হাজার হাজার কোটি টাকার প্রকল্পে নেই সুফল

সামান্য বৃষ্টিতেই ডুবছে ঢাকা-চট্টগ্রাম


১৬ জুলাই ২০২৬ ১০:৪৯

চট্টগ্রামে পরিকল্পনাহীন মেগা প্রকল্প
আওয়ামী আমলে হয়েছে লুটপাট

॥ সাইদুর রহমান রুমী ॥
বিগত দেড় দশকে উন্নয়নের নামে দুই মেগাসিটি ঢাকা-চট্টগ্রামে বিশাল বিশাল প্রকল্প বাস্তবায়ন দেখানো হলেও আধাঘণ্টার বৃষ্টিতেই তলিয়ে যাচ্ছে নগরী দুটি। বছরের পর বছর ধরে চলা দলীয় দুর্বৃত্তায়নে উন্নয়নের ফানুসে চলা অপরিকল্পিত নগরায়ণ, নদী-খাল ও জলাশয় দখল এবং জলাভূমি ভরাটের চরম মাশুল দিচ্ছে বাংলাদেশ। হাজার হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে সমাপ্ত প্রকল্পগুলোয় মিলছে না কোনো সুফল। ফলে সামান্য বর্ষণেই দেশের অর্থনীতির প্রাণকেন্দ্র রাজধানী ঢাকা ও বাণিজ্যিক রাজধানী চট্টগ্রাম একযোগে জলমগ্ন হয়ে কার্যত অচল হয়ে পড়ছে।
বিগত কয়েক দশকের অপরিকল্পিত উন্নয়ন, বিভিন্ন সংস্থার সমন্বয়হীনতা এবং নাগরিকদের চরম অসচেতনতা পরিস্থিতি জটিল করে তুলেছে। একদিকে সরকারের উন্নয়ন প্রকল্পে পানিপ্রবাহের পথ বন্ধ করা হয়েছে; অন্যদিকে নাগরিকদের দায়িত্বহীনতায় অবশিষ্ট ড্রেন ও নালাগুলো পলিথিন, প্লাস্টিক ও কঠিন বর্জ্যে ভরে পানি চলাচলের পথ বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। টানা ভারী বর্ষণে দেশের অর্থনীতির প্রাণকেন্দ্র এ দুই সিটি একযোগে ডুবে কার্যত অচল হয়ে পড়েছে।
কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে নেই উন্নতি
ঢাকা সিটি করপোরেশন তথ্যমতে, দুই সিটিতে গত চার বছরে ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়নে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন ২৬২ কোটির বেশি টাকা ব্যয় করেছে। এ সময়ে ৩৩৪ কিলোমিটারের বেশি ড্রেন ও বক্স কালভার্ট নির্মাণ করা হয়েছে। তারপরও প্রায় প্রতিবার ভারী বৃষ্টির পরই রাজধানীবাসীকে তীব্র জলাবদ্ধতার ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। অথচ গত এক দশকে জলাবদ্ধতা নিরসনে অন্তত ৩ হাজার কোটি টাকার বেশি ব্যয় করা হলেও বাস্তবে কাক্সিক্ষত উন্নতি দেখা যায়নি।
স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের তথ্যানুযায়ী, ২০১৮ থেকে ২০২০ সালের মধ্যে রাজধানীর ড্রেন, বক্স কালভার্ট ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়নে প্রায় ১ হাজার ২৭৮ কোটি টাকা ব্যয় করা হয়। পরে ২০২১ সালে ঢাকা ওয়াসার কাছ থেকে খাল ও স্টর্ম ওয়াটার ড্রেনেজ ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব দুই সিটি করপোরেশনের কাছে হস্তান্তরের পর নতুন করে ড্রেন নির্মাণ, খাল পুনঃখনন, অবৈধ দখল উচ্ছেদ, পাম্পিং স্টেশন উন্নয়ন এবং বর্জ্য অপসারণে একাধিক প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়।
