৬৫০ বিশিষ্ট ব্যক্তির জামায়াতে ইসলামীতে যোগদান

অন্যায়ের বিরুদ্ধে জামায়াতে ইসলামী আপসহীন ভূমিকা অব্যাহত রাখবে — ডা. শফিকুর রহমান এমপি


৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০৯:৪৭

স্টাফ রিপোর্টার : জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও আমীরে জামায়াত ডা. শফিকুর রহমান এমপি বলেছেন, তলোয়ারের দাগ একসময় মুছে গেলেও মুখের ভাষার আঘাতের ক্ষত মুছে যায় না। এই দাগ থেকে যায়। তবে আমি প্রতিদিন রাতে ঘুমানোর আগেই যারা আমাকে কষ্ট দেন, তাদের ক্ষমা করে দিই। আমি মানুষকে ক্ষমা করি, ক্ষমা পাওয়ার আশায়।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মাসব্যাপী গণসংযোগ উপলক্ষে ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের উদ্যোগে গত ১ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার বিকেলে ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্সের মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত দাওয়াতি সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমীর মো. নূরুল ইসলাম বুলবুল এমপির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত দাওয়াতি সমাবেশে বক্তব্য দেন সাবেক বিচারপতি এডভোকেট সৈয়দ শাহিদুর রহমান, মুফতি আবুল কালাম আজাদ, সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র এডভোকেট ড. এ এস এম খালেকুজ্জামান, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আবুল আয়েশ খান, জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের নায়েবে আমীর যথাক্রমে আব্দুস সবুর ফকির এবং এডভোকেট ড. হেলাল উদ্দিন, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ এমপি, কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সহকারী সেক্রেটারি ড. আব্দুল মান্নান, কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের কর্মপরিষদ সদস্য সৈয়দ জয়নুল আবেদীন এমপি প্রমুখ। সংগঠনের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ এমপি এবং কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সহকারী সেক্রেটারি দেলাওয়ার হোসেন যৌথভাবে সমাবেশটি সঞ্চালনা করেন।
অনুষ্ঠানে কওমি অঙ্গন থেকে জামায়াতে ইসলামীতে যোগদানকারী মুফতি আবুল কালাম আজাদের বক্তব্যের সূত্র ধরে আমীরে জামায়াত বলেন, আমরা কওমিকে আলাদা মনে করি না। তাদের অধিকারের পক্ষে আমরা আমাদের বিবেকের দায়বদ্ধতা থেকে সংসদে কথা বলে যাবো, ইনশাআল্লাহ। কোনো বাতিলের সাথে আপস করা হবে না। ন্যায় ও ইনসাফ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে সমাজ থেকে সকল অন্যায়, অনাচার, বৈষম্য দূর করা হবে। অন্যায়ের বিরুদ্ধে জামায়াতে ইসলামী আপসহীন ভূমিকা অব্যাহত রাখবে। আমীরে জামায়াত বলেন, আমাদের কেউ অপমান করলেও আমরা কাউকে অপমান করে কথা বলি না, বলবো না। বরং আমাকে অপমান করার পরও আমি আত্মতৃপ্তি পাই। কারণ পৃথিবীর শ্রেষ্ঠতম মানুষ মুহাম্মদ সা.-কে নিয়েও অবুঝ মানুষগুলো নানারকম কথা বলেছে। কিন্তু আল্লাহ যাকে সম্মানিত করে, দুনিয়ার কেউ তাকে অসম্মানিত করতে পারে না, পারবে না।
সাবেক বিচারপতি, বুদ্ধিজীবী, আইনজীবী, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী, কওমি আলেম এবং বিএনপি ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীসহ ৬৫০ জন জামায়াতে ইসলামীতে যোগদান করার পর আমীরে জামায়াত তাদের ফুল ও ইসলামিক বই উপহার দিয়ে বরণ করে নিয়ে বলেন, আজকে যারা জামায়াতে ইসলামীতে যোগদান করেছে, আল্লাহ সকলকে দীন কায়েমের আন্দোলনে শামিল রেখে এদেশের মানুষের খেদমত করার তাওফিক দান করুক এবং জান্নাতে আমাদের একত্রে মিলিত করুক। তিনি আরও বলেন, এদেশে কুরআনের বিধান কায়েম হবে কিন্তু প্রশ্ন হলো আমাকে-আপনাকে নিয়ে নাকি আমাদের বাদ দিয়ে। দুনিয়ায় আল্লাহর দীন কায়েম হয়েছে যুবকদের ঘাড়ে ভর করে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এদেশেও যুবসমাজের নেতৃত্বে একদিন আল্লাহর দীন কায়েম হবে, ইনশাআল্লাহ।
