মিরপুরে তিন ভাইয়ের ‘ফোর স্টার’ বাহিনী জমি দখল থেকে চাঁদাবাজিতে নিয়ন্ত্রণ


১ অক্টোবর ২০২৬ ১০:০১

স্টাফ রিপোর্টার : রাজধানীর মিরপুরে জমি দখল, চাঁদাবাজি, মাদক ও ঝুট ব্যবসা নিয়ন্ত্রণসহ নানা অপরাধে একটি সংঘবদ্ধ দলের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে। পুলিশের ভাষ্য ও স্থানীয় সূত্রের তথ্যানুযায়ী, মালয়েশিয়ায় অবস্থানরত ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ৯১ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মফিজুর রহমান মামুনের নেতৃত্বে পরিচালিত হচ্ছে এই দল। দেশে থেকে তার দুই ভাই মো. জামিল রহমান ও মশিউর রহমান দলটির কর্মকাণ্ড সমন্বয় করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র বলছে, মিরপুরের অপরাধজগতের নিয়ন্ত্রণে সক্রিয় চারটি অপরাধী দলের একটি ‘মামুন বাহিনী’। অন্য তিনটির নেতৃত্বে রয়েছেন ভাষানটেক থানা বিএনপির আহ্বায়ক মো. ইব্রাহিম ওরফে ‘কিলার ইব্রাহিম’, পুলিশের তালিকাভুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী ও মিরপুর থানা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি শাহাদত হোসেন এবং মোক্তার নামে এক ব্যক্তি।
সূত্রের তথ্যানুযায়ী, ইব্রাহিমের অনুসারীরা মিরপুর-১৩, মিরপুর-১৪, ভাষানটেক ও কালশী এলাকায়, শাহাদতের দল মিরপুর-১, ২ ও ৬ এলাকায় এবং মোক্তারের অনুসারীরা মিরপুর-১০ ও ১১-এর কিছু এলাকায় প্রভাব বিস্তার করে। আর মামুন বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে পল্লবী, মিরপুর-১২, সাগুফতা ও বাউনিয়া এলাকা।
মিরপুরের বাইগারটেক এলাকায় আবাসন ব্যবসায়ী মোহাম্মদ আলীর প্রায় ২৮ কাঠা জমি দখলের অভিযোগও উঠেছে মামুন বাহিনীর বিরুদ্ধে। তার দাবি, গত ৩০ এপ্রিল রাতে বুলডোজার দিয়ে জমির সীমানা প্রাচীর ও পাঁচটি টিনের ঘর গুঁড়িয়ে দিয়ে জমিটি দখলে নেওয়া হয়। জমিটির মূল্য প্রায় ২৫ কোটি টাকা বলে জানান তিনি।
দেশের একটি জাতীয় দৈনিকের অনুসন্ধানে সাগুফতা হাউজিংসহ অন্তত সাতটি জমি দখলের ঘটনায় মামুন বাহিনীর নাম উঠে এসেছে। ২৯ জুলাই রাতে ১৮টি পরিবারের টিনের ঘর এক্সকাভেটর দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। একই এলাকায় মো. ইউনুস মিয়ার পাঁচ কাঠা জমি দখল করে সাইনবোর্ড টাঙানোর অভিযোগ করেছেন তিনি।
মিরপুরের শতাধিক পোশাক কারখানা থেকেও প্রতি মাসে ২০ হাজার থেকে ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে। পাশাপাশি কারখানাগুলোর ঝুট ব্যবসা নিয়ন্ত্রণের অভিযোগও রয়েছে দলটির বিরুদ্ধে। গত বছরের জুলাইয়ে পল্লবীর এ কে বিল্ডার্সের কার্যালয়ে পাঁচ কোটি টাকা চাঁদা দাবিতে হামলা ও গুলিবর্ষণের ঘটনায়ও মামুন বাহিনীর নাম আসে।
মিরপুর থানা যুবদলের সদস্য সচিব গোলাম কিবরিয়া হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার তিনজনকে মামুন বাহিনীর সদস্য বলে জানিয়েছে পুলিশ। মামুনের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, হত্যা, মাদক, অস্ত্র ও ডাকাতিসহ বিভিন্ন অভিযোগে পল্লবী থানায় ২৭টি মামলা, ১৫টি গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ও দুটি সাজা পরোয়ানার তথ্য রয়েছে বলে পুলিশ জানায়।
ডিএমপির মার্চের তালিকায় মিরপুরের সাত থানায় ৭২ জন চাঁদাবাজ ও তাদের ২৫ জন আশ্রয়দাতার নাম ছিল। তালিকায় মামুন ও তার দুই ভাইয়ের নামও রয়েছে।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মশিউর রহমান। তার দাবি, জমি নিয়ে বিরোধে বৈধ কাগজপত্র থাকলে তারা সংশ্লিষ্টদের সহযোগিতা করেন।
ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার ওসমান গণি বলেন, মিরপুরের অপরাধীদের চিহ্নিত করা হয়েছে এবং তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিদেশে থাকা অপরাধীদের ধরতে প্রয়োজনে ইন্টারপোলের মাধ্যমে রেড নোটিশ জারির কথাও জানান তিনি।