ডাইনোসররা কীভাবে ডিম পাড়ত?


৬ আগস্ট ২০২৬ ১০:৫২

বিচিত্র কুমার

অনেক অনেক বছর আগে পৃথিবীতে মানুষের বদলে বিশাল আকৃতির ডাইনোসরদের রাজত্ব ছিল। কেউ ছিল পাহাড়ের মতো বড়, কেউ আবার ছিল মুরগির চেয়ে সামান্য বড়। কিন্তু এত বড় প্রাণীরা পৃথিবীতে কীভাবে নতুন বাচ্চার জন্ম দিত? তারা কি আজকের পাখিদের মতো ডিম পাড়ত? এই প্রশ্নের উত্তর জানলে ছোটদের বিস্ময়ের শেষ থাকবে না।
বিজ্ঞানীরা বহু দেশে খনন করে ডাইনোসরের জীবাশ্মের সঙ্গে তাদের ডিম ও বাসার চিহ্নও খুঁজে পেয়েছেন। এসব প্রমাণ থেকে জানা যায়, অধিকাংশ ডাইনোসর ডিম পেড়েই বংশবিস্তার করত। তারা নিরাপদ জায়গায় মাটি, শুকনো পাতা, ছোট ডালপালা কিংবা বালু দিয়ে বাসা তৈরি করত। এরপর একসঙ্গে কয়েকটি ডিম পেড়ে সেগুলোকে যত্নে রাখত।
সব ডাইনোসর কিন্তু একই রকম ছিল না। কিছু ডাইনোসর নিজেরা বাসার কাছে থেকে ডিম পাহারা দিত- যাতে অন্য কোনো হিংস্র প্রাণী ডিম নষ্ট করতে না পারে। আবার কিছু ডাইনোসর ডিমের ওপর মাটি বা গাছের পাতা দিয়ে ঢেকে রাখত। পচা পাতার উষ্ণতা ডিমকে গরম রাখত, ঠিক যেন প্রকৃতিই একটি প্রাকৃতিক উষ্ণঘর বানিয়ে দিয়েছে।
ডাইনোসরের ডিম দেখতে সবসময় গোল ছিল না। অনেক ডিম ছিল লম্বাটে, আবার কিছু ছিল প্রায় গোলাকার। ডিমের খোসা শক্ত হলেও খুব ভারী ছিল না। ভেতরে থাকা ছোট্ট ডাইনোসরটি বড় হতে হতে একসময় ডিমের খোসা ঠেলে বাইরে বেরিয়ে আসত। এরপর শুরু হতো তার নতুন জীবনের পথচলা।
মজার বিষয় হলো, আজকের পাখিদের সঙ্গে ডাইনোসরের অনেক মিল খুঁজে পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা। তাই অনেক গবেষকের ধারণা, আধুনিক পাখিরা প্রাচীন কিছু ডাইনোসরেরই উত্তরসূরি। মুরগি, হাঁস কিংবা উটপাখির ডিম দেখলে আমরা যেন সেই বহু কোটি বছর আগের ইতিহাসের একটি ছোট্ট স্মৃতিই দেখতে পাই।
ডাইনোসরের গল্প আমাদের শুধু কল্পনার জগতে ভ্রমণ করায় না, বিজ্ঞানকেও ভালোবাসতে শেখায়। পৃথিবীর অতীত সম্পর্কে জানার জন্য গবেষকরা বছরের পর বছর ধৈর্য নিয়ে কাজ করেন। তাদের আবিষ্কার থেকেই আমরা জানতে পারি, বিলুপ্ত প্রাণীদের জীবন কতটা বিস্ময়কর ছিল।
তাই কোনো প্রশ্নকে ছোট মনে করা উচিত নয়। একটি ছোট্ট প্রশ্ন ‘ডাইনোসররা কীভাবে ডিম পাড়ত?’ আমাদের নিয়ে যেতে পারে কোটি কোটি বছর আগের পৃথিবীর রহস্যময় ইতিহাসে। কৌতূহল, পর্যবেক্ষণ আর শেখার আগ্রহই একজন শিশুকে একদিন বড় বিজ্ঞানী বা গবেষক হতে অনুপ্রাণিত করতে পারে।