উম্মাহর ঐক্য বিনষ্টকারী বক্তব্য অনভিপ্রেত : মাওলানা আবদুল হালিম
১০ অক্টোবর ২০২৬ ১৯:১২
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আবদুল হালিম বলেছেন, উম্মাহর ঐক্য ও আলিম-উলামাদের সম্প্রীতিকে প্রশ্নবিদ্ধ করে যেকোনো বক্তব্য অনভিপ্রেত। বর্তমান সময়ে যখন উম্মাহর ঐক্য, সংহতি, আলিম-উলামাদের সম্প্রীতি ও বন্ধন দেশবাসীর কাম্য, সেই সময়ে বিভাজনমূলক বক্তব্য ফ্যাসিস্ট পলাতক শক্তিকে উৎসাহিত করার সুযোগ তৈরি করবে।
তিনি বলেন, জামায়াত মনে করে মতপার্থক্য থাকা সত্ত্বেও পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহনশীলতা ও আলাপ- আলোচনার মাধ্যমে সৃষ্ট সমস্যা সমাধান করা যায়। মতপার্থক্য নিরসনে পারস্পরিক সম্মান ও যুক্তিনির্ভর আলোচনা হতে পারে অধিকতর গঠনমূলক পথ।
শনিবার ১০ অক্টোবর কক্সবাজার জেলা জামায়াত আয়োজিত ইউনিয়ন আমীর/সভাপতি-সেক্রেটারি, সদস্য (রুকন) এবং অগ্রসর কর্মীদের নিয়ে আয়োজিত পৃথক তিনটি শিক্ষাশিবিরে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। কক্সবাজার জেলা জামায়াতের আমীর অধ্যক্ষ মাওলানা নূর আহমদ আনোয়ারীর সভাপতিত্বে শিক্ষাশিবিরে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও চট্টগ্রাম অঞ্চল পরিচালক মোহাম্মদ শাহজাহান, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও চট্টগ্রাম মহানগর আমীর নজরুল ইসলাম, চট্টগ্রাম অঞ্চল টিম সদস্য মাওলানা মোস্তাফিজুর রহমান, শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি মুজিবুর রহমান ভূঁইয়া, কেন্দ্রীয় সহ-সাধারণ সম্পাদক ও চট্টগ্রাম মহানগর সভাপতি এসএম লুৎফর রহমান।
কক্সবাজার জেলা নায়েবে আমীর মুফতি মাওলানা মুহাম্মদ হাবিবুল্লাহ, জেলা সেক্রেটারি জাহিদুল ইসলাম ও জেলা শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন সভাপতি শামসুল আলম বাহাদুর শিক্ষাশিবির পরিচালনা করেন।
মাওলানা আবদুল হালিম আরও বলেন, বাংলাদেশে অতীতেও জামায়াতে ইসলামীর বিরুদ্ধে নানা সময়ে নেতিবাচক ও তীর্যক বক্তব্য দেওয়া হয়েছে। কিন্তু এসব নেতিবাচক মন্তব্য-বক্তব্য সত্ত্বেও জামায়াতের আদর্শিক ও রাজনৈতিক অগ্রযাত্রা থেমে যায়নি। জামায়াত আদল-ইনসাফের ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র কায়েমের লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে। জামায়াত জনগণের আস্থা অর্জনের জন্য দাওয়াত, সংগঠন, প্রশিক্ষণ ও ওয়েলফেয়ার কার্যক্রমের মাধ্যমে সামগ্রিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে।
সুন্নাতে রাসূলের আলোকে জীবন গঠন শীর্ষক আলোচনায় মাওলানা আবদুল হালিম আরও বলেন, ঈমান-আকিদা, ইবাদত, পরিবার, সমাজ, ব্যবসা-বাণিজ্য, রাষ্ট্র এবং প্রাত্যহিক জীবনের সকল ক্ষেত্রে শেষ নবী ও বিশ্বনবী মুহাম্মদ (সা.) প্রদর্শিত পদ্ধতির আলোকে নিজেদের জীবন গঠন করার জন্য দায়িত্বশীল ও জনশক্তিকে গুরুত্ব দিতে হবে। রাসূলের আনুগত্য, অনুসরণের ক্ষেত্রে সুন্নাতে রাসূলকে পুরোপুরি আমলে নিতে হবে। রুকনদের মান সমুন্নত রাখার উপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, রুকনিয়াতের শর্ত ও শপথের আলোকে ইলম, আমল ও ত্যাগ কুরবানির অনুশীলন করে শপথের দাবি পূরণ করতে হবে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মোহাম্মদ শাহজাহান বলেন, চারিত্রিক শক্তিই ইসলামী আন্দোলনের প্রধানতম হাতিয়ার। যতদিন আমরা নীতি-নৈতিকতা ও ইসলামী আদর্শের উপর অটল- অবিচল থাকবো ততদিন দুনিয়ার কোনো শক্তি আমাদের পরাজিত করতে পারবে না। তিনি দায়িত্বশীল ও সকল জনশক্তিকে শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের আলোকে ইসলামী সমাজ বিনির্মাণের ভিত মজবুত করার আহ্বান জানান।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও চট্টগ্রাম মহানগর আমীর নজরুল ইসলাম বলেন, আত্মার পরিশুদ্ধি মানুষকে আল্লাহর নিকটবর্তী করে। পরিশুদ্ধ ও পরিচ্ছন্ন অন্তরই দুনিয়া এবং আখিরাতে সফলতার মাপকাঠি। তিনি দায়িত্বশীল ও জনশক্তিকে আদল, ইহসান ও ইখলাসের সাথে দীন ও দুনিয়াবী জিন্দেগী অতিবাহিত করার আহ্বান জানান।
শিক্ষাশিবিরে বিভিন্ন আলোচনা ও কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করেন জেলা নায়েবে আমীর এডভোকেট ফরিদ উদ্দিন ফারুকী, জেলা সহকারী সেক্রেটারি অধ্যাপক আবু তাহের চৌধুরী, মাওলানা দেলাওয়ার হোছাইন, সাংগঠনিক সেক্রেটারি মুহাম্মদ হেদায়াত উল্লাহ, আল আমীন মুহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম, অফিস সেক্রেটারি মুহাম্মদ শাহজাহান, কক্সবাজার শহর আমীর আবদুল্লাহ আল ফারুক, জেলা কর্মপরিষদ সদস্য এডভোকেট জাফর উল্লাহ ইসলামাবাদী, মাওলানা শফিউল হক জিহাদী, জাকির হোছাইন, কক্সবাজার সদর আমীর অধ্যাপক খুরশিদ আলম আনসারী, রামু উপজেলা সেক্রেটারি আ ন ম হারুন, শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের জেলা সহ-সভাপতি সাইদুল আলম ও সেক্রেটারি মুহাম্মদ মুহসিন প্রমুখ।