সংক্ষিপ্ত বিশ্ব সংবাদ


১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১৭:৫১

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ‘নজিরবিহীন ঝুঁকি’ : জরুরি পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জাতিসংঘের
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) অনিয়ন্ত্রিত বিস্তার এবং এর ফলে সৃষ্ট ‘নজিরবিহীন ঝুঁকি’ মোকাবিলায় বিশ্বের সব দেশ ও শীর্ষ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোকে অবিলম্বে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে জাতিসংঘ। সংস্থাটি সতর্ক করে বলেছে, বিশ্ব এমন এক অপূরণীয় পরিবর্তনের মুখে দাঁড়িয়ে আছে, যা বর্তমানের পাশাপাশি মানবজাতির ভবিষ্যৎ প্রজন্মকেও গভীরভাবে প্রভাবিত করবে। জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক প্রধান ভলকার তুর্ক (ঠড়ষশবৎ ঞঁৎশ) বিভিন্ন দেশ ও প্রযুক্তি উদ্যোক্তাদের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে এই জরুরি সতর্কবার্তা দেন। চিঠিতে ভলকার তুর্ক উল্লেখ করেন, ক্ষমতার লড়াইয়ে নিত্যনতুন ও শক্তিশালী এআই তৈরির প্রতিযোগিতা আমাদের জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে বড় ধরনের অস্তিত্ব সংকট তৈরি করছে। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘বর্তমান বিশ্বে গোটা মানবজাতির ভবিষ্যতের স্বার্থে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য আমরা মাত্র কয়েকটি শক্তিশালী প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের ওপর প্রায় শতভাগ নির্ভরশীল হয়ে পড়েছি। এই পরিস্থিতি অত্যন্ত উদ্বেগজনক।’ জাতিসংঘের মানবাধিকার প্রধান আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনের ভিত্তিতে একটি টেকসই নীতি প্রণয়ন করার জন্য বহুপাক্ষিক ফোরামগুলোয় যুক্ত হতে রাষ্ট্র ও প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি আহ্বান জানান। জাতিসংঘ প্রধানের এই সতর্কবার্তা এমন এক সময়ে এলো, যখন ‘সুপারইন্টেলিজেন্ট’ বা অতি-বুদ্ধিমান কম্পিউটার সিস্টেমের ঝুঁকি নিয়ে বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ তুঙ্গে। সম্প্রতি শীর্ষস্থানীয় এআই গবেষণা প্রতিষ্ঠান অ্যানথ্রোপিক (অহঃযৎড়ঢ়রপ)-এর এক জ্যেষ্ঠ গবেষক এই প্রযুক্তি মানুষের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে— এমন আশঙ্কায় পদত্যাগ করেছেন। এমনকি প্রতিষ্ঠানটির আরেক কর্মরত কর্মী প্রকাশ্যে মন্তব্য করেছেন, ‘আমরা সত্যি বিশ্বাস করি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা আগামী এক দশকের মধ্যে পৃথিবীর সমস্ত মানবজাতিকে ধ্বংস করে দিতে পারে এবং এর সম্ভাবনা ১০ শতাংশের চেয়েও বেশি।’ উদ্বেগজনক এই পরিস্থিতিতে অ্যানথ্রোপিকের প্রধান নির্বাহী (সিইও) দারিও আমোদেই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বিকাশের গতি কিছুটা ধীর করার বা সমন্বিতভাবে নিয়ন্ত্রণ করার প্রস্তাব দিয়েছেন। তার এই প্রস্তাবকে প্রকাশ্যে সমর্থন জানিয়েছেন এক্স-এআই (ীঅও)-এর প্রতিষ্ঠাতা ইলন মাস্ক এবং ওপেনএআই (ঙঢ়বহঅও)-এর প্রধান নির্বাহী স্যাম অল্টম্যান। বিশ্বনেতারা ও প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, অতি দ্রুত আন্তর্জাতিক আইন ও নীতিমালা প্রণয়ন করা না গেলে এআই প্রযুক্তি মানবসভ্যতার জন্য সবচেয়ে বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়াবে। এপি।

পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি শাসনের ২ মাসেই খ্রিস্টানদের ওপর অন্তত ১৫ হামলা
পশ্চিমবঙ্গে সাম্প্রতিক সময়ে খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের ওপর ধারাবাহিক হামলা ও নানাবিধ হয়রানির ঘটনা নিয়ে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। গত জুলাই ও আগস্ট— এই দুই মাসে রাজ্যজুড়ে খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীদের ওপর অন্তত ১৫টি হামলার ঘটনা নথিভুক্ত করা হয়েছে। চার্চ ভাঙচুর, প্রার্থনায় বাধা, যাজক ও পুণ্যার্থীদের ওপর শারীরিক নির্যাতন এবং ধর্মীয় অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় বিঘ্ন ঘটানোর মতো একের পর এক অভিযোগ প্রকাশ্যে এসেছে। খ্রিস্টান অধিকার পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দক্ষিণ ২৪ পরগনা, উত্তর ২৪ পরগনা, পূর্ব বর্ধমান, পশ্চিম মেদিনীপুর, বাঁকুড়া, হাওড়া ও পূর্ব মেদিনীপুর জেলা থেকে এসব ঘটনার খবর এসেছে। ‘অ্যান্টি-খ্রিস্টান ট্র্যাকার ওয়াচ’ (এসিটি ইন্ডিয়া) জুলাই মাসে রাজ্যে ৯টি হামলার তথ্য উল্লেখ করেছে। বিভিন্ন গণমাধ্যম ও স্থানীয় উৎস থেকে অন্তত ৮টি স্পষ্ট ঘটনার বিবরণ পাওয়া গেছে। ৪ জুলাই (পশ্চিম মেদিনীপুর): পালবাড়িতে এক নবদম্পতির ঘরোয়া প্রার্থনা সভায় হামলা চালিয়ে নারী অতিথিদের শাখা-পলা মুছে ফেলার অভিযোগ ওঠে। ঘটনায় পুলিশ হামলাকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিয়ে স্থানীয় যাজককে আটক করে। ৫ জুলাই (দক্ষিণ ২৪ পরগনা): সুভাষগ্রামে এক চিকিৎসাধীন গির্জায় প্রায় ১০০ জনের একটি দল হামলা চালায়। দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে অলটার, বাদ্যযন্ত্র ও ছাদের ৩টি ক্রস ভেঙে ফেলা হয়। ‘জয় শ্রী রাম’ স্লোগান দিয়ে ধর্মান্তরের অভিযোগ তোলে হামলাকারীরা। পরবর্তীতে পুলিশ ৩ জনকে আটক করে। ৫ জুলাই (পূর্ব বর্ধমান ও অন্যান্য): ফরিদপুরের গ্রেস চার্চে রবিবার প্রার্থনার সময় যাজক ও প্রার্থনাকারীদের ওপর হামলা চালানো হয়। একই দিনে মুর্শিদাবাদে এক খ্রিস্টান বিধবাকে ধর্মান্তরিত হওয়ার জন্য চাপ ও জমি দখলের চেষ্টা এবং বাঁকুড়ায় একটি প্রার্থনা সভায় বাধা দিয়ে বাইবেল বাজেয়াপ্ত করার অভিযোগ ওঠে। ১২ জুলাই (উত্তর ২৪ পরগনা): বারাসাতে সেলেসিয়ান সিস্টারদের নির্মাণাধীন একটি স্মারক চ্যাপেল ও কবরস্থান ভেঙে ফেলার দাবিতে প্রায় ৬০ জনের একটি দল হুমকি দেয়। ২৬ ও ৩১ জুলাই: দক্ষিণ ২৪ পরগনার চাড়ারায়পুর মাজিরপাড়ায় ঘরোয়া প্রার্থনায় বাইবেল পোড়ানো ও গেরুয়া রং মাখিয়ে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। ৩০ জুলাই সন্দেশখালিতে এক যাজককে হুমকির মুখে পড়তে হয়। আগস্ট মাসে ঘটনাগুলোর ধরন বদলে মূলত বাসাবাড়িতে আয়োজিত প্রার্থনাসভাকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়। ১৪ আগস্ট (পূর্ব বর্ধমান): সহানগরে এক খ্রিস্টান নারীর দাফনকালে জমি সংক্রান্ত বিরোধ তুলে কবর থেকে লাশ তুলতে বাধ্য করার মতো চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটে। পরে অন্য এক কবরস্থানে দাফন সম্পন্ন হয়। পুলিশ অবশ্য মারধরের অভিযোগ অস্বীকার করে জমির স্বত্ব সংক্রান্ত স্থানীয় বিরোধ বলে দাবি করেছে। ২৩ আগস্ট (হাওড়া): উলুবেড়িয়ায় একটি ভাড়া বাড়িতে প্রার্থনার সময় প্রায় ৬০ জন পুণ্যার্থীর ওপর সংঘবদ্ধ হামলা চালানো হয়। যাজক ও প্রার্থনাকারীদের মারধর করে আসবাবপত্র ও সাউন্ড সিস্টেম ভাঙচুর করা হয়। পরবর্তীতে পুলিশ গিয়ে তাদের উদ্ধার করে এবং এফআইআর দায়ের হয়। ২৫, ২৬ ও ৩০ আগস্ট: হাওড়ার ঘুসুড়ি ও জগদ্বল্লভপুর, পূর্ব মেদিনীপুরের চেক মাইলপোস্ট এবং উত্তর ২৪ পরগনার হিঙ্গলগঞ্জে ঘরোয়া প্রার্থনাসভায় হামলা, মারধর ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের খবর পাওয়া যায়। অধিকাংশ ঘটনার পেছনেই হামলাকারীদের মূল অভিযোগ ছিল ‘জোরপূর্বক ধর্মান্তরকরণ’। তবে এই অভিযোগের কোনো আইনি ভিত্তি বা তদন্তমূলক সত্যতা এখনো নিশ্চিত করা হয়নি। ধারাবাহিক এসব ঘটনার পর হাওড়া ও অন্যান্য জেলার খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীরা নিরাপত্তার অভাবে সাময়িকভাবে বাসাবাড়িতে প্রার্থনাসভা ও যাজকদের গৃহপরিদর্শন স্থগিত রাখতে বাধ্য হয়েছেন। কিছু ঘটনায় পুলিশের দ্রুত পদক্ষেপ ও এফআইআর হলেও অনেক ঘটনায় এখনো কোনো গ্রেপ্তার ঘটেনি। মানবাধিকার ও ধর্মীয় সংস্থাগুলো জানিয়েছে, এসব ঘটনা বিচ্ছিন্ন কোনো সংঘর্ষ নাকি সংখ্যালঘুদের ওপর পরিকল্পিত চাপ—তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। রয়টার্স।

আল-আকসা প্রাঙ্গণে শত শত ইহুদির অনুপ্রবেশ
অধিকৃত পূর্ব জেরুসালেমের আল-আকসা মসজিদ প্রাঙ্গণে প্রায় ৫৯৩ জন ইসরাইলি বসতি স্থাপনকারী প্রবেশ করেছে বলে জানিয়েছে জেরুসালেম গভর্নরেট। ইহুদি নববর্ষ উপলক্ষে ইসরাইলি নিরাপত্তা বাহিনীর কঠোর পাহারায় তারা মসজিদ চত্বরে প্রবেশ করে। এদিকে আল-আকসায় ফজরের নামাজ আদায় করতে যাওয়া ফিলিস্তিনি মুসল্লিদের ওপরও কড়াকড়ি আরোপ করেছে ইসরাইল। বয়সসীমাসহ বিভিন্ন বিধিনিষেধের কারণে বহু মুসল্লি মসজিদে প্রবেশ করতে পারেননি। তাদের অনেকে বাইরে নামাজ আদায় করতে বাধ্য হন। ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, ইসরাইলি উগ্রপন্থি টেম্পল গ্রুপগুলোর আহ্বানে বসতি স্থাপনকারীরা আল-আকসা প্রাঙ্গণে ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান পালনের মাধ্যমে সেখানে নতুন বাস্তবতা প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে। আল-আকসা মসজিদ প্রাঙ্গণের ধর্মীয় বিষয় ও ব্যবস্থাপনা জর্ডানের ইসলামিক ওয়াকফের তত্ত্বাবধানে রয়েছে। ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, ওয়াকফের আপত্তি সত্ত্বেও ইসরাইলি পুলিশ বসতিস্থাপনকারীদের নিয়মিত মসজিদ প্রাঙ্গণে প্রবেশের সুযোগ দিচ্ছে। এরই মধ্যে অধিকৃত পশ্চিমতীর ও পূর্ব জেরুসালেমে ইসরাইলি বসতি সম্প্রসারণ নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে। ফিলিস্তিনি কমিশনের তথ্যানুযায়ী, ২০২৬ সালে এখন পর্যন্ত ১৫৩টি বসতি পরিকল্পনা এগিয়ে নেওয়া হয়েছে। এসব পরিকল্পনায় ১৮ হাজারের বেশি নতুন আবাসন ইউনিট নির্মাণের লক্ষ্য রয়েছে। আল-আকসা মসজিদ মুসলিমদের অন্যতম পবিত্র স্থান। মসজিদটির ব্যবস্থাপনা ও সেখানে ইসরাইলি বসতি স্থাপনকারীদের প্রবেশ নিয়ে ইসরাইল ও ফিলিস্তিনিদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে উত্তেজনা রয়েছে। টিআরটি ওয়ার্ল্ড।

