১১ দলীয় ঐক্যের ঢাকা-চট্টগ্রাম লংমার্চ ৫ সেপ্টেম্বর


৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০৯:৩৭

স্টাফ রিপোর্টার : জনগণের অধিকার আদায়ের প্রশ্নে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও তার নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্য কোনো ছাড় দেবে না। এ প্রসঙ্গে বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান জাতীয় সংসদে ও এর বাইরে একাধিকবার বলেছেন, ন্যায় ও ইনসাফ কায়েমের মাধ্যমে জনগণের অধিকার নিশ্চিত করতে কোনো জুলুম-নির্যাতনই তাকে থামাতে পারবে না। এজন্য তিনি জামায়াতে ইসলামীর সাবেক আমীর ও শীর্ষনেতাদের মতো ফাঁসির মঞ্চে যেতে ভীত ও কুণ্ঠিত নন।
জনগণের অধিকার আদায়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্য রাজপথে বিশাল রাজনৈতিক কর্মসূচির অংশ হিসেবে দেশের বিভিন্ন বিভাগীয় মহানগরীতে লংমার্চের ঘোষণা দিয়েছে। গণভোটের রায়ের আলোকে সংবিধান ও রাষ্ট্র সংস্কার, জ্বালানি সংকট, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ও প্রশাসনের বিভিন্ন সংস্কারসহ ৬ দফা দাবিতে এই লংমার্চ সূচি ঘোষণা করা হয়েছে। বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান গত ৫ আগস্ট রাজধানীর বায়তুল মোকাররমের দক্ষিণ গেটে আয়োজিত ১১ দলীয় ঐক্যের এক বিশাল সমাবেশ থেকে এ কর্মসূচি ঘোষণা করেন।
ঢাকা-চট্টগ্রাম লংমার্চ দিয়ে শুরু
এ কর্মসূচি প্রথমেই ঢাকা-চট্টগ্রাম লংমার্চ দিয়ে শুরু হচ্ছে আগামী ৫ সেপ্টেম্বর শনিবার। ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী, আগামী ৫ সেপ্টেম্বর সকাল ৭টায় রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে সমাবেশের মধ্য দিয়ে লংমার্চ শুরু হবে।
সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময়
আগামী ৫ সেপ্টেম্বর ঢাকা টু চট্টগ্রাম লংমার্চ উপলক্ষে গত ৩১ আগস্ট সোমবার বিকেল ৫টায় রাজধানীর আল-ফালাহ মিলনায়তনে ১১ দলীয় ঐক্য সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় করেছে। মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি মিয়া গোলাম পরওয়ার, বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, জাতীয় নাগরিক পার্টির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, জাগপার সহ-সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার রাশেদ প্রধান, নেজামে ইসলাম পার্টির সিনিয়র নায়েবে আমীর মাওলানা আব্দুল মাজেদ আতহারী, এলডিপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বিল্লাল হোসেন মিয়াজী, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব আতাউল্লাহ আমীন, বিডিপির চেয়ারম্যান এডভোকেট আনোয়ারুল ইসলাম চান, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের মহাসচিব মুফতি ফখরুল ইসলাম, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের ঢাকা মহানগরী সেক্রেটারি মাওলানা মোর্শেদ সিদ্দীকী, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য মোবারাক হোসাইন ও ড. রেজাউল করিম, বিডিপির জেনারেল সেক্রেটারি নিজামুল হক নাঈম প্রমুখ।
১১ দলীয় ঐক্যের ৬ দফা দাবি
১. গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন ও রাষ্ট্রীয় সংস্কার কার্যকর করা। ২. জুলাই গণঅভ্যুত্থানের গণহত্যা ও গুমের দ্রুত বিচার করা। ৩. গ্যাস, বিদ্যুৎ, জ্বালানি তেল ও সারের সংকট নিরসন করা। ৪. নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজার নিয়ন্ত্রণে আনা। ৫. দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির দ্রুত উন্নতি ঘটানো। ৬. প্রশাসন ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের সর্বস্তরে দলীয়করণ বন্ধ করা।
মতবিনিময়কালে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার, বিদ্যুৎ, তেল, গ্যাস ও সার সংকট নিরসন, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্যের ঊর্ধ্বগতি রোধ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং সংকীর্ণ দলীয়করণ বন্ধসহ ৬ দফা দাবিতে ১১ দলীয় ঐক্য আগামী ৫ সেপ্টেম্বর ঢাকা টু চট্টগ্রাম লংমার্চ করবে। এর প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি ইতোমধ্যে নেয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, সরকার গত ৬ মাসে গণতন্ত্রের প্রতি শ্রদ্ধা দেখাতে, জনদুর্ভোগ, বিদ্যুৎ সংকট, সার সংকট এবং গ্যাস সংকট সমাধানে ব্যর্থতার প্রমাণ দিয়েছে। সংসদে ও সংসদের বাইরে বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্যদের সাথে কটু ভাষায় কথা বলা হচ্ছে, সরকারদলীয় নেতাকর্মীরা বিরোধীদলীয় এমপিদের ওপর হামলা চালাচ্ছে। আমরা আশা করছি, গণতন্ত্রকে সমুন্নত রাখতে বিরোধীদলের গণতান্ত্রিক কর্মসূচি লংমার্চে সরকার কোনো প্রকার বাধা সৃষ্টি করবে না। আমরা বিরোধীদলের শান্তিপূর্ণ ও গঠনমূলক কর্মসূচি বাস্তবায়নে সরকার ও সরকারদলীয় শীর্ষনেতা এবং সরকারি আমলাদের সহযোগিতা করার আহ্বান জানাচ্ছি। কর্মসূচি পালনে সহযোগিতা করে গণতন্ত্রের প্রতি শ্রদ্ধা দেখানোরও একটি সুযোগ তৈরি হয়েছে সরকারি দলের জন্য।
