সিন্ডিকেটের কবলে নিত্যপণ্যের বাজার, চাপে ভোক্তারা
২০ আগস্ট ২০২৬ ০৯:৩৫
স্টাফ রিপোর্টার : রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন বাজারে নিত্যপণ্যের দামে স্বস্তি ফিরছে না। চাল, পেঁয়াজ, ডাল, ভোজ্যতেল, সবজিসহ বিভিন্ন পণ্যের দাম বাড়ছেই, কিন্তু কমছে না। এ কারণে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের মানুষ জীবন-যাপনের ব্যয়ে চাপে থাকছেন। পণ্যের সংকট নেই, উৎপাদনে ঘাটতি নেই, পরিবহন ও সরবরাহ স্বাভাবিক। এরপরও দাম কমছে না, উল্টো বাড়ছে। বৃষ্টি ও বন্যার প্রভাব সামনে রেখে বাড়ানো হচ্ছে সবজিসহ অন্যান্য কাঁচাবাজারের দাম। খুচরা ব্যবসায়ী ও ভুক্তভোগী ক্রেতারা বলছেন, বাজার ব্যবস্থাপনায় সরকারের ব্যর্থতা, মধ্যস্বত্বভোগী, মজুদদার ও কারসাজিকারীদের ভূমিকার কারণে নিত্যপণ্যের বাজারে অস্থিরতা থামছে না।
সাম্প্রতিক বাজার পরিস্থিতি বিশ্লেষণে দেখা যায়, নিত্যপণ্যের দাম বৃদ্ধির পেছনে সিন্ডিকেটই মূল দায়ী, উৎপাদন বা সরবরাহ ঘাটতি শুধু অজুহাত মাত্র। পরিবহন, পাইকারি ও খুচরা পর্যায়ের একাধিক ধাপ পেরিয়ে পণ্য ভোক্তার হাতে পৌঁছায়। প্রতিটি ধাপে মূল্য সংযোজনের পাশাপাশি অতিরিক্ত মুনাফা, মজুদ ও বাজার কারসাজি করেন সিন্ডিকেট চক্র।
রাজধানীর কাঁচাবাজারে কাঁচামরিচসহ বিভিন্ন সবজির মূল্য খুবই চড়া। আগস্টের শুরু থেকেই বাজারে কাঁচামরিচের দাম কেজিতে ২৫০ টাকা পর্যন্ত ওঠে। একই সময়ে বেশিরভাগ সবজির দামও কেজিপ্রতি ৭০ টাকার ওপরে ছিল। টানা বৃষ্টি ও দেশের কয়েকটি অঞ্চলের বন্যার প্রভাবকে অজুহাত হিসেবে দেখিয়ে বাজারের অস্থিরতা সৃষ্টি করে অশুভ চক্র।
বিশ্লেষকরা বলছেন, উৎপাদন খরচ, আমদানি ব্যয়, আন্তর্জাতিক বাজার, পরিবহন ব্যয় ও সরবরাহ পরিস্থিতি মূল্য নির্ধারণ বা বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখে। ফলে বাজারে কারসাজি হয়েছে কি না, শতভাগ নিশ্চিত হতে পাইকারি ও খুচরা দামের পার্থক্য, মজুদ পরিস্থিতি এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থার তথ্য যাচাই করা জরুরি। আর এতে কারসাজির প্রমাণ মিললে দায়ীদের কঠোর দিলে অশুভ চক্ররা কারসাজি থেকে নিজেদের বিরত রাখবে।
অতিসম্প্রতি পোলাও ও সুগন্ধি চালের মূল্য আকাশ ছুঁয়েছে। জুলাইয়ের শুরুতে এসব চালের যা মূল্য ছিল, আগস্টের শুরুতে কেজিতে ৬০ থেকে ৮০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। রাজধানীর খুচরা বাজারে আগে ১৪০ থেকে ১৫০ টাকা দরে বিক্রি হওয়া পোলাও চাল ২০০ থেকে ২১০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে। দেশে বা আন্তর্জাতিক বাজারে এ জাতের চালের কোনো সংকট, উৎপাদন ঘাটতি বা সরবরাহ সংকট দেখা যায়নি। তবুও কেন মূল্য বাড়লো? বিশ্লেষকরা বলছেন, ভোক্তাদের এই প্রশ্নে উত্তর দেওয়ার দায়িত্ব সরকারের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের।
সবজির বাজারে পরিস্থিতি আরও দ্রুত পরিবর্তনশীল। বৃষ্টি হলে সরবরাহ কমার আশঙ্কায় দাম বাড়ে, আবার সরবরাহ বাড়লেও অনেক ক্ষেত্রে সেই অনুপাতে দাম কমে না। এ কারণে ভোক্তারা বাজারে গিয়ে প্রতিদিনই নতুন দামের মুখোমুখি হচ্ছেন। এতে নির্দিষ্ট আয়ের পরিবারগুলোর মাসিক বাজেটে চাপ বাড়ছে। ৪০ থেকে ৬০ টাকা কেজি মূল্যেও করলা আগস্টের শুরুতে ১৪০ টাকাও কেজি বিক্রি হয়েছে। এই যে দ্বিগুণের বেশি মূল্যবৃদ্ধির কোনো কারণ কি সরকার খতিয়ে দেখেছে, নাকি এর কোনো ব্যাখ্যা দিয়েছে। ভুক্তভোগীদের ভাষ্য সরকার আছে, নানা কার্ড আর কার্ডের প্রচার-প্রচারণা নিয়ে, আর সাধারণ মানুষ নিত্যপণ্যের উত্তাপে পুড়ে মরছে।