বিরোধীদলীয় নেতার শোক

শিল্পী মুস্তাফা মনোয়ারের দাফন মঙ্গলবার

সোনার বাংলা অনলাইন
২৯ জুন ২০২৬ ১৯:৪৫

বাংলাদেশে পাপেট শিল্পের পথিকৃৎ এবং একুশে পদকপ্রাপ্ত চিত্রশিল্পী মুস্তাফা মনোয়ারের মরদেহ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সর্বসাধারণের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য রাখা হবে এবং পরে দাফন করা হবে বনানী গোরস্থানে।
তিনি সোমবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেছেন। তিনি দীর্ঘদিন ধরে নিউমোনিয়া ও প্রোস্টেট ক্যানসারে ভুগছিলেন।
মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৯০ বছর। তিনি স্ত্রী মেরী মনোয়ার, ছেলে সাদাত মনোয়ার ও মেয়ে নন্দিনী মনোয়ারসহ অসংখ্য আত্মীয়স্বজন, গুণগ্রাহী ও শুভাকাঙ্খী রেখে গেছেন।
মুস্তাফা মনোয়ারের ব্যক্তিগত সহকারী মো. রুবেল মিয়া বাসসকে জানান, হাসপাতালের যাবতীয় প্রস্তুতি শেষে সকাল ১০টার দিকে শিল্পীর মরদেহ ধানমন্ডির তাকওয়া মসজিদে নেওয়া হয়। এরপর মরদেহ বহনকারী ফ্রিজিং ভ্যানে করে তাঁকে ধানমন্ডির ১ নম্বর সড়কের নিজ বাড়িতে নেয়া হয়। আজ রাতে শিল্পীর মরদেহ স্কয়ার হাসপাতালের হিমঘরে রাখা হবে।
৩০ জুন সকাল ৯টায় বাংলাদেশ টেলিভিশনে (বিটিভি) মুস্তাফা মনোয়ারের মরদেহ নিয়ে যাওয়া হবে। সেখানে প্রথম নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। বেলা ১১টায় শহীদ মিনারে তাঁর মরদেহ সর্বসাধারণের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য রাখা হবে। পরে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদে বাদ জোহর মুস্তাফা মনোয়ারের দ্বিতীয় জানাজা শেষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদে তাঁর মরদেহে শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য রাখা হবে। বাদ যোহর বনানী কবরস্থানে শিল্পী মুস্তাফা মনোয়ারকে দাফন করা হবে।
উল্লেখ্য, বরেণ্য এই শিল্পী নিউমোনিয়াসহ নানা শারীরিক জটিলতায় আক্রান্ত হয়ে গত ১৪ জুন রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে ভর্তি হন। তিনি এরপর কয়েক দিন ধরে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন ছিলেন।
শিল্পীর মৃত্যুতে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়, বাংলা একাডেমি, বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি ও সম্মিলিত সামাজিক আন্দোলনসহ বিভিন্ন সংস্থা ও সংগঠনের নেতৃবৃন্দ শোক জানিয়েছে।
কলকাতা আর্ট কলেজে চারুকলা বিষয়ে পড়াশোনা শেষে দেশে ফিরে শিক্ষকতা, শিল্পচর্চা এবং সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডে যুক্ত হন। বাংলাদেশের পাপেট শিল্পকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে তাঁর ভূমিকা বিশেষভাবে স্মরণীয়। তিনি ১৯৩৫ সালের ১ সেপ্টেম্বর কবি গোলাম মোস্তফা ও জমিলা খাতুনের ঘরে জন্মগ্রহণ করেন।
মুস্তাফা মনোয়ার ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে মুক্তিযুদ্ধকালে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন তিনি। এছাড়াও বাংলাদেশ টেলিভিশনের অনুষ্ঠান ‘নতুন কুঁড়ি’-এর পরিকল্পনা ও নির্মাণে দক্ষতার পরিচয় দিয়েছিলেন তিনি ।
কর্মজীবনে তিনি বাংলাদেশ টেলিভিশন, বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি, জাতীয় গণমাধ্যম ইনস্টিটিউট এবং বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশন (বিএফডিসি)-সহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে দায়িত্ব পালন করেন।

মুস্তাফা মনোয়ারের ইন্তিকালে গভীর শোক

জাতীয় সংসদের মাননীয় বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান আজ ২৯ জুন সোমবার একুশে পদকপ্রাপ্ত বরেণ্য চিত্রশিল্পী ও বিশিষ্ট সাংস্কৃতিক সংগঠক মুস্তাফা মনোয়ারের ইন্তিকালে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করে বলেন,

“বাংলাদেশের শিল্প, সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র ছিলেন মুস্তাফা মনোয়ার। বিশেষ করে চিত্রকলা এবং শিশুতোষ সৃজনশীল অনুষ্ঠান নির্মাণে তাঁর অনন্য ও কিংবদন্তিতুল্য অবদান জাতি চিরকাল শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করবে। তিনি তাঁর সৃজনশীল কর্মের মাধ্যমে এ দেশের সংস্কৃতিকে সমৃদ্ধ করেছেন। তাঁর অবর্তমানে দেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে যে অপূরণীয় ক্ষতি ও শূন্যতা তৈরি হলো, তা সহজে পূরণ হবার নয়।

আমীরে জামায়াত ডা. শফিকুর রহমান মরহুমের রূহের মাগফিরাত ও শান্তি কামনা করেন এবং তাঁর শোকসন্তপ্ত পরিবার-পরিজন, অনুসারী ও গুণগ্রাহীদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান। তিনি আশা প্রকাশ করেন, আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা তার পরিবারবর্গকে এই কঠিন শোকে ধৈর্য ধারণ করার তাওফিক দান করুন।-প্রেস বিজ্ঞপ্তি

বিরোধীদলীয় নেতার শোক