এছাড়া শুধু ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) ড্রেন নির্মাণ ও সংস্কারে প্রায় ৬০৫ কোটি টাকা এবং ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) প্রায় ৭১১ কোটি টাকা ব্যয় করেছে। পাশাপাশি রাজধানীতে শত শত কিলোমিটার নতুন ড্রেন ও বক্স কালভার্ট নির্মাণ করা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু নতুন ড্রেন নির্মাণ করে এ সংকটের সমাধান হবে না। এর জন্য রাজধানীর প্রাকৃতিক পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা পুনরুদ্ধার করা জরুরি। বিশেষজ্ঞদের মতে, দুই মেগাসিটির সঙ্কটের মূল কারণ হলো ঢাকায় ১২০ কিলোমিটার খালের বিলুপ্তি। ৭৫ শতাংশ জলাভূমি ভরাট। ড্রেনেজ বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ব্যর্থতা। অন্যদিকে চট্টগ্রামে ১৪ হাজার কোটি টাকার প্রকল্পে ব্যর্থতা। ৫৭ খালের মধ্যে ২১টিই পরিকল্পনার বাইরে।
ঢাকার খাল হারিয়ে কংক্রিটের নগরী
‘রিভার অ্যান্ড ডেল্টা রিসার্চ সেন্টার’-এর তথ্যানুযায়ী, দখল ও ভরাটের কারণে ঢাকা শহর থেকে বিগত কয়েক দশকে প্রায় ১২০ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যরে প্রাকৃতিক খাল হারিয়ে গেছে। অন্যদিকে সিইজিআইএসের গবেষণায় দেখা গেছে, গত চার দশকে ঢাকার প্রায় ৭৫ শতাংশ জলাভূমি বিলীন হয়ে কংক্রিটের কাঠামোয় রূপ নিয়েছে। প্রতিদিন উৎপন্ন বর্জ্যরে একটি বিশাল অংশ ড্রেনে জমে থাকায় সরকারের কোটি কোটি টাকার ‘ড্রেনেজ মাস্টারপ্ল্যান’ কোনো কাজে আসছে না।
চট্টগ্রামে পরিকল্পনাহীন মেগা প্রকল্প
বিপুল ব্যয়, শূন্য সুফল চট্টগ্রামে। ২০১৭ সাল থেকে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ) ও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনসহ তিনটি সংস্থা মোট ১৪ হাজার কোটি টাকার চারটি মেগা প্রকল্প গ্রহণ করে। ইতোমধ্যে ১০ হাজার কোটি টাকার বেশি ব্যয় হলেও শহরবাসী তার তেমন কোনো সুফল পাচ্ছে না। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সঠিক সম্ভাব্যতা যাচাই না করে প্রকল্প নেয়া এবং শহরের ৫৭টি খালের মধ্যে ২১টিকে সম্পূর্ণ পরিকল্পনার বাইরে রাখাই এই ব্যর্থতার মূল কারণ।
হারিয়ে গেছে রাজধানী ঢাকার জলাধার
বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্সের (বিআইপি) ২০১৯ সালের এক গবেষণায় উদ্বেগজনক চিত্র উঠে এসেছে। গবেষণায় দেখা গেছে, আগের ডিটেইলড এরিয়া প্ল্যান (ডিএপি-২০১০) প্রণয়নের পর থেকে ঢাকা নির্ধারিত বন্যাপ্রবাহ এলাকা, রিটেনশন পুকুর ও জলাশয়ের ৩ হাজার ৪৪০ একর হারিয়েছে। গবেষণায় বলা হয়েছে, ১৯৯৫ সালে ঢাকার প্রাণকেন্দ্রের ২০ দশমিক ৫৭ শতাংশ এলাকা ছিল জলাশয়। ২০২৩ সালে তা কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ২ দশমিক ৯ শতাংশে। একই সময়ে সবুজ এলাকার পরিমাণ ২২ শতাংশ থেকে কমে ৯ শতাংশে নেমে এসেছে। নগর পরিকল্পনাবিদদের মতে, একসময় এসব প্রাকৃতিক জলাশয় বৃষ্টির পানি শোষণ করত। এখন সেসব জায়গা না থাকায় পানি জমে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হচ্ছে।
গবেষণা অনুযায়ী, দখল হওয়া মাত্র ১৫টি খাল পুনরুদ্ধার করা গেলে রাজধানীর প্রায় ৮০ শতাংশ পুনরাবৃত্ত জলাবদ্ধতা কমানো সম্ভব। পুনরুদ্ধারের জন্য চিহ্নিত খালগুলোর মধ্যে রয়েছেÑ রূপনগর প্রধান খাল, বাউনিয়া খাল, বাইশটেকি খাল, সাংবাদিক কলোনি খাল, কল্যাণপুর খাল, ইব্রাহিমপুর খাল, পান্থপথ বক্স কালভার্ট খাল, রায়েরবাজার খাল, জিরানি খাল, রামপুরা খাল, দোলাই খাল, কদমতলী খাল এবং মান্ডা খাল।
