ইউনিয়ন পরিষদসমূহে দলীয় প্রশাসক নিয়োগ অব্যাহত রাখায় জামায়াতের নিন্দা


৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১২:২৯

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী

স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে সরকারের গভীর ষড়যন্ত্র ও নির্বাচনকে প্রলম্বিত করার হীন উদ্দেশে ইউনিয়ন পরিষদে প্রশাসক নিয়োগ অব্যাহত রাখার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।

বৃহস্পতিবার ৩ সেপ্টেম্বর দলটির সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি মিয়া গোলাম পরওয়ার এক বিবৃতিতে এ উদ্বেগ প্রকাশ করেন এবং নিন্দা জানান।বিবৃতিতে তিনি বলেন, চব্বিশের জুলাই বিপ্লবের পর ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ ও গণভোটের নির্বাচনের মধ্যদিয়ে দেশ গণতান্ত্রিক পথে ফিরে আসে। জনগণের আকাঙ্ক্ষা হলো স্থানীয় সরকার ব্যবস্থায়ও দ্রুত নির্বাচিত প্রতিনিধিরা দায়িত্ব পালন করবেন এবং জনগণের সেবা দোরগোড়ায় পৌঁছে যাবে। কিন্তু বিএনপি সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর গণভোটের গণরায়কে উপেক্ষা করার পর স্থানীয় সরকার ব্যবস্থায় কর্তৃত্ববাদী হয়ে ওঠার হীন আকাঙ্ক্ষা নিয়ে স্থানীয় নির্বাচনকে প্রলম্বিত করার উদ্দেশে সিটি করপোরেশন, পৌরসভা, উপজেলা পরিষদের পর ইউনিয়ন পরিষদে প্রশাসক নিয়োগ অব্যাহত রেখেছে, যা জাতির জন্য চরম উদ্বেগের। আমি সরকারের এহেন হীন সিদ্ধান্তের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।

গোলাম পরওয়ার বলেন, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, দেশের সাড়ে ৪ হাজারের অধিক ইউনিয়ন পরিষদের মধ্যে বর্তমানে নির্বাচনযোগ্য ইউনিয়নের সংখ্যা প্রায় ৩১১টি। অথচ সরকার নির্বাচন আয়োজনের দিকে অগ্রসর না হয়ে এখনো দলীয় প্রশাসক নিয়োগ দিয়ে যাচ্ছে, যা জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার ও ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত করার নীলনকশা। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, গত দুই মাসে ৭টি নবগঠিত ইউনিয়নসহ অন্তত ৩৮টি ইউনিয়ন পরিষদে প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রশাসক বসানো ১৯টি ইউনিয়ন বরিশাল জেলার। আশ্চর্যজনক হলো নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ ইউনিয়নে ১২ জন বিএনপি নেতা-নেত্রীকে পরিষদের সদস্য হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে স্থানীয় সরকার বিভাগ। এটি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার পথকে দীর্ঘমেয়াদে রুদ্ধ করার ষড়যন্ত্রের অংশ।

তিনি আরও বলেন, ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন নিয়ে সরকার গভীর ষড়যন্ত্র করছে বলে তাদের কর্মকাণ্ডে প্রমাণিত হচ্ছে। কারণ স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম চলতি বছরের মধ্যে দেশে স্থানীয় সরকারের পাঁচটি স্তরে নির্বাচন করার কথা জানালেও বছরের চারমাস বাকী থাকতে ইউনিয়ন পরিষদগুলোয় এখনো প্রশাসক বসানো অব্যাহত রেখেছে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়। এটি জাতির সাথে স্পষ্ট প্রতারণা এবং দলীয় নেতাকর্মীদের লুটপাটের সুযোগ করে দেয়ার নামান্তর এবং আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অবৈধ সুবিধা গ্রহণের পথ তৈরির হীন কৌশল।

গোলাম পরওয়ার বলেন, স্থানীয় সরকার ব্যবস্থায় নির্বাচন প্রলম্বিত করার সরকারের হীন উদ্দেশ্য থেকে সরে এসে জনগণের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠায় দ্রুত স্থানীয় সরকারের সকল স্তর থেকে দলীয় প্রশাসক প্রত্যাহার করতে হবে। একই সাথে নিয়োগকৃত প্রশাসকদের নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণা করতে হবে।