রাসূল সা.-এর কল্যাণময় ব্যবসায় নীতি
৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১০:০৪
॥ প্রফেসর ড. মুহাম্মদ আবু হানিফ খান ॥
প্রিয়নবী হজরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কিশোর বয়সেই ব্যবসায় কাজে যুক্ত হয়েছিলেন; তিনি ব্যবসায়ীদের জন্যও অনুপম আদর্শ। চাচা আবু তালিবের সাথে কিশোর বয়সেই শাম দেশে বাণিজ্যে গিয়েছেন; খাদিজা রা.-এর ব্যবসা পরিচালনার দায়িত্বও সফলভাবে পালন করেছেন। তিনি ব্যবসায়ীদের জন্য উঁচু মর্যাদার ঘোষণা করেছেন। আবু সাঈদ খুদরী রা. বর্ণনা করেছেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘সত্যবাদী ও বিশ্বস্ত ব্যবসায়ী (কিয়ামতের দিন) নবীগণ, সিদ্দিকগণ এবং শহীদগণের সঙ্গী হবেন।’ (সুনানে তিরমিযী, হাদিস : ১২০৯)। পরিশ্রম করে উপার্জিত খাবার খেতে তিনি বেশ পছন্দ করতেন। তিনি মনে করতেন নিজ হাতে উপার্জিত খাবার বা হালাল পরিশ্রমের খাবারই সবচেয়ে উত্তম ও বরকতময়। এ প্রসঙ্গে হজরত মিকদাম ইবনে মা’দীকারিব রা. বর্ণনা করেছেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘কেউ কখনো নিজের হাতের উপার্জনের চেয়ে উত্তম খাবার খায়নি। আর আল্লাহর নবী দাউদ আ. নিজ হাতের উপার্জন থেকেই খেতেন। (সহীহ বুখারী : ২০৭২)। আবু হুরাইরাহ রা. থেকে বর্ণিত, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘তোমাদের মধ্যে কেউ রশি নিয়ে কাঠ সংগ্রহ করে পিঠে করে বয়ে আনলে তা কোনো লোকের কাছে ভিক্ষা করার চেয়ে অনেক ভালো; যদিও সে দিলেও বা না দিলেও।’ (বুখারী ২০৭৪, ২৩৭৪, মুসলিম ২৪৪৯)।
ত্রুটি দৃশ্যমান রাখতে হবে : বিখ্যাত সাহাবী হজরত আবু হুরাইরা রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেছেন, ‘একদিন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বাজারে গিয়ে একজন খাদ্য বিক্রেতার পাশ দিয়ে অতিক্রম করছিলেন, তখন তিনি খাদ্যের ভেতরে হাত প্রবেশ করে দেখলেন ভেতরের খাদ্যগুলো ভেজা ও নিম্নমানের। এ অবস্থা দেখে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, হে খাবার পণ্যের মালিক এটা কী? লোকটি বলল, হে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, এতে বৃষ্টি পড়েছিল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, তুমি সেটাকে খাবারের ওপরে রাখলে না কেনো; যাতে লোকেরা দেখতে পায়। যে ধোঁকা দেয় সে আমার উম্মত নয়।’ (মুসলিম : ১০২)। ব্যবসায় ধোঁকা, প্রতারণা ও ফাঁকিবাজি করাকে ইসলাম সম্পূর্ণভাবে হারাম করেছে। এমন কাজ ইসলামে মানবাধিকার লঙ্ঘন হিসেবেও চিহ্নিত। মন্দ জিনিসকে ভালো বলে চালিয়ে দেওয়া, ভালোর সঙ্গে মন্দের মিশ্রণ ঘটিয়ে ধোঁকা দেওয়া সম্পূর্ণ হারাম। এ ধরনের নীতিহীন কাজ বিক্রেতা ও ক্রেতা উভয়ের জন্যই ক্ষতিকর। ব্যবসায়িক কাজে ক্ষতি হতে সতর্ক থাকতে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নির্দেশ দিয়ে বলেছেন, ‘নিজে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া এবং অন্যের ক্ষতি করা কোনোটিই উচিত নয়।’ (ইবনে মাজাহ : ২৩৪১)।
ব্যবসায় হবে সততার ভিত্তিতে : মুমিন ব্যক্তিকে সততার ভিত্তিতে ব্যবসা-বাণিজ্য পরিচালনা করতে হবে। কারণ মিথ্যা সকলের পাপের মূল। মিথ্যা অবশ্যই বড় ধরনের নিন্দনীয় অপরাধ। ব্যবসার মতো পবিত্রতম কাজে মিথ্যা কোনোভাবেই শোভনীয় নয় বরং ব্যবসায় মিথ্যার সংমিশ্রণ ব্যবসার জন্য অধিকতর বিপজ্জনক ও মারাত্মক ক্ষতিকর। পবিত্র কুরআন মাজীদে ঘোষিত হয়েছে- ‘তোমরা সত্যের সঙ্গে অসত্যের মিশ্রণ ঘটাবে না। জেনেশুনে সত্য গোপন করো না।’ (সূরা আল-বাকারা : ৪২)। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে যখন জিজ্ঞেস করা হলো, ‘একজন মুমিন দুর্বল হওয়া কি স্বাভাবিক? তিনি বললেন, হ্যাঁ, হতে পারে। আবারও জিজ্ঞেস করা হলো, মুমিন কি কৃপণ হতে পারে? বললেন, হ্যাঁ। তারপর জিজ্ঞেস করা হলো, একজন মুমিন মিথ্যুক হতে পারে? বললেন, ‘না’। (বায়হাকী শু‘আবুল ঈমান : ৪৮১২)। ‘এক ব্যক্তি আসরের পর তার পণ্য সম্পর্কে কসম খেয়ে বলে, তাকে পণ্যটি এত এত মূল্যে দেওয়া হয়েছে। তার কথা ক্রেতা বিশ্বাস করল, অথচ সে মিথ্যুক।’ (আবু দাউদ : ৩৪৭৪; নাসায়ী : ৪৪৬২)। ‘কিয়ামতের দিনে আল্লাহ তিন ব্যক্তির সাথে কোনো ধরনের কথা বলবেন না, তাদের প্রতি তাকাবেন না, তাদের পবিত্র করবেন না এবং তাদের জন্য রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি। তাদের একজন- যে তার ব্যবসায়িক পণ্যকে মিথ্যা কসম খেয়ে বিক্রি করে।’ (মুসলিম : ১০৬)।
ভেজাল মেশানো যাবে না : পণ্যে ভেজাল মেশানো, ওজনে বা মাপে কম দেওয়া, মানে ও সংখ্যায় কম দেওয়া, চুক্তি রক্ষা না করা এসবের মাধ্যমে নীতিহীন বিক্রেতা আপতদৃষ্টিতে লাভবান হচ্ছে- এমন অদূরদর্শী ভাবনা লালন করলেও প্রকৃতভাবে এতে ক্রেতার চেয়ে বিক্রেতাই বেশি ক্ষতির ভাগীদার হচ্ছেন। ক্রেতা সাময়িকভাবে ঠকলেও বিক্রেতা উভয় জাহানেই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন, যা কোনোভাবেই পোষানো সম্ভব নয়। বিচার দিবসে যখন দিনার, দিরহাম কোনো কাজে আসবে না। তখন ক্রেতাকে তার প্রাপ্য বুঝিয়ে দিতে নিজ নেক আমল দেওয়া ছাড়া বিক্রেতার আর কিছুই অবশিষ্ট থাকবে না।