এসব গবেষণায় রাজধানীর জলাবদ্ধতার ৯টি প্রধান ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাও চিহ্নিত করা হয়েছে। এগুলোর মধ্যে রয়েছেÑ মিরপুর, পল্লবী, ধানমন্ডি, গ্রিন রোড, রামপুরা, বাড্ডা, পুরান ঢাকা ও জুরাইনসহ বিস্তীর্ণ এলাকা। বিশেষজ্ঞদের মতে, ঢাকার জলাবদ্ধতা সমস্যার জন্য কোনো একক সংস্থা দায়ী নয়; বরং এর দায় একাধিক প্রতিষ্ঠানের। তাদের মতে, সিটি করপোরেশন, পানি-সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ, উন্নয়ন সংস্থা এবং বিভিন্ন ইউটিলিটি সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সমন্বয়ের অভাবে ড্রেনেজ প্রকল্প বাস্তবায়ন ও রক্ষণাবেক্ষণ প্রায়ই বিলম্বিত হয়। এ ছাড়া খাল দখল, দুর্বল বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, ড্রেন বন্ধ হয়ে যাওয়া, অবকাঠামো নির্মাণকাজে বিলম্ব এবং যত্রতত্র ময়লা-আবর্জনা ফেলা রাজধানীর জলাবদ্ধতা সংকটকে আরও তীব্র করছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ড্রেনেজ অবকাঠামো সড়ক, ইউটিলিটি সেবা ও নগর পরিকল্পনার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। ফলে বিভিন্ন সংস্থার বিচ্ছিন্ন কার্যক্রমই ঢাকার জলাবদ্ধতা সমস্যার সমাধানে অন্যতম বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। নগর পরিকল্পনাবিদদের মতে, প্রতিবার ভারী বৃষ্টির পর জরুরি পদক্ষেপ নেওয়ার পরিবর্তে ঢাকার জন্য সমন্বিত ও দীর্ঘমেয়াদি ড্রেনেজ কৌশল গ্রহণ করা প্রয়োজন। তারা দখল হওয়া খাল ও জলাভূমি পুনরুদ্ধার, রাজধানীর অবশিষ্ট বন্যার পানি ধারণক্ষম এলাকা সংরক্ষণ, ড্রেন যাতে আবর্জনায় বন্ধ না হয়, সেজন্য বর্জ্য ব্যবস্থাপনা উন্নত করা, টেকসই নগর ড্রেনেজ ব্যবস্থা চালু, ড্রেনেজ ও নগর উন্নয়নের দায়িত্বে থাকা সব সংস্থার মধ্যে কার্যকর সমন্বয় নিশ্চিত করা এবং বিদ্যমান ড্রেনেজ অবকাঠামোর নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের সুপারিশ করেছেন।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জলাবদ্ধতার কারণে শুধু যাতায়াত ব্যাহত হয় না, উৎপাদনশীল কর্মঘণ্টাও নষ্ট হয়। এতে নগর অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। নগর পরিকল্পনাবিদদের মতে, রাজধানীর প্রাকৃতিক জলাধার, খাল ও জলাশয় ভরাট হয়ে যাওয়ায় বৃষ্টির পানি দ্রুত নিষ্কাশনের পথ সংকুচিত হয়েছে। বহু এলাকায় নতুন সড়ক ও স্থাপনা নির্মাণ করা হলেও সেই অনুপাতে ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন হয়নি। এছাড়া প্লাস্টিক ও কঠিন বর্জ্যে ড্রেন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় পানি নিষ্কাশন ব্যাহত হচ্ছে।
ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানিং অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের (আইপিডি) নির্বাহী পরিচালক নগর পরিকল্পনাবিদ আদিল মোহাম্মদ খান বলেন, নিউমার্কেটসহ অন্য এলাকায় দেখা যাচ্ছে, বৃষ্টির পানি নামার ব্যবস্থা নেই। ড্রেনগুলো যে নালায় যাবে, সেটার সঙ্গেও যোগাযোগের সমস্যা আছে। ড্রেন-বক্স কালভার্টে ময়লা-আবর্জনায় পরিপূর্ণ। ফলে বৃষ্টি হলেই জলাবদ্ধতা তৈরি হচ্ছে।
