অধ্যাপক মতিউর রহমান সিএনসি পদক পেলেন সৈয়দ মাসুদ মোস্তফা

সোনার বাংলা অনলাইন
৩ মে ২০২৬ ১৫:৩৫

অধ্যাপক মতিউর রহমান সিএনসি পদক পেলেন সৈয়দ মাসুদ মোস্তফা

সেন্টার ফর ন্যাশনাল কালচার (সিএনসি) আয়োজনে গত ২৮ এপ্রিল রাত ৯টায় ভার্চুয়ারি অধ্যাপক মুহম্মদ মতিউর রহমান স্মরণসভা ও পদক প্রদান অনুষ্ঠিত হয়। সিএনসির নির্বাহী পরিচালক মাহবুবুল হকের পরিচালনায় ও সচিব ইসমাইল হোসেনের উপস্থাপনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন সিএনসির সভাপতি, বিশিষ্ট শিশু সংগঠক ও লেখক অ্যাডভোকেট এ কে এম বদরুদ্দোজা। অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচকের আলোচনা রাখেন বিশিষ্ট ইতিহাস গবেষক মোহাম্মদ আশরাফুল ইসলাম।
প্রধান অতিথি বক্তব্যে বলেন, অধ্যাপক মতিউর রহমান ছিলেন বহুমাত্রিক প্রতিভার অধিকারী। তাঁর জীবনের একমাত্র লক্ষ্য ছিল সাহিত্যের শিকড় অনুসন্ধান। সে লক্ষ্যে তিনি ফররুখ গবেষণা ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠা করেন। এ ছাড়াও তিনি বেশ কিছু গবেষণা প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করেন। সিএনসি তাঁর স্মৃতি রক্ষার্থে ও নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে কাজ করে যাবে-ইনশাআল্লাহ। তিনি তাঁর অসমাপ্ত কাজগুলো সমাপ্ত করতে সাহিত্যপ্রেমীদের উদ্যোগ গ্রহণ এবং এ মহতি কাজে তাঁর পরিবারের সদস্যদের সর্বাত্মক সহযোগিতা কামনা করেন।
প্রধান আলোচকের আলোচনায় মোহাম্মদ আশরাফুল ইসলাম বলেন, অধ্যাপক মতিউর রহমান সারাজীবন সাহিত্যিকদের একতাবদ্ধ করার চেষ্টা করেছেন। বর্তমান প্রজন্মের যারা মতিউর রহমানকে নিয়ে চর্চা করতে চান তাঁরা তাঁর সৃষ্টিগুলোর সাথে নিবির সম্পর্ক গড়ে তুলতে হবে, যা অধ্যাপক মুহম্মদ মতিউর রহমান জীবন ও কর্ম বিষয়ক গবেষণার জন্য সহায়ক হবে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ মেহমান হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অধ্যাপক মুহম্মদ মতিউর রহমান এর সুযোগ্য পুত্র আহমেদুর রহমান। তিনি বলেন, সিএনসি আমার বাবাকে মনে রেখেছে এবং তাঁকে নিয়ে আলোচনা করছে যা সত্যিই প্রশংসনীয় উদ্যোগ। তিনি এজন্য সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে আরো উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ আতিয়া ইসলাম এবং বিশিষ্ট কথা সাহিত্যিক, গবেষক ও সিনিয়র সাংবাদিক সৈয়দ মাসুদ মোস্তফা। অনুষ্ঠানে সৈয়দ মাসুদ মোস্তফাকে মতিউর রহমান সিএনসি পদক ২০২৬ প্রদান করা হয়। পদক প্রাপ্তির অনুভূতি ব্যক্ত করে সৈয়দ মাসুদ মোস্তফা বলেন, অধ্যাপক মতিউর রহমান ছিলেন সাহিত্য অঙ্গনের মহিরূহতুল্য ব্যক্তিত্ব। তাঁর পাণ্ডিত্য ও সৃষ্টিশীলতার জন্য বাংলা সাহিত্য অঙ্গনে তিনি চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবেন। তিনি একজন মহান ব্যক্তির নামে তাঁকে পদক প্রদান করায় সিএনসিকে অসংখ্য ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন।
সৈয়দ মাসুদ মোস্তফার সংক্ষিপ্ত পরিচিতি ঃ সৈয়দ মাসুদ মোস্তফা একাধারে কবি, প্রাবন্ধিক, গাল্পিক, নিবন্ধকার, গীতিকার, নাট্যকার ও রম্য-লেখক। মূলত, কথাসাহিত্য সহ সাহিত্যের প্রায় সকল শাখায় তাঁর সরব পদচারণা রয়েছে। তাঁর প্রথম প্রকাশিত উপন্যাস ‘মেঘে মেঘে বেলা’। যদিও তার প্রথম উপন্যাস ‘তুলসী গঙ্গার তীরে’। প্রথম কবিতা ‘ভোরের পাখি’ এবং প্রথম ছোটগল্প ‘কুহক’। ‘আয়না বুড়ির বিয়ে’ তাঁর উল্লেখযোগ্য রম্য-রচনা। ‘অবলীলায়’ নামক নাটক লেখকের এক অনন্য সাধারণ সাহিত্যকর্ম। তিনি সঙ্গীত রচনায়ও বেশ কৃতিত্বের স্বাক্ষর রেখেছেন। তার লেখা ‘রবের হুমুক করতে পালন ছাড়ো ছাড়ে ঘুম’ বেশ দর্শক প্রিয়তা পেয়েছে।
শিক্ষকতা দিয়ে কর্মজীবন শুরু করলেও তিনি এখন খ্যাতিমান সাংবাদিক এবং পাঠক প্রিয় কলামিস্ট। তিনি বিভিন্ন জাতীয় দৈনিক, পাক্ষিক, সাপ্তাহিক ও মাসিকে বিরামহীনভাবে লিখে যাচ্ছেন। এ পর্যন্ত তার প্রকাশিত কলামের সংখ্যা তিন সহস্রাধিক। তিনি বিভিন্ন বিদেশী গণমাধ্যমে লেখিলেখি করে যাচ্ছেন দীর্ঘদিন থেকেই। হয়েছেন পুরষ্কৃতও। সর্বোপরি তিনি একজন গবেষক। তাঁর বিভিন্ন গবেষণামূলক নিবন্ধ পাঠক মহলে বেশ সমাদৃত। তাঁর সম্পাদনা বেশ গতিশীল ও সাবলীল। অনুবাদক হিসাবেও তাঁর সুখ্যাতি রয়েছে।
সব্যসাচী এ লেখক ১৯৭১ সালে ১ মার্চ জয়পুরহাট জেলার সদর উপজেলার পূর্ব সুন্দরপুরে গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ছায়া-ঢাকা, পাখি-ডাকা গ্রাম এবং বহতা তুলসী গঙ্গা নদীর নির্মল প্রাকৃতিক পরিবেশে এবং পারিবারিক আদর্শের আবহে গড়ে উঠেছেন। যার প্রভাব রয়েছে তাঁর বাস্তবজীবনে। তিনি বর্ণাঢ্য একাডেমিক ক্যারিয়ারের অধিকারী। তাঁর লেখনিতে দেশাত্মবোধ ও মানুষের অধিকার সচেতনতা লক্ষ্য করা যায়। সমাজসচেতন, সজ্জন, আত্মমর্যাদাশীল, স্পষ্টবাদী; অন্যায় ও অসত্যের সাথে আপোষহীন এ কলম সৈনিক নানাভাবে সামাজিক জুলুম-নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। তবুও তিনি কারো কাছে মাথানত করেন নি বরং তাঁর লেখনীর মাধ্যমেই আত্ম-সংগ্রাম অব্যাহত রেখেছেন।

সাহিত্য

সম্পর্কিত খবর