ঠকালে নিজের ধ্বংস নিশ্চিত : ব্যবসায় অন্যকে কম দেওয়া বা ঠকানোর অর্থ নিজের ধ্বংস নিশ্চিত করা। ‘ধ্বংস যারা পরিমাপে কম দেয় তাদের জন্য। যারা লোকদের কাছ থেকে মেপে নেওয়ার সময় পূর্ণমাত্রায় গ্রহণ করে। আর যখন তাদের মেপে দেয় অথবা ওজন করে দেয় তখন কম দেয়।’ (সূরা আল-মুতাফফিফীন : ১-৩)।
সফলতার চার চাবিকাঠি : ব্যবসা পরিচালনার জন্য চারটি গুণ অর্জন করা প্রত্যেক ব্যবসায়ীর সফলতার চাবিকাঠি। ‘চারটি গুণ যখন তোমার মধ্যে থাকবে, তখন দুনিয়াদারি সব খোঁয়া গেলেও তোমার কোনো ক্ষতি করতে পারবে না। (১) আমানত সংরক্ষণ, (২) কথায় সততা, (৩) উত্তম চরিত্র, (৪) হালাল খাদ্য’ (মুসনাদে আহমাদ : ৬৬৫২)। এ চারটি গুণ কোনো ব্যবসায়ীর মধ্যে বিদ্যমান থাকলে, অবশ্যই তার ব্যবসার উন্নতি হবে, আল্লাহ তায়ালা তার ব্যবসা বাণিজ্যে বরকত দেবেন এবং এ ধরনের ব্যবসায়ী মানুষের নিকট প্রিয় ও গ্রহণযোগ্য হবে। আখিরাতে তিনি সম্মানিত হবেন এবং দুনিয়াতেও তার সম্মান-মর্যাদা রাড়তে থাকবে।
রাতে নয়; দিনে ব্যবসা করুন : ব্যবসায় বরকত লাভ করতে চাইলে ইসলাম নির্ধারিত যথাযথ সময়ে ব্যবসায়িক কাজ চালাতে হবে। আল্লাহ রাব্বুল আলামিন আমাদের জন্য রাতকে দিয়েছেন বিশ্রাম তথা ঘুমানের জন্য ও শেষ রাতে ইবাদতের জন্য। আমদের দেশে বহু বিপনিবিতান দিনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময়ে বন্ধ রেখে সকাল দশটার পরে দোকানপাট খুলতে শুরু করেন এবং গভীর রাত পর্যন্ত খোলা রাখেন, যা ব্যবসায় বরকত লাভের জন্য উপযুক্ত সময় নয়। এমনকি সমাজ, রাষ্ট্র ও পরিবারের জন্যও এমন সময় ব্যবসা পরিচালনা কল্যাণকর নয়। এমন ব্যবসায়িক রুটিনের জন্য ব্যবসায়ীগণ পারিবারিক ও সামাজিক প্রয়োজন পূরণ করার সুযোগ বঞ্চিত হন এবং হক আদায় করতে পারেন না। একদিন একজন সাহাবী রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নিকট এসে বললেন, তার ব্যবসায় বরকত লাভ করতে পারছেন না। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেন, তুমি ফজর সালাতের পরে সোজা তোমার দোকানে যাবে এবং ব্যবসায়িক কাজ শুরু করবে। পরদিন থেকে সাহাবী তাই করলেন। এক মাস পরে এসে রাসূল সা.-কে জানালেন, তার ব্যবসায় প্রভুত উন্নতি হয়েছে। পশু-পাখি, হাস-মুরগি যেভাবে সূর্য ওঠার সাথে সাথে রিজকের (খাবারের) সন্ধানে বেরিয়ে পড়ে এবং সূর্য ডোবার আগেই ঘরে ফেরে। ব্যবসায়িক কাজেও এমন সময় ব্যবস্থাপনা করতে পারলে শুধু ব্যবসায়ই নয়; পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের প্রভূত কল্যাণ অর্জন করা সহজ হবে।
ঈমান রক্ষার উপায় : ঈমানদার ও মানবিক ব্যবসায়ীকে মনে রাখতে হবে ‘তুমি ততক্ষণ পর্যন্ত ঈমানদার হতে পারবে না, যতক্ষণ পর্যন্ত তোমার নিজের জন্য যা ভালোবাসো তা অন্যের জন্যও ভালোবাসতে না পারবে।’ (সহীহ বুখারী: ১৩)। ঈমান ও ইহতেসাবের সাথে ব্যবসা করলে তার পরিণাম হয় অত্যন্ত কল্যাণময়। ‘মেপে দেওয়াার সময় পূর্ণ মাপে দেবে এবং সঠিক পাল্লায় ওজন করবে। এটি উত্তম, এর পরিণাম কল্যাণময়।’ (সূরা বনী-ঈসরাইল : ৩৫)। আব্দুল্লাহ ইবন আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, ‘যখন কোনো সম্প্রদায়ের লোকেরা ওজনে বা মাপে কম দেয়, তখন শাস্তিস্বরূপ তাদের খাদ্যশস্য উৎপাদন বন্ধ করে দেওয়া হয় এবং দুর্ভিক্ষ তাদের গ্রাস করে।’ (আত-তারগীব ওয়াত তারহীব : ৭৮৫)। ‘যে জাতি মাপে ও ওজনে কম দেয়, তাদের রিজিক উঠিয়ে নেওয়া হয়।’ (মুয়াত্তা : ৫৩৭০০। ‘যখন তুমি ক্রয়-বিক্রয় করবে, তখন তুমি বলে দিবে যে কোনো প্রতারণা বা ঠকানোর দায়িত্ব আমি নেব না। তোমার জন্য তিনদিন পর্যন্ত পণ্য ফেরত দেওয়ার অধিকার রয়েছে’। (সহীহ বুখারী : ৬৯৬৪)।
সুদকে মেশানো যাবে না : ব্যবসার সাথে সুদকে মেশানো যাবে না। ব্যাংক হতে ঋণ নিয়ে ব্যবসা করলে প্রত্যেক মুমিনকে সব অবস্থায়ই সুদ থেকে অবশ্যই নিরাপদ দূরত্বে অবস্থান করতে হবে। সুদ হলো মারাত্মক ক্ষতিকর ও ধ্বংসাত্মক অর্থ ব্যবস্থা। সুদের পরিণতি অত্যন্ত ভয়াবহ। ‘যারা সুদ খায় তারা কিয়ামতের দিন দাঁড়াবে শয়তানের আসরে মোহাবিষ্টদের মতো। কারণ তারা বলে ক্রয়-বিক্রয়ও (ব্যবসা) সুদের মতো। অথচ আল্লাহ ব্যবসাকে হালাল করেছেন এবং সুদকে হারাম করেছেন’। ‘আল্লাহ সুদকে নিশ্চিহ্ন করেন এবং দান খায়রাতকে বর্ধিত করেন।’ (সূরা আল-বাকারা : ২৭৫-২৭৬)। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, ‘সুদ যদিও বৃদ্ধি পায় কিন্তু এর শেষ পরিণতি হচ্ছে স্বল্পতা।’ (ইবনে মাজাহ : ২২৭৯)। ‘রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সুদ গ্রহণকারী, প্রদানকারী, হিসাবকারী এবং সাক্ষী সকলের প্রতি অভিশাপ দিয়েছেন এবং তিনি বলেন তারা সকলেই সমান’। (সহীহ মুসলিম : ১৫৯৮)।
ব্যবসায় কাজ বড় ইবাদত : সালাত, সাওম ও অন্যান্য ইবাদতে ত্রুটি-বিচ্যুতি হলে আল্লাহ তায়ালা নিজ অনুগ্রহে ক্ষমা করতে পারেন। কিন্তু মানুষকে সামান্য অণুপরিমাণ ঠকানো হলে বা অণুপরিমাণ মানুষের হক নষ্ট করলে বা কষ্ট দিলে এ দায়ভার কিয়ামতের দিন আল্লাহ তায়ালা নেবেন না। কিয়ামতের দিন মজলুম ব্যক্তি বা প্রতারিত ক্রেতাকে ডেকে আল্লাহ তায়ালা ওই জালিমের আমলনামা থেকে সমপরিমাণ সাওয়াব তাকে ক্ষতিপূরণ হিসেবে দিয়ে দেবেন। জালিমের বা প্রতারকের সাওয়াব যদি