ইসলামী ব্যাংকের টারমিনেট করা কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের দায়ের করা মামলাগুলি আইনত বৈধ মামলা নয়
৩০ জুন ২০২৬ ২৩:২৬
আজ ৩০ শে জুন, ২০২৬, ঢাকার দ্বিতীয় শ্রম আদালতে ইসলামী ব্যাংকের টারমিনেট করা কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের দায়ের করা মামলাগুলি আইনত বৈধ মামলা নয়, কারণ বলে দাবি করেছেন বিবাদী ইসলামী ব্যাংকের আইনজীবী জনাব সুলতান মাহমুদ হোসাইনী। তার দাবি পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করে তিনি বলেন, কোর্ট থেকে আইন সংগত আরজি ও সমন দেওয়া হয়নি। এজন্য বিবাদী ইসলামী ব্যাংকের পক্ষের আইনজীবী জনাব সুলতান মাহমুদ হোসাইনী ১৭২১ /২০২৫ নং মামলা থেকে ১৭৫০/২০২৫ নং মামলা পর্যন্ত মোট ৩০ টি মামলার বৈধ আরজি ও সমনের জন্য ঢাকার দ্বিতীয় শ্রম আদালতে “আদালতের সীলমোহর, স্বাক্ষর ও তারিখ সহ সঠিক আরজি সরবরাহের জন্য দরখাস্ত” করেছিলেন।
তিনি তার দরখাস্তে বলেন, মাননীয় বিজ্ঞ আদালতে বিনীত নিবেদন এই যে, আমরা বিবাদী পক্ষ মামলার জবাব লিখতে গিয়ে বিভিন্ন সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছি।
১. প্রেরিত আরজিতে আদালতের কর্মকর্তার স্বাক্ষর, সীলমোহর ও মামলা দায়েরের তারিখ সহ আরজি পাঠানো হয়নি।
২. যে কারণে আমরা তামাদির হিসাব করে জবাব জমা দেয়ার অধিকার থেকে বন্চিত হচ্ছি।
৩. এ বিষয়ে আদালতের Obligations আছে বলে প্রতীয়মান হচ্ছে।
৪. আদেশ নং ৫ এর ১(৩) বিধিতে বলা হয়েছে “প্রত্যেকটি সমনে বিচারক অথবা তৎকর্তৃক নিযুক্ত কর্মকর্তার স্বাক্ষর থাকবে এবং উক্ত আদালতের সীলমোহরে মোহরাঙ্কিত থাকিতে হইবে”। প্রাপ্ত সমন ও আরজি আদালতের মোহরাঙ্কিত নয়।
৫. একই আদেশের ১০ বিধিতে বলা হয়েছে ” বিচারক কর্তৃক স্বাক্ষর অথবা উক্ত উদ্দেশ্যে বিচারক দ্বারা নিয়োগ প্রাপ্ত অনুরূপ কোন কর্মকর্তার স্বাক্ষর এবং আদালতের মোহরাঙ্কিত সমনের একটি নকল অর্পন বা প্রদান করিয়া জারী করিতে হইবে।” আমাদের জন্য আইন অনুযায়ী মোহরাঙ্কিত, স্বাক্ষরিত এবং তারিখ সহ জারী হয়নি।
অর্থাৎ আইনত সমন ও আর্জি আইনি বৈশিষ্ট্য সহ আইন অনুযায়ী এখনো জারী হয়নি।
এছাড়াও ৭ আদেশের ৯(৪) বিধিতে আরজি গ্রহণের প্রণালী হিসাবে বলা হয়েছে ৯(৪) ” উপরোক্ত তালিকা, বিবৃতি, নকল প্রভৃতি আদালতের প্রধান কেরানী পরীক্ষাপূর্বক যদি দেখিতে পান যে, সেইগুলো সঠিক হয়েছে তাহা হইলে তিনি সেইগুলিতে স্বাক্ষর প্রদান করিবেন “।
এই বিধান টা পরিপালন এখনো হয়নি, বিধায় আদালত তা গ্রহণ করেনি মর্মে গন্য হওয়ার কথা।
এই বিধান অনু্যায়ী এখনো এই মামলার আরজি আদালতে দাখিলই হয়নি। পরীক্ষীত লিখে স্বাক্ষর ও মোহরাংকিত করে তারিখ দেওয়ার কথা, যা অদ্যাবধি দেওয়া হয়নি। আদালতের প্রধান কেরানী এখনো মামলার আরজি পরীক্ষাই করেন নাই। অথচ সমন ইস্যু হয়ে গিয়েছে!
