সংক্ষিপ্ত বিশ্ব সংবাদ


২ এপ্রিল ২০২৬ ১৩:২৫

ভারতে রাম নবমীর মিছিল থেকে মুসলিমদের দোকানপাটে আগুন-ভাঙচুর
পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ জেলায় রাম নবমীর মিছিলকে কেন্দ্র করে ব্যাপক সহিংসতা ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। গত ২৭ মার্চ শুক্রবার জঙ্গিপুর মহকুমার রঘুনাথগঞ্জে হিন্দুত্ববাদী সংগঠনের মিছিল থেকে মুসলিমদের দোকানপাট ও সম্পত্তিতে হামলার অভিযোগ উঠেছে। এতে অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন এবং পুরো এলাকায় চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। প্রশাসন জানিয়েছে, বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এলাকায় কেন্দ্রীয় বাহিনী, র‌্যাপিড অ্যাকশন ফোর্স (র‌্যাফ) এবং স্থানীয় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। আহতদের জঙ্গিপুর মহকুমা হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। সংঘাত এড়াতে নিরাপত্তা বাহিনী স্পর্শকাতর এলাকাগুলোয় টহল দিচ্ছে। সহিংসতার ঘটনায় এখন পর্যন্ত ৩০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে চরমপন্থী সংগঠন আরএসএস নেতা কিংশুক ভট্টাচার্য এবং হিন্দুত্ববাদী নেতা বাবাই চক্রবর্তী রয়েছেন। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রঘুনাথগঞ্জের ম্যাকেঞ্জি পার্কে সমবেত হওয়ার উদ্দেশ্যে বিভিন্ন গ্রাম থেকে ছোট ছোট মিছিল বের করা হয়। রঘুনাথগঞ্জ থানার সিসাতলা এলাকায় একটি মিছিল থেকে আপত্তিকর স্লোগান দেওয়াকে কেন্দ্র করে উত্তজনা শুরু হয়। স্থানীয় বাসিন্দারা এর প্রতিবাদ করলে কথা কাটাকাটি থেকে পরিস্থিতি সহিংস রূপ নেয়। ফুলতলা মোড়ে মূল মিছিলটি পৌঁছালে উত্তেজনা চরমে ওঠে। প্রত্যক্ষদর্শীদের অভিযোগ, মিছিল থেকে মুসলিম মালিকানাধীন বেশ কিছু দোকান ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়। এছাড়া গাড়ি, মোটরসাইকেল ও ভ্যান ক্ষতিগ্রস্ত হলে জনমনে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এলাকাবাসীর দাবি, এই হামলা ছিল পূর্বপরিকল্পিত। স্থানীয় বাসিন্দা বারিউল ইসলাম বলেন, দীর্ঘদিনের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এ এলাকায় ‘বহিরাগতরা’ এসে হামলা চালিয়েছে। একজন ফল বিক্রেতা জানান, প্রায় ২ হাজার মানুষের একটি মিছিল হঠাৎ আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে এবং তার দোকান লুট করে আগুন ধরিয়ে দেয়। জঙ্গিপুর পৌরসভার চেয়ারম্যান মফিজুল ইসলাম পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে বলেন, ‘পুলিশের উপস্থিতিতেই বেছে বেছে নির্দিষ্ট কিছু দোকানে হামলা চালানো হয়েছে। এটি একটি সুপরিকল্পিত ষড়যন্ত্র বলে মনে হচ্ছে।’ অন্যদিকে বিজেপির জঙ্গিপুর সাংগঠনিক জেলা সভাপতি সুবল চন্দ্র ঘোষ সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তার দাবি, রাম নবমীর মিছিলে পাথর নিক্ষেপ করে অশান্তি উসকে দেওয়া হয়েছে। তিনি পুলিশি পদক্ষেপের সমালোচনা করে দলীয় কর্মীদের ওপর বলপ্রয়োগের অভিযোগ আনেন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। কংগ্রেস নেতা অধীর রঞ্জন চৌধুরী প্রশাসনের ব্যর্থতার সমালোচনা করে বলেন, এত বড় মিছিল সত্ত্বেও কেন আগাম সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হলো না? জঙ্গিপুরের তৃণমূল সাংসদ খলিলুর রহমান সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন এবং নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি তুলেছেন। আইএসএফ চেয়ারম্যান নওশাদ সিদ্দিকী একে রাজনৈতিক ফায়দা লোটার ‘গভীর ষড়যন্ত্র’ বলে অভিহিত করেছেন। মুর্শিদাবাদ রেঞ্জের ডিআইজি অজিত সিং যাদব জানান, বর্তমানে পরিস্থিতি স্থিতিশীল এবং তদন্ত চলছে। দোষীদের শনাক্ত করতে সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সিয়াসত ডেইলি।

ভ্রমণ পরিকল্পনা বদলাচ্ছেন মার্কিনিরা