শেষ হয়ে যায় বা কোনো সাওয়াব না থাকে, তবে মাজলুমের গুনাহরাশি জালিমের কাঁধের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হবে। সেদিন কাঁদতে কাঁদতে যদি শরীরের প্রতিটি লোমকূপ দিয়ে রক্তও প্রবাহিত হতে থাকলেও কোনো ফল হবে না। সেদিন এ ধরনের জালিমকে আল্লাহ তায়ালা কোনোভাবেই ক্ষমা করবেন না, যদি না মাজলুম ব্যক্তি তাকে ক্ষমা করেন।
ভোরের বরকত লাভ করুন : সাখর আল-গামিদী রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম দোয়া করেছেন, ‘হে আল্লাহ! আমার উম্মতের জন্য তার ভোর বেলার কাজে বরকত দান করুন।’ হাদিস বর্ণনাকারী সাহাবী নিজে একজন ব্যবসায়ী ছিলেন এবং তিনি তার কর্মচারীদের সকাল সকাল ব্যবসার কাজে পাঠাতেন, ফলে তাঁর ব্যবসায় প্রচুর বরকত ও সম্পদ বৃদ্ধি পেয়েছিল। (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস ২৬০৬)।
মানে ও মাপে সঠিক দিন : এমন ভয়াবহ ক্ষতি হতে রক্ষার জন্য আল্লাহর নবী হজরত শু’আইব আলাইহিস সালাম সমকালীন ব্যবসায়ীদের এভাবে সতর্ক করেছেন, হে আমার কাওম! আল্লাহর ইবাদাত কর, তিনি ছাড়া তোমাদের কোনো ইলাহ নেই, আর পরিমাপে ও ওজনে কম দিও না। আর হে আমার জাতি! ন্যায়নিষ্ঠার সাথে ঠিকভাবে পরিমাপ কর ও ওজন দাও এবং লোকদের জিনিসপত্রে কোনোরূপ ক্ষতি করো না (সূরা হুদ : ৮৪-৮৫)। ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তোমরা সঠিকভাবে মেপে দাও এবং ওজন করো, তোমাদের বরকত দেওয়া হবে’। (সহীহ বুখারী : ২১২৫)।
পণ্য ফেরত নিন : বিত্রিত পণ্য ফেরত নেয়া হয় না- এমন নিয়ম পরিবর্তন করে ক্রেতার প্রয়োজনে বিক্রিত পণ্য ফেরত বা পরিবর্তন করার নিয়ম চালু করুন। ফলে বেশি লাভবান হতে পারবেন। হাকিম ইবনে হিযাম রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘ক্রেতা-বিক্রেতা যতক্ষণ একে অপরের থেকে আলাদা না হয়, ততক্ষণ তাদের (চুক্তি বাতিল করার) এখতিয়ার থাকে। যদি তারা সত্য কথা বলে এবং (পণ্যের ত্রুটি) স্পষ্ট করে, তবে তাদের কেনা-বেচায় বরকত দেওয়া হয়। আর যদি তারা সত্য গোপন করে এবং মিথ্যা বলে, তবে তাদের ব্যবসার বরকত নষ্ট হয়ে যায়।’ (সহীহ বুখারী : ২০৭৯)।
পরিশেষ : মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিন ব্যবসায়ী ভাই ও বোনদের ঈমান ও ইহতিসাবের সাথে ইসলামের কল্যাণময় নীতিতে সততা ও নিষ্ঠার সাথে ব্যবসা পরিচালনা করে ইহকালীন কল্যাণ ও মর্যাদা দান এবং পরকালে শহীদ ও সিদ্দিকদের সাথে সম্মনিত করুন। আমীন।
লেখক : বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও মহাসচিব, ইসলামী শিক্ষা উন্নয়ন বাংলাদেশ