কলকাতা পুলিশে মুসলিম কর্মীদের দাড়ি রাখায় নিষেধাজ্ঞা জারি বিজেপি সরকারের
পশ্চিমবঙ্গের মুসলমানদের ওপর একের পর এক নিষেধাজ্ঞা আসছে বিজেপি শাসিত পশ্চিমবঙ্গে। আজানের সময় মাইক বন্ধ, রেড রোডে ঈদের নামাজ বন্ধ এবং গরু কুরবানি বন্ধের পর এবার দাড়ি রাখাতেও বিধিনিষেধ জারি করল বিজেপি সরকার। শিখরা দাড়ি রেখে পুলিশ ও সেনাবাহিনীতে কাজ করতে পারলেও মুসলমানদের ওপর কড়া ফরমান এলো শুভেন্দু অধিকারীর সরকার থেকে। কলকাতা পুলিশে কর্মরত অবস্থায় দাড়ি রাখার অনুমতি চেয়ে আবেদন করেছিলেন বাহিনীর বিভিন্ন পদমর্যাদার বেশ কয়েকজন মুসলিম কর্মী এবং হোমগার্ড। লালবাজারের পক্ষ থেকে সেই আবেদন খারিজ করে দেওয়া হয়েছে। কলকাতা পুলিশের কমিশনারের দপ্তর থেকে জারি করা একটি মেমোতে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রচলিত দাড়ি রাখার বিধিনিষেধ প্রত্যেক পুলিশকর্মীকে কঠোরভাবে মেনে চলতে হবে। কলকাতা পুলিশের জয়েন্ট কমিশনার অব পুলিশ (হেডকোয়ার্টার্স)-এর স্বাক্ষরিত ওই মেমোতে বলা হয়েছে, মোট ৪৭ জন পুলিশকর্মী ও হোমগার্ডের আবেদন জমা পড়েছিল। কলকাতা পুলিশের নানা ব্যাটালিয়ন, রিজার্ভ ফোর্স, স্পেশাল ব্রাঞ্চ, ডিটেকটিভ ডিপার্টমেন্ট এবং ট্রাফিক পুলিশসহ একাধিক ইউনিটে কর্মরত পুলিশকর্মীরা এই আবেদন করেছিলেন। মেমোর সাথে তাদের নাম, পদমর্যাদা এবং বর্তমান পোস্টিংয়ের তালিকা সংযুক্ত করা হয়েছে— যার প্রথম পর্যায়ে ৩০ জন এবং দ্বিতীয় পর্যায়ে ১৭ জনের নাম রয়েছে। আবেদনকারীদের মধ্যে অনেকেই দাড়ি রাখার কারণ হিসেবে ধর্মীয় অনুশাসনের কথা উল্লেখ করেছিলেন। তবে লালবাজারের তরফ থেকে স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে, ব্যক্তিগত পছন্দ বা কারণ যাই হোক না কেন, বিভাগীয় শৃঙ্খলার নীতিতে কোনো প্রকার আপস করা হবে না। সংশ্লিষ্ট ইউনিট প্রধানদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যেন তারা আবেদনকারীদের এই সিদ্ধান্ত স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেন এবং লালবাজারের এই নিয়ম কঠোরভাবে মেনে চলা হচ্ছে কি না, তা নিশ্চিত করেন। যদিও বিজেপি আসার আগে মমতা বন্দোপাধ্যায়ের তৃণমূলের জমানায় দাড়ি নিয়ে কোনো আপত্তি ওঠেনি। এই প্রসঙ্গে ২০০২ সালের সেপ্টেম্বর মাসের একটি ঘটনার কথাও বিস্তারিতভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। মুর্শিদাবাদ জেলার হরিহরপাড়া থানার কনস্টেবল মুহাম্মদ আকরাম আলী শেখকে দাড়ি রাখার অপরাধে সাময়িক বরখাস্ত (সাসপেন্ড) করা হয়েছিল। তিনি ১৯৯৬ সালে হজ করার পর থেকে ইসলামিক নিয়ম মেনে দাড়ি রেখে আসছিলেন। তৎকালীন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শঙ্কর সিং তাকে দাড়ি কাটতে বা ছেঁটে ফেলতে বললে তিনি তা মানতে অস্বীকার করেন এবং জানান যে এটি তার ধর্মীয় অধিকার ও বাধ্যবাধকতা। এরপর তাকে শোকজ নোটিশ দেওয়া হয় এবং পরে সাসপেন্ড করা হয়। এই শাস্তিমূলক ব্যবস্থা ১৯৪৩ সালের ‘পুলিশ রেগুলেশন অব বেঙ্গল’-এর নিয়ম অনুযায়ী নেওয়া হয়েছিল। তৎকালীন মাইনরিটি কমিশনের চেয়ারম্যান কে. এম. ইউসুফ সেই সময় এই নিয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আর্জি জানিয়েছিলেন। যদিও পরবর্তীতে সংখ্যালঘু কমিশনের হস্তক্ষেপে সেই বরখাস্তের আদেশ প্রত্যাহার করা হয়। সংবাদ প্রতিদিন।

হেগসেথের নেতৃত্বে পেন্টাগনে চরম বিশৃঙ্খলা
মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের নেতৃত্বে পেন্টাগনে ব্যাপক অস্থিরতা ও অনাস্থার পরিবেশ তৈরি হয়েছে, যা সামরিক বাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ কাজ ব্যাহত করছে বলে জানিয়েছে দ্য নিউইয়র্ক টাইমস। সংবাদমাধ্যমটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অভ্যন্তরীণ অস্থিরতার কারণে শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তাদের মনোযোগ গুরুত্বপূর্ণ অগ্রাধিকার থেকে সরে যাচ্ছে। নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়, হেগসেথের দায়িত্বকালে পেন্টাগনের আধুনিক ইতিহাসে নজিরবিহীনভাবে বহু শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তাকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। কর্মকর্তারা কোথায় পড়াশোনা করতে পারবেন এবং একাডেমিক গবেষণাপত্রে কী ধরনের মতামত তুলে ধরতে পারবেন, সে ক্ষেত্রেও বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। পেন্টাগনের ভেতরের তথ্য গণমাধ্যমে ফাঁস হওয়ার ঘটনায় কর্মকর্তাদের মধ্যে সন্দেহ ও অনাস্থার পরিবেশও তৈরি হয়েছে। তথ্য ফাঁসের উৎস শনাক্ত করতে প্রায় ৫০ জন সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তার মিথ্যা শনাক্তকারী পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে বলে নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনের বরাতে জানা গেছে। এরই মধ্যে ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ পেন্টাগনের সমস্যাগুলো আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। এতে নৌবাহিনীর সদস্যদের মনোবল ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার অস্ত্রের মজুতও কমে যাচ্ছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি এক পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদনেও ইরান যুদ্ধের কারণে উন্নত অস্ত্রের মজুদে ঘাটতি এবং সেগুলো পুনরায় সরবরাহে সক্ষমতার সীমাবদ্ধতার কথা বলা হয়েছে। বর্তমান ও সাবেক একাধিক পেন্টাগন কর্মকর্তা হেগসেথের মেয়াদকালকে এমন এক সময় হিসেবে বর্ণনা করেছেন, যখন অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা সামরিক বাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ অগ্রাধিকার থেকে মনোযোগ সরিয়ে দিচ্ছে। এর ফলে পেন্টাগনের শীর্ষ নেতৃত্বের মধ্যে অনাস্থাও বাড়ছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, হেগসেথ ৮০ জনের বেশি জেনারেল ও অ্যাডমিরালের পদোন্নতি আটকে দিয়েছেন অথবা তাদের সরিয়ে দিয়েছেন। এসব কর্মকর্তার অনেকেরই কয়েক দশকের সামরিক অভিজ্ঞতা রয়েছে। এর ফলে পেন্টাগনের বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ শীর্ষ পদ দীর্ঘসময় ধরে শূন্য রয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, অভিজ্ঞ সামরিক কর্মকর্তাদের সরিয়ে দেওয়া, গুরুত্বপূর্ণ পদ শূন্য থাকা এবং তথ্য ফাঁস ঠেকাতে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার কারণে পেন্টাগনের ভেতরে অস্থিরতা আরও গভীর হয়েছে। একই সময়ে ইরান যুদ্ধের কারণে অস্ত্রের মজুদ ও সামরিক প্রস্তুতি নিয়েও নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। দ্য নিউইয়র্ক টাইমস, আল-জাজিরা।

