“অমলিন স্মৃতিতে ওবায়েদ ভাই”
১৩ মে ২০২৬ ০৭:৩১
অধ্যাপক সাইফুল্লাহ মানছুর
ছবিটি মালয়েশিয়ার কোনো এক লোকেশনে তোলা। আমি ড. আ জ ম ওবায়েদুল্লাহ ভাইকে কী শুনাচ্ছিলাম, এই মুহূর্তে আর মনে নেই—হয়তো কোনো গানের সুর কিংবা কিছু কথা। আর তিনি গভীর মনে কী ভাবছিলেন, সেটাও অজানা। হয়তো জীবন সফরের শেষ প্রান্তে দাঁড়িয়ে কিছু হিসাব মেলাচ্ছিলেন নীরবে। এটাই ছিল ভাইয়ের সঙ্গে আমার মালয়েশিয়ার শেষ সফর। সেই স্মৃতিময় দিনগুলোর কথা আজও বারবার মনে পড়ে।
হৃদয় খুলে যাদের সঙ্গে সব কথা বলা যায়, সুখ-দুঃখ ভাগাভাগি করা যায়, যাদের খুব আপন মনে হয় – সমাজে এমন মানুষের সংখ্যা সব সময়ই খুব কম। আমার দীর্ঘ সাংস্কৃতিক জীবনের অভিভাবক, বড় ভাই; যার অনুপ্রেরণায় আমার সাংস্কৃতিক জীবনের পথচলা শুরু ও বিকশিত হয়েছে- তার শূন্যতা আজও গভীরভাবে অনুভব করি।
মানুষে মানুষে রুচির ভিন্নতা থাকবে, চিন্তা-ভাবনার অমিল থাকবে এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু ওবায়েদ ভাই ছিলেন এমন একজন মানুষ, যার সঙ্গে আমার ভাবনার অদ্ভুত মিল হতো। আমাদের পথচলাটাও ছিল এক সাথে। দীর্ঘ সময় প্রবাসে থাকলেও তিনি তার সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে আমাকে সব সময় যুক্ত রেখেছেন, স্মরণ করেছেন, আমার ভাবনাগুলো জানতে চেয়েছেন। আমিও জীবনের নানা কথা তার সঙ্গে নির্দ্বিধায় ভাগ করে নিয়েছি, নিয়েছি তার মূল্যবান পরামর্শ।
সাদা মনের মানুষ আমরা অনেক খুঁজি। কিন্তু যারা ওবায়েদ ভাইয়ের সান্নিধ্যে এসেছেন, তারা জানেন – এমন নির্মল আকাশ সমান হৃদয়ের মানুষ খুঁজতে খুব বেশি দূরে যেতে হয় না।
ওবায়েদ ভাইয়ের জীবন ও কর্ম নিয়ে আরও চর্চা হোক, নতুন প্রজন্ম তা থেকে শিখুক, তার সৃজনশীল কাজগুলো মানুষের মাঝে ছড়িয়ে পড়ুক এই কামনাই করি।
আল্লাহ এই সহজ-সরল, সাদা মনের মানুষটিকে তাঁর অসীম রহমতের ছায়ায় স্থান দিন। ( প্রখ্যাত সুরকার ও কণ্ঠ শির্পী স্বদেশীয় সাংস্কৃতিক সংসদের সভাপতি সাইফুল্লাহ মানছূরের এ লেখাটি তার ফেসবুক পোষ্ট থেকে নেয়া হয়েছে।)
#SaifullahMans