ডাকসু : চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে নবদিগন্তের সূচনা করেছে ছাত্রশিবির
১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ২০:২৩
॥ আবু জায়েদ আনসারী ॥
‘বৃক্ষ তোমার নাম কী ফলে পরিচয়’— বহুল পরিচিত বাংলা প্রবাদ। অর্থাৎ বাহ্যিক রূপ কিংবা প্রচারিত বিষয় দেখে নয়, কাজের ফলাফল দিয়েই মানুষের বা যেকোনো বিষয়ের আসল পরিচয় ও মান নির্ধারিত হয়। ছাত্র রাজনীতিতে ফ্রেমিং, ট্যাগিং এবং প্রোপাগান্ডাকে উতরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ-ডাকসুতে সত্যের প্রমাণ দিয়েছে ছাত্রশিবির। ছাত্রদলসহ বিরোধীদের নানা অপপ্রচারের মোকাবিলা, প্রশাসনের অসহযোগিতা, শাসকমহলের চোখরাঙানিকে পদদলিত করে নতুন অধ্যায়ে ডাকসুকে উঠিয়েছে সাদিক কায়েমের নেতৃত্বাধীন ডাকসু নেতৃত্ব। শিক্ষার্থী ও দেশবাসী ডাকসুর সাফল্য-ব্যর্থতাও মূল্যায়ন করছে নানাভাবে। নানা খবরে সরগরম থাকছে সোশ্যাল মিডিয়া ও গণমাধ্যম।
গত ১৪ সেপ্টেম্বর সোমবার ভিপি সাদিক কায়েম তথা ইসলামী ছাত্রশিবির নেতৃত্বাধীন ডাকসুর এক বছর মেয়াদ শেষ হয়েছে। আনুষ্ঠানিকভাবে তারা শেষ কার্যনির্বাহী কমিটির বৈঠক ও ডাকসু ও হল প্রতিনিধি সম্মেলন করেছে। যদি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন নতুন ডাকসু নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা না করে, তাহলে এই কমিটি আরও তিন মাস দায়িত্ব পালন করবে গঠনতন্ত্র অনুযায়ী। তবে ছাত্রশিবির নেতৃত্বাধীন কমিটি তা চাইছে না, বরং তফসিল দিয়ে নতুন নির্বাচনের মাধ্যমে নেতৃত্ব বাছাইয়ের দাবি জানিয়ে আসছে তারা। বিদায়ী ডাকসু হিসেবে সাদিক কায়েম ও এসএম ফরহাদরা বিদায়ী চিঠি বিতরণ করেছে শিক্ষার্থীদের মাঝে, যা প্রশংসিত হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসিও শিগগিরই ডাকসু নির্বাচন দেয়ার অঙ্গীকার করেছেন। এখন অপেক্ষার পালা কবে ডাকসুর নির্বাচন হবে।
অসহযোগিতার মধ্যেও সাফল্য
বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ শিক্ষার্থীদের অধিকার আদায়ের একটি প্রতিষ্ঠান। এই প্রতিষ্ঠান শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধি হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সাথে সমন্বয় করে নানা সমস্যার সমাধান ও অধিকার আদায়ে ভূমিকা রাখে। একইসঙ্গে সুষ্ঠু গণতান্ত্রিক চর্চা ও জাতীয় নেতৃত্ব তৈরির একটি কারখানাও। স্বভাবতই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ এবং এর জাতীয় গুরুত্ব রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাঠামো অনুযায়ী পদাধিকার বলে ডাকসুর ভিপি ও জিএস সিনেট ও সিন্ডিকেটের সদস্য হয়ে থাকেন। এই দুই বডির অন্য সদস্যদের মতো মর্যাদা নিয়ে ভূমিকা রাখেন। কিন্তু ২০২৫ সালের ডাকসু নির্বাচনে সাদিক কায়েম ও এসএম ফরহাদ ভিপি ও জিএস পদে জয়লাভের পর ডাকসুর কার্যক্রমে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সহযোগিতার হাত বাড়ায়নি। বরং শিক্ষার্থীদের ন্যায্য পাওনা বা ডাকসুর জন্য বরাদ্দ দেয়া হয়নি। নানা অসহযোগিতা ও সীমাবদ্ধতার অজুহাতে ডাকসুর কার্যক্রমকে প্রশ্নবিদ্ধ কিংবা ঠেকিয়ে রাখার চেষ্টা করা হয়েছে বলে দাবি ডাকসু নেতৃত্বের। হালচিত্রে এমন প্রমাণও মিলেছে। উল্লেখযোগ্য কয়েকটি অভিযোগের মধ্যে রয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদে এসির ব্যবস্থা করে ডাকসু। কিন্তু বিদ্যুৎ সংযোগ না দিয়ে দীর্ঘ কয়েক মাস তা সচল করার প্রক্রিয়া বন্ধ করে রাখে। একইভাবে খেলার মাঠ সংস্কার করার জন্য ৩ কোটি টাকার প্রকল্প পাস ও অর্থ ডাকসু আনলেও তা এখনো বাস্তবায়ন করেনি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এর প্রতিবাদে টানা বর্ষণে মাঠে জমা পানিতে মাছ ছেড়েছে, ডাকসুর নেতারা। এরপরও দমে যায়নি শিবির নেতৃত্বাধীন ডাকসু। নানা সংস্কার ও উন্নয়নমূলক কাজ করেছে তারা।