ফিলিস্তিনিদের অস্তিত্ব নিশ্চিহ্নই ইসরাইলি নীতি : মানবাধিকার সংগঠন বি’তসেলেম
অধিকৃত পশ্চিমতীরে ফিলিস্তিনিদের অস্তিত্ব ও সমাজব্যবস্থা ভেঙে দিতে ইসরাইল পরিকল্পিতভাবে সহিংসতা, চলাচলে বিধিনিষেধ, অর্থনৈতিক চাপ ও ভূমি দখলকে ব্যবহার করছে বলে দাবি করেছে ইসরাইলি মানবাধিকার সংগঠন বি’তসেলেম। সংগঠনটির মতে, এসব পদক্ষেপ বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা নয়, বরং ফিলিস্তিনি সমাজকে দুর্বল ও উচ্ছেদ করার একটি সমন্বিত প্রক্রিয়ার অংশ। গত সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বি’তসেলেম জানায়, পশ্চিমতীরে ইসরাইলি বাহিনী ও বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতা, ফিলিস্তিনিদের চলাচলে বাধা, অর্থনৈতিক নিয়ন্ত্রণ, সামাজিক ও রাজনৈতিক জীবন দুর্বল করা এবং ভূমি দখল পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত। এসব পদক্ষেপের মাধ্যমে ফিলিস্তিনিদের নিজ ভূমিতে টিকে থাকা ক্রমেই কঠিন করে তোলা হচ্ছে বলে সংগঠনটি দাবি করেছে। সংগঠনটির প্রতিবেদনে ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে সংগৃহীত ২ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনির সাক্ষ্য বিশ্লেষণ করা হয়েছে। এতে পশ্চিমতীরে ফিলিস্তিনি সমাজের প্রতিষ্ঠান, অর্থনীতি, চলাচলের স্বাধীনতা ও সামাজিক জীবনকে ধারাবাহিকভাবে দুর্বল করার বিষয়গুলো তুলে ধরা হয়েছে। বি’তসেলেম এ প্রক্রিয়াকে ‘অস্তিত্ব বিলোপ প্রকল্প’ হিসেবে বর্ণনা করেছে। বি’তসেলেমের মতে, এই প্রক্রিয়া পাঁচটি প্রধান ক্ষেত্রে পরিচালিত হচ্ছে। এগুলো হলো সহিংসতা ও ভয়ভীতি সৃষ্টি, চলাচলে বিধিনিষেধ, অর্থনৈতিক চাপ, সামাজিক ও রাজনৈতিক কাঠামো দুর্বল করা এবং জাতিগত উচ্ছেদ ও ভূখণ্ড দখল। সংগঠনটির দাবি, এসব পদক্ষেপ পরস্পরকে শক্তিশালী করে ফিলিস্তিনিদের পশ্চিমতীরে সম্মিলিতভাবে বসবাসের সুযোগ সংকুচিত করছে। সংগঠনটি আরও দাবি করেছে, ২০২৩ সালের অক্টোবরের পর পশ্চিমতীরে ইসরাইলি বাহিনীর হাতে প্রায় ১ হাজার ৮৭ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। নিহতদের প্রায় এক-চতুর্থাংশ শিশু বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। একই সময়ে বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতা ও ফিলিস্তিনি সম্প্রদায় উচ্ছেদের ঘটনাও বেড়েছে বলে বি’তসেলেম জানিয়েছে। বি’তসেলেম বলছে, পশ্চিমতীরে চলমান পরিস্থিতিকে বিচ্ছিন্ন কিছু মানবাধিকার লঙ্ঘন হিসেবে দেখলে পুরো চিত্রটি বোঝা যাবে না। তাদের দাবি, সহিংসতা, বসতি সম্প্রসারণ, উচ্ছেদ ও চলাচলে বিধিনিষেধ মিলিয়ে ফিলিস্তিনিদের জন্য নিজ ভূমিতে বসবাস, কাজ ও টিকে থাকার সুযোগ ক্রমেই সংকুচিত করা হচ্ছে। সংগঠনটির সাম্প্রতিক তথ্যানুযায়ী, সেপ্টেম্বরেও পশ্চিমতীরের মাসাফের ইয়াত্তা এলাকায় ফিলিস্তিনি বাড়িঘর ধ্বংস ও সম্প্রদায় উচ্ছেদের ঘটনা ঘটেছে। গত ৮ সেপ্টেম্বর খিরবেত আল-ফাখিত ও খাল্লেত আল-দাবেহ এলাকায় কয়েকটি পরিবারের বাড়ি ধ্বংস করা হয়েছে বলে বি’তসেলেম জানিয়েছে। ইসরাইলি এই মানবাধিকার সংগঠনটি দীর্ঘদিন ধরে পশ্চিমতীরে ইসরাইলি দখল, বসতি সম্প্রসারণ ও ফিলিস্তিনিদের ওপর সহিংসতার সমালোচনা করে আসছে। নতুন প্রতিবেদনে সংগঠনটি এসব ঘটনাকে বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবে নয়, বরং ফিলিস্তিনি সমাজের অস্তিত্বের শর্তগুলো ভেঙে দেওয়ার একটি সমন্বিত প্রক্রিয়া হিসেবে তুলে ধরেছে। আল-জাজিরা।

