মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান গ্রেফতার
২ অক্টোবর ২০২৬ ২২:২০
বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সাবেক সংসদ সদস্য জামায়াতে ইসলামীর নেতা মেজর (অব.) মো: আখতারুজ্জামানকে তার বাসা থেকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি)। গ্রেপ্তারের আগে ফেসবুক লাইভে এসে ভিডিও বার্তা দেন মেজর আখতারুজ্জামান।
লাইভে তিনি বলেন, আসসালাইমু আলাইকুম, প্রিয় দেশবাসী, সবাই ভালো থাকবেন। সুখে থাকবেন। আমাকে এই মুহুর্তে ডিবি পুলিশ গ্রেপ্তার করে নিয়ে যাচ্ছে। দোয়া করবেন, আমি যেন জনগণের জন্য, দেশের মানুষের জন্য, বিশেষ করে প্রবাসীদের স্বার্থরক্ষার জন্য যদি শহীদ হতে পারি, আল্লাহর কাছে। আল্লাহর যেন আমার সেই দাবি কবুল করেন। আহ্বান কবুল করেন। তিনি আরও বলেন, জনগণের অধিকারের সংগ্রামে আমি আছি, থাকবো, আজীবন থাকবো, যতদিন বেঁচে আছি, ততদিন জনগণের পাশে থাকবো। জনগণের জন্য সংগ্রাম করবো। জনগণের জন্য এই জীবন ত্যাগ করবো।
এর আগে, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে লাগেজ ও ট্রলি সংকটকে কেন্দ্র করে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি, সরকারি কাজে বাধা প্রদান এবং দায়িত্বরত নিরাপত্তা কর্মকর্তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার অভিযোগে তার বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। শুক্রবার (২ অক্টোবর) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ডিবি প্রধান শফিকুল ইসলাম।
তিনি জানান, অভিযান চালিয়ে তাকে বাসা থেকে আটক করা হয়। বর্তমানে তাকে পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার জন্য বিমানবন্দর থানায় হস্তান্তরের কাজ চলছে।
তার বিরুদ্ধে কী অভিযোগ রয়েছে বা কোন মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে বিস্তারিত পরবর্তী সময়ে জানানো হবে বলে জানা গেছে। এর আগে, বৃহস্পতিবার গভীর রাতে বিমানবন্দর থানায় মামলাটি করেন বিমানবন্দরের নিরাপত্তা কর্মকর্তা মো: শাহরিয়ার আলম সজীব। দণ্ডবিধির একাধিক ধারায় মামলাটি করা হয়েছে। মামলার এজহারে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি, সরকারি কাজে বাধা এবং দায়িত্বরত নিরাপত্তা কর্মকর্তাকে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ আনা হয়েছে।
মামলার এজাহারে আরো বলা হয়, গত ১ অক্টোবর সকাল আনুমানিক ১০টা ৪০ মিনিটে মদিনা থেকে আসা বাংলাদেশ বিমানের একটি ফ্লাইটের (ইএ-৩৩৮) যাত্রীদের চাপের কারণে ৮ নম্বর লাগেজ বেল্ট এলাকায় ট্রলি সঙ্কট দেখা দেয়। এতে লাগেজ পেতে বিলম্ব হওয়ায় সেখানে যাত্রীদের মধ্যে ক্ষোভ ও উত্তেজনা তৈরি হয়।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন এস এম রাগীব সামাদ ঘটনাস্থলে গেলে মুক্তিযোদ্ধা আখতারুজ্জামান তার সাথে আক্রমণাত্মক আচরণ করেন এবং গালিগালাজ ও হুমকি দেন।
মামলার অভিযোগে আরো উল্লেখ করা হয়, মেজর (অব.) মো: আখতারুজ্জামানের সাথে থাকা প্রটোকল সহকারীরা বিমানবন্দরের সংরক্ষিত এলাকায় মোবাইল ফোনে ভিডিও ধারণ করছিলেন। এ সময় দায়িত্বরত নিরাপত্তা সুপারভাইজার ওয়ারেন্ট অফিসার মোহাম্মদ কামাল উদ্দিন ভিডিও ধারণে নিষেধ করলে তাকে গালিগালাজ করা হয় এবং একপর্যায়ে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেন। মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে বিমানবন্দর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কামরুল হাসান তালুকদার বলেন, মামলার অভিযোগের বিষয়ে সিসিটিভি ফুটেজ, প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্যসহ প্রয়োজনীয় আলামত সংগ্রহ করে তদন্ত করা হবে।