশ
ফের করোনার ঊর্ধ্বমুখী সংক্রমণ রোধে সব হাসপাতালে শনিবারের মধ্যে আলাদা করে কোভিড শয্যা প্রস্তুতের নির্দেশ দিয়েছেন স্বাস্থ্য অধিদফতর। গত ১১ জুন দুপুরে দেশের করোনা ভাইরাস পরিস্থিতি নিয়ে স্বাস্থ্য অধিদফতরে এক সংবাদ সম্মেলনে অধিদফতরের হাসপাতাল শাখার পরিচালক ডা. মো. মঈনুল আহসান এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, ‘করোনা ভাইরাস প্রতিরোধ ও রোগীর চিকিৎসায় আগামী শনিবারের মধ্যে দেশের সব সরকারি হাসপাতালে সার্বক্ষণিক কোভিড-১৯ রোগীর জরুরি চিকিৎসা নিশ্চিতে আলাদা শয্যা প্রস্তুতের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।’
জরুরি প্রয়োজন ছাড়া ভারতে না যাওয়ার পরামর্শ
পার্শ্ববর্তী ভারতসহ কয়েকটি দেশে করোনা ভাইরাসের নতুন ধরনের সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায়, ওইসব দেশে জরুরি প্রয়োজন ছাড়া না যাওয়ার বিষয়ে সতর্কবার্তা দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। সংস্থার রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার পক্ষ থেকে এ সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে। করোনার ঝুঁকি মোকাবিলায় দেশের সব স্থল, নৌ ও বিমানবন্দরে হেলথ স্ক্রিনিং এবং নজরদারি বাড়াতেও বলা হয়েছে সেখানে। ৯ জুন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার পরিচালক অধ্যাপক ডা. হালিমুর রশিদের স্বাক্ষরে এসব নির্দেশনা দেওয়া হয়। সেখানে বলা হয়, ‘পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন দেশে করোনা ভাইরাসের নতুন সাব-ভ্যারিয়েন্ট, বিশেষ করে অমিক্রন এলএফ. ৭, এক্সএফজি, জেএন-১ এবং এনবি ১.৮.১-এর সংক্রমণ বৃদ্ধি পাচ্ছে। আন্তর্জাতিক ভ্রমণকারীদের মাধ্যমে বাংলাদেশে এর সম্ভাব্য সংক্রমণ প্রতিরোধে ভারত ও অন্যান্য সংক্রামক দেশ এবং বাংলাদেশ থেকে ভারত এবং অন্যান্য সংক্রামক দেশে ভ্রমণকারী নাগরিকদের জন্য দেশের সকল স্থল, নৌ, বিমানবন্দরের আইএইচআর ডেস্কে নজরদারি জোরদার করতে হবে। পাশাপাশি ঝুঁকি মোকাবিলায় কিছু কার্যক্রম নিতে হবে।’
প্রসঙ্গত, ২০২০ সালের ৮ মার্চ দেশে প্রথম করোনা ভাইরাস শনাক্ত হয়। এর ১০ দিন পর একই বছরের ১৮ মার্চ দেশে এ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে প্রথম একজনের মৃত্যু হয়। ২০২১ সালের ৫ ও ১০ আগস্ট দুদিন করোনায় সর্বাধিক ২৬৪ জন করে মারা যান। করোনা শনাক্ত হওয়ার পর এ নিয়ে দেশে এ পর্যন্ত ২০ লাখ ৫১ হাজার ৭৭০ জনের করোনা শনাক্ত হলো। তাদের মধ্যে সুস্থ হয়েছেন ২০ লাখ ১৯ হাজার ৩৮০ জন।