মদিনায় ইউরেনিয়াম আকরিকের বিশাল খনির সন্ধান
ভিশন ২০৩০-এর আওতায় খনিজসম্পদ ও পারমাণবিক শক্তির সম্প্রসারণের অংশ হিসেবে সৌদি আরবের মদিনা অঞ্চলে প্রায় ১১ কোটি (১১০ মিলিয়ন) টন ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ খনিজ আকরিকের সন্ধান পাওয়া গেছে। গত ১৪ সেপ্টেম্বর সোমবার ভিয়েনায় আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) ৭০তম সাধারণ সম্মেলনে সৌদি আরবের জ্বালানিমন্ত্রী যুবরাজ আব্দুল আজিজ বিন সালমান এই ঐতিহাসিক আবিষ্কারের ঘোষণা দেন। জ্বালানিমন্ত্রী জানান, মদিনার ‘জাবল সায়েদ’ প্রকল্পের অধীনে পরিচালিত ভূতাত্ত্বিক জরিপ ও অনুসন্ধানে এই খনির সন্ধান মেলে। এই আকরিকগুলোয় ভারী উপাদানসহ দুর্লভ মৃত্তিকা খনিজের (রেয়ার আর্থ মিনারেল) উচ্চ ঘনত্ব রয়েছে এবং সেইসাথে ইউরেনিয়ামের প্রতিশ্রুতিশীল উপস্থিতি চিহ্নিত করা হয়েছে। সৌদি আরব তাদের ‘ভিশন ২০৩০’ পরিকল্পনার মাধ্যমে অর্থনীতিকে বহুমুখী করতে জাতীয় জ্বালানি মিশ্রণে পারমাণবিক শক্তিকে অন্তর্ভুক্ত করার কাজ দ্রুত এগিয়ে নিচ্ছে। তবে, আকরিকগুলোয় ইউরেনিয়ামের সুনির্দিষ্ট ঘনত্ব কত তা মন্ত্রী প্রকাশ করেননি। ফলে এই খনি থেকে ঠিক কত পরিমাণ খাঁটি ইউরেনিয়াম নিষ্কাশন করা সম্ভব হবে তা এখনো স্পষ্ট নয়। যুবরাজ আব্দুল আজিজ জানান, সৌদি আরব ইউরেনিয়াম অনুসন্ধানের পাশাপাশি অন্যান্য শিল্প প্রক্রিয়া থেকে ইউরেনিয়াম আহরণের প্রযুক্তি নিয়েও কাজ করছে। দেশের উত্তরাঞ্চলের ফসফেট সার শিল্পে উৎপাদিত ফসফরিক অ্যাসিড থেকে ইউরেনিয়াম নিষ্কাশনের সম্ভাব্যতা যাচাই করা হচ্ছে। ফরাসি প্রতিষ্ঠান ‘ওরানো’-এর সাথে পরিচালিত পরীক্ষামূলক কাজে অর্থনৈতিকভাবে লাভজনক পন্থায় ইউরেনিয়াম আহরণের ইতিবাচক ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। সৌদি আরব কেবল কাঁচামাল রপ্তানির ওপর নির্ভর না করে অনুসন্ধান, খনন, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও শোধনের মাধ্যমে একটি সমন্বিত শিল্প অবকাঠামো গড়ে তুলতে চায়। এর অংশ হিসেবে ফসফেট, সোনা, তামা, দস্তা এবং অন্যান্য মূল্যবান খনিজ সম্পদ উন্নয়নে আন্তর্জাতিক অংশীদারিত্ব জোরদার করা হচ্ছে। সম্মেলনে জ্বালানিমন্ত্রী পুনর্ব্যক্ত করেন যে, পরমাণু অস্ত্র বিস্তার রোধ চুক্তি (এনপিটি)-র অধীনে পারমাণবিক শক্তির শান্তিপূর্ণ ব্যবহারের পূর্ণ অধিকার সৌদি আরবের রয়েছে। আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা মানদণ্ড ও আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) নির্দেশিকা মেনে একটি নিরাপদ ও টেকসই পারমাণবিক কর্মসূচি গড়ে তুলছে রিয়াদ। অন্যদিকে, ভিয়েনায় মার্কিন জ্বালানি সচিবের বরাত দিয়ে রয়টার্স জানিয়েছে যে, সৌদি আরবে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের কোনো পরিকল্পনা এই মুহূর্তে নেই। গালফ নিউজ।

‘এআই’ না জানলে মুসলিম সমাজ উপনিবেশে পরিণত হবে : আনোয়ার ইব্রাহিম
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) এবং নতুন প্রযুক্তির দৌড়ে পিছিয়ে পড়লে মুসলিম সমাজ বাইরের প্রভাব ও উপনিবেশের ঝুঁকিতে পড়তে পারে বলে সতর্ক করেছেন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম। এক প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। ভারতের দক্ষিণাঞ্চলীয় রাজ্য কেরালার কোঝিকোড়ে শেখ আবু বকর ফাউন্ডেশন কর্তৃক প্রবর্তিত প্রথম এক্সিলেন্স অ্যাওয়ার্ড গ্রহণ অনুষ্ঠান শেষে আনোয়ার ইব্রাহিম বলেন, ‘জ্ঞান না থাকলে আমরা ব্যর্থ হব। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা না বুঝলে আমরা উপনিবেশে পরিণত হব।’ মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন, আলেম সমাজ ও ধর্মীয় পণ্ডিতদের আধুনিক প্রযুক্তি, বিজ্ঞান, ডিজিটাল রূপান্তর এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসহ বর্তমান সময়ের নতুন বাস্তবতা ও চ্যালেঞ্জগুলো অনুধাবন করতে হবে। তবে প্রযুক্তিগত অগ্রগতি যেন ধর্মীয় ও নৈতিক মূল্যবোধের মূল শক্তিতে ব্যাঘাত না ঘটায় সেদিকে জোর দেন তিনি। তিনি বলেন, ‘আমাদের জ্ঞান ও দক্ষতার প্রয়োজন রয়েছে, কিন্তু প্রযুক্তির বিকাশ যেন আমাদের ইমান ও নৈতিক মূল্যবোধ রক্ষা করে তা নিশ্চিত করতে হবে।’ প্রযুক্তি খাতের শীর্ষ ব্যক্তিদের মধ্যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ঝুঁকি নিয়ে তীব্র বিতর্ক চলা সত্ত্বেও মুসলিম আলেম ও সমাজ এই চ্যালেঞ্জগুলোর দিকে পর্যাপ্ত মনোযোগ দিচ্ছে না বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেন আনোয়ার ইব্রাহিম। প্রযুক্তিগত অগ্রগতি যেন জ্ঞান, নীতি ও ধর্মীয় আদর্শের ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠে, তা সুনিশ্চিত করার আহ্বান জানান তিনি। ভারতের গ্র্যান্ড মুফতি ও বিশিষ্ট সুন্নি আলেম কান্থাপুরাম এ. পি. আবুবকর মুসলিয়ার মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর হাতে এই সম্মাননা স্মারক তুলে দেন। নয়া দিল্লিতে অনুষ্ঠিত ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দেওয়ার পর কেরালা সফর করেন আনোয়ার ইব্রাহিম। আনাদোলু এজেন্সি।

