ঐক্যে ফাটল ধরাতে খেলছে তৃতীয় শক্তি
১৫ অক্টোবর ২০২৬ ১২:০৫
ইন্ধন দিচ্ছে প্রতিবেশী দেশের অপশক্তি
দেশে এখন তৃতীয় কোনো শক্তি খেলছে। তাদের ঘুটির চালে কিছু মানুষ লাফাচ্ছে। ইসলামপন্থীদের ঐক্যে ফাটল ধরিয়ে নেপথ্যের সেই অপশক্তির ইচ্ছা পূরণে পানি ঘোলা করছে। কারণ পানি ঘোলা হলেই তারা জনগণের চোখের আড়ালে ঝাঁপিয়ে পড়ার সুযোগ পাবে। জাতীয় সংসদের প্রধান বিরোধীদল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর বিরুদ্ধে একশ্রেণির আরবি শিক্ষিত ধর্মশাস্ত্র অধ্যয়নকারীর অব্যাহতভাবে ভিত্তিহীন অপপ্রচারে ক্ষোভ প্রকাশ করে এমন মন্তব্য করেছেন দেশের বিশিষ্ট আলেম ও রাজনীতি পর্যবেক্ষকরা।
এ প্রসঙ্গে অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক ধর্ম উপদেষ্টা ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন বলেছেন, ‘বিগত নির্বাচনগুলোর হিসাব অনুযায়ী জামায়াতে ইসলামীকে বাদ দিলে দেশের অন্যসব ইসলামী দলের সম্মিলিত ভোটের হার মাত্র ৫ দশমিক ৫৫ শতাংশ। একটি পিঁপড়াও একা হাঁটে না অথচ আলেম সমাজ বিভিন্ন গ্রুপে বিভক্ত। তাদের এত আস্ফালন কীসের? ইসলামী দলগুলো যখন একে অপরকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করে, তখন মনে হয় রাজনীতিতে তৃতীয় কোনো শক্তির প্রবেশ ঘটছে, যা সবার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ।’
সাপ্তাহিক সোনার বাংলার অনুসন্ধান এবং সচেতন আলেমদের পর্যবেক্ষণ বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, দেশে আসলেই বাংলাদেশপন্থী ও ইসলামী আদর্শে বিশ্বাসীদের মধ্যে বিভক্তির দেয়াল তুলে স্বার্থ হাসিলের অশুভ নীলনকশা বাস্তবায়নের জন্য ইসলামবিরোধী অপশক্তি ভারতীয় রুপির জোরে লাফাচ্ছে। বিশেষ করে সম্প্রতি ভারত থেকে অখণ্ড ভারতবর্ষে বিশ্বাসী আরবি, ফারসি, উর্দু শিক্ষিত দুই ব্যক্তি বাংলাদেশ সফর করে যাওয়ার পর পানি ঘোলা করার এ খেলা নানা বর্ণে ছড়ানোর অপচেষ্টা চলছে। নিখিল ভারত কংগ্রেসের সাবেক প্রতিমন্ত্রী, তৃণমূল কংগ্রেস হয়ে বিজেপিতে আসা ভারতীয় কূটনীতিকের সে দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সাথে সাক্ষাতের পর দাবার ছক বদলে গেছে। নতুন করে সাজানো হচ্ছে নবরূপের ঘুটিগুলো। দেশের একশ্রেণির আলেমও এ পাতা ফাঁদে পা দিয়েছেন। তারা ইসলামের ফরজ নির্দেশনা, ‘ঐক্য অটুট রাখার দায়িত্ব
ভুলে গেছেন।’
ফাঁদে পা দেয়নি জামায়াতে ইসলামী : রাজনীতি বিশ্লেষকরা বলেন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ধৈর্যের সাথে ইসলামী আদর্শ ধারণ করে পবিত্র কুরআন-সুন্নাহ সমুন্নত রেখে ঐক্য ও সংহতির আহ্বান জানাচ্ছে। তারা কোনো পাতা ফাঁদে পা দিচ্ছে না। জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের খতিব মুফতি আবদুল মালেকের একটি মন্তব্যের পর বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান এক বার্তায় কোনো বিদ্বেষ বা উসকানিমূলক বক্তব্য না দেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, “আমাদের একজন মুহতারাম ভাই, খতিব সাহেব আল্লাহ ওনাকে জিন্দা রাখুন, ভালো রাখুন আমাদের ওপর ওনার কোনো রাগ বা ক্ষোভ থাকতে পারে। তিনি একটি কথা বলেছেন, যেটা আপনারা সোশ্যাল মিডিয়ায় দেখেছেন। এখন আমার কর্মীরা যদি এর জবাবে ওনাকে গালি দেওয়া শুরু করে, ওনার বিরুদ্ধে ট্রল করা শুরু করে, তাহলে খতিব সাহেবের সাথে আমার কর্মীদের আর তফাৎ কী থাকল?