এই বিধি অনুযায়ী মামলা গৃহীত হওয়ার পর prospective তারিখে সমন ইস্যু করার জন্য মাননীয় আদালতে আবেদন করছি।
এ বিষয়ে মাননীয় আদালতের বিজ্ঞচিত সিদ্ধান্ত দরকার।
কোর্টের কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা এখনো আইনত মামলাটি স্বাক্ষর ও সীলমোহর দিয়ে গ্রহন নাই অথচ সমন ইস্যু হয়ে গিয়েছে। এই সকল অনিয়ম দূর করে বৈধ আরজির দরখাস্তের বিপরীতে বাদীর আইনজীবী জনাব এ কে এম বশিরুজজামান বলেন যে এখানে আমার কিছু করনীয় নাই। তিনি এটাও বলেন যে ৩০০০ এর মত মামলা এখন কি হবে! বিবাদীরা মুল কপি দেখে তারিখ লিখে নিতে পারেন।
বিবাদী ইসলামী ব্যাংকের আইনজীবী জনাব সুলতান মাহমুদ হোসাইনী বলেন, “আমার লারনেড ফ্রেনড এর বক্তব্য সম্পূর্ণ বেআইনি। কোর্ট এর দায়িত্ব পালনকারীর কাজ অন্য কেউ করতে পারেনা। এডভোকেট সুলতান মাহমুদ হোসাইনী বলেন যে একটা সমনেও রেজিসটারের নাম ও সীলমোহর নাই। লেবার কোর্টের মাননীয় চেয়ারম্যান রাজিয়া সুলতানা বলেন যে সমনের নোটিশে কোর্টের নাম তো আছে। তখন আইনজীবী সুলতান মাহমুদ হোসাইনী বলেন কোর্টের নাম তো টাইপ করা, এটাতো হবেনা, টাইপ করা কোর্টের নাম তো স্বাক্ষর ও সীলমোহরের বিকল্প নয়, তারা চাকরি করবে দায়িত্ব পালন করবে না কেন? আদালত তাদের পক্ষে কথা বলবে কেন? আইনত স্বাক্ষর কারীর নাম, পদবী, তারিখ ও সীলমোহর থাকা মেন্ডেটরী। আপনি বিচারক হয়ে কেন আদালতের কর্মচারীদের পক্ষে কথা বলছেন? যারা সঠিকভাবে আইনে অর্পিত দায়িত্ব পালন না করে অপরাধ করছে, আপনি তো মাননীয় বিচারক, অপরাধীদের পক্ষে কথা বলা বেমানান, এভাবে বিচার প্রশ্নবিদ্ধ হয়, যার কাজ তাকে দিয়েই করাতে হবে। আদালতের অবস্থা দৃষ্টে মনে হচ্ছে মামলাগুলি বাদী বনাম বিবাদীর মধ্যে হচ্ছেনা, বরং কোর্ট বনাম আদালতের মধ্যে মামলা চলছে। তিনি কোর্টে আজ ৩০টি মামলার আরজি আইনত অগ্রহনীয় হওয়ায় আদালতে ফিরিস্তি করে ফেরত দেন।
এডভোকেট সুলতান মাহমুদ হোসাইনী কোর্টকে প্রদর্শন করে দেখান যে একটা আরজীতেও কোর্টের কোন কর্মকর্তার স্বাক্ষর নাই। তিনি আরো বলেন এ সকল ত্রুটির জন্য ৪৭ ও ৫২ ডিএল আর এ অনেক নজীর আছে যে কারণে মামলাগুলি খারিজ হতে পারে। তবে তিনি বলেন তিনি মামলা খারিজের দরখাস্ত করেন নাই, শুধু আইন সংগত আরজি ও সমন দাবী করছেন যাতে মামলার জন্য তামাদির হিসাব করে পরবর্তী স্টেপ নিতে পারেন। তিনি শুনানীতে কলিকাতা হাইকোর্টের যুগান্তকারী ল্যান্ডমার্ক মামলা B.K Gooyee বনাম Commissioner income Tax মামলাটি আলোচনা করে বলেন এ রকম সমন ও আরজীতে সীলমোহর, স্বাক্ষর ও তারিখ না থাকায় আইনগত ভিত্তি বা জুরিসডিকশন লংঘন হয়।
কোন আদালতের কার্যক্রম শুরু করার পূর্ব শর্ত হলো সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির উপর বৈধ নোটিশ বা সমন জারি করা। B.K Gooyee মামলায় আদালত স্পষ্ট করে দেন যে স্বাক্ষর বিহীন নোটিশ হলো ” আত্মাহীন শরীরের মত”(Notice with a body but without a soul).
শুনানির শেষে বিচারক বলেন যে এ বিষয়ে আদেশ দেয়া হবে।