ইরান যুদ্ধের প্রভাবে জ্বালানির দাম বাড়তে থাকায় যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণ পরিকল্পনায় বড় পরিবর্তন আনছেন সাধারণ মানুষ। গ্যাসের দাম গ্যালনপ্রতি প্রায় ৪ ডলারের কাছাকাছি পৌঁছানোয় অনেক পরিবার সড়ক ও বিমান ভ্রমণ- দুটিই নতুন করে ভাবতে বাধ্য হচ্ছেন। প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অনেক নাগরিক ব্যয় কমাতে দূরের সফর বাতিল করে কাছাকাছি গন্তব্য বেছে নিচ্ছেন। কেউ কেউ আবার পুরো ভ্রমণ পরিকল্পনাই স্থগিত রাখছেন। টেক্সাসের বাসিন্দা ডিনা গুইলেন নামের এক নারী তার পরিবারের সঙ্গে ৫২০ মাইল দূরের ডালাস যাওয়ার পরিকল্পনা বাতিল করে কাছের কর্পাস ক্রিস্টিতে ভ্রমণ করেন। এতে তার প্রায় ১০০ ডলার জ্বালানি খরচ বেঁচে যায়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বসন্তকালীন ছুটির মৌসুমে পরিস্থিতি আরো কঠিন হয়ে উঠেছে। একদিকে গ্যাস ও বিমান ভাড়ার ঊর্ধ্বগতি; অন্যদিকে আংশিক সরকারি অচলাবস্থার কারণে বিমানবন্দরে দীর্ঘ নিরাপত্তা লাইন সব মিলিয়ে ভ্রমণকারীরা ভোগান্তিতে পড়ছেন। বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ইরান-সংক্রান্ত চলমান সংঘাত বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহে প্রভাব ফেলছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে জ্বালানির দামে। এর আগে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের সময়ও একই ধরনের পরিস্থিতি দেখা গিয়েছিল। তবে এত কিছুর পরও অনেকেই ভবিষ্যতের ভ্রমণের জন্য আগাম টিকিট কিনছেন, কারণ তারা আশঙ্কা করছেন- আগামীতে দাম আরো বাড়তে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, জ্বালানির দাম যদি কমে না, তাহলে সামনের ছুটির মৌসুমে ভ্রমণ খাতে আরো বড় পরিবর্তন দেখা যেতে পারে। রয়টার্স।

যুদ্ধ বন্ধের আহ্বান পরমাণু বোমা থেকে বেঁচে যাওয়া জাপানিদের
জাপানে পরমাণু বোমা হামলা থেকে বেঁচে যাওয়া ব্যক্তিদের একটি প্রতিনিধিদল বর্তমানে চলমান ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধের তীব্র নিন্দা জানিয়ে শান্তি স্থাপনের আহ্বানে ওয়াশিংটন ও তেল আবিব দূতাবাসে বিশেষ চিঠি পাঠিয়েছেন। এক প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে আনাদোলু। জাপানের চারটি প্রধান পরমাণু বেঁচে যাওয়া সংগঠন এই চিঠিতে স্বাক্ষর করলেও টোকিওতে অবস্থিত ইসরাইলি দূতাবাস চিঠিটি গ্রহণ করতে সরাসরি অস্বীকার করেছে। জাপানি সংবাদমাধ্যম ‘দ্য মেইনিচি’ জানিয়েছে, ইসরাইলি কর্তৃপক্ষ চিঠিটি না পড়েই ফেরত পাঠিয়ে দিয়েছে। এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে নাগাসাকি অ্যাটমিক বোম্ব সারভাইভারস কাউন্সিলের ৮৫ বছর বয়সী প্রধান শিগেমিৎসু তানাকা বলেন যে, ইসরাইল অত্যন্ত সংকীর্ণমনা আচরণ করছে এবং শান্তির এই বার্তাকে তারা ন্যূনতম গুরুত্ব দেয়নি। চলতি মাসের শুরুর দিকে পাঠানো এ চিঠিতে জাপানি সংগঠনগুলো মধ্যপ্রাচ্যে অবিলম্বে যুদ্ধবিরতির দাবি জানায় এবং চলমান হামলাগুলোকে ‘ভয়াবহ ও জঘন্য’ বলে অভিহিত করে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান ও মার্কিন-ইসরাইলি জোটের মধ্যে শুরু হওয়া এ ভয়াবহ যুদ্ধে এখন পর্যন্ত ১ হাজার ৪০০-এর বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে ইরানের তৎকালীন সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনিও রয়েছেন। এ যুদ্ধের ফলে পুরো মধ্যপ্রাচ্য বর্তমানে এক অস্থির পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। ইরানও এর পাল্টা জবাবে ইসরাইলসহ জর্ডান, ইরাক ও উপসাগরীয় দেশগুলোয় অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনা লক্ষ করে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে, যা বৈশ্বিক অর্থনীতি ও বিমান চলাচলে বড় ধরনের বিপর্যয় সৃষ্টি করেছে। জাপানি নাগরিকদের পক্ষ থেকে যুদ্ধের এই প্রতিবাদের অংশ হিসেবে টোকিওতে ‘ড্রপ বাস নট বোম্বস’ শিরোনামে একটি বিশাল বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিক্ষোভকারীরা ‘যুদ্ধ শেষ হবে যদি আপনি চান’, ‘বর্ণবাদ নয়’ এবং ‘যুদ্ধ বন্ধ করো’ লেখা সংবলিত প্লাকার্ড ও পতাকা নিয়ে সড়কে নেমে আসেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (টুইটার) আয়োজকদের পোস্ট করা ভিডিওতে দেখা গেছে, সাধারণ জাপানিরা এই যুদ্ধের বিরুদ্ধে তাদের অবস্থান তুলে ধরছেন। এই গণবিক্ষোভ মূলত বৈশ্বিক শক্তির অপব্যবহারের বিরুদ্ধে জাপানি জনগণের দীর্ঘদিনের শান্তিবাদী অবস্থানেরই বহিঃপ্রকাশ বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। অন্যদিকে জাপানে নিযুক্ত ইরানের দূতাবাস রোববার জানিয়েছে যে, ইরানি প্রবাসী ও জাপানি নাগরিকরা সম্মিলিতভাবে তেহরান দূতাবাসে একটি শোকসভার আয়োজন করেছেন। মিডল ইস্ট মনিটর।