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে তো মক্কার কাফেররা কত গালি দিয়েছিল। কিন্তু রাসূল সা. কি ওনাদের গালি দিয়েছিলেন? দেননি। তিনি কি ওনাদের জন্য বদদোয়া করেছিলেন? করেননি। বরং তিনি আল্লাহর কাছে দোয়া করেছিলেন— ‘হে আল্লাহ! আমার কওমকে হেদায়েত দান করো, তারা তো বোঝে না।’
আমাদের দায়িত্ব হলো মানুষের কাছে দীনের দাওয়াত পৌঁছে দেওয়া। কে আমাদের ভালো বলল, আর কে খারাপ বলল— তা নিয়ে পড়ে থাকার সময় আমাদের নেই। আমাদের পথ চলতে হবে অনেক দূর। কেউ যদি আমাদের পথভ্রষ্ট বলে, আমরা আল্লাহর কাছে দোয়া করব— আল্লাহ যেন আমাদের সঠিক পথ দেখান। আর যিনি বলেছেন, আল্লাহ যেন ওনাকেও জিন্দা রাখেন এবং দীনের সঠিক বুঝ দান করেন।
সুতরাং আমি আমার সকল স্তরের জনশক্তিকে স্পষ্ট ভাষায় নির্দেশ দিচ্ছি— সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বা অন্য কোথাও খতিব সাহেবের এই বক্তব্য নিয়ে কোনো ধরনের কাদা ছোড়াছুড়ি, কটু মন্তব্য বা উসকানিমূলক বিতর্কে জড়ানো যাবে না। আমরা গালি খেয়েও মানুষের কল্যাণে কাজ করে যাব, এটাই আমাদের আদর্শ।”
অথচ দেশে সংঘাত উসকে দিতে গত ৯ অক্টোবর শুক্রবার একটি মহল অপপ্রচার করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী আজ তাকে নামাজ ইমামতি করতে দেবে না’। ঐ ষড়যন্ত্রকারী গোষ্ঠী বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ভাবমর্যাদা ক্ষুণ্ন করতে নিজেরাই দুই পক্ষ হয়ে একটি প্রক্সি সংঘাতের নাটকের আয়োজন করেছিলো। একশ্রেণির মিডিয়াও তাদের সাথে যোগ দিয়েছে এ অপপ্রচারে। সোশ্যাল মিডিয়ায় জামায়াতে ইসলামীর সমর্থক সেজে উসকানি দিচ্ছে বট বাহিনী।
এ ষড়যন্ত্রকারীদের বিরুদ্ধে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আবদুল হালিম বলেন, ‘উম্মাহর ঐক্য ও আলেম-ওলামার পারস্পরিক সম্প্রীতিকে প্রশ্নবিদ্ধ করে— এমন বক্তব্য অনভিপ্রেত। বর্তমান সময়ে উম্মাহর ঐক্য-সংহতি এবং আলেম-ওলামার মধ্যে সম্প্রীতি ও পারস্পরিক বন্ধন দেশবাসীর প্রত্যাশা। এ সময়ে বিভাজনমূলক বক্তব্য ফ্যাসিস্ট পলাতক শক্তিকে উৎসাহিত করার সুযোগ সৃষ্টি করতে পারে। মতপার্থক্য থাকা সত্ত্বেও পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহনশীলতা ও আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান সম্ভব। মতপার্থক্য নিরসনে পারস্পরিক সম্মান ও যুক্তিনির্ভর আলোচনাই অধিকতর গঠনমূলক পথ।’
