তুলির স্বপ্ন
৬ আগস্ট ২০২৬ ১০:৫১
আনোয়ারুল ইসলাম
তুলি ছোটবেলা থেকেই গল্প লিখতে ভালোবাসত। স্কুলের খাতার শেষ পাতায়, পুরোনো ডায়েরিতে; এমনকি কাগজের টুকরোতেও সে গল্প লিখে রাখত। কিন্তু তার সবচেয়ে বড় স্বপ্ন ছিল- একদিন তার লেখা গল্প পত্রিকায় ছাপা হবে।
তুলি ঘগোয়া দ্বিমুখী উচ্চবিদ্যালয়ে ৮ম শ্রেণিতে পড়ে। সুধাংশু নাথ মণ্ডল এই স্কুলের প্রধান শিক্ষক। তিনি বাংলা বিষয়ে খুবই পারদর্শী। তিনি বাংলায় কয়েকটি বই-ও লিখেছেন। তীর্থ ভ্রমণ তার মধ্যে অন্যতম। দূরদূরান্তের শিক্ষকগণ বাংলা বিষয়ে পরামর্শের জন্য তাঁর কাছে আসতেন।
একদিন মানিক স্যার তুলিকে জানালেন, সাপ্তাহিক সোনার বাংলা পত্রিকায় পাতাবাহারে ছোটদের লেখা প্রকাশিত হয়। তুলি শুনে খুশি হয়ে তুলির স্বপ্ন নামে একটি গল্প লিখে সুধাংশু নাথ স্যারের কাছে কারেকশনের জন্য জমা দেয়। স্যার গল্পটি পড়ে মুগ্ধ হলেন। গল্পের ভাব ও ভাষা একজন দক্ষ লেখকের মতো স্যারের মনে হলো। স্যার গল্পটি ঠিকঠাক করে দিয়ে বললেন, ‘তুলি, গল্পটি সুন্দর হয়েছে। তুমি গল্পটা পত্রিকায় ছোটদের পাতায় পাঠাও। অবশ্যই ছাপবে।’ সে ঠিক করল, এবার তার সেরা গল্পটা পত্রিকায় পাঠাবে। তুলি গল্পটি বারবার পড়ে ভুল সংশোধন করল। তারপর পরিষ্কার হাতে লিখে ডাকযোগে পাঠিয়ে দিল পাতাবাহারের ঠিকানায়।
এরপর শুরু হলো অপেক্ষার পালা। সুন্দরগঞ্জ উপজেলার নামকরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হলো ঘগোয়া দ্বিমুখী উচ্চবিদ্যালয়। প্রতিদিন এ স্কুলে পড়ার জন্য কয়েকটি জাতীয় ও সাপ্তাহিক পত্রিকা নেয়। শিক্ষক ও ছাত্র-ছাত্রী সবাই পত্রিকা পড়ে জ্ঞান অর্জন করে। তুলি প্রতিদিন পত্রিকা পড়ে আর চুপে চুপে খোঁজে তার লেখা গল্প পত্রিকায় ছাপছে কি-না। দিন যায়, সপ্তাহ যায়। এ সময় সে ভাবতে শুরু করল, তার লেখা গল্প নির্বাচিত হয়নি। তাই পত্রিকায় ছাপেনি।
শনিবার তুলির গল্প মানিক স্যারের চোখে পড়ল। তিনি পুরো গল্পটি পড়ে নিশ্চিত হলেন এটি তুলির লেখা। মানিক স্যার পত্রিকায় প্রকাশিত তুলির গল্পটি নিয়ে স্কুলের অফিস কক্ষে সবার সামনে আলোচনা করলেন। শিক্ষকরা শুনে মহাখুশি। স্যার-ম্যাডামরা তুলিকে অফিসে ডেকে নিয়ে অভিনন্দন জানালেন এবং তার লেখার প্রশংসা করলেন। আনন্দে তুলির দু’চোখ বেয়ে পানি ঝরছে।
তুলি পত্রিকায় যখন ছাপার অক্ষরে নিজের নাম ও লেখা দেখল, তখন তার মনে হলো যেন সে আকাশ ছুঁয়ে ফেলেছে। সেদিন সে বুঝতে পারল, স্বপ্নপূরণ হতে পারে, যদি ধৈর্য আর পরিশ্রম নিয়ে চেষ্টা করা যায়। এরপর থেকে তুলি আরও বেশি বেশি লিখতে শুরু করল। কারণ একটি লেখা ছাপা মানে শুধু তার আনন্দই বাড়ায়নি, তাকে নতুন স্বপ্ন দেখার সাহসও যুগিয়েছিল। এরপর থেকে তুলির গল্প বিভিন্ন পত্রিকায় ছাপে। স্কুলের অন্যান্য ছাত্র-ছাত্রীরাও তুলির লেখায় অনুপ্রাণিত হয়ে লিখতে শুরু করল। একে-অপরের পরামর্শে লেখার মানও বাড়তে লাগল। এরপর থেকে ঘগোয়া দ্বিমুখী উচ্চবিদ্যালয়ের সুনাম চতুর দিকে ছড়িয়ে পড়ল। লেখক গড়ার স্কুল হিসেবে পরিচিত বাড়তে লাগল।