তুরস্কের নয়া বিস্ময় ‘আতমাকা’ মিসাইলের সফল পরীক্ষা
তুরস্কের নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি অ্যান্টি-শিপ মিসাইল (জাহাজবিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র) ‘আতমাকা’ তার সক্ষমতার এক নতুন মাইলফলক স্পর্শ করেছে। গত ২৭ মার্চ তুর্কি নৌবাহিনীর করভেট টিসিজি বুর্গাজাদা থেকে উৎক্ষেপণ করা এই মিসাইলটি সমুদ্র থেকে স্থলভাগের একটি নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে অত্যন্ত নিখুঁতভাবে আঘাত হেনেছে। প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান রকেটসান এই সফল পরীক্ষার কথা নিশ্চিত করেছে। আতমাকা মূলত একটি অ্যান্টি-শিপ বা জাহাজবিধ্বংসী মিসাইল হিসেবে পরিচিত হলেও এই পরীক্ষার মাধ্যমে এটি প্রমাণ করল যে এটি এখন স্থলভাগে আক্রমণ চালাতেও সমান পারদর্শী। এর ফলে তুর্কি নৌবাহিনী এখন কেবল সমুদ্রের শত্রু জাহাজই নয়, বরং উপকূলীয় রাডার স্টেশন, লজিস্টিক সেন্টার এবং শত্রুঘাঁটিতেও দূরপাল্লা থেকে আঘাত হানতে পারবে। রকেটসানের তথ্য অনুযায়ী, আতমাকা মিসাইলটির কিছু গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য রয়েছে। এর পাল্লা ২৫০ কিলোমিটারের বেশি। মিসাইলটির ওজন ৭৫০ কিলোগ্রামের কম, এর মধ্যে ২২০ কেজি ওজনের উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন বিস্ফোরক ওয়ারহেড রয়েছে। এতে রয়েছে উন্নত জিপিএস, ইনার্শিয়াল নেভিগেশন এবং টার্মিনাল গাইডেন্সের জন্য অ্যাক্টিভ আরএফ সিকার। বিশেষত্ব হলো এটি রাডারকে ফাঁকি দিতে সক্ষম এবং অত্যন্ত নিচ দিয়ে উড়ে গিয়ে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানে। এছাড়া মাঝপথে লক্ষ্যবস্তু পরিবর্তন বা মিশন বাতিল করার সক্ষমতাও এতে রয়েছে। এই পরীক্ষার আরেকটি উল্লেখযোগ্য দিক হলো এর ইঞ্জিন। মিসাইলটিতে তুরস্কের নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি কেটিজে-৩২০০এ টার্বোজেট ইঞ্জিন ব্যবহার করা হয়েছে, যা তৈরি করেছে কালে জেট ইঞ্জিন। বিদেশি ইঞ্জিনের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে নিজস্ব ইঞ্জিন ব্যবহারের ফলে তুরস্কের প্রতিরক্ষা শিল্প এখন আরও বেশি স্বনির্ভর ও শক্তিশালী। তুরস্ক বর্তমানে কৃষ্ণ সাগর, এজিয়ান সাগর এবং পূর্ব ভূমধ্যসাগরে নিজেদের প্রভাব বিস্তারে কাজ করছে। আতমাকা মিসাইলের এই বহুমুখী ব্যবহার তুরস্কের ‘ব্লু হোমল্যান্ড’ (মাভি ভাতান) নীতিকে আরও শক্তিশালী করবে। এছাড়া ন্যাটোর সদস্য দেশ হিসেবে তুরস্কের এ সক্ষমতা জোটের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের নিরাপত্তায় বড় ভূমিকা রাখবে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন। আতমাকা মিসাইলের এই সফল পরীক্ষা তুরস্কের প্রতিরক্ষা শিল্পে এক নতুন যুগের সূচনা করল। এটি কেবল একটি অস্ত্রের পরীক্ষা নয়, বরং তুরস্কের প্রযুক্তিগত স্বনির্ভরতা এবং আধুনিক নৌ-শক্তির এক বলিষ্ঠ বহিঃপ্রকাশ। আনাদোলু।

ভারতে শ্রেণিকক্ষে মুসলিম ছাত্রকে ‘সন্ত্রাসী’ বললেন হিন্দুত্ববাদী অধ্যাপক
ভারতের কর্ণাটক রাজ্যের বেঙ্গালুরুতে এক মুসলিম ছাত্রকে শ্রেণিকক্ষে ‘সন্ত্রাসী’ বলে সম্বোধন করার ঘটনায় পিইএস ইউনিভার্সিটির এক অধ্যাপকের বিরুদ্ধে সুয়োমুটো মামলা দায়ের করেছে পুলিশ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ওই ন্যক্কারজনক ঘটনার ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর ছাত্রসমাজ ও বিভিন্ন মহলে তীব্র ক্ষোভ ও প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে। অভিযুক্ত ওই অধ্যাপককে ইতোমধ্যে সাময়িক বরখাস্ত করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। জানা গেছে, গত সপ্তাহে বিশ্ববিদ্যালয়ের কমার্স বিভাগের একটি ক্লাস চলাকালীন এ ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত অধ্যাপকের নাম মুরলীধর দেশপাণ্ডে। প্রত্যক্ষদর্শী শিক্ষার্থীদের ভাষ্যমতে, ভুক্তভোগী মুসলিম ছাত্রটি ক্লাসের মাঝপথে বাইরে যাওয়ার অনুমতি চাইলে অধ্যাপক দেশপাণ্ডে হঠাৎ উত্তেজিত হয়ে পড়েন এবং তাকে জনসমক্ষেই ‘সন্ত্রাসী’ বলে গালি দেন। ভাইরাল হওয়া ভিডিও এবং পুলিশের কাছে জমা পড়া অভিযোগ অনুযায়ী, ওই অধ্যাপক ছাত্রটিকে উদ্দেশ্য করে অত্যন্ত আপত্তিকর ও ইসলামবিদ্বেষী মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, ‘তোমাদের মতো মানুষের কারণেই ইরানে যুদ্ধ হচ্ছে’ এবং ‘ট্রাম্প তোমাদের ধরে নিয়ে যাবে।’ যদিও ক্লাসের শোরগোলের কারণে ভিডিওতে সব কথা স্পষ্টভাবে বোঝা না গেলেও উপস্থিত শিক্ষার্থীরা এ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। প্রাথমিকভাবে পুলিশ একটি সাধারণ ডায়েরি (এনসিআর) করলেও পরবর্তীতে জনরোষ এবং ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনায় ভারতীয় ন্যায় সংহিতার (বিএনএস) বিভিন্ন ধারায় স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে মামলা দায়ের করে। ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত এবং শান্তি ভঙ্গের উসকানি দেওয়ার অভিযোগে এ মামলাটি রুজু করা হয়েছে। অন্যদিকে ঘটনার প্রতিবাদে ছাত্র সংগঠনগুলো বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ শুরু করলে প্রশাসন নড়েচড়ে বসে। বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলর জওহর দোরেস্বামী জানিয়েছেন, অভিযুক্ত অধ্যাপককে বরখাস্ত করা হয়েছে এবং একটি অভ্যন্তরীণ তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। সিসিটিভি ফুটেজ যাচাই করে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি আশ্বাস দিয়েছেন। তবে ঘটনার মোড় অন্যদিকে মোড় নেয় যখন অভিযোগ ওঠে যে, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সিসিটিভি ফুটেজ মুছে ফেলে প্রমাণ নষ্ট করার চেষ্টা করছে। এছাড়া অভিযোগ উঠেছে যে, নির্যাতিত মুসলিম ছাত্রটির সমর্থনে যেসব শিক্ষার্থী সরব হয়েছিল, তাদের কয়েকজনকে ‘শৃঙ্খলা ভঙ্গের’ অজুহাতে বরখাস্ত করা হয়েছে। স্টুডেন্টস ইসলামিক অর্গানাইজেশন অব ইন্ডিয়া (এসআইও) এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেছে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এ ধরনের ইসলামফোবিয়া বা মুসলিম বিদ্বেষ কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। তারা দোষী অধ্যাপকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। ডন।

জাতিসংঘে ২০২২ সালের পর প্রথম রাশিয়ার প্রস্তাব পাস
জাতিসংঘ মানবাধিকার পরিষদে রাশিয়ার একটি প্রস্তাব পাস হয়েছে, যা ইউক্রেনে পূর্ণমাত্রার আগ্রাসনের পর থেকে প্রথম। বিশ্লেষকরা বলছেন, এটি রাশিয়ার আন্তর্জাতিক মঞ্চে পুনঃপ্রবেশের জন্য বাড়তে থাকা প্রচেষ্টার ইঙ্গিত বহন করছে। রাশিয়ার উত্থাপিত খসড়াটি সাদামাটা মনে হয়েছে, যেখানে কেবল দেশগুলোকে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার চুক্তি গৃহীত হওয়ার ৬০তম বার্ষিকী যথাযথভাবে উদযাপন করার আহ্বান জানানো হয়েছে। গত ২৭ মার্চ শুক্রবার পরিষদের ৪৭টি সদস্যের মধ্যে ২৬টি দেশের সমর্থনে এবং কোনো বিপক্ষে ভোট না পড়ায় প্রস্তাবটি পাস হয়, তবে প্রধানত পশ্চিমা ২১টি দেশ ভোটদানে বিরত ছিল। ২০২২ সালে ইউক্রেনে আগ্রাসনের পর পরিষদ থেকে রাশিয়াকে স্থগিত করার পর, রাশিয়ার খসড়া করা কোনো প্রস্তাবের এটিই প্রথম পাস হলো। কাউন্সিল পর্যবেক্ষকরা বলছেন, রাশিয়ার প্রস্তাবনা এতটাই নিরপেক্ষ ছিল যে দেশগুলোর জন্য এর বিরুদ্ধে ভোট দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। হিউম্যান রাইটস হাউস ফাউন্ডেশনের ডেভ এলসারোড ডেভ এলসেরোড এএফপিকে বলেন, ‘রাশিয়ার এ প্রস্তাবনা চার বছর আগে যে সংস্থা থেকে তারা বহিষ্কৃত হয়েছিল, সেটিতে পুনঃসংযোগের জন্য একটি কৌশলগত প্রচেষ্টা।’ তিনি সতর্ক করে বলেন, ‘যেসব দেশ মানবাধিকারের প্রচার ও সুরক্ষায় আগ্রহী, তাদের মানবাধিকার পরিষদে এবং সমগ্র বহুপাক্ষিক ব্যবস্থায় রাশিয়ার আরও আগ্রাসী মনোভাবের জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে।’ ভোটের আগে, রাশিয়ার প্রতিনিধি সকল দেশকে সমর্থনের আহ্বান জানিয়েছিলেন, যাদের জন্য মানবাধিকার কেবল রাজনৈতিক সেøাগান নয়। বেশ কয়েকজন পশ্চিমা কূটনীতিক বক্তব্য রাখতে গিয়ে বলেন যে, তারা ১৯৬৬ সালে সাধারণ পরিষদ কর্তৃক গৃহীত অর্থনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অধিকার সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক চুক্তি এবং নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকার সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক চুক্তি (আইসিসিপিআর)-কে সম্পূর্ণরূপে সমর্থন করেন, তবে তারা এ খসড়াটির পক্ষে ভোট দিতে পারবেন না। যুক্তরাজ্যের মানবাধিকার রাষ্ট্রদূত এলেনর স্যান্ডার্স কাউন্সিলে বলেন, ‘রাশিয়া যখন এই চুক্তিগুলোর বহু নীতি ও মূল্যবোধ লংঘন করছে, তখন প্রস্তাবনা কাউন্সিলে উপস্থাপন করা সমীচীন নয়।’ ইউরোপীয় ইউনিয়নের পক্ষে বক্তব্য রাখতে গিয়ে সাইপ্রাসের রাষ্ট্রদূত অলিম্পিয়া নিওক্লিয়াস উল্লেখ করেন যে, পরিষদ কর্তৃক নিযুক্ত তদন্তকারীরা নির্ধারণ করেছেন যে, রুশ কর্তৃপক্ষ ইউক্রেনে মানবতাবিরোধী অপরাধ এবং যুদ্ধাপরাধ করেছে। এএফপি।

ইসরাইলের হামলায় লেবাননে ৩ লাখ ৭০ হাজার শিশু বাস্তুচ্যুত : জাতিসংঘ
মাত্র তিন সপ্তাহের মধ্যে লেবাননে ৩ লাখ ৭০ হাজারের বেশি শিশু ঘরবাড়ি থেকে বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ইসরাইলের তীব্র বিমান হামলা এবং গণউচ্ছেদ নির্দেশনার ফলে দেশটির ইতিহাসে সবচেয়ে দ্রুত ও বৃহৎ জনসংখ্যা বাস্তুচ্যুতির একটি পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বলে গত ২৭ মার্চ শুক্রবার জানিয়েছে জাতিসংঘ। ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের পাশাপাশি ২ মার্চ লেবাননের হিজবুল্লাহ যোদ্ধারা তেহরানের প্রতি সমর্থন জানিয়ে ইসরাইলের দিকে হামলা চালানোর পর থেকেই ইসরাইল লেবাননে ব্যাপক বিমান হামলা ও স্থল অভিযান শুরু করে। এ খবর দিয়েছে অনলাইন ডন। ইউনিসেফের লেবানন প্রতিনিধি মার্কোলুইজি কোরসি বলেন, এই বাস্তুচ্যুতির মাত্রা ভয়াবহ। প্রতিদিন প্রায় ১৯ হাজার শিশু তাদের ঘর ছাড়তে বাধ্য হচ্ছে। অনেকেই গত ১৫ মাসের মধ্যে দ্বিতীয় বা তৃতীয়বারের মতো বাস্তুচ্যুত হচ্ছে। এদিকে জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা (ইউএনএইচসিআর) সতর্ক করে বলেছে, লেবানন এখন এক গভীর মানবিক সংকটের মুখোমুখি, যা ধীরে ধীরে ভয়াবহ বিপর্যয়ে রূপ নিতে পারে। ইউএনএইচসিআর জানায়, ২ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত ১০ লাখের বেশি মানুষ অর্থাৎ প্রতি পাঁচজনের একজন নিজের ঘর ছাড়তে বাধ্য হয়েছে। জেনেভায় সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে বৈরুত থেকে সংযুক্ত হয়ে সংস্থাটির প্রতিনিধি কারোলাইনা লিন্ডহোম বিলিং বলেন, আমরা মাঠ পর্যায়ে যে পরিস্থিতি দেখছি, তা সত্যিই একটি গভীর মানবিক সংকট। তিনি জানান, ১ লাখ ৩৬ হাজারের বেশি বাস্তুচ্যুত মানুষ ৬৬০টি সম্মিলিত আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান করছে। এগুলোর বেশিরভাগই স্কুল এবং ধারণক্ষমতার চেয়ে অনেক বেশি মানুষে ভরে গেছে। ইউএনএইচসিআর তাদের কার্যক্রম বাড়ানোর জন্য ৬ কোটি ডলারের বেশি সহায়তা চেয়েছে এবং সতর্ক করেছে যে প্রয়োজনীয়তা সম্পদের চেয়ে দ্রুত বাড়ছে। ইউএন উইমেন জানিয়েছে, অনেক গর্ভবতী নারী সীমিত চিকিৎসা সুবিধাসহ অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রেই সন্তান জন্ম দিচ্ছেন। সংস্থাটির লেবানন প্রতিনিধি জিলান এল মেসিরি বলেন, এই আশ্রয়কেন্দ্রগুলো দীর্ঘমেয়াদি বসবাসের জন্য তৈরি নয়। ইন্টারন্যাশনাল ফেডারেশন অব রেড ক্রস অ্যান্ড রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটিজ জানায়, লেবানিজ রেড ক্রস ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর মধ্যে কম্বল, ম্যাট্রেস, খাবার, রুটি এবং নিরাপদ পানীয় পানি বিতরণ করছে। আইএফআরসি মুখপাত্র তোম্মাসো দেল্লা লঙ্গা বলেন, র্২ থেকে ২৩ মার্চ পর্যন্ত এলআরসি দলগুলো ২৭৫৪টি অ্যাম্বুলেন্স মিশন এবং ১১টি নগর অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করেছে। তিনি আরও জানান, এ সময়ের মধ্যে একজন এলআরসি স্বেচ্ছাসেবক নিহত হয়েছেন এবং আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন। ডন।

রুশ তেলবাহী ট্যাঙ্কারকে যুক্তরাষ্ট্রের অনুমতি