এর নেপথ্যে দেশি-বিদেশি কোনো অপশক্তি আছে কি না— এমন প্রশ্নের উত্তরে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের সেক্রেটারি এডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের সাপ্তাহিক সোনার বাংলাকে বলেন, ‘দেশের মানুষ দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, গ্যাস, বিদ্যুৎ, জ্বালানি সঙ্কট, আইনশৃঙ্খলার অবনতিসহ হাজারো সমস্যার মধ্যে কঠিন জীবনযাপন করছে। সরকার গণভোটের রায় উপেক্ষা করায় জনমনে ক্ষোভ বাড়ছে। চলমান এসব সমস্যা থেকে মানুষের দৃষ্টি ফেরাতে সরকার নতুন নতুন ইস্যু হাজির করছে। জনগণ যাতে তাদের প্রকৃত সমস্যাগুলো নিয়ে কথা বলতে না পারে, সাধারণ মানুষের দৃষ্টি যাতে অন্যদিকে ঘোরানো যায়— সেজন্যই একটি বিশেষ মহলকে প্রধান বিরোধীদল জামায়াতে ইসলামীর বিরুদ্ধে লাগিয়ে দিয়েছে। জামায়াতে ইসলামীর এমন কোনো খুচরা বা অহেতুক রাজনৈতিক বিতর্কে নষ্ট করার মতো সময় নেই। অতীতে যারাই উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে জামায়াতের পেছনে লেগেছে, তারা প্রত্যেকেই তার নিজস্ব প্রতিফল ভোগ করেছে। জামায়াতকে কোনো ফতোয়া বা গালি দিয়ে একচুলও পেছনে সরানো যায়নি, বরং সব বাধা ডিঙিয়ে জামায়াত আল্লাহ তায়ালার রহমতে আরও সামনে এগিয়ে গিয়েছে।’
তিনি সাপ্তাহিক সোনার বাংলার মাধ্যমে জামায়াতে ইসলামীর দায়িত্বশীল ও কর্মীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘আপনারা এই ধরনের উসকানি ও ফেতনা থেকে নিজেদের হেফাজত রাখুন। কারণ দেশের এই পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে জনগণের পাশে দাঁড়িয়ে জনসম্পৃক্ততা বাড়ানো এবং নতুন বাংলাদেশ গড়ার গঠনমূলক কাজেই আমাদের এখন সম্পূর্ণ শক্তি নিয়োজিত রাখতে হবে।’
রাজনীতি বিশ্লেষকরা মনে করেন, ছোট-খাটো মতপার্থক্যকে উসকে দিয়ে মুসলিম উম্মাহর ঐক্য নষ্টকারীরা ইসলামের দুশমন। ইসলামের ইতিহাসে শিক্ষার আলোকে পথ চললে অবশ্যই ছোট-খাটো মতপার্থক্যের কারণে সৃষ্ট বিদ্বেষ দূর হবে। নফসের ওয়াসওয়াসার কারণে সৃষ্ট হিংসা, অহংকার, দ্বেষ কোনো মুমিনের মনে ঠাঁই পাবে না।
ইসলামের ইতিহাসের শিক্ষা