সৃজনশীলতায় ডাকসু
২০২৫ সালের ৯ সেপ্টেম্বর বিপুল সমর্থন নিয়ে হাল ধরা শিবিরের নেতৃত্ব বিগত ১০৫ বছরের ডাকসুর ইতিহাসে এক নতুন উচ্চতায় আসীন হয়েছে। উদাহরণ সৃষ্টি করেছে সৃজনশীলতা, নতুন উদ্যম এবং শিক্ষার্থীবান্ধব নানা পদক্ষেপের মাধ্যমে। চব্বিশের জুলাই বিপ্লবের আকাঙ্ক্ষাকে ধারণ করে বিশ্ববিদ্যালয়ে গণরুম, গেস্টরুম ও র্যাগিংয়ের মতো নিপীড়নমূলক কোনো সংস্কৃতিকে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ফিরতে দেয়নি, কবর রচনা করেছে ডাকসু ও হল সংসদ। এক বছর মেয়াদে ডাকসুর উদ্যোগে উল্লেখযোগ্য সৃজনশীল কাজগুলোর মধ্যে রয়েছে— চীনের ৩১টি কোম্পানিতে ৪৩১ জন ঢাবি শিক্ষার্থীর চাকরির ব্যবস্থা করা, জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মরণ ও এর ইতিহাস সংরক্ষণের লক্ষ্যে জাতীয় ‘জুলাই গল্প ও উপন্যাস’ প্রতিযোগিতা-২০২৬-এর পুরস্কারপ্রাপ্ত ২৯টি গল্প নিয়ে প্রকাশিত স্মারক গ্রন্থ এবং নির্বাচিত ৯টি উপন্যাসের মোড়ক উন্মোচনসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সাফল্যের দিগন্ত খুলেছে।
শিক্ষার্থীবান্ধব ক্যাম্পাস বিনির্মাণের প্রয়াস
শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তাসহ পড়ালেখার সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিতে নিরলস কাজ করেছে ডাকসু নেতৃত্ব। শিক্ষার্থীদের যাতায়াত নির্বিঘ্ন করতে দূরপাল্লার সান্ধ্যকালীন বাস সার্ভিস ও ক্যাম্পাসে শাটল সার্ভিস চালু করেছে। পাশাপাশি রিকশা নিয়ন্ত্রণে পদক্ষেপ নিয়েছে তারা। শিক্ষা ও গবেষণা নিশ্চিতে হলগুলোয় রিডিংরুমে এসি স্থাপন, ক্যাফেটেরিয়ার সংস্কার ও নারীদের জন্য আলাদা জোন স্থাপন, শিক্ষার্থীদের শরীরচর্চার জন্য জিমনেসিয়ামে আধুনিক যন্ত্রপাতি স্থাপন, নারীদের হলে সিক রুম, বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাস্থ্যকেন্দ্রে আধুনিক যন্ত্রপাতি স্থাপন করে তা সচল করা, খেলার মাঠ সংস্কারসহ অগণিত উন্নয়ন ও সংস্কারমূলক কাজ করেছে, যা শিক্ষার্থীদের অধ্যয়ন ও গবেষণাকে এগিয়ে নেবে। তবে আশ্চর্যের বিষয় হলো, এসব কর্মকাণ্ডে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন যেভাবে সহযোগিতা ও জড়িত হওয়ার কথা ছিল, তা হয়নি। বরং ডাকসুকে অনেক ক্ষেত্রে বাধার মুখে পড়তে হয়েছে। তবুও ডাকসু নেতারা বিভিন্নভাবে স্পন্সর সংগ্রহ করে এসব কাজ সম্পাদন করেছে, যা ডাকসুর ১০৫ বছরের ইতিহাসে করা হয়নি। সম্প্রতি ডাকসু ভিপি আবু সাদিক কায়েম বলেছেন, ডাকসুতে দায়িত্ব নেওয়ার ১১ মাসে আমরা যে কাজ করেছি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ১০৫ বছরের ইতিহাসে তা কেউ করতে পারেনি। তিনি আরও বলেন, ক্যাম্পাসে মেয়েরা সবচেয়ে নিরাপদ অবস্থায় রয়েছেন, ক্যাম্পাসে সব ধরনের হানাহানি, মারামারি, টেন্ডারবাজি, চাঁদাবাজি, রাহাজানি সবকিছুকে শূন্যের কোটায় নামিয়ে এনে ছাত্রদের মূল কাজ পড়াশোনা, গবেষণা, নতুন নতুন প্রযুক্তি আবিষ্কারের পরিবেশ নিশ্চিত করা হয়েছে।
