ভারতের বিরত থাকা কীসের ইঙ্গিত?
১৭ মার্চ ২০২৬ ১০:২৯
সোনার বাংলা ডেস্ক : সম্প্রতি ভারতের রাজধানী দিল্লিতে প্রেস ক্লাব অব ইন্ডিয়ার সভাপতি গৌতম লাহিড়ী বাংলাদেশে কার্যক্রম নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতা, ভারত সরকারের কর্মকর্তা এবং সাংবাদিকদের নিয়ে একটি ইফতার অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন। সেখানে আওয়ামী লীগ নেতা হাছান মাহমুদ এবং জাহাঙ্গীর কবির নানক উপস্থিত হলেও সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক বা অনানুষ্ঠানিক কোনো পর্যায়ের প্রতিনিধিই এই ইফতারে অংশ নেননি। শুধু তাই নয়, যেসব সাংবাদিককে দাওয়াত দেওয়া হয়েছিল, তাঁদের অধিকাংশই ছিলেন অনুপস্থিত।
গত ১৫ মার্চ রোববার মধ্যরাতে ফেসবুকে ইফতার অনুষ্ঠানের কয়েকটি ছবি পোস্ট করে এসব তথ্য সামনে এনেছেন প্রবাসী সাংবাদিক জুলকারনাইন খান সায়ের।
পোস্টে জুলকারনাইন সায়ের লিখেছেন, বেলজিয়াম থেকে বিশেষভাবে আমন্ত্রিত হয়ে আসা হাছান মাহমুদ এবং জাহাঙ্গীর কবির নানক অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়েছিলেন ঠিকই, তবে আমন্ত্রণ জানানো সত্ত্বেও ভারত সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক বা অনানুষ্ঠানিক, কোনো পর্যায়ের প্রতিনিধিই এই ইফতারে অংশ নেননি। শুধু তাই নয়, যেসব সাংবাদিককে দাওয়াত দেওয়া হয়েছিল, তাদের অধিকাংশই ছিলেন অনুপস্থিত। মূলধারার গণমাধ্যমের প্রতিনিধি হিসেবে শুধু ইন্ডিয়া টুডের একজন সাংবাদিককে সেখানে দেখা গেছে, যা আয়োজনের ‘গুরুত্ব’ সম্পর্কে অনেক কথাই বলে।
পোস্টে প্রবাসী এ সাংবাদিক উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের নির্বাচন-পরবর্তী বাস্তