কক্সবাজারে বন্যার ক্ষত : বিশুদ্ধ পানির সংকট তীব্র, বাড়ছে রোগব্যাধি


২২ জুলাই ২০২৬ ১৫:০৯

জামায়াতের ত্রাণ সহায়তা অব্যাহত
কক্সবাজার সংবাদদাতা : টানা ভারী বর্ষণ, পাহাড়ি ঢল ও জোয়ারের পানিতে বন্যায় কক্সবাজার জেলা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। জেলা প্রশাসনের সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী, দুর্যোগে ৪৫ হাজার ৪৩৬টি পরিবারের ২ লাখ ৩২ হাজার ৬৯৮ জন মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। প্রাণ হারিয়েছেন ৩২ জন।
এদিকে পানি নামতে শুরু করলেও অনেক এলাকায় এখনো জলাবদ্ধতা, ভাঙাচোরা সড়ক, বিশুদ্ধ পানির সংকট এবং যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতার কারণে দুর্ভোগ অব্যাহত রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে পানিবাহিত রোগ, চর্মরোগ দেখা যাচ্ছে।
চকরিয়ার দুর্গম বমু বিলছড়ি, বড়ইতলী, বিবিরখীল ও হারবাং, পেকুয়া উপজেলার কয়েকটি এলাকায় এখনো অনেক পরিবার খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানির সংকটে রয়েছে। কোথাও কোথাও সড়ক ভেঙে যাওয়ায় রোগীদের হাসপাতালে নেওয়াও কঠিন হয়ে পড়েছে। এমন পরিস্থিতিতে বৃদ্ধ, শিশু-নারীদের স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে।
তবে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, বন্যা-পরবর্তী সময়ে ডায়রিয়া, কলেরা ও অন্যান্য পানিবাহিত রোগের আশঙ্কা মোকাবিলায় জেলার বিভিন্ন এলাকায় মেডিকেল টিম মোতায়েন করা হয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে উপজেলা পর্যায়ে ১৬টি এবং ইউনিয়ন পর্যায়ে ৭২টিসহ মোট ৮৮টি মেডিকেল টিম মাঠে কাজ করছে। এসব টিম ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের দোরগোড়ায় চিকিৎসাসেবা, আহতদের চিকিৎসা, প্রয়োজনীয় রেফার এবং ফলোআপ কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, সম্ভাব্য পানিবাহিত ও সংক্রামক রোগ প্রতিরোধে সার্বক্ষণিক রোগ নজরদারি ও জনসচেতনতামূলক কার্যক্রমও চালানো হচ্ছে।
বন্যার পানি নামতে শুরু করায় এখন স্পষ্ট হয়ে উঠছে ক্ষয়ক্ষতির চিত্র। কক্সবাজারে বন্যায় সবচেয়ে বড় ধাক্কা লেগেছে কৃষি ও মৎস্য খাতে। মৎস্য বিভাগের প্রাথমিক হিসাবে, মৎস্য খাতে প্রায় ৪৬ কোটি ২২ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।
এদিকে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের প্রাথমিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলমান বন্যায় জেলার ৪৩ হাজার ২১০ জন কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। পানিতে তলিয়ে গিয়ে আউশ ধান, আমনের বীজতলা, পানবরজ ও বিভিন্ন ধরনের শাকসবজিসহ ৪ হাজার ২১১ হেক্টর জমির ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. এএম খালেকুজ্জামান বলেন, বন্যায় ৩০৩টি খামারের ১ হাজার ২৯০টি গবাদিপশু ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া ৩৩০টি পোলট্রি খামারের ৯৭ হাজার ৫৮১টি হাঁস-মুরগিও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ১২ কোটি ৬৩ লাখ ৩৫ হাজার টাকা।
জামায়াতের ত্রাণ সহায়তা অব্যাহত : বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য ড. এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ সাংগঠনিক সফরে দেশের বাইরে থাকলেও মহেশখালী-কুতুবদিয়ায় বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের নিয়মিত খোঁজখবর রাখছেন। তার নির্দেশে কক্সবাজার জেলা জামায়াতের আমীর অধ্যক্ষ নুর আহমেদ আনোয়ারীর নেতৃত্বে গত ১৮ জুলাই শনিবার সারাদিন মহেশখালী পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের মাঝে উপহারসামগ্রী বিতরণ করেন এবং কুতুবজোম ইউনিয়ন, মাতার বাড়ি ইউনিয়ন ও ধলঘাটা ইউনিয়নে বন্যা ও জোয়ারের পানিতে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের মাঝে উপহারসামগ্রী বিতরণ করেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন কক্সবাজার জেলা জামায়াতের কর্মপরিষদ সদস্য জাকের হোসাইন, মহেশখালী উপজেলা দক্ষিণের আমীর মাষ্টার শামিম ইকবাল, মহেশখালী উপজেলা উত্তরের আমীর মাস্টার নজরুল ইসলাম, কক্সবাজার শহর জামায়াতের সাংগঠনিক সেক্রেটারি ছাত্রনেতা কামরুল হাসান, মহেশখালী উপজেলা দক্ষিণের সেক্রেটারি আব্দুর রহিম, মহেশখালী উপজেলা উত্তরের সেক্রেটারি মাস্টার বশির আহমদ, এডভোকেট নুরুল ইসলাম, মহেশখালী পৌরসভার মেয়র প্রার্থী ছাত্র নেতা আলমগীর, আব্দুল খালেক, মৌলানা কুতুবউদ্দিন, কুতুবজোমের জাহাঙ্গীর আলমসহ স্থানীয় তৃণমূল নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।