হাদি হত্যায় ভারত জড়িত
২৫ ডিসেম্বর ২০২৫ ২৩:০৫
ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক এবং ভারতীয় আধিপত্যবাদ-বিরোধী তরুণ নেতা শহীদ শরিফ ওসমান হাদির নির্মম হত্যাকাণ্ডে ভারতকে দায়ী করেছে শিখস ফর জাস্টিস নামের সংগঠন। বুধবার এই সংগঠনের নেতৃত্বে অন্তত ছয়টি দেশে প্রতিবাদ কর্মসূচি পালিত হয়েছে। ওয়াশিংটন, লন্ডন, কানাডার টরন্টো ও ভ্যানকুভার, ইতালির মিলান এবং অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্নে থেকে ভারত সরকারের নীতির তীব্র নিন্দা জানান তারা। এ খবর দিয়েছে কালিবার.এজের।
আজারবাইজান ভিত্তিক এই সংবাদমাদ্ধম জানিয়েছে, বিক্ষোভকারীরা শিখ অধিকারকর্মী হারদীপ সিং নিজ্জার এবং বাংলাদেশের তরুণ নেতা ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ডে ভারত সরকারের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ তুলেছেন। নিজ্জার ও হাদি দুজনেই বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে ভারতের প্রভাবের কড়া সমালোচক ছিলেন বলে উল্লেখ করেন তারা। বিশ্বব্যাপী ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নীতির বিরুদ্ধে অনুষ্ঠিত প্রতিবাদ কর্মসূচিগুলো পর্যালোচনা করা বাকু ইনিশিয়েটিভ গ্রুপের (বিআইজি) জানিয়েছে, বুধবার অনুষ্ঠিত এসব বিক্ষোভের মূল লক্ষ্য ছিল নিজ্জার ও হাদির মৃত্যুর পেছনে ভারতের দায়ের বিষয়ে আন্তর্জাতিক মহলের দৃষ্টি আকর্ষণ করা।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম সংগঠক ও ইনকিলাব মঞ্চের সাবেক মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের পেছনে ভারতের গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’ জড়িত এমন অভিযোগ তুলে আন্তর্জাতিক আন্দোলনের ডাক দিয়েছে পাঞ্জাবের স্বাধীনতাকামী শিখ জনগোষ্ঠীর একটি অংশ। এ দাবির ভিত্তিতে আগামী বুধবার (২৩ ডিসেম্বর) বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ভারতীয় দূতাবাসের সামনে একযোগে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন শিখস ফর জাস্টিস (এসএফজে)-এর জেনারেল কাউন্সেল গুরপতওয়ান্ত সিং পান্নুন এক ভিডিও বার্তায় জানান, বুধবার নিজ নিজ দেশের স্থানীয় সময় দুপুর ১২টায় এই কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হবে। সংগঠন সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশসহ পাকিস্তানের ইসলামাবাদ, অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্ন, যুক্তরাজ্যের লন্ডন, ইতালির মিলান, কানাডার টরন্টো ও ভ্যাঙ্কুভার এবং যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসিতে ভারতীয় দূতাবাস ও কনস্যুলেটের সামনে বিক্ষোভ করবে শিখ জনগোষ্ঠী। একই সঙ্গে এসব কনস্যুলেট বন্ধ করার দাবিও জানানো হবে। ভিডিও বার্তায় গুরপতওয়ান্ত সিং পান্নুন বলেন, “বাংলাদেশে ছাত্রনেতাদের বিরুদ্ধে ভারতের সরকারের গুপ্ত হত্যার পরিকল্পনা এবং মুহাম্মদ ইউনুসের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ সরকার উৎখাতের ষড়যন্ত্র আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তুলে ধরতেই এই কর্মসূচি।” তিনি আরও দাবি করেন, “শিখস ফর জাস্টিস বাংলাদেশের ভেতরে ভারতের গোপন হত্যাকাণ্ডের বিষয়টি বিশ্ববাসীর সামনে আনতে চায়। ওসমান হাদি হত্যার মধ্য দিয়ে ভারত এই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করেছে। ভারতীয় দূতাবাস ও কনস্যুলেটগুলোকে আমরা ‘র’-এর অপারেশনাল কেন্দ্র মনে করি, যেখানে এসব হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন করা হয়।” শেষে পান্নুন বলেন, “ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার এই হত্যাকাণ্ডের জন্য দায়ী। এই দূতাবাসগুলো থেকেই গুপ্তচরবৃত্তি, নজরদারি ও হত্যার মতো কর্মকাণ্ড পরিচালিত হয়। তাই ঢাকা, ইসলামাবাদ, মেলবোর্ন, লন্ডন, মিলান, টরন্টো, ভ্যাঙ্কুভার ও ওয়াশিংটন ডিসি থেকে একযোগে এই কর্মসূচির ডাক দেওয়া হয়েছে।”