ফিলিপাইনের মুসলিম অধ্যুষিত অঞ্চলে প্রথম নির্বাচন
দক্ষিণ ফিলিপাইনের মুসলিম অধ্যুষিত একটি স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলে গত ১৪ সেপ্টেম্বর সোমবার প্রথম সংসদীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। কয়েক দশকের রক্তক্ষয়ী সংঘাত ও সহিংসতার অবসান ঘটিয়ে স্বশাসন প্রতিষ্ঠার পথে এটিকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। খ্রিষ্টানপ্রধান এই দেশের দক্ষিণাঞ্চলে দীর্ঘদিন চলা বিচ্ছিন্নতাবাদী তৎপরতা বন্ধের লক্ষ্যে এই উদ্যোগ নেয়া হয়। ২০১৪ সালের একটি শান্তি চুক্তির মাধ্যমে মুসলিম মিন্দানাওয়ের বাংসামোরা স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলটি গঠিত হয়েছিল। ওই চুক্তির আওতায় দেশটির বৃহত্তম মুসলিম বিদ্রোহী গোষ্ঠী পৃথক রাষ্ট্রের দাবি ত্যাগ করে বৃহত্তর স্বায়ত্তশাসন মেনে নেয়। একইসঙ্গে তাদের প্রায় ৪০ হাজার যোদ্ধা অস্ত্র জমা দিয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার অঙ্গীকার করে। এদিকে ভোটগ্রহণের ঠিক আগে বেশকিছু সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। নির্বাচন কমিশনের চেয়ারম্যান এরউইন গার্সিয়া জানান, রোববার রাতে গোলাগুলিতে তিনজন নিহত এবং ১৫ জন আহত হওয়ার পর কোটাবাটো শহরকে কমিশনের সরাসরি নিয়ন্ত্রণে নেয়া হয়েছে। সেখানে প্রশাসন পরিচালনার জন্য একজন প্রশাসক নিয়োগের সিদ্ধান্ত হয়েছে। একই শহরে একটি বোমার বিস্ফোরণ ঘটে এবং আলাদা একটি গুলিবর্ষণের ঘটনাও রেকর্ড করা হয়। জালিয়াতির কারণে বাসিলান প্রদেশের মালুসো শহরটিকেও কমিশন নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে। সেখানকার ৬৮টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ৩৬টিতে আগেই সিল মারা ব্যালট পেপার উদ্ধার করা হয়। কমিশন দ্রুত সেসব ব্যালট বাতিল করে নতুন ব্যালট ছাপানোর নির্দেশ দিয়েছে। ফলে ওই কেন্দ্রগুলোয় ভোটগ্রহণ কিছুটা পেছানো হয়। উল্লেখ্য, ১৯৭০ সাল থেকে দক্ষিণ ফিলিপাইনে চলা সংঘাতে প্রায় দেড় লাখ মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। এপি।

ভারতের নতুন পোশাক আইনে বিপাকে মুসলিমরা
ভারতের ক্ষমতাসীন বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলোয় অভিন্ন দেওয়ানি বিধি বা ইউসিসি দ্রুত বাস্তবায়নের ঘোষণা দিয়েছেন দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। সরকারের এই উদ্যোগকে ঘিরে দেশটির মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে ধর্মীয় স্বাধীনতা ও ব্যক্তিগত আইন নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। অমিত শাহ বলেন, কয়েকটি রাজ্যে ইতোমধ্যে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি চালু হয়েছে। ২০২৯ সালের মধ্যে বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ জোট শাসিত ২১টি রাজ্যেই এই আইন কার্যকর করার বিষয়ে তিনি আশাবাদী। ভারতে ফৌজদারি আইন সবার জন্য অভিন্ন হলেও বিয়ে, বিবাহবিচ্ছেদ ও উত্তরাধিকারের মতো ব্যক্তিগত বিষয়গুলো দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন ধর্মীয় সম্প্রদায়ের নিজস্ব আইন ও রীতিনীতির আওতায় পরিচালিত হয়ে আসছে। এসব ব্যক্তিগত আইনকে এক আইনের আওতায় আনার লক্ষ্যেই অভিন্ন দেওয়ানি বিধি প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছে বিজেপি সরকার। এখন পর্যন্ত ভারতের অন্তত চারটি রাজ্যে ইউসিসি কার্যকর করা হয়েছে। তবে আইনটি নিয়ে রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে বিতর্ক অব্যাহত রয়েছে। বিশেষ করে মুসলিম সম্প্রদায়ের একটি অংশ মনে করছে, অভিন্ন দেওয়ানি বিধি তাদের ধর্মীয় ও ব্যক্তিগত আইন পালনের অধিকার সীমিত করতে পারে। অন্যদিকে ইউসিসির সমর্থকদের দাবি, এই আইন বহুবিবাহের সুযোগ বন্ধ করবে, নারী-পুরুষের মধ্যে সম্পত্তির অধিকারে সমতা নিশ্চিত করবে এবং বিবাহবিচ্ছেদের ক্ষেত্রে নারীদের আইনি সুরক্ষা আরও শক্তিশালী করবে। বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল দেশ ভারতে প্রায় ২২ কোটি মুসলিমের বসবাস। জনসংখ্যার দিক থেকে দেশটি বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম মুসলিম জনগোষ্ঠীর আবাসস্থল। ফলে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি বাস্তবায়নের উদ্যোগ দেশটির সামাজিক ও রাজনৈতিক অঙ্গনে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে। মিডল ইস্ট আই।

লিথুয়ানিয়ার আকাশসীমায় ড্রোন ভূপাতিত করলো ন্যাটো
লিথুয়ানিয়ার আকাশসীমায় প্রবেশ করা একটি ড্রোন ন্যাটোর যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করেছে। গত ১৫ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার দেশটির প্রেসিডেন্ট গিতানাস নৌসেদা এ তথ্য নিশ্চিত করেন। ঘটনাটি রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের মধ্যে ন্যাটোর পূর্বাঞ্চলীয় সীমান্তে নতুন করে নিরাপত্তা উদ্বেগ তৈরি করেছে। লিথুয়ানিয়ার জাতীয় সংকট ব্যবস্থাপনা কেন্দ্র জানায়, মঙ্গলবার মধ্যরাতের পর ড্রোনটি দেশটির আকাশসীমায় প্রবেশ করে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, এটি প্রতিবেশী বেলারুশের দিক থেকে এসেছে। তবে ড্রোনটির প্রকৃত উৎস এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। পরে ন্যাটোর যুদ্ধবিমান ড্রোনটি ভূপাতিত করে। ঘটনার পর রাজধানী ভিলনিয়াস ও আশপাশের কয়েকটি এলাকায় সম্ভাব্য বিমান হামলার সতর্কতা জারি করা হয়। ন্যাটোর বাল্টিক আকাশ প্রতিরক্ষা মিশনে নিয়োজিত যুদ্ধবিমানগুলো দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে ড্রোনটি শনাক্ত করে ধ্বংস করে। এ মিশনে ইতালির বিমানবাহিনীর যুদ্ধবিমানও দায়িত্ব পালন করছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে প্রেসিডেন্ট নৌসেদা বলেন, লিথুয়ানিয়ার আকাশসীমায় প্রবেশ করা ড্রোনটি ন্যাটোর যুদ্ধবিমান ধ্বংস করেছে। তিনি ন্যাটোর সদস্য দেশগুলোর সামরিক সদস্যদের দ্রুত সাড়ার জন্য ধন্যবাদ জানান। নৌসেদা আরও বলেন, ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসন তীব্র হওয়ার প্রেক্ষাপটে এ অঞ্চলের নিরাপত্তার জন্য দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানানোর সক্ষমতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ন্যাটোর মিত্রদের সঙ্গে নিয়ে লিথুয়ানিয়া নিজেদের আকাশসীমা রক্ষা করবে বলেও জানান তিনি। লিথুয়ানিয়া রাশিয়ার কালিনিনগ্রাদ অঞ্চল ও রাশিয়ার ঘনিষ্ঠ মিত্র বেলারুশের সীমান্তবর্তী একটি ন্যাটো সদস্যদেশ। ২০২২ সালে রাশিয়া ইউক্রেনে পূর্ণমাত্রার হামলা শুরুর পর থেকে বাল্টিক অঞ্চলের দেশগুলো নিজেদের আকাশসীমা নিয়ে বাড়তি সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। এর আগে রোববারও লিথুয়ানিয়ার আকাশসীমায় ড্রোন দেখা যাওয়ার সন্দেহে ন্যাটোর যুদ্ধবিমান আকাশে উড়েছিল। পরে সেটি ড্রোন নয়, পাখির ঝাঁক বলে শনাক্ত হয় এবং সতর্কতা তুলে নেওয়া হয়। এদিকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাব ন্যাটোর সদস্য দেশগুলোর আকাশসীমায় ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। এর আগে এস্তোনিয়া ও লাটভিয়ায়ও পথভ্রষ্ট ড্রোনের ঘটনায় ন্যাটোর যুদ্ধবিমান সক্রিয় হয়েছিল। তবে লিথুয়ানিয়ার এবারের ড্রোনটির উৎস বা এটি কারা পরিচালনা করেছিল, তা এখনো নিশ্চিত হয়নি। রয়টার্স।

