বাংলাদেশের জনগণ কোনো আধিপত্যবাদী আগ্রাসনের কাছে মাথানত করেনি, করবে না- সাবেক এমপি অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার
১৫ জুন ২০২৬ ২০:৩৯
প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল সাবেক এমপি মিয়া গোলাম পরওয়ার
ভারত কর্তৃক বাংলাদেশে পুশইন, সীমান্ত হত্যা ও নির্যাতনের প্রতিবাদে আজ ১৫ জুন সোমবার বিকেলে রাজধানীর শাহবাগে ১১ দলীয় ঐক্যের উদ্যোগে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
১১ দলীয় ঐক্যের সমন্বয়ক এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি ড. এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদের সভাপতিত্বে ও কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহাগরী উত্তরের সহকারী সেক্রেটারি ডা. ফখরুদ্দিন মানিক এবং দক্ষিণের সহকারী সেক্রেটারি দেলাওয়ার হোসেনের সঞ্চালনায় সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল সাবেক এমপি মিয়া গোলাম পরওয়ার। সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী , বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব মাওলানা জালাল উদ্দীন আহমেদ, আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবি পার্টির) সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ, বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) সহসভাপতি ইঞ্জিনিয়ার রাশেদ প্রধান, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির সিনিয়র নায়েবে আমীর আব্দুল বাতেন আনসারী, খেলাফত মজলিসের নায়েবে আমীর মাওলানা আহমদ আলী কাসেমী, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির চেয়ারম্যান এডভোকেট আনোয়ারুল ইসলাম চাঁন, এলডিপির প্রেসিডিয়াম সদস্য ড. নেয়ামুল বশির, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য মোবারক হোসাইনসহ ১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ।
মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, লাল-সবুজ পতাকার ভূখন্ড রক্ষায় এদেশের জনগণ ঐক্যবদ্ধ রয়েছে। বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী ৩২ জেলার জনগণ পুশইন রুঁখে দিতে বিজিবিকে সহযোগিতায় প্রস্তুত আছে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের মানুষ শান্তিপ্রিয় এবং বন্ধুত্বে বিশ্বাসী। কিন্তু কেউ যদি বন্ধুত্বের বেশে দাদাগিরি করতে চায়, তবে এদেশের জনগণ সেটি মেনে নেয় না, নেবে না। এসময় তিনি ১৯৪৭-এর কথা স্মরণ করিয়ে দেন।
গোলাম পরওয়ার বলেন, বাংলাদেশের সীমান্ত সমস্যা সমাধানে ন্যায্যতা ও সমতার ভিত্তিতে প্রতিবেশী রাষ্ট্রের সাথে আমরা সম্পর্ক চাই। এদেশের জনগণ কারো কোনো আধিপত্যবাদী আগ্রাসনের কাছে মাথানথ করেনি, করবে না। প্রতিবেশী রাষ্ট্র হিসেবে ভারত আমাদের প্রতি আগ্রাসী আচরণ করছে। ভারতের সীমানা, স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও অখন্ডতার প্রতি আমরা শ্রদ্ধাশীল, কিন্তু আপনারা (ভারত) আমাদের প্রতি সম্মান দেখাতে পারেননি। ভারত ফ্যাসিস্ট হাসিনাকে আশ্রয় দিয়ে বাংলাদেশের জনগণের সাথে বন্ধুত্ব ছিন্নের বার্তা দিয়েছে। শহীদ ওসমান হাদির খুনিকে আটকের পরও বাংলাদেশে ফেরত না দিয়ে ভারত বন্দী বিনিময় চুক্তি ভঙ্গ করেছে। তিনি ভারত সরকারের উদ্দেশে বলেন, কোনো দলের সঙ্গে নয়, বাংলাদেশের জনগণের সঙ্গে বন্ধুত্ব করতে হলে এদেশের জনগণের পক্ষে ভূমিকা রাখতে হবে।
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, অভিন্ন আকাশের স্বপ্ন ১৯৪৭ সালে ভারত ভঙ্গ করেছিল। তারা মুসলিম কার্ড খেলা করে মুসলমানদের ওপর জুলুম- নির্যাতন চালিয়েছে। সেখান থেকেই আমরা অভিন্ন ভারতের বিরুদ্ধে ফুঁসে উঠতে বাধ্য হয়েছিলাম। তিনি সরকারের উদ্দেশ্যে বলেন, যদি মুজিববাদের পথে হাঁটেন, তবে আবারও মুজিববাদের বিরুদ্ধে ছাত্র-জনতা রাজপথে নামতে বাধ্য হবে।
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব মাওলানা জালাল উদ্দীন আহমেদ বলেন, আমাদের দেশের সীমান্তে ভারত প্রতিদিন হত্যাকাণ্ড ঘটাচ্ছে, পুশইন করছে। জনগণ উদ্বিগ্ন হলেও আমাদের সরকার উদ্বিগ্ন নয়। সরকারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী বলছে এটি বর্ডার কিলিং নয়! তাহলে বর্ডার কিলিং কাকে বলে সেটি স্পষ্ট করতে তিনি সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।
আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবি পার্টির) সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ বলেন, বাংলাদেশের জনগণকে বুঝা দরকার সীমান্ত হত্যা ও পুশইনের নামে যা ঘটছে, তা আমাদের স্বাধীনতার ওপর হুমকি। তিনি ভারতের উদ্দেশে বলেন, আপনাদের দাসত্বের আওয়ামী লীগ এদেশে আর ফিরবে না। এদেশের মানুষ বিপ্লবী, প্রতিবাদী। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, সীমান্ত হত্যা ও পুশইন বন্ধ না করলে এদেশের জনগণ রুখে দাঁড়াবে।
বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান ইরান বলেন, পররাষ্ট্র মন্ত্রী, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী ভারতের দালাল হলেই নিয়োগ দেওয়া হয়; নাকি নিয়োগ পাওয়ার পর এরা দালাল হয়ে যায়। আজকের পররাষ্ট্র মন্ত্রী কথা বলছেন দীপু মনির ভাষায়, হাসান মাহমুদের ভাষায়। তিনি, শুভেন্দু অধিকারী ও শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত দাবি করে তাদের বাংলাদেশে পুশইন করার আহ্বান জানান।
জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) সহসভাপতি ইঞ্জিনিয়ার রাশেদ প্রধান বলেন, বাংলাদেশ সরকার নতজানু পররাষ্ট্র নীতি গ্রহণ করায় ভারত সেই সুযোগ কাজে লাগাচ্ছে। বিএনপি মদিনা সনদে দেশ পরিচালনা করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে এখন মোদির সনদে দেশ পরিচালনা করছে। যারাই মোদির সনদে চলেছে তাদের ঠিকানা ভারতে হয়েছে।
সভাপতির বক্তব্যে ড. হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, জুলাইয়ের চেতনা ছিল আধিপত্যবাদের দোসর ফ্যাসিবাদের আগ্রাসনের বিরুদ্ধে। জুলাইয়ে আকাঙ্ক্ষা ছিল- আধিপত্যবাদের দোসর ও ফ্যাসিবাদের বিদায়ের পর সীমান্তে আর কোনো হত্যা হবে না। কিন্তু বিপ্লব পরবর্তী নতুন সরকারও ভারতীয় সেবাদাস সরকারের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছে। ভারতের আগ্রসনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে না পারলে ক্ষমতা ছেড়ে দিয়ে ভারত চলে যেতে তিনি সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।
প্রতিবাদ সমাবেশ শেষে, সীমান্ত হত্যা ও পুশইনের প্রতিবাদে শাহবাগ শহীদ শরীফ ওসমান বিন হাদি চত্বর থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল জাতীয় প্রেস ক্লাব হয়ে পল্টন অভিমুখে যাত্রা শুরু করে। মিছিলে ১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষ নেতৃবৃন্দসহ সর্বস্তরের জনসাধারণ অংশগ্রহণ করেন।-
ঢাকা- ১৫ জুন ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
প্রেস বিজ্ঞপ্তি
প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন সমকালীন বাংলা সাহিত্যের অন্যতম প্রধান কবি ও সম্পাদক মোশাররফ হোসেন খান