ইতিহাসখ্যাত আব্বাসীয় খলিফা হারুনুর রশিদের জীবনের অসংখ্য ঘটনা থেকে উম্মাহর ঐক্য ও সংহতি রক্ষার একটি ঘটনা তুলে ধরা হলো। বাদশাহ হারুনুর রশিদ একবার অসুস্থবোধ করায় শরীর থেকে রক্তমোক্ষণ বা হিজামা করান। হিজামা করার কারণে তার শরীর থেকে বেশকিছু রক্ত বের হয়। সে সময় সেখানে মদীনার বিখ্যাত আলেম এবং ইমাম শাফেয়ী (রহ.)-এর শিক্ষক ইমাম মালেক বিন আনাস (রহ.) উপস্থিত ছিলেন। খলিফা ইমাম মালেককে জিজ্ঞেস করলেন, ‘হে ইমাম, হিজামা করার পর রক্ত বের হওয়ায় আমার অজু কি ভেঙে গেছে? আমি কি নতুন অজু ছাড়া নামাজ পড়াতে পারব?’ ইমাম মালেক (রহ.) মদীনার রেওয়ায়েত অনুযায়ী উত্তর দিলেন, ‘আমীরুল মুমিনীন, রক্ত বের হলে অজু ভাঙে না। আপনি এই অবস্থাতেই নামাজ পড়াতে পারেন।’
ইমাম মালেকের ফতোয়া শুনে খলিফা হারুনুর রশিদ আবার নতুন অজু না করেই সরাসরি নামাজের ইমামতি করতে দাঁড়িয়ে গেলেন। খলিফা যখন নামাজ পড়াচ্ছিলেন, তখন জামাতে পেছনের কাতারে নামাজে শামিল ছিলেন হানাফি মাজহাবের প্রধান ইমাম ও প্রধান বিচারপতি ইমাম আবু ইউসুফ (রহ.)। তিনি স্পষ্ট জানতেন যে খলিফা হিজামা করে রক্ত বের করেছেন এবং হানাফি ফিকহ অনুযায়ী খলিফার অজু তখন ভেঙে গেছে। নামাজ শেষ হওয়ার পর কিছু লোক ইমাম আবু ইউসুফ (রহ.)-কে উসকে দেওয়ার জন্য বা বিতর্ক তৈরির উদ্দেশ্যে জিজ্ঞেস করল, ‘হে ইমাম! খলিফা তো শরীর থেকে রক্ত বের করার পর নতুন অজু না করেই আমাদের নামাজ পড়ালেন। আমাদের হানাফি মাজহাব মতে তো তার অজু নেই। তাহলে আপনি কেন তার পেছনে নামাজ পড়লেন? আপনার নামাজ কি আদায় হয়েছে?’
প্রশ্ন শুনে ইমাম আবু ইউসুফ (রহ.) রাগান্বিত না হয়ে অত্যন্ত ধীরস্থিরভাবে তাদের বুঝিয়ে বলেন, ‘সুবহানাল্লাহ! (আল্লাহ পবিত্র)। খলিফা হারুনুর রশিদ মদীনার মহান ইমাম, ইমাম মালেক (রহ.)-এর ফতোয়া অনুযায়ী নামাজ পড়িয়েছেন। ইমাম মালেকের মতো একজন মুজতাহিদ ইমামের ফতোয়াকে আমি কীভাবে ভুল বলতে পারি? খলিফা তো অজু ছাড়া নামাজ পড়েননি, তিনি একটি দলিলগ্রাহ্য ফতোয়ার ওপর আমল করেই নামাজ পড়িয়েছেন। সুতরাং তার নামাজও সঠিক হয়েছে এবং তার পেছনে আমার নামাজও পূর্ণাঙ্গভাবে আদায় হয়ে গেছে।’
উপমহাদেশের প্রখ্যাত আলেম মুহাদ্দিস ও ফকিহ শাহ ওয়ালিউল্লাহ মুহাদ্দিসে দেহলভী (রহ.) এ ঘটনা তার বিখ্যাত গ্রন্থ আল-ইনসাফ ফী বায়ানিল আসবাবিল ইখতিলাফ এবং হুজ্বাতুল্লাহিল বালিগাহতে এ ঘটনা উল্লেখ করেছেন মাজহাবের ইমাম ও ফকিহদের পারস্পরিক সহনশীলতা ও ঐক্যের উদাহরণ দিতে গিয়ে। ইমাম আবু ইউসুফ (রহ.) নিজে হানাফি মাজহাবের এত বড় ইমাম হওয়া সত্ত্বেও ইমাম মালেকের ইজতিহাদ ও ফতোয়ার প্রতি সর্বোচ্চ সম্মান দেখিয়েছেন। তিনি চাইলে বলতে পারতেন, ‘আমাদের মাজহাব অনুযায়ী নামাজ হয়নি, আবার পড়ো।’ কিন্তু তিনি তা না করে উম্মাহর ঐক্য রক্ষা করেছেন।