সাবেক বিচারপতি এডভোকেট সৈয়দ শাহিদুর রহমান বলেন, আমি জামায়াতে ইসলামীতে আসার অন্যতম কারণ হচ্ছে— যখন আমি দেখলাম বিএনপির সাথে জোট সরকারে জামায়াতের ২ জন নেতা মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করার পরও তত্ত্বাবধায়ক সরকার জামায়াত নেতাদের বিরুদ্ধে ২ টাকার দুর্নীতির অভিযোগ আনতে পারেনি, তখন আমি অদ্ভুত হলাম এবং ভাবলাম এখানেই দেশপ্রেমিক নেতৃত্ব তৈরি হয়।
বংশাল থানা বিএনপির ২নং যুগ্ম আহ্বায়ক ইয়াকুব সরকার বলেন, ৩৬ বছর বিএনপি করে মানুষ হতে পারিনি। কারাগারে গিয়ে জামায়াতে ইসলামীর নেতাদের পাশে থেকে কুরআন শিখেছি এবং সঠিক পথের দিশা পেয়েছি। তিনি আরও বলেন, বিএনপিতে থাকাকালীন নেতারা হাতে মদ আর তাস দিয়েছে, কিন্তু জামায়াতে ইসলামীর নেতারা হাতে কুরআন তুলে দিয়েছে। তাই কুরআনের আলোয় আলোকিত বাংলাদেশ গড়তে আমি জামায়াতে ইসলামীতে যোগদান করছি।
কওমি আলেম মুফতি আবুল কালাম আজাদ মাদানী বলেন, যখন আমরা কওমি মাদরাসায় পড়তাম, তখন থেকে আমাদের জামায়াতে ইসলামী প্রসঙ্গে ভুল ধারণা দেওয়া হয়েছে। কওমি মাদরাসার ছাত্রদের পত্রপত্রিকা বা একাডেমিক বই ছাড়া অন্য বই পড়তে দেওয়া হতো না। কিন্তু আমি যখন জামায়াতে ইসলামীকে নিয়ে স্টাডি শুরু করি, তখন আমি দেখতে পাই জামায়াতে ইসলামী সঠিক আদর্শের রাজনীতি করছে। তাই আমি জামায়াতে ইসলামীতে যোগদানের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করি।
নূরুল ইসলাম বুলবুল এমপি বলেন, জামায়াতে ইসলামী ইসলামভিত্তিক একটি কল্যাণরাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে ইসলামকে বিজয়ী আদর্শ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে চায়। এর মধ্য দিয়ে দুনিয়ায় শান্তি এবং আখিরাতে মুক্তি লাভ করতে চায়। সেই লক্ষ্যে আমরা মানুষকে আল্লাহর দিকে আহ্বান জানাই।
অনুষ্ঠানে সংগঠনের কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সহকারী সেক্রেটারি মোহাম্মদ কামাল হোসেন এমপি, মহানগরীর কর্মপরিষদ সদস্য হাফেজ রাশেদুল ইসলাম এমপিসহ সংগঠনের কেন্দ্রীয় ও মহানগরীর নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
৬৫০ বিশিষ্ট ব্যক্তির জামায়াতে ইসলামীতে যোগদান
সাবেক বিচারপতি, বুদ্ধিজীবী, আইনজীবী, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী, কওমি আলেম এবং বিএনপি ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীসহ ৬৫০ জন জামায়াতে ইসলামীতে যোগদান করেছেন। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মাসব্যাপী গণসংযোগ উপলক্ষে গত ১ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার বিকেলে ঢাকা মহানগরী দক্ষিণ জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে দাওয়াতি সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠিত সমাবেশে জামায়াতে ইসলামীতে যোগদানকারী ৬৫০ জনকে প্রধান অতিথি বিরোধীদলীয় নেতা ও আমীরে জামায়াত ডা. শফিকুর রহমান এমপি ফুল ও ইসলামিক বই উপহার দিয়ে বরণ করে নেন।
জামায়াতে ইসলামীতে যোগদানকারীদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক বিচারপতি সৈয়দ শাহিদুর রহমান, সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী ড. এএসএম খালেকুজ্জামান, সাবেক সেনাকর্মকর্তা কর্নেল ফারুক হোসাইন, বাংলাদেশ পুলিশের সাবেক এসপি ওবায়দুল হক, জাতীয় দলের সাবেক ফুটবলার ও জাতিসংঘের সাবেক কর্মকর্তা সেলিম আহমেদ, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী যথাক্রমে আবুল আয়েশ খান, মো. ফিরোজ আলম খান, সিনহা এ খালিদ, হাজী শাহ আলম, আবদুর রাজ্জাক সোহাগ, ডা. হুমায়ন কবির, বংশাল থানা বিএনপির ২নং যুগ্ম আহ্বায়ক ইয়াকুব সরকার, ২নং ওয়ার্ড যুবদল নেতা মুশফিকুর রহমান বাবু, ৭৫নং ওয়ার্ড বিএনপি নেতা হাজী আলতাব হোসেন, ৩২নং ওয়ার্ডের বিশিষ্ট সমাজসেবক মোছলেহ উদ্দিন আহমেদ, ৩৫নং ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মো. জাবেদ ওমর, গেন্ডারিয়া লালখাঁ সিটি মসজিদের সেক্রেটারি নেয়ামত উল্লাহ কল্লোল, বাংলাদেশ নূরানী শিক্ষা বোর্ডের মহাসচিব মাওলানা মুহাম্মদ জসিম উদ্দিন, কওমি আলেম যথাক্রমে মুফতি আবুল কালাম আজাদ, মাওলানা এনামুল হক আজাদী, মাওলানা আব্দুর রহমান আল হাবিবী, মাওলানা মো. জসিম উদ্দিন (রসুলপুরী), মাওলানা হাসান জামিল প্রমুখ।