নিষেধাজ্ঞা ও অবরোধের মধ্যেই রাশিয়ার একটি তেলবাহী ট্যাংকারকে কিউবায় পৌঁছানোর অনুমতি দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, যা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র প্রশাসন বিশেষ পরিস্থিতি বিবেচনায় এ অনুমতি দেয়। ট্যাঙ্কারটি রাশিয়া থেকে তেল নিয়ে কিউবার উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছিল। বিশ্লেষকদের মতে, কিউবায় জ্বালানি সংকট তীব্র হওয়ায় মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হতে পারে। এতে দেশটির বিদ্যুৎ উৎপাদন ও দৈনন্দিন কার্যক্রম সচল রাখতে সহায়তা মিলবে। তবে এ সিদ্ধান্ত নিয়ে সমালোচনাও রয়েছে। অনেকে বলছেন, নিষেধাজ্ঞার মধ্যে এমন ছাড় দেয়া আন্তর্জাতিক নীতির ক্ষেত্রে দ্বৈত মানদণ্ডের ইঙ্গিত দেয়। যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এটি একটি ব্যতিক্রমী অনুমতি এবং বৃহত্তর নিষেধাজ্ঞা নীতিতে কোনো পরিবর্তন আনা হয়নি। বিশ্লেষকদের মতে, বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট ও ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে ভবিষ্যতেও এ ধরনের নমনীয় সিদ্ধান্ত দেখা যেতে পারে। এপি।

দলিত সম্প্রদায়ের কাছে রাষ্ট্রীয় ক্ষমাপ্রার্থনার ঘোষণা নেপালের প্রধানমন্ত্রীর
নেপালের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে নবগঠিত সরকার। কয়েক দশকের জাতিভেদ প্রথা, বৈষম্য এবং বঞ্চনার জন্য দলিত ও ঐতিহাসিকভাবে পিছিয়ে পড়া গোষ্ঠীগুলোর কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে রাষ্ট্রীয় ক্ষমা চাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন নবনিযুক্ত প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ (বালেন শাহ)। গত ২৭ মার্চ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণের পর মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠকেই ১০০ দফার একটি ‘সুশাসন সংস্কার কর্মপরিকল্পনা’ অনুমোদন করেন বালেন শাহ। এই পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই আগামী ১৫ দিনের মধ্যে রাষ্ট্রীয়ভাবে এই ক্ষমাপ্রার্থনা করা হবে। সরকারি দলিলে উল্লেখ করা হয়েছে যে, দীর্ঘদিনের সামাজিক কুপ্রথা এবং রাষ্ট্রীয় নীতির কারণে দলিত সম্প্রদায় যে অন্যায়ের শিকার হয়েছে, রাষ্ট্র তা আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার করে নেবে। নেপালের হিন্দু সমাজব্যবস্থায় বর্ণপ্রথার শিকড় অত্যন্ত গভীরে। ১৮৫৪ সালের ‘মুলুকি আইন’ অনুযায়ী দলিতদের আইনত ‘অস্পৃশ্য’ হিসেবে গণ্য করা হতো। যদিও ১৯৬৩ সালে অস্পৃশ্যতা বিলুপ্ত করা হয় এবং পরবর্তী সংবিধানগুলোয় সাম্যের নিশ্চয়তা দেওয়া হয়, তবুও বাস্তবে বৈষম্য রয়ে গেছে। নেপালের মোট জনসংখ্যার প্রায় ১৩ শতাংশ দলিত সম্প্রদায় আজও শিক্ষা, কর্মসংস্থান এবং সরকারি সম্পদে প্রবেশাধিকারের ক্ষেত্রে বাধার সম্মুখীন হন। পেশায় প্রকৌশলী এবং সাবেক র‌্যাপার বালেন শাহ নেপালের ৪৭তম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। ২০২৫ সালে দুর্নীতি ও কুশাসনের বিরুদ্ধে তরুণ প্রজন্মের ব্যাপক আন্দোলনের পর এক রাজনৈতিক পরিবর্তনের ঢেউয়ে তার এই উত্থান। তরুণদের প্রতিনিধি হিসেবে পরিচিত শাহর এ পদক্ষেপকে নেপালের সামাজিক ন্যায়বিচারের ইতিহাসে অন্যতম সাহসী পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। দলিত নেতা ও অধিকারকর্মীরা সরকারের এ সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন। তবে তারা সতর্ক করে বলেছেন, কেবল ক্ষমা প্রার্থনাই যথেষ্ট নয়। এ উদ্যোগের প্রকৃত সাফল্য নির্ভর করবে আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের জন্য ঘোষিত কর্মসূচিগুলো কত দ্রুত এবং কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হয় তার ওপর। ডন।

যুক্তরাষ্ট্রে আঘাতে সক্ষম ক্ষেপণাস্ত্র ইঞ্জিনের পরীক্ষা উত্তর কোরিয়ার
যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভূখণ্ডে আঘাত হানতে সক্ষম ক্ষেপণাস্ত্রের আধুনিকায়নে আরও এক ধাপ এগিয়ে গেলো উত্তর কোরিয়া। দেশটির নেতা কিম জং উনের উপস্থিতিতে উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন একটি সলিড-ফুয়েল ইঞ্জিনের সফল পরীক্ষা চালানো হয়েছে। দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম কেসিএনএ এ তথ্য জানিয়েছে। কেসিএনএর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কার্বন ফাইবার উপাদানে তৈরি এ আধুনিক ইঞ্জিনের সর্বোচ্চ থ্রাস্ট ২ হাজার ৫০০ কিলোটন। এর আগে গত সেপ্টেম্বরে একই ধরনের একটি ইঞ্জিনের পরীক্ষায় এর ক্ষমতা ছিল ১ হাজার ৯৭১ কিলোটন। ইঞ্জিনের এই শক্তি বৃদ্ধির লক্ষ্য হলো একটি ক্ষেপণাস্ত্রে একাধিক পারমাণবিক বোমা বহনের সক্ষমতা অর্জন করা, যাতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে সহজে ফাঁকি দেওয়া যায়। কিম জং উন এ পরীক্ষাকে দেশের কৌশলগত সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে ‘বিরাট তাৎপর্যপূর্ণ’ বলে অভিহিত করেছেন। এর কয়েক দিন আগেই দেশটির পার্লামেন্টে দেওয়া এক বক্তৃতায় কিম উত্তর কোরিয়াকে একটি স্থায়ী পারমাণবিক শক্তিধর দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার করেন। সেই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের প্রসঙ্গ টেনে তিনি যুক্তরাষ্ট্রকে বৈশ্বিক ‘রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস ও আগ্রাসনের’ দায়ে অভিযুক্ত করেন। সামরিক পর্যবেক্ষকদের মতে, উত্তর কোরিয়ার পঞ্চবার্ষিক সামরিক উন্নয়ন কর্মসূচির অংশ হিসেবে এ পরীক্ষা চালানো হয়েছে। ‘কৌশলগত আঘাতের মাধ্যম’ বা আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালাস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র (আইসিবিএম) আধুনিকায়নই এর মূল লক্ষ্য। সলিড-ফুয়েল চালিত ক্ষেপণাস্ত্রগুলো তরল জ্বালানির তুলনায় দ্রুত উৎক্ষেপণ করা যায়, যা শনাক্ত করা শত্রুপক্ষের জন্য কঠিন। ২০১৯ সালে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে কিম জং উনের কূটনৈতিক আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পর থেকেই উত্তর কোরিয়া তাদের পারমাণবিক ভাণ্ডার সম্প্রসারণে মরিয়া হয়ে উঠেছে। গত ফেব্রুয়ারিতে ক্ষমতাসীন ওয়ার্কার্স পার্টির এক সম্মেলনে কিম ট্রাম্পের সঙ্গে আলোচনার পথ খোলা রাখার ইঙ্গিত দিলেও সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, আলোচনার পূর্বশর্ত হিসেবে পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণের দাবি ওয়াশিংটনকে ত্যাগ করতে হবে। তবে উত্তর কোরিয়ার এ সক্ষমতা নিয়ে বিদেশি বিশেষজ্ঞদের মধ্যে দ্বিমত রয়েছে। কেউ কেউ মনে করেন, বায়ুমণ্ডলে পুনরায় প্রবেশের সময় ওয়ারহেড সুরক্ষিত রাখার মতো প্রযুক্তিগত চ্যালেঞ্জ এখনো দেশটির সামনে রয়ে গেছে। যদিও দীর্ঘসময় ধরে চলা তাদের এ কর্মসূচির সাফল্য নিয়ে অন্য বিশেষজ্ঞরা বেশ উচ্চধারণাই পোষণ করেন। এপি।

ট্রাম্পের বিরুদ্ধে রাজপথে প্রায় ৮০ লাখ মানুষের বিক্ষোভ
নাটকীয় পরিবর্তনের সুর বাজছে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে। আগ্রাসনমূলক কঠোর সব নীতি বাস্তবায়ন করতে গিয়ে একের পর এক হঠকারী সিদ্ধান্ত নিয়ে কঠিন পরীক্ষার মধ্যে পড়ে গেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। পুরো ৫০ অঙ্গরাজ্য এবার ফুঁসে উঠেছে ‘নো কিংস’ আন্দোলনে। প্লাকার্ড-ব্যানার নিয়ে রাস্তায় নেমে এসেছেন প্রায় ৮০ লাখ মানুষ; সবার কণ্ঠে এক দাবি, ‘ট্রাম্প হঠাও’। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব নেওয়ার পর এটি তৃতীয় দফার দেশব্যাপী বড় আন্দোলন। বিক্ষোভের আয়োজকরা জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের ৫০টি অঙ্গরাজ্যের অন্তত ৩ হাজার ৩০০টি স্থানে একযোগে এই কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে। নিউইয়র্ক, লস অ্যাঞ্জেলেস এবং ওয়াশিংটন ডিসির মতো বড় শহরগুলোয় লাখ লাখ মানুষের উপচেপড়া ভিড় লক্ষ করা গেছে। আমেরিকার পাশাপাশি সংহতি জানিয়ে রোম, প্যারিস ও বার্লিনের মতো ইউরোপের প্রধান শহরগুলোয়ও এই আন্দোলন চলছে। তবে এবার আয়োজকদের মূল লক্ষ্য ছিল রক্ষণশীল ও গ্রামীণ এলাকার সাধারণ মানুষকে এই আন্দোলনে সরাসরি সম্পৃক্ত করা। এবারের তীব্র আন্দোলনের মূল কেন্দ্র হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যের মিনিয়াপোলিস-সেন্ট পল এলাকাকে। গত বছরের ডিসেম্বরে এ মিনেসোটায় ‘অপারেশন মেট্রো সার্জ’ নামে এক কুখ্যাত ও অত্যন্ত কঠোর অভিবাসনবিরোধী অভিযান চালায় ট্রাম্প প্রশাসন। ওই অভিযানে প্রায় তিন হাজারেরও বেশি ফেডারেল এজেন্ট মোতায়েন করা