জাতীয় নির্বাচন প্রক্রিয়া শুরু, কমিশন গঠনে সার্চ কমিটি চুড়ান্ত
১ নভেম্বর ২০২৪ ০৬:০৯
রাজনৈতিক দলগুলোর পক্ষ থেকে অন্তর্বর্তী সরকারকে নির্বাচনের জন্য মৃদু চাপ দিয়ে আসছে। গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া আরও সুসংহত করতে নির্বাচিত সরকারের তাগিদও এসেছে। সংস্কার ও নির্বাচনী প্রক্রিয়া একসঙ্গে চালানোর আহŸানও জানানো হয়েছে রাজনৈতিক দলগুলোর পক্ষ থেকে। পরিস্থিতি বিবেচনায় বর্তমান সরকার ইতোমধ্যে নির্বাচনের অভিযাত্রা শুরু করে দিয়েছে। সরকারের আইন উপদেষ্টা ২৯ অক্টোবর এমন আভাসই দিয়েছেন। নতুন একটি নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন গঠনে সার্চ কমিটিও চূড়ান্ত করা হয়েছে। গত ৩০ অক্টোবর বুধবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত সার্চ কমিটি সংক্রান্ত কোনো প্রজ্ঞাপন না এলেও যেকোনো সময় এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন আসতে পারে বলে সরকারের তরফ থেকে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।
সরকারি সূত্র বলছে, নির্বাচন কমিশন (ইসি) গঠনে সার্চ কমিটির প্রধান হচ্ছেন আপিল বিভাগের জ্যেষ্ঠ বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী। ইতোমধ্যে তার নাম মনোনীত করেছেন প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদ। সদস্য হিসেবে হাইকোর্টের জ্যেষ্ঠ বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামানকে মনোনীত করা হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের এ দুজন বিচারপতির নাম প্রধান বিচারপতি কর্তৃক মনোনীত হওয়ার পর তা মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে পাঠিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসন। এদিকে সচিবালয়ে আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল বলেছেন, নির্বাচন কমিশন গঠন সংক্রান্ত সার্চ কমিটি গঠন হয়ে গেছে। প্রজ্ঞাপনে হয়তো প্রধান উপদেষ্টা স্বাক্ষরও করেছেন। দ্রæত প্রজ্ঞাপন জারি হবে। আমাদের নির্বাচনমুখী যাত্রা শুরু হয়ে গেছে। জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনারের সঙ্গে বৈঠক শেষে সচিবালয়ে তিনি গত ২৯ অক্টোবর মঙ্গলবার এসব কথা বলেন।
প্রসঙ্গত, জাতীয় সংসদে পাস হওয়া প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও অন্যান্য নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ সংক্রান্ত আইন অনুযায়ী সার্চ কমিটি (অনুসন্ধান কমিটি) গঠন করেন রাষ্ট্রপতি। আপিল বিভাগের একজন বিচারকের নেতৃত্বে ছয় সদস্যের এ অনুসন্ধান কমিটি গঠিত হয়। আইনে বর্ণিত যোগ্যতা-অযোগ্যতা বিবেচনা করে তারা ১০ জনের নাম প্রস্তাব করবেন। ১০ জনের মধ্য থেকেই ৫ জনকে নিয়ে রাষ্ট্রপতি গঠন করবেন নতুন নির্বাচন কমিশন। রাষ্ট্রপতি ছয় সদস্যের সার্চ কমিটি গঠন করেন। যার সভাপতি হন প্রধান বিচারপতির মনোনীত আপিল বিভাগের একজন বিচারক। সদস্য হিসেবে থাকবেন প্রধান বিচারপতির মনোনীত হাইকোর্ট বিভাগের একজন বিচারক, মহাহিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক, সরকারি কর্ম কমিশনের চেয়ারম্যান এবং রাষ্ট্রপতির মনোনীত দুজন বিশিষ্ট নাগরিক। এ দুই বিশিষ্ট নাগরিকের মধ্যে একজন হবেন নারী। তিন সদস্যের উপস্থিতিতে কমিটির সভার কোরাম হবে। এ কমিটির কাজে সাচিবিক সহায়তা দেবে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের এক মাসের মাথায় ৫ সেপ্টেম্বর বিদায় নেয় কাজী হাবিবুল আউয়াল নেতৃত্বাধীন নির্বাচন কমিশন, যাদের অধীনে এ বছরের প্রথম সপ্তাহে ‘ড্যামি খ্যাত দ্বাদশ সংসদ নির্বাচন’ হয়েছিল।