যুক্তরাষ্ট্রে ডিজেলের দাম ইতিহাসে সর্বোচ্চ
যুক্তরাষ্ট্রে ডিজেলের দাম ইতিহাসের সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। আমেরিকান অটোমোবাইল অ্যাসোসিয়েশনের তথ্যানুযায়ী, গত ১৪ সেপ্টেম্বর (সোমবার) দেশটিতে প্রতি গ্যালন ডিজেলের গড় দাম বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬ দশমিক ২৩ ডলারে। এত উচ্চ মূল্য আগে কখনো দেখা যায়নি। সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইন বন্ধ ঘোষণা এবং হরমুজ প্রণালি নিয়ে আন্তর্জাতিক আলোচনা স্থগিত হওয়ার পর আজ বিশ্ববাজারে তেলের দামে বড় উল্লম্ফন ঘটেছে। ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি সর্বোচ্চ ১০৮ ডলার পর্যন্ত উঠেছে। মার্কিন অপরিশোধিত তেলও ১০৩ ডলার স্পর্শ করেছে। সম্প্রতি সৌদির এই পাইপলাইনে হামলার পরই মূল্যবৃদ্ধির এ ধাক্কা। ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতের কারণে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল প্রায় বন্ধের উপক্রম। এ অবস্থায় বিকল্প রপ্তানি পথ হিসেবে পাইপলাইনটির গুরুত্ব অনেক বেড়ে গিয়েছিল। সৌদি জ্বালানি মন্ত্রণালয় গত ১১ সেপ্টেম্বর (শুক্রবার) জানিয়েছে, সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসেবে পাইপলাইনটির কার্যক্রম স্থগিত রাখা হয়েছে। কবে আবার চালু হবে, সে বিষয়ে কোনো স্পষ্ট তথ্য দেওয়া হয়নি। একই সময়ে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা বাব আল-মান্দেব প্রণালির ওপর নিয়ন্ত্রণ আরও শক্তিশালী করেছে। এতে বিশ্ব বাণিজ্যের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ জলপথও ঝুঁকির মুখে পড়েছে। হরমুজ প্রণালি নিয়ে ইরান ও উপসাগরীয় দেশগুলোর মধ্যে নির্ধারিত বৈঠক রবিবার বিকেলে স্থগিত করা হয়। ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানিয়েছেন, সর্বসম্মত সিদ্ধান্তের স্বার্থে বৈঠকটি পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে। তেহরান অবশ্য দাবি করেছে, রিয়াদের অনুরোধেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মেরিন ট্রাফিকের তথ্য বলছে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল এখন খুবই কম। গত ১৩ সেপ্টেম্বর রোববার মাত্র ১৪টি, শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) ১২টি, শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) ১১টি এবং বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) মাত্র ৯টি জাহাজ প্রণালিটি অতিক্রম করেছে। তেলের দাম বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে খুচরা জ্বালানির দামও লাফিয়ে বাড়ছে। সাধারণ পেট্রোলের গড় দাম সোমবার ৪ দশমিক ৩১ ডলারে উঠেছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত সাধারণ জ্বালানির দাম ৪৫ শতাংশের বেশি বেড়েছে। অপরিশোধিত তেলের দাম বেড়েছে ৫০ শতাংশেরও বেশি। সবচেয়ে বড় উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে ডিজেল। ট্রাক, জাহাজ ও রেলপথে পণ্য পরিবহনে ডিজেলের ব্যবহার বেশি। অর্থনীতিবিদরা বলছেন, ডিজেলের এমন রেকর্ড মূল্যবৃদ্ধি শেষ পর্যন্ত প্রায় সব ধরনের পণ্যের দাম বাড়িয়ে দিতে পারে। কেপিএমজির প্রধান অর্থনীতিবিদ ডায়ান সোয়াঙ্ক সম্প্রতি এক সংবাদ মাধ্যমকে বলেছেন, ডিজেলের বাড়তি খরচ বাজারের প্রায় সব পণ্য ও সেবার ওপর প্রভাব ফেলবে। এনবিসি।