সরকারকে সতর্ক করে গোলাম পরওয়ার বলেন, যদি আমাদের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচির কোথাও বাধা দেয়া হয়, সন্ত্রাসী কর্তৃক হামলা করা কিংবা ভয়ভীতি দেখানো হয়, নাশকতা করার চেষ্টা করা হয়, তাহলে প্রমাণ হবে যে, জুলাই অভ্যুত্থানের পর জুলাই সনদের আলোকে আকাঙ্ক্ষার নতুন বাংলাদেশকে সরকার ধারণ করে না। লংমার্চকে বাধাগ্রস্ত করা হলে সরকারের প্রতি জনঅনাস্থা আরও বাড়বে।
১১ দলের নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, ৫ সেপ্টেম্বরের লংমার্চে কোনো প্রকার বাধা দেয়া হলে সকল বাধা অতিক্রম করে চট্টগ্রামের লালদীঘি ময়দানে পৌঁছাবে। জনগণের অধিকার আদায়ে ও জুলাই সনদ বাস্তবায়নের দাবি দিয়ে জনগণের কাছে যাচ্ছে ১১ দল। গণভোটের গণরায় বাস্তবায়নের দাবি দেশের সকল জনগণের, এজন্য লংমার্চ কর্মসূচি দেয়া হয়েছে।
নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, লংমার্চ কর্মসূচি ঘোষণার পর থেকে ঢাকা-চট্টগ্রাম সড়কে তীব্র যানজট দেখা যাচ্ছে। এটি কৃত্রিম যানজট। লংমার্চের দিন যদি কোনো প্রকার কৃত্রিম যানজট কিংবা বালুর ট্রাক কিংবা খালি ট্রাক দ্বারা লংমার্চকে বাধাগ্রস্ত করা হলে তা প্রতিহত করা হবে। এটি সরকারের জন্য ভালো হবে না। আমরা আশা করছি, পুলিশ প্রশাসন, সরকারি আমলা, ট্রাফিক বিভাগসহ সকলে কর্মসূচি সফলে সহযোগিতা করবে।
মতবিনিময় সভায় সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন নেতৃবৃন্দ। এ সময় ১১ দলের নেতারা শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন।
গত ৩১ আগস্ট সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় সভায় ১১ দলীয় ঐক্যের নেতাদের সাথে নিয়ে জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার লংমার্চের সুনির্দিষ্ট রুট ঘোষণা করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, লংমার্চের গাড়ির বহর ঢাকার শাপলা চত্বরে থেকে শুরু হয়ে নারায়ণগঞ্জ, কুমিল্লার পদুয়া বাজার, ফেনীর মহিপাল এবং চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে ধারাবাহিক পথসভা করে চট্টগ্রাম শহরের অভিমুখে এগিয়ে যাবে। এছাড়া অনির্ধারিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে বিপুল জনসমাগমস্থলে ১১ দলের শীর্ষনেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখবেন। স্থানীয় পথসভার ব্যবস্থাপনা ১১ দলের স্থানীয় নেতৃবৃন্দ করবেন। এই লংমার্চ কর্মসূচি সর্বাত্মকভাবে সফল করে তুলতে ১১ দলীয় ঐক্যের সর্বস্তরের নেতাকর্মী ও দেশবাসীর প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানানো হচ্ছে।
মতবিনিময় সভায় তিনি আরো জানিয়েছেন, গত ২৪ আগস্ট ১১ দলীয় ঐক্য একটি প্রতিনিধিদল পুলিশ সদর দপ্তরে গিয়ে আইজিপির কাছে লিখিত রুটম্যাপ জমা দিয়েছেন। নেতৃবৃন্দ জানান, রাজনৈতিক কর্মসূচির জন্য অনুমতির প্রয়োজন না থাকলেও সহযোগিতার উদ্দেশ্যে প্রশাসনকে অবহিত করা হয়েছে। নেতারা অভিযোগ করেন, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে ইতোমধ্যেই কৃত্রিম যানজট শুরু করা হচ্ছে। তারা একটি রোড ব্যবহার করবেন। অন্য রোডটি সাধারণের চলাচলের জন্য খোলা করবেন। তারপরও সরকারের একটি অংশ বাধা সৃষ্টির অপচেষ্টা হতে পারে। তবে যেকোনো বাধা বা প্রতিবন্ধকতা জনগণকে সাথে নিয়ে রাজপথেই প্রতিহত করা হবে।
পরবর্তী লংমার্চ
লংমার্চ শেষে চট্টগ্রামের পর্যায়ক্রমে ১৯ সেপ্টেম্বর ঢাকা-রংপুর, ১০ অক্টোবর ঢাকা-খুলনা-যশোর-কুষ্টিয়া, ২৪ অক্টোবর ঢাকা-সিলেট রেলপথ যাত্রা এবং ১৪ নভেম্বর ঢাকায় মহাসমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে।
গত ৩১ আগস্টের মতবিনিময় সভায় জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি মিয়া গোলাম পরওয়ারসহ ১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষনেতারা সাংবাদিকদের মাধ্যমে সরকারকে সতর্কবার্তা দিয়ে বলেছেন, দাবিগুলো আদায় না হওয়া পর্যন্ত রাজপথের এই গণমুখী আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।