ইসলামের প্রখ্যাত আলেমরা মনে করেন, ইসলামের প্রকৃত শিক্ষা— শাখা-প্রশাখাগত (ফিকহী) মাসয়ালার ভিন্নতার কারণে কখনো মুসলমানদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করা যাবে না এবং একে অপরের পেছনে নামাজ পড়া বন্ধ করা যাবে না। আধুনিক যুগের আলেমরাও মনে করেন মুসলিম উম্মাহর ঐক্য নষ্টকারীরা ইসলামের দুশমন, নিজেদের স্বার্থের পূজারি।
এ যুগের আলেমদের অভিমত
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমীর মাওলানা মামুনুল হক বলেন, ‘ইসলামপন্থীদের ঐক্য ও দায়িত্বশীল ভূমিকা সময়ের দাবি।’ তিনি মনে করেন, দেশের আলেম-সমাজ ও ইসলামী দলগুলোর পারস্পরিক কাদা ছোড়াছুড়ি ও অভ্যন্তরীণ বিভেদ দূরে করতে হবে। তাই এই মুহূর্তে তাদের বিতর্ক জড়ানো যাবে না। তিনি ইসলামপন্থীদের রাজনৈতিক সংহতিকে প্রাধান্য দিয়ে বলেন, ‘রাজনৈতিক মেলবন্ধন মানেই তাদের আকিদাকে গ্রহণ করে নেওয়া নয়; বরং নিজেদের আকিদা ও নীতি অক্ষুণ্ন রেখেই কেবল রাজনৈতিক ও নির্বাচনী কৌশল হিসেবে এই সাধারণ ঐক্য গড়ে তোলা সম্ভব।’
সমকালীন স্কলার ড. ইউসুফ আল-কারজাভী তার ‘ফিকহুল ইখতিলাফ’ (মতপার্থক্যের ফিকহ) গ্রন্থে জোর দিয়ে বলেছেন, ইসলামী দল ও আলেমদের উচিত মৌলিক বিষয়ে ঐক্যবদ্ধ হওয়া এবং শাখা-প্রশাখাগত বিষয়ে একে অপরকে ছাড় দেওয়া।
শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়াহ (রহ.) তিনি তার ‘মাজমুউল ফাতাওয়া’ গ্রন্থে লিখেছেন, ‘মুসলমানদের ফিকহী বা ইজতিহাদী বিষয়ের মতপার্থক্যের কারণে একে অপরকে কাফের, ফাসেক বা শত্রু ভাবা জায়েজ নয়। সাহাবী ও তাবেয়ীদের মধ্যেও সালাত ও অন্যান্য বিষয়ে মতভেদ ছিল, কিন্তু তাদের পারস্পরিক ভ্রাতৃত্ব ও ভালোবাসা অটুট ছিল।’
পর্যবেক্ষকদের অভিমত হলো, ইসলামের অকাট্য নীতি হলো— মূল ভিত্তি এক হলে শাখা-প্রশাখাগত মতপার্থক্য কোনোভাবেই শত্রুতা বা বিভেদের কারণ হতে পারে না। আলেমদের দায়িত্ব হলো মিম্বার বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে পারস্পরিক কাদা ছোড়াছুড়ির মঞ্চ না বানিয়ে, ইসলামের বৃহত্তর স্বার্থে সাধারণ শত্রুর মোকাবিলায় এবং সমাজ সংস্কারে ঐক্যবদ্ধ ভূমিকা পালন করা।