তেল পরিশোধনের নতুন প্রযুক্তি আবিষ্কার চীনের
বিশ্বজুড়ে পেট্রোকেমিক্যাল শিল্পে জ্বালানি অপচয় ও কার্বন নির্গমন কমাতে এক যুগান্তকারী সাফল্য অর্জন করেছেন চীনের বিজ্ঞানীরা। তারা অশোধিত খনিজ তেল (ঈৎঁফব ঙরষ) পরিশোধনের একটি নতুন পদ্ধতি উদ্ভাবন করেছেন, যা প্রচলিত ডিসটিলেশন বা পাতন প্রক্রিয়ার তুলনায় প্রায় ৯০ থেকে ৯১ শতাংশ পর্যন্ত শক্তি বাঁচাবে। চীনের ডালিয়ান ইনস্টিটিউট অব কেমিক্যাল ফিজিক্স (ডিআইসিপি)-এর গবেষক দল এই নতুন প্রযুক্তির বিকাশ ঘটিয়েছেন। আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান সাময়িকী ন্যাশনাল সাইন্স রিভিউ-তে তাদের এই সংক্রান্ত গবেষণা প্রতিবেদনটি প্রকাশিত হয়েছে। সাধারণত অপরিশোধিত তেল থেকে পেট্রোল, ডিজেল, প্লাস্টিক বা কেমিক্যাল তৈরির জন্য দফায় দফায় উচ্চ তাপমাত্রায় উত্তপ্ত ও ঘনীভূত করা হয়। এই ‘ডিসটিলেশন’ প্রক্রিয়ায় প্রচুর জ্বালানি খরচ হয়। চীনা বিজ্ঞানীরা তাপভিত্তিক পদ্ধতির পরিবর্তে ‘মলিকুলার রিফাইনিং’ বা আণবিক স্তরে কার্যকর ছাঁকন পদ্ধতি ব্যবহার করেছেন। এর প্রথম ধাপ মেটাল-অর্গানিক ফ্রেমওয়ার্ক (এমওএফ) মেমব্রেন, যেখানে বিশেষ ধরনের মেটাল-অর্গানিক ফিল্টার ব্যবহার করে অণুর আকার ও উপাদানের ওপর ভিত্তি করে উপাদান আলাদা করা হয়। দ্বিতীয় ধাপ ক্যাসকেড মেমব্রেন সেপারেশন। এখানে প্রথমে দশমিক এক নানামিটারের পার্থক্যে বড় অণুগুলো পৃথক করা হয়। এরপের দশমিক শূন্য এক নানামিটারের সূক্ষ্ম পার্থক্যে প্লাস্টিক, রজন বা ফাইবারের কাঁচামাল এবং গ্যাসোলিনের উপাদান আলাদা করে নেওয়া সম্ভব হয়। ছাঁকন প্রক্রিয়ায় মেমব্রেনের ছিদ্রগুলো নিখুঁত রাখতে ট্যানিক এসিড দিয়ে অতিসূক্ষ্ম খোদাই করা হয়েছে। পরীক্ষাগারে ১৫টি উপাদানের মিশ্রণ ব্যবহার করে চালানো পরীক্ষায় ৮৫ থেকে ৯০ শতাংশ পর্যন্ত বিশুদ্ধ উপাদান পুনরুদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। যদি শিল্প কারখানায় বৃহৎ পরিসরে এই প্রযুক্তি চালু করা যায়, তবে তা বিশ্বজুড়ে পেট্রোকেমিক্যাল কারখানার পরিচালন ব্যয় বহুলাংশে কমিয়ে আনবে এবং ক্ষতিকর গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমন উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস করবে। এসসিএমপি।

কলকাতায় ধর্মীয় বিদ্বেষের শিকার মুসলিম নারী উপাধ্যক্ষ, বাধ্য হলেন ইস্তফা দিতে
কলকাতার সুরেন্দ্রনাথ ল’ কলেজে দীর্ঘ ২৩ ঘণ্টা আটকে রেখে চরম অমানবিক নির্যাতন ও ধর্মীয় বিদ্বেষের শিকার হলেন উপাধ্যক্ষ ড. মহম্মদী তরন্নুম। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) ও বার কাউন্সিলের নিয়ম মেনে কলেজে ৭৫ শতাংশ হাজিরার কড়াকড়ি করতেই অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদের (এবিভিপি) বিক্ষোভের মুখে পড়েন তিনি। তাকে ইস্তফা দিতে বাধ্য করার পর এই ছাত্র সংগঠনের সমর্থকেরা এক ন্যক্কারজনক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন। একজন মুসলিম নারী উপাধ্যক্ষের পদত্যাগের পরক্ষণেই তার কক্ষে গঙ্গার পানি ছিটিয়ে এবং ধূপকাঠি জ্বালিয়ে ‘শুদ্ধিকরণ’ করা হয়। যা এই ঘটনার গভীরে থাকা ভয়াবহ ইসলামোফোবিয়া বা সংখ্যালঘু-বিদ্বেষকেই নগ্নভাবে প্রকাশ করেছে। এমনিতেই পশ্চিমবঙ্গের কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চপদে সংখ্যালঘু শিক্ষকদের উপস্থিতি অত্যন্ত বিরল। সহকর্মীদের মতে, অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করা এই মুসলিম শিক্ষিকাকে কার্যত পরিকল্পিতভাবেই সরিয়ে দেওয়া হলো। এই হেনস্তার নেপথ্যে কেবল ছাত্রদের ক্ষোভ নয়, জড়িয়ে রয়েছে গভীর রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র। দ্বিতীয়, চতুর্থ, ষষ্ঠ ও অষ্টম সেমিস্টারের পরীক্ষার ফর্ম পূরণের শেষ দিনে উপস্থিতির হার নিয়ে এই বিক্ষোভ শুরু হয়। কিন্তু উপাধ্যক্ষের ঘনিষ্ঠ সূত্রের খবর, এই ঘটনার শিকড় আরও গভীরে। অতীতে তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা দেবাশিস ব্যানার্জি যেমন অকারণে কলেজের কাজে হস্তক্ষেপ করতেন, বর্তমানে সেই জায়গা নিয়েছেন বিজেপি নেতা সজল ঘোষ। কিছুদিন আগে কলেজের একটি তালাবদ্ধ ঘর থেকে তলোয়ার ও টাকার বান্ডিল উদ্ধারের রহস্যময় ঘটনা ঘটেছিল। অভিযোগ, সেই সময় সজল ঘোষ উপাধ্যক্ষকে একটি কাগজে জোর করে সই করতে বলেন। তিনি রাজি না হওয়ায় সজল ঘোষ হুমকি দিয়ে বলেছিলেন, ‘আপনি এই কলেজে কী করে থাকেন, আমি দেখব।’ উপস্থিতি নিয়ে এই বর্তমান বিক্ষোভ সেই রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত চক্রান্তেরই চূড়ান্ত রূপ। ঘেরাও চলাকালীন ড. তরন্নুমের ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের মাত্রা ছিল চরম। তাকে একটি অন্ধকার ঘরে আটকে রেখে আলো ও পাখা বন্ধ করে দেওয়া হয়। টানা ২৩ ঘণ্টা তাকে একফোঁটা জল বা খাবার দেওয়া হয়নি। এই চরম বিপদের মুখে দাঁড়িয়ে তিনি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী, উচ্চশিক্ষামন্ত্রী এবং কলেজের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি তথা বিজেপি বিধায়ক কৌস্তভ বাগচীকে বিষয়টি জানিয়ে উদ্ধারের আবেদন করেছিলেন। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয়, কেউই তাকে সাহায্যে এগিয়ে আসেননি। কৌস্তভ বাগচী উপস্থিতির নিয়মের যৌক্তিকতা মানলেও উল্টো উপাধ্যক্ষের বিরুদ্ধেই অসহযোগিতার অভিযোগ তোলেন। শেষ পর্যন্ত কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দেওয়া সত্ত্বেও, প্রবল চাপের মুখে পুলিশি নিরাপত্তায় তাকে ইস্তফা দিয়ে বের হতে বাধ্য করা হয়। ক্যাম্পাস ছাড়ার সময় তিনি বারবার চিৎকার করে বলতে থাকেন যে তিনি নিজে ইস্তফা দেননি, তাকে বাধ্য করা হয়েছে। ধর্মান্ধতা এবং নোংরা রাজনীতির জাঁতাকলে এভাবেই একজন সৎ সংখ্যালঘু শিক্ষিকার কণ্ঠরোধ করা হলো। সিয়াসত ডেইলি।

গ্রন্থনা ও সম্পাদনা : আবদুল কাইউম খান