খাল পুনরুদ্ধার, বক্স কালভার্ট সংস্কার, পাম্প স্থাপন ও ড্রেন নির্মাণের কাজ চলমান থাকলেও বাস্তবে কাক্সিক্ষত সুফল পাচ্ছেন না নগরবাসী। ২০২০ সালে রাজধানীর খাল ও জলাবদ্ধতা নিরসনের দায়িত্ব ঢাকা ওয়াসা থেকে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এরপর বিভিন্ন খাল পুনরুদ্ধার ও ড্রেনেজ উন্নয়নের উদ্যোগ নেওয়া হলেও প্রতি বর্ষায় একই চিত্র দেখা যাচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু ড্রেন পরিষ্কার বা নতুন নালা নির্মাণ করে স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। খাল ও জলাশয় পুনরুদ্ধার, বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ ব্যবস্থা, আধুনিক ড্রেনেজ নেটওয়ার্ক, কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন এবং বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে সমন্বিত উদ্যোগ ছাড়া রাজধানীকে জলাবদ্ধতার অভিশাপ থেকে মুক্ত করা কঠিন হবে।
দ্রুত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে ক্ষতি আরও বাড়বে
এ বিষয়ে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (ডিসিসিআই) সভাপতি তাসকীন আহমেদ বলেন, ‘বর্তমানে ভারী বর্ষণের ফলে জলাবদ্ধতা ও বন্যায় বাংলাদেশের অর্থনীতি; বিশেষ করে কৃষি ও মৎস্য খাত উল্লেখযোগ্য ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে। আমরা লক্ষ করেছি, চট্টগ্রামে ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় শতকোটি টাকা। টানা ভারী বর্ষণ, পাহাড়ি ঢল ও ভয়াবহ বন্যার কারণে বর্তমানে চট্টগ্রাম বন্দরের স্বাভাবিক কার্যক্রম বিঘ্নিত হচ্ছে। ফলে বাণিজ্যিক প্রক্রিয়া মন্থর হয়ে পড়েছে।’
ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ চট্টগ্রামের বাইরেও প্রকট জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এরই মধ্যে দেশের হাওর অঞ্চলে বোরো ধান কাটার আগেই বন্যায় ফসল নষ্ট হয়ে যাওয়ায় খাদ্য নিরাপত্তা ও কৃষকের আয় মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পাশাপাশি রাজধানী ঢাকার প্রায় বেশিরভাগ জায়গায় জলাবদ্ধতার কারণে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বিঘ্নিত হচ্ছে।
তাসকীন আহমেদ আশঙ্কা প্রকাশ করে জানান, এই সমস্যা সমাধানে দ্রুত কার্যকর নগর পরিকল্পনা, আধুনিক ড্রেনেজ ব্যবস্থা, খাল ও জলাধার পুনরুদ্ধার এবং সমন্বিত ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা না গেলে জলাবদ্ধতার অর্থনৈতিক ক্ষতি আগামী বছরগুলোয় আরও বৃদ্ধি পাবে।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আবদুস সালাম বলেন, রাজধানীর পুরোনো খালগুলো পুনরুদ্ধার এবং বৃষ্টির পানি দ্রুত বুড়িগঙ্গা ও শীতলক্ষ্যা নদীতে নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করা গেলে জলাবদ্ধতা অনেকাংশে কমানো সম্ভব হবে।