ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে দীর্ঘ যানজটে দুর্ভোগ-ভোগান্তি
৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১০:১৮
স্টাফ রিপোর্টার : সাধারণত ঈদ বা অন্য কোনো উৎসবে লাখ লাখ মানুষ একসঙ্গে ঢাকা ছাড়লে মহাসড়কগুলোয় দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হয়। কিন্তু এখন যানজট সৃষ্টির জন্য ঈদ বা অন্য কোনো উৎসবের দরকার হয় না। স্বাভাবিক অবস্থায়ই মহাসড়কে দীর্ঘ যানজট দেখা দেয়। সন্ধ্যার পর যেকোনোদিনই ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে যানজট থাকে। বিশেষ করে রাত যত বাড়ে, ঢাকা প্রবেশের সময় ততই বাড়ে। গুলিস্তান থেকে চিটাগাং রোড পর্যন্ত যানজট নিত্যদিনের। কোনো কোনো সময় এই যানজট দাউদকান্দি পর্যন্ত পৌঁছায়। আর সড়কে অন্য কোনো সমস্যা দেখা দিলে তো আর যানজটের অন্ত নেই।
যানজটে কী পরিমাণ ভোগান্তি, তা ভুক্তভোগীরাই ভালো জানেন। শুধু দূরপাল্লার বাস নয়, আটকা পড়ে পণ্যবাহী ট্রাক, কাভার্ডভ্যান, ব্যক্তিগত গাড়ি ও অ্যাম্বুলেন্স। দীর্ঘসময় গাড়ি না চলায় চালক ও যাত্রীরা ক্লান্ত হয়ে পড়েন। অনেককে গাড়ির ভেতর রাত কাটাতে হয়েছে। কোথাও কোথাও কয়েক ঘণ্টা পরও গাড়ি সামান্য দূরত্ব অতিক্রম করতে পারে না। গত ২৮ আগস্ট থেকে যাত্রীদের দুর্ভোগও ছিল তীব্র। কারো ছিল বিমান ধরার তাড়া, কারো ছিল চিকিৎসার প্রয়োজন, আবার কেউ কর্মস্থল বা বাড়িতে ফেরার পথে আটকে পড়েন। একজন যাত্রী জানান, ২৯ আগস্ট শনিবার দুপুরে তার ভাতিজার ফ্লাইট থাকায় শুক্রবার রাতে ঢাকার উদ্দেশে রওনা দিয়েছিলেন। কিন্তু দাউদকান্দিতে যানজটে দীর্ঘ সময় আটকে পড়েন তারা। এমন শতসহস্র মানুষ ভোগান্তিতে পড়েন যানজট হওয়ার কারণে।
খবর নিয়ে জানা গেছে, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ের আষাঢ়িয়ারচর এলাকায় একটি সেতুর ঢাকামুখী লেন সংস্কারের জেরে গত ২৮ আগস্ট যে যানজটের শুরু হয়েছিল, তা অল্প সময়ের মধ্যেই ভয়াবহ রূপ নেয়। একপর্যায়ে নারায়ণগঞ্জের আষাঢ়িয়ারচর থেকে কুমিল্লার ইলিয়টগঞ্জ পর্যন্ত প্রায় ৪০ কিলোমিটার এলাকায় গাড়ির দীর্ঘ সারি তৈরি হয়। কোথাও কোথাও যানজটের বিস্তৃতি আরও বেশি ছিল। গত ২৮ আগস্ট শুক্রবার সকাল থেকে শুরু হওয়া এই দুর্ভোগ রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তীব্র হয়। গত ২৯ আগস্ট শনিবার সকালেও মহাসড়কের বিভিন্ন অংশে যানবাহন প্রায় স্থবির ছিল। সংস্কার করা লেনটি শনিবার সকাল ৯টার দিকে খুলে দেওয়ার পর পরিস্থিতির উন্নতি শুরু হলেও দীর্ঘসময় আটকে থাকা বিপুলসংখ্যক গাড়ির চাপ সামলাতে আরও কয়েক ঘণ্টা সময় লাগে। প্রায় ২৪ থেকে ৩১ ঘণ্টা পর্যন্ত মহাসড়কের বিভিন্ন অংশে যানবাহন চলাচলে অস্বাভাবিক ধীরগতি ছিল।
এ যানজটে হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটে একটি অ্যাম্বুলেন্সে। হৃদরোগে আক্রান্ত আমিরুন্নেছা নামে এক নারীকে লক্ষ্মীপুর থেকে ঢাকায় নেওয়ার পথে দাউদকান্দিতে প্রায় চার ঘণ্টা যানজটে আটকে পড়ে অ্যাম্বুলেন্সটি। গত ২৮ আগস্ট শুক্রবার দিবাগত রাত সাড়ে ৩টার দিকে সেখানেই তার মৃত্যু হয়। স্বজনদের ভাষ্য অনুযায়ী, রাত ৮টার দিকে তাকে নিয়ে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হয়েছিল অ্যাম্বুলেন্সটি। যানজটে আটকা পড়ার কারণে তার আর চিকিৎসা করা হয়নি।
সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের কর্মকর্তাদের তথ্যানুযায়ী, সাম্প্রতিক টানা বৃষ্টিতে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের বিভিন্ন অংশে ছোট-বড় গর্ত তৈরি হয়। এর মধ্যে আষাঢ়িয়ারচর সেতুর ঢাকামুখী লেনে প্রায় পাঁচ মিটারজুড়ে বড় একটি গর্ত তৈরি হলে যান চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে। ঝুঁকি এড়াতে জরুরি ভিত্তিতে গর্তটি মাইক্রো কংক্রিট দিয়ে সংস্কারের উদ্যোগ নেয় সওজ। গত ২৮ আগস্ট শুক্রবার সকালে সংস্কারকাজ শুরু হয়। ঢালাই শক্ত হয়ে যান চলাচলের উপযোগী হতে সময় প্রয়োজন হওয়ায় একটি লেন বন্ধ রেখে অপর লেন দিয়ে যানবাহন চালানোর ব্যবস্থা করা হয়।
দীর্ঘ যানজটে শুক্রবার বিকেলের পর পরিস্থিতি দ্রুত অবনতির দিকে যায়। রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আষাঢ়িয়ারচর, ভবেরচর, ভাটেরচর, দাউদকান্দিসহ বিভিন্ন এলাকায় যানবাহন দীর্ঘসময় একই জায়গায় দাঁড়িয়ে থাকে। পরে সেই চাপ ছড়িয়ে পড়ে মেঘনা, গজারিয়া, দাউদকান্দি হয়ে কুমিল্লার দিকে। কুমিল্লার ইলিয়টগঞ্জ পর্যন্ত যানজট ছড়িয়ে পড়ার তথ্যও পাওয়া যায়।
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক দেশের প্রধান বাণিজ্যিক সড়ক। প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক যাত্রীবাহী ও পণ্যবাহী যান এই পথ ব্যবহার করে। ফলে একটি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে চলাচলের সক্ষমতা কমে গেলে তার প্রভাব খুব দ্রুত কয়েক কিলোমিটার দূরে ছড়িয়ে পড়ে।