হয়েছিল এবং নির্বিচারে অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের গুরুতর অভিযোগ ওঠে। ইউরোপ, ল্যাটিন আমেরিকা ও অস্ট্রেলিয়াসহ আরও অনেক দেশে একই ধরনের বিক্ষোভ হয়। রোমে হাজারো মানুষ ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনির বিরুদ্ধে স্লোগান দেয়। তারা ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের ইরানে হামলার বিরুদ্ধেও প্রতিবাদ জানায়। লন্ডনে বিক্ষোভকারীরা ‘স্টপ দ্য ফার রাইট’ ও ‘আই স্ট্যান্ড আপ টু রেসিজম’ লেখা ব্যানার বহন করে। প্যারিসে গত ২৮ মার্চ শনিবার সকালে ফ্রান্সে বসবাসরত আমেরিকানদের পাশাপাশি ফরাসি শ্রমিক সংগঠন ও মানবাধিকার কর্মীরা বাস্তিল এলাকায় জড়ো হন। প্যারিসের আয়োজক অ্যাডা শেন বলেন, আমি ট্রাম্পের সব অবৈধ, অনৈতিক, বেপরোয়া ও অন্তহীন যুদ্ধের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করছি। এদিকে ইসরাইলের বাণিজ্যিক রাজধানী তেলআবিবে চলমান যুদ্ধবিরোধী এক বিক্ষোভ দমনে মারমুখী হয়ে উঠেছে দেশটির পুলিশ। শনিবার রাতে আয়োজিত এই বিক্ষোভ কর্মসূচি ঘিরে পুলিশের সাথে বিক্ষোভকারীদের দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ লাঠিচার্জ ও জলকামান ব্যবহার করে। এসময় অন্তত কয়েক ডজন বিক্ষোভকারীকে আটক করা হয়েছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলো। জানা গেছে, ‘পিস পার্টনারশিপ’ কোয়ালিশনের ব্যানারে আয়োজিত এই বিক্ষোভে কয়েক হাজার সাধারণ মানুষ অংশ নেন। তাদের দাবি ছিলÑ অবিলম্বে যুদ্ধ বন্ধ করা, হামাসের হাতে জিম্মি থাকা ইসরাইলিদের ফিরিয়ে আনা এবং প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু সরকারের পদত্যাগ। আল-জাজিরা।

ইসরাইলে কারাবন্দি ফিলিস্তিনিদের মৃত্যুদণ্ডের বিল পাস
ইসরাইলি কারাগারে বন্দি হওয়া ফিলিস্তিনিদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের অনুমোদন দিয়ে দেশটির পার্লামেন্ট নেসেটে বিল পাস করা হয়েছে। নতুন বিলটি কার্যকর হলে ছয় দশকের বেশি সময় পর দেশটিতে আবার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর শুরু হতে পারে। স্থানীয় সময় গত ৩০ মার্চ সোমবার সন্ধ্যায় অধিবেশনে ভোটের মাধ্যমে বিতর্কিত এ বিলটি পাস করা হয়। সংবাদমাধ্যম জেরুসালেম পোস্ট জানিয়েছে, এ সময় প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু অধিবেশনে উপস্থিত হয়ে প্রকাশ্যে বিলটির পক্ষে ভোট দিয়ে সমর্থন জানান। বিলটি পাস হওয়া ইসরাইলের কট্টর ডানপন্থীদের জন্য বড় বিজয়। কট্টর ডানপন্থী জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গভির ও তার দল ওৎজমা ইহুদিদের উদ্যোগে বিলটি নেসেটে উত্থাপন করা হয়। দলটির দাবি, এ আইন সন্ত্রাস দমনে কার্যকর ভূমিকা রাখবে এবং ভুক্তভোগীদের জন্য ন্যায়বিচার নিশ্চিত করবে। তবে বিলটি নিয়ে নেসেটে তীব্র মতবিরোধ দেখা গেছে। বিরোধীদলীয় নেতা ইয়ার লাপিদ বলেন, এটি কোনো কার্যকর আইন নয়; বরং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে আনা একটি পদক্ষেপ। একইভাবে বেনি গান্টজ-ও বিলটির বিরোধিতা করেন। এ আইন অনুযায়ী, অধিকৃত পশ্চিমতীরের যেসব ফিলিস্তিনি হত্যাকাণ্ডের দায়ে দোষী সাব্যস্ত হয়, তাদের জন্য ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ডই স্বাভাবিক শাস্তি। এ আইন ইসরাইলি আদালতকে নিজ দেশের নাগরিকদের ওপর মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড আরোপ করার ক্ষমতাও দেয়। এটি পূর্ববর্তী ঘটনার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয় এবং শুধু ভবিষ্যতের মামলাগুলোর ক্ষেত্রেই কার্যকর হবে। এ পদক্ষেপটির তীব্র নিন্দা জানিয়েছে ইসরাইলি ও ফিলিস্তিনি মানবাধিকার গোষ্ঠীগুলো। তাদের মতে, এটি বর্ণবাদী, কঠোর এবং ফিলিস্তিনি হামলাকারীদের আক্রমণ প্রতিহত করতে পারবে না। ইসরাইলের ইতিহাসে এখন পর্যন্ত মাত্র দুবার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়েছে। সর্বশেষ ১৯৬২ সালে নাৎসি কর্মকর্তা অ্যাডলফ আইখম্যানকে ফাঁসি দেওয়া হয়। নতুন আইনটি কার্যকর হলে ছয় দশকের বেশি সময় পর দেশটিতে আবার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর শুরু হতে পারে। আল-জাজিরা।
গ্রন্থনা ও সম্পাদনা : আবদুল কাইউম খান