“ জুলাই শহীদদের আকাঙ্ক্ষা: গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার আহ্বান “
৫ আগস্ট ২০২৬ ১৫:৩৫
মুহাম্মদ নূরুল ইসলাম, ফ্রান্স থেকে
ঐতিহাসিক জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে ফ্রান্সে বাংলাদেশ দূতাবাসের উদ্যোগে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস’ পালিত হয়েছে। এ উপলক্ষে মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) প্যারিসের ১৬তম অ্যারোঁদিসমঁতে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসে এক আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।
দূতাবাসের দূতালয় প্রধান মো. ওয়ালিদ বিন কাশেমের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ইউনেস্কোতে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি এবং ফ্রান্স ও মোনাকোতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত খন্দকার এম. তালহা।
অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে কার্যক্রম শুরু হয়। পরে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয় এবং তাঁদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করা হয়।
জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে প্রদত্ত ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদ, বীর বিক্রম-এর বাণী পাঠ করেন দূতাবাসের ডিফেন্স অ্যাটাশে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ খায়রুজ্জামান মোল্লা (এনডিসি, পিএসসি)।
বাণীতে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট নিরস্ত্র ছাত্র-জনতার সম্মিলিত প্রতিরোধের মুখে দীর্ঘদিনের বৈষম্যমূলক ও ফ্যাসিবাদী শাসনের অবসান ঘটে। গণরোষের মুখে তৎকালীন সরকার দেশ ছাড়তে বাধ্য হয়। এ অর্জনের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে তিনি বীর জুলাই যোদ্ধাসহ দেশপ্রেমিক সব নাগরিককে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান।
এ সময় প্রধানমন্ত্রীর বাণী পাঠ করেন দূতাবাসের মিনিস্টার (কমার্শিয়াল) মিজানুর রহমান।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাঁর বাণীতে বলেন, “স্বাধীনতাপ্রিয় ও গণতন্ত্রকামী মানুষের জন্য ৫ আগস্ট আনন্দের দিন, বিজয়ের দিন এবং গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠার দিন। দীর্ঘ দেড় দশকেরও বেশি সময় ধরে চলা ফ্যাসিবাদী শাসনের অবসান ঘটিয়ে আজ থেকে ঠিক দুই বছর আগে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট, এ দিনে দেশের বীর ছাত্র-জনতা এক ঐতিহাসিক বিজয় অর্জন করে।”
এছাড়া পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান এবং পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদের বাণীও অনুষ্ঠানে পাঠ করা হয়।
সভাপতির বক্তব্যে রাষ্ট্রদূত খন্দকার এম. তালহা বলেন, “প্রতিটি শহীদ পরিবারের কাছে আমাদের ঋণ রয়েছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির বাণীতেও জুলাই গণঅভ্যুত্থানের তাৎপর্য ও মাহাত্ম্য যথাযথভাবে তুলে ধরা হয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা ধারণ করে দেশের উন্নয়ন, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠা এবং একটি সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে আন্তরিকভাবে কাজ করতে হবে।”
দূতাবাস সূত্রে জানানো হয়, ৫ আগস্ট প্রবাসী বাংলাদেশিদের পাসপোর্টসংক্রান্ত কনস্যুলার সেবা সীমিত থাকায় দিবসটির আনুষ্ঠানিক কর্মসূচি একদিন আগে, ৪ আগস্ট অনুষ্ঠিত হয়েছে।
অনুষ্ঠানে ফ্রান্সপ্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটির রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। তাঁদের মধ্যে ছিলেন ফ্রান্স বিএনপির সাবেক সিনিয়র সহ-সভাপতি এম এ রহিম, বাংলাদেশি নাগরিক ফোরামের সভাপতি আবুল খায়ের লস্কর, ফ্রান্স বিএনপির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জুনেদ আহমেদ, ফ্রান্স বাংলাদেশ জার্নালিস্টস অ্যাসোসিয়েশন (এফবিজেএ)-এর মুখপাত্র মোহাম্মদ আরিফ উল্লাহ, অ্যাক্টিভিস্ট খালেদ মাহমুদ খান, এনসিপি ডায়াসপোরা ফ্রান্সের সভাপতি ইফতেশাম চৌধুরী, মনোয়ার পাটোয়ারী, ব্যবসায়ী শহিদুল ইসলাম এবং সাবেক ছাত্রনেতা ফারুক আহমেদসহ আরও অনেকে।
এছাড়া দূতাবাসের প্রথম সচিব শেখ মারেফাত তারিকুল ইসলাম, মিনিস্টার (কমার্শিয়াল) মিজানুর রহমান, দ্বিতীয় সচিব কে. এফ. এম. শারহাদ শাকিলসহ দূতাবাসের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও অনুষ্ঠানে অংশ নেন।-০৫ আগস্ট ২০২৬