অপপ্রচার ও চ্যালেঞ্জ
চব্বিশের জুলাই বিপ্লবের পর ক্যাম্পাসগুলোয় ছাত্রশিবির ব্যাপক পরিসরে কাজ শুরু করে। পাশাপাশি ছাত্র সংসদ নির্বাচনের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের ওপর চাপ বাড়ে শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে। এরই ধারাবাহিকতায় ২০২৫ সালের ৯ সেপ্টেম্বর ডাকসু নির্বাচন হয়। ছাত্রদলসহ বিভিন্ন ক্রিয়াশীল ছাত্র সংগঠন এ নির্বাচনে প্যানেল ও প্রার্থী দিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে। নারীসহ বিভিন্ন ধর্মের ও নৃগোষ্ঠীর সদস্যদের অন্তর্ভুক্ত করে প্যানেল ও প্রার্থী দিয়ে দেশের সব ক্যাম্পাসে নিরঙ্কুশ জয় পায় ছাত্রশিবির। জয় পাওয়া যতটা সহজ হয়েছে, সংগঠন হিসেবে ইমেজ ধরে রেখে শিক্ষার্থীদের আকাঙ্ক্ষা পূরণ ততটাই চ্যালেঞ্জে পড়েছে। বিএনপি সরকার ক্ষমতা গ্রহণের আগে ছাত্রদলসহ বাম সংগঠনগুলো নানাভাবে ডাকসুকে বিতর্কিত করার চেষ্টা করেছে। সুষ্ঠু নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার প্রয়াস চালিয়ে ব্যর্থ হয়েছে। পরবর্তীতে জুলাই প্রদর্শনী এবং ডাকসুর সংগ্রহশালায় ছবি সংরক্ষণ নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টির চেষ্টা করেছে, আদতে অসত্য তথ্য দিয়ে বয়ান তৈরির চেষ্টা করেছে এবং গণমাধ্যমগুলোর একটি অংশ এতে সহযোগী হয়েছে, তবে অনেক ক্ষেত্রে গণমাধ্যম সত্য উপস্থাপনে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছে। ডাকসু ও হল সংসদ চালু থাকায় রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে ক্যাম্পাসে কিংবা হলগুলোয় অবৈধ সুবিধা নেয়ার পথ রুদ্ধ হয়েছে। ফলে সাধারণ শিক্ষার্থীদের হয়রানি বন্ধ হয়েছে, নিশ্চিত হয়েছে নিরাপত্তা ও পড়ালেখার পরিবেশ।
ডাকসু নির্বাচনের ইতিবৃত্ত
ডাকসু নির্বাচন নিয়ে সরকারগুলোর মধ্যে এক ধরনের অনীহা দেখা গেছে স্বাধীনতার পর থেকে। যার ফলে ১৯৭১ থেকে ১৯৯০ সাল পর্যন্ত ১৯ বার নির্বাচন হওয়ার কথা থাকলেও মাত্র ৭ বার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। ১৯৯১ সালের পর থেকে ডাকসু নির্বাচন একেবারে অমাবস্যার চাঁদ হয়ে যায়। ১৯৯০ সালের পর ১৯৯১ সালের ১৮ জুন ডাকসু নির্বাচন হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ওই সময় সহিংসতার কারণে নির্বাচন বন্ধ হয়ে যায়। ১৯৯৪ ও ১৯৯৫ সালে তৎকালীন ভিসি এমাজউদ্দীন আহমদ ডাকসু নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেছিলেন, কিন্তু ছাত্রলীগের বিরোধিতার কারণে নির্বাচন হয়নি। ১৯৯৬ সালে অধ্যাপক এ কে আজাদ চৌধুরী ভিসি হওয়ার পর একাধিকবার ডাকসু নির্বাচনের সময়সীমা ঘোষণা করেছিলেন, কিন্তু তা বাস্তবায়িত হয়নি। ১৯৯৮ সালে ডাকসু কমিটি ভেঙে দেওয়ার পর কর্তৃপক্ষ পরবর্তী ৬ মাসের মধ্যে নির্বাচনের ঘোষণা দিয়েছিল, কিন্তু সেটি বাস্তবায়িত হয়নি। মাঝে মধ্যে ডাকসু নির্বাচনের দাবিতে শিক্ষার্থীরা আন্দোলনে নেমেছেন এবং সিনেটে আনুষ্ঠানিক প্রস্তাবও এসেছে। তবে তাতে কোনো ফল পাওয়া যায়নি।
২০০৫ সালে ডাকসু নির্বাচনের জন্য ডিসেম্বর মাসের মধ্যে তফসিল ঘোষণা করা হয়। সেবারও ছাত্রলীগের বিরোধিতায় নির্বাচনটি বাস্তবায়িত হয়নি। এই সময় ছাত্রদল ডাকসু নির্বাচনের জন্য আন্দোলন করলেও ছাত্রলীগের প্রতিরোধে তাদের দাবি বাস্তবায়িত হয়নি। ২০১২ সালে সাধারণ শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ, ধর্মঘট, কালো পতাকা মিছিল এবং ব্যঙ্গচিত্র প্রদর্শনের মাধ্যমে ডাকসু নির্বাচনের দাবি জানান। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগঠন ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী অধিকার মঞ্চ’ তৈরি করা হয় এবং লাগাতার আন্দোলনও চলে বেশ কিছুদিন। তবে নির্বাচনের দাবি উঠলেও তা খুব জোরালো হয়নি। ২০১৯ সালে হাইকোর্টের রায়ের পর ডাকসু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলেও ছাত্রলীগের কর্মকাণ্ডের কারণে নির্বাচনটি প্রশ্নবিদ্ধ হয়। নির্বাচনবিহীন আবার কেটে যায় ছয় বছর।
সম্প্রতি ডাকসুর এজিএস ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিবিরের সভাপতি মহিউদ্দিন সামাজিক মাধ্যমে এক পোস্টে লেখেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন যদি মনে করে ডাকসু প্রশাসনের এক্সটেনশন হিসেবে কাজ করবে, যেভাবে তার লাঠিয়াল বাহিনীকে ব্যবহার করে, সেভাবে ডাকসুকে ব্যবহার করবে তাহলে সেটা ভুল ভেবেছে। ডাকসু প্রশাসনকে ‘জি হুজুর’ বলার জন্য গঠিত কোন প্ল্যাটফর্ম নয়, শিক্ষার্থীদের অধিকার আদায়ের প্ল্যাটফর্ম। যে প্রশাসন শিক্ষার্থীদের অধিকার বুঝিয়ে দিতে কার্পণ্য করে তার সাথে ডাকসুর বিরোধ অনিবার্য।
এই বিশ্ববিদ্যালয়ে সবার সিন্ডিকেট আছে, শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী সবার। শিক্ষার্থীরা এই প্রত্যেক সিন্ডিকেটের কাছে জিম্মি। ডাকসু এই সিন্ডিকেটকে চ্যালেঞ্জ করে বলেই ডাকসুর বাজেট থাকে না, পরবর্তী ডাকসু কবে হবে সে বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত থাকে না। শিক্ষকদের পারফরম্যান্স মূল্যায়নের জন্য ডাকসু একটি ওয়েবসাইট উদ্বোধন করার পর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন যখন ডাকসুকে প্যারালাল প্রশাসন হয়ে ওঠার অভিযোগ তোলে, ঠিক তখনই মহিউদ্দিন এই কড়া বার্তা দেন।
মেয়াদ শেষ ডাকসুর, কী করবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন
চলতি সেপ্টেম্বরের ১৪ তারিখ শেষ হয়েছে ডাকসুর মেয়াদ। নতুন তফসিল দেয়া হয়নি। ফলে আরও তিন মাস এই কমিটি রুটিন দায়িত্ব পালন করবে। যদিও গত ২০ আগস্ট এক বৈঠকে ডাকসু নেতাদের দাবির মুখে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) পরবর্তী নির্বাচনের তফসিল দ্রুত ঘোষণা করা হবে বলে জানিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম। ডাকসু ভিপিসহ নেতারা ইতোমধ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে ডাকসুর সমাপনী কার্যনির্বাহী বৈঠক ও হল সংসদের প্রতিনিধি সম্মেলন করেছেন। তারা চাইছেন নিয়মিত নির্বাচনের মাধ্যমে ডাকসু পরিচালিত হোক। কিন্তু কোনো অদৃশ্য কারণে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তফসিল ঘোষণা করছে না তা নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। নাকি আবারও অতীতের মতো ডাকসুকে অকার্যকর করবে এই প্রশাসন। তবে ডাকসু অকার্যকর হলে যে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থিতিশীলতা ও বিদ্যমান সুষ্ঠু পরিবেশের বিঘ্ন ঘটবে, তাতে কোনো সন্দেহ নেই। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও সরকার নির্বাচন না দেয়ার কোনো পাঁয়তারা করলে সামগ্রিকভাবে তা খারাপ নজির হবে।