ব্যারিস্টার মওদুদ ফ্যাসিস্ট হাসিনার পতনটা দেখে যেতে পারেননি:মির্জা ফখরুল

সোনার বাংলা অনলাইন রিপোর্ট:
১৯ নভেম্বর ২০২৫ ০৮:৫৩

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, শেখ হাসিনার শাসনামলের মতো শেখ মুজিবুর রহমানের সময়েও একইভাবে দুঃশাসন চলেছে। রক্ষী বাহিনী তৈরি করে মানুষকে নির্যাতন-নিপীড়ন করা হয়েছে। গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় রাজধানীর গুলশানে অবস্থিত লেকশোর হোটেলে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। বিএনপির স্থায়ী কমিটির প্রয়াত সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদের লেখা ‘ডিমাইজ অব ডেমোক্রেসি’ (গণতন্ত্রের মৃত্যু) বইয়ের মোড়ক উন্মোচন উপলক্ষে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘স্বাধীনতার পরে দেশে, শেখ মুজিবুর রহমানের সময় একটা দুঃশাসন চলেছে। একদলীয় শাসনব্যবস্থা তৈরি করা হয়েছে। রক্ষী বাহিনী তৈরি করে মানুষকে নির্যাতন-নিপীড়ন করা হয়েছে। খুলনার শান্তি সেন কমিউনিস্ট নেতা, তাঁর স্ত্রী, তাঁর শ্যালিকা এবং হানুফা বেগম নামের আরেকজন কমিউনিস্ট কর্মীকে রক্ষা বাহিনী গ্রেপ্তার করেছিল।
গ্রেপ্তার করে তাঁদের রক্ষী বাহিনীর ক্যাম্পে ২১ দিন চরম নির্যাতন করে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে নিয়ে এসেছিল। ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ তখন তরুণ আইনজীবী। তখন দেবেশ ভট্টাচার্য জজ ছিলেন। তাঁদের ওই কোর্টে হাজির করলে তিনি মুক্ত করার ব্যবস্থা করেছিলেন।
এই যে কতগুলো ঘটনা, যেগুলোর মাধ্যমে প্রমাণিত হয়—সত্যিকার অর্থেই আন্তরিকভাবে একজন গণতান্ত্রিক নেতা, গণতান্ত্রিক সত্তা ছিলেন ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ। এই বইয়ের মধ্যে নিঃসন্দেহে এবং তাঁর অন্যান্য লেখার মধ্যেও আমরা এই জিনিসটি খুঁজে পাব যে ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ একজন আপাদমস্তক গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক নেতা ছিলেন। বিভিন্ন কারণে, বিভিন্ন সময় তিনি বিভিন্ন জায়গায় অবস্থান নিয়েছেন। কিন্তু তাঁর মধ্যে যদি আমরা খুঁজে দেখি আমরা দেখব, গণতন্ত্রে ফিরে আসার উপায়টা বের করতে তিনি সেখানে গেছেন। আমি মনে করি, তাঁকে বোধ হয় মূল্যায়ন করার এটাই সবচেয়ে ভালো পথ হবে।
’তিনি বলেন, ‘এই মুহূর্তে ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদকে খুব বেশি দরকার ছিল। কারণ আমরা একটা অস্থিরতার মধ্যে বাস করছি। এই অস্থিরতা থেকে যে মানুষগুলো আমাদের পথ দেখাতে পারতেন, দিশা দেখাতে পারতেন, তাঁদের মধ্যে ব্যারিস্টার মওদুদ ছিলেন নিঃসন্দেহে অন্যতম। আমার দুঃখ হয় যে তিনি এই ফ্যাসিস্ট হাসিনার পতনটা দেখে যেতে পারেননি, যেটা তিনি আন্তরিকভাবেই দেখতে চেয়েছিলেন। যেসব তরুণ, যুবক, যাঁরা আজকে এই অসাধারণ একটা সাফল্য নিয়ে এসেছেন, আমাদের ফ্যাসিস্টদের হাত থেকে মুক্ত করেছেন, তাঁদের জন্য এই বইগুলো পড়া বোধ হয় খুব বেশি প্রয়োজনীয় বলে আমি মনে করি।’