আলোকে তিমিরে

চাণক্যদের পরামর্শ থেকে দয়া করে দূরে থাকুন


২৯ এপ্রিল ২০২৬ ১৮:৩০

॥ মাহবুবুল হক ॥
সরকার গঠনের পরপরই সরকারপ্রধান একসাথে বেশকিছু প্রকল্প উদ্বোধন করেছেন। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য বিষয় ছিল বা আছে খাল খনন প্রকল্প। মূলত খাল খনন প্রকল্প নামে থাকলেও মূল কাজটি ছিল খাল পুনঃখনন প্রকল্প। শহীদ জিয়াউর রহমান নিজেই এ প্রকল্পের নাম দিয়েছিলেন খাল খনন ও পুনঃখনন প্রকল্প। আসলে খাল খননের মতো অত বড় বাজেট সংগ্রহ করার মতো অবস্থা তখনকার সরকারের ছিল না। এখনো আছে কিনা, আমরা জানি না। শহীদ জিয়াউর রহমানের শাহাদাতবরণের পর প্রকল্পটি ধীরে ধীরে বা নীরবে বন্ধ হয়ে যায়। কারণ ছিল ২টি- প্রথমত: ভারত এ বিষয়ে রুষ্ট ছিল। তারা চাচ্ছিল না, এই প্রকল্প সাফল্যমণ্ডিত হোক। দ্বিতীয়ত: এর মধ্যে বড় কোনো বাজেট ছিল না, যাকে কেন্দ্র করে চুরি-ডাকাতি বা লুটপাট করা যায়। অনেকটা স্বেচ্ছাশ্রমের মাধ্যমেই প্রকল্পটি সাকসেস করার ইচ্ছা ছিল শহীদ জিয়াউর রহমানের। তিনি এ ধরনের কিছু বিকল্প প্রকল্প নিয়ে জনগণকে জাগাতে চেয়েছিলেন। তিনি জনগণকে দেশের স্বত্বাধিকারী মনে করতেন। তিনি চেয়েছিলেন দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের সমস্যা ও তার সমাধান বিষয়ে জনগণকে সংযুক্ত করতে। জনগণ তার ডাকে বিপুলভাবে সাড়াও দিয়েছিল। খাদ্যের বিনিময়ে কাজটি চলছিল। কিন্তু শহীদ জিয়াউর রহমান বেঁচে থাকতেও লক্ষ করেছিলেন, শুধু প্রান্তিক জনগণ তথা কৃষির সাথে সম্পূর্ণভাবে সম্পৃক্ত যেমন কৃষক-কৃষাণি, মজুর, পানি সংগ্রহকারী, জেলে সম্প্রদায়, নৌকার মাঝি, নদীপথের যাত্রী ও মালামাল পরিবহনকারী- এরা যেহেতু শেষমেশ বেনিফিশিয়ারি হবে, সুতরাং খাল খনন ও পুনঃখননে এসব গোষ্ঠী এগিয়ে আসবে। ঠিকই তারা এগিয়ে এসেছিল। কিন্তু তাদের যারা মনিটরিং করবে স্থানীয় রাজনীতিক ও সামাজিক নেতৃবৃন্দ; বিশেষ করে বিএনপির স্থানীয় নেতৃবৃন্দ, তারা কিন্তু এগিয়ে আসেনি। এমনকি বিভাগীয় ও জেলা সরকারের প্রতিনিধিরাও সেভাবে এগিয়ে আসেনি। এই মধ্যস্বত্বভোগীরা, যারা না থাকলে বাংলাদেশের কোনো প্রকল্পই শেষমেশ চালু হতে পারে না, তাদের উৎসাহ-উদ্যোম অত্যন্ত প্রয়োজনীয় ফ্যাক্টর বলে মনে করা হয়। এসবের সাথে জড়িত থাকে যুব ও ছাত্র রাজনীতির সাথে জড়িত কর্মীবৃন্দ। প্রথম দিকে তারা সবাই উৎসাহ জুগিয়েছিল। কিন্তু একটু এগিয়ে তারা অঙ্ককষে দেখল- রাস্তাঘাট, পুল-কালভার্ট, অবকাঠামো নির্মাণ এসবে যে লাভ হয় অর্থাৎ যে পরিমাণ অর্থ সাদা-কালোয় উপার্জন করা যায়, তার চার ভাগের এক ভাগও উপার্জন করা যায় না খাল খনন ও পুনঃখনন প্রকল্পে। সুতরাং প্রকল্পটি পটল তুলতে বাধ্য হয়। যেভাবে শহীদ জিয়ার ১৯ দফা আপসে-আপ অক্কা পেয়েছিল। জিয়াউর রহমানের বাস্তবতাবোধ ছিল না, তা কিন্তু বলা যাবে না। তিনি বলেছিলেন, ‘মানি ইজ নো প্রবলেম’ এই বাক্যটি বিএনপিকে অনেক দূর এগিয়ে নিয়েছিল। গামছা ব্যবহারকারী গরিব জনসাধারণ থেকে শুরু করে, তোয়ালে ব্যবহারকারী মধ্যবিত্তরাও উদ্দীপ্ত হয়েছিল। ভেবেছিল কিছু না কিছু পাওয়া যাবে। পাওয়া যায়নি এমন নয়, যা পেয়েছিল তার তিন ভাগের দুই ভাগ চলে গিয়েছিল উচ্চমধ্যবিত্ত ও মধ্যবিত্তের পকেটে। বাকি এক ভাগ মাত্র পেয়েছিল যারা সত্যিকার অর্থে শহীদ জিয়াউর রহমানের প্রকল্পে সরাসরি অংশগ্রহণ করেছিল।
এবার যখন শহীদ জিয়াউর রহমানের পুত্র তারেক রহমান প্রায় ৪৫ বছর পর খাল খনন নিয়ে অগ্রসর হলেন, তখন দুই শ্রেণির লোক দুই ধরনের ভাবনায় পড়ে গেল। যারা দরিদ্র, তারা ভাবতে লাগলেন, তারেক রহমান তার পিতা শহীদ জিয়াউর রহমানের মতো অল্প-স্বল্প টাকায় প্রজেক্ট চালাবেন কিনা? অন্য পক্ষ যারা রাজনীতির সাথে সরাসরি সম্পৃক্ত, তাদের ভাবনা ছিল অন্যটা। ভারত খাল খননের ব্যাপারে রুষ্ট ছিল বলে বেগম খালেদা জিয়া খাল খননের বিষয়ে উৎসাহী থাকা সত্ত্বেও বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতৃবৃন্দের পরামর্শে খাল খননের দিকে ফিরে তাকাননি। তবে সেটা আরো পরের কথা। তার আগের বিষয় ছিল- জিয়াউর রহমানের পরবর্তীতে যারা ক্ষমতায় এলেন, তাদের মূল পরামর্শক ও উপদেশক ছিল আলোচিত বন্ধু দেশ ভারত। সেইসাথে আইএমএফ, ওয়ার্ল্ড ব্যাংক, এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক ও তথাকথিত উন্নত বিশ্ব। এই সরকার জাতীয় পার্টি নামে পরিচিত ছিল। তারা প্রায় ৯ বছর দেশি, বিদেশি ও প্রতিবেশীদের আশ্রয়-প্রশ্রয়ে দেশ শাসন ও শোষণ করেছে। দুর্নীতিকে প্রায়োরিটি দিয়েছে। দুর্নীতি করে যাতে মধ্যবিত্ত, উচ্চমধ্যবিত্তে পরিণত হয় এবং উচ্চ মধ্যবিত্ত পরিণত হয় ধনিকশ্রেণিতে এ ধরনের একটা সাইকেল তারা গড়ে তুলেছিল। এই সরকারের প্রেসিডেন্ট ছিলেন সামরিক বাহিনী থেকে আসা প্রেসিডেন্ট জেনারেল এরশাদ। যিনি পরবর্তীতে নিজে কবি ও পল্লীবন্ধু হিসেবে উপাধি গ্রহণ করেছিলেন। অথচ দুঃখের বিষয়, তিনি এবং তার দল কখনো পল্লীর দিকে তাকাননি। দুর্নীতিকে সাসটেইনেবল করার জন্য রাস্তাঘাট, পুল-কালভার্ট প্রয়োজনে ও অপ্রয়োজনে অবকাঠামো গড়ুন ইত্যাদিতে তারা মশগুল ছিলেন। খাল খনন, পুনঃখনন, নদী পুনঃখনন এসব কোনো প্রকল্পের দিকে তারা কখনো ফিরে তাকাননি। কারণ কৃষিতে উন্নতি করলে বাংলাদেশ জেগে উঠবে। বাংলাদেশের মানুষ এটা চাইলেও ভারতের সরকার কখনো তা চাইবে না।
এরপর ১৯৯১-তে এলো শহীদ জিয়াউর রহমানের বিএনপি সরকার। নেতৃত্বে ছিলেন, বেগম খালেদা জিয়া। তিনিও পূর্ববর্তী সরকারের দৃষ্টিভঙ্গিকে চ্যালেঞ্জ করে প্রথম দিকে এগিয়ে যেতে চাননি। সে কারণে খাল খনন ও পুনঃখনন মুখ থুবড়ে পড়ে থাকল। এরপর ভারতের পছন্দনীয় দল আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলো। তারা খাল খনন নিয়ে মাথা ঘামায়নি। তারা তেলা মাথায় তেল বাড়ানোর জন্য রাস্তাঘাট, পুল-কালভার্ট ও অবকাঠামো তৈরিতে পূর্বের মতো লেগে থাকল। মাঝে আরেকবার বিএনপি ক্ষমতায় ফিরে এলেও তাদের উদ্যোগ গ্রহণ করা দেশের অন্যতম একটি প্রকল্পের দিকে বিএনপি ফিরে তাকানোর অবকাশ পায়নি। মূল কারণ তো আমরা পূর্বেই উল্লেখ করেছি। ভারত পানি দ্বারা পাকিস্তানের সাথে শত্রুতা করতে পারেনি। এখন অবশ্য তারা মুখ রক্ষার জন্য পাকিস্তানের সাথেও পানির ক্ষেত্রে শত্রুতা শুরু করেছে। আমাদের ক্ষেত্রে পানির দিক থেকে এই শত্রুতা ছিল বিশেষভাবে দেশ ভাগের সময় থেকে। মহান আল্লাহ যেন এ এলাকায় পানিবণ্টনের মূল দায়িত্ব ভারতের ওপর অর্পণ করেছে। মাঝে মাঝে মনে হয় মহান আল্লাহ যদি ফেরেশতাদের দ্বারা আমাদের ওপর পানি বর্ষণ না করাতেন, তাহলে কিয়ামতের আগেই তো আমরা নিশ্চিহ্ন হয়ে যেতাম।
২০০৯ সালে ভারত-সমর্থিত আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতা দখলের পর প্রতি ৫ বছর অন্তর অন্তর লোকদেখানো ভুয়া নির্বাচনের মাধ্যমে প্রায় ১৬ বছর জোর করে ক্ষমতায় টিকে থাকার ব্যবস্থা করল। অথচ কোটি কোটি মানুষের প্রাণের দাবি পানির প্রয়োজনকে কোনোভাবেই সমাধান করতে পারল না। লোকদেখানো হাসির নাটক তারা করতেই থাকল। এই দীর্ঘসময় ৫৪টি নদীতে ভারত বাঁধের ব্যবস্থা করেছে, পানি আটকানোর ব্যবস্থা করেছে। কিন্তু বর্ষা মৌসুমে পানি রক্ষার জন্য আমাদের খাল-বিল সংস্কারের কোনো ব্যবস্থা করেনি। পাঠক হয়তো বলবেন, আমাদের পানির ব্যবস্থা তারা করবে কেন? কারণ একটাই আমরা পাকিস্তানকে বাদ দিয়ে ভারতকে আমাদের অভিভাবক বানিয়েছিলাম। বাঁচার জন্য ছোট ভাই পাকিস্তানকে বড় ভাই বলে মেনে নিয়েছিলাম। সেই বড় ভাই যখন ন্যায্য হিস্যা দেয়নি বা দিতে চায়নি, তখন তো আমরা এই উপমহাদেশে জ্যেষ্ঠতম ভাইয়ের পরামর্শ অনুযায়ী তাদের অভিভাবকত্ব মেনে নিয়ে মুক্তিযুদ্ধ করেছিলাম। বাহ্যিকভাবে আমরা বন্ধু-বন্ধু সম্পর্ক প্রকাশ করেছি। সেই বন্ধু বা অভিভাবক টাকা-পয়সা না দিয়ে হোক, আমাদের ন্যায্য ‘প্রকৃতি থেকে পাওনা’ হিস্যাও দেয়নি। ভালো অভিভাবক হলে বা উত্তম অভিভাবক হলে অথবা বন্ধু হলেও প্রকৃতি প্রদত্ত হিস্যাও আমাদের দেবে না- এ কথা বাংলাদেশের শিশুও কোনোদিন ভাবেনি।
২০২৪-এর মহাপরিবর্তনের কারণে শুধু নয়, আমাদের সেই একক অভিভাবকের তেলেসমাতির কারণে বিএনপি আবার ক্ষমতায় এসে গেছে। দেশবাসীর ধারণা ছিল, এবার বিএনপি খুব বেশি হলে বিরোধীদলে থাকবে। কিন্তু ভারতসহ তথাকথিত উন্নত দেশের কারণে বিএনপি সামনে এসে গেছে। এর মধ্যে হঠাৎ করেই তারেক রহমান খাল খননের কথা ঘোষণা করলেন। সবাই চমকে উঠেছে। এ আবার কোন রাজনীতি। তথ্যাভিজ্ঞমহল বাঁকা হাসি হেসে তৎক্ষণাৎ উল্লেখ করেছেন, এটাই হলো ভারতের চাণক্যনীতি। ‘যাহা করিবে তাহা বলিবে না, যাহা বলিবে তাহা করিবে না।’ প্রায় ৪৫ বছর পর বাংলাদেশের আকাশে-বাতাসে আবার খাল খননের ধ্বনি-প্রতিধ্বনি। ভারত এখন চাচ্ছে বিএনপি পপুলার হোক, জনপ্রিয় হোক। জনপ্রিয় হওয়ার তেমন কোনো সুযোগ আপাতত আওয়ামী লীগের যেহেতু নেই, সে অবস্থায় জনপ্রিয়তার দিক থেকে বিএনপি এগিয়ে যাক। তাছাড়া গত প্রায় দুই বছর ধরে আওয়ামী লীগের সহায়-সম্পদ তো আলোচনার মাধ্যমে বিএনপি ভোগ করছে। দুই দলের মধ্যে একটা সমঝোতার আবহ তৈরি হয়েছে। সেটা এগিয়ে যাক। একটা দেশে এক দলের জায়গায় দুটি বড় সেক্যুলার দল আমরা পেয়ে গেলাম, এর চেয়ে বড় লাভ আমাদের আর কী হতে পারে। ভারতের চাণক্যরা ওপরে ওপরে বিশ্ববাসীকে দেখাচ্ছে, বাংলাদেশে আওয়ামী লীগের পতনকে তারা সঠিক বলে মনে করছে না। বাংলাদেশে সবচেয়ে জনপ্রিয় দল হলো আওয়ামী লীগ। ২০২৪-এর তথাকথিত পরিবর্তন বাংলাদেশের সাধারণ মানুষ আনেনি। বাংলাদেশের আপামর জনসাধারণের অধিকাংশই তো আওয়ামী লীগের সাথে সম্পৃক্ত। আর কিছু অংশ দ্বিধা-বিভক্তভাবে বিএনপির সাথে সংযুক্ত। সেই অবস্থায় কোনো কারণ ছাড়াই জঙ্গিদের উসকানিতে ২০২৪-এর তথাকথিত উত্থান সংঘটিত হয়েছে। এটা ডিপস্টেটের কাজ। যেমন বেশ কয়েক বছর ধরে চলছে মুসলিম দেশগুলো মুখে মুখে ইসরাইলের বিরোধিতা করবে; অপরদিকে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল সামরিক চুক্তির সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যের মুসলিম দেশগুলো সম্পৃক্ত থাকবে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র একদিকে যুদ্ধ-বিগ্রহে ইসরাইলের পরিপূর্ণ নিরাপত্তা বিধান করবে; অপরদিকে ইরান ছাড়া মধ্যপ্রাচ্যের সকল মুসলিম দেশের তথা শাসনকর্তাদের আওলাদ-ফরজন্দসহ সকলের নিরাপত্তা বিধান করবে। অর্থাৎ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কিয়ামত পর্যন্ত অস্ত্রের নতুন নতুন কারখানা উদ্বোধন ও অস্ত্র উৎপাদনে মশগুল থাকবে। জীবনের অন্যান্য চাহিদা আমদানির মধ্যমে পূরণ করবে। যুদ্ধ বন্ধ করলে সবচেয়ে ক্ষতি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের। তাদের ভয়াবহ আয় নির্ঘাত কমে যাবে। সুতরাং সারা দুনিয়ার সকল দেশের জাতীয় নিরাপত্তার দায়িত্ব মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ওপর ন্যস্ত হতেই থাকবে। এই ডিপস্টেটের ফর্মুলা খুবই সহজ। আমাদের পল্লীগাঁয়ে একটা কথা যুগ যুগ ধরে প্রচলিত আছে, সেটা হলো- এমন সময় আসবে, যখন গ্রামের প্রধান মোড়ল ‘চোরকে বলবে চুরি কর, আবার গৃহস্থকে বলবে সজাগ থাক’।
ভারত কখনো বাংলাদেশের দুটি বড় দলকে বাহ্যিকভাবে একই প্ল্যাটফর্মে দেখাবে না। কিন্তু তলে তলে তারা একই মন্ত্রের শিষ্য থাকবে। যেমন ভারতের মূল দল হলো, ‘আরএসএস’। তার নমনীয় বাহ্যিক শাখা হলো কংগ্রেস আর শৌর্য-বীর্যের শাখা হলো বিজেপি। বাংলাদেশের ক্ষেত্রে ভারতের মূল শাখা হলো- আওয়ামী লীগ, নমনীয় শাখা হলো বিএনপি ও জাতীয় পার্টি। এর সাথে আরো একটি ধর্মীয় শাখা বানানোর চেষ্টা বহুকাল যাবত তারা করে আসছে। ইতোমধ্যে ‘ইসকন’ নামে একটি দল তারা তৈরি করতে সক্ষম হয়েছে। কিন্তু সেটা ধরা পড়ে যাওয়ায় মৌলবাদী একটি মুসলিম দলকে নিজেদের আয়ত্তে নেয়ার দুর্গম প্রচেষ্টা তারা অব্যাহত রেখেছে। শোনা যায়, ভিন্ন দল থেকে তারা ‘মৌলভী’ পেয়ে গেছে। তাদের ভারতে নিয়ে ট্রেনিং দেয়ার প্রচেষ্টা চলছে।
এসব অবস্থার মধ্যে খাল খনন সঠিকভাবে সন্তরণ না করা সত্ত্বেও বাংলাদেশের ভারতলগ্ন একজন বুদ্ধিজীবী ডাক্তার বলেই ফেলেছেন, ‘আরে, খাল খননের কাজ তা প্রায় শেষ পর্যায়ে’। তার মানে কী? শুরুই তো ভালো করে হলো না, অথচ তিনি শেষ করে দিলেন। এটা কি স্বপ্ন না বাস্তব? একজন শুরু করলেন, আরেকজন শেষ করলেন। মাঝখানে আর কেউ নেই। তথ্যাভিজ্ঞমহল আমাদের প্রধানমন্ত্রীর ‘আই হ্যাভ এ প্লান’কে এভাবেই এখন ব্যাখ্যা করছেন। দিনে স্বপ্নের কথা বলা হবে, আর রাতে স্বপ্নের বাস্তবায়ন হয়ে যাবে। জনগণের যে কপাল সে মাথা। সস্তা পপুলারিটির দিন কিন্তু এখন আর নেই। ২০২৪-এর বিপ্লবের কারণে আসল ও ভুয়া সবকিছু আমাদের কিশোর-কিশোরীরা জানে। কোটা আন্দোলনের পূর্বে ‘নিরাপদ সড়ক আন্দোলনকালে’ শিশু-কিশোররাই বলেছিল, ‘ভুয়া, ভুয়া’। কারণ তারা চাক্ষুষ দেখেছে যে গাড়ি চালায় সে ড্রাইভার নয়, সে হলো গাড়ির এসিস্টেন্ট। গাড়ির কোনো লাইসেন্স নেই, রুট পারমিট নেই, মেয়াদ নেই ইত্যাদি ইত্যাদি। এমনকি সরকারের নিম্নস্তর থেকে সর্বোচ্চ পর্যায় পর্যন্ত গাড়ির কোনো সঠিক কাগজপত্র নেই, সঠিক ড্রাইভার নেই, সে অবস্থায় দেশ চলছে। দেশ ভুয়া নয়, ভুয়া হলো দেশের সর্বোচ্চ প্রতিষ্ঠানগুলো। সেগুলো যারা চালায়, তারা। সঠিক নাগরিক তো নয়ই, সঠিক মানুষও নয়। তাই বলে ছাত্রদের মতো আমরা বলব না, সবই ভুয়া। ভুয়াদের যেমন চিহ্নিত করতে হবে, সেভাবে ভালোদেরও চিহ্নিত করতে হবে। ভুয়ারা হয়তো দক্ষ, তারা দেশপ্রেমিক নয়। ভালোরা হয়তো তেমন দক্ষ নয়, দক্ষতা প্রদান করে তাদের শাসন-প্রশাসনের জায়গায় স্থাপন ও প্রতিস্থাপন করতে হবে।
সরকারপ্রধানের প্রতি বিশেষ অনুরোধ, চাণক্যদের উপদেশ ও পরামর্শ থেকে দয়া করে দূরে থাকুন। বাবা-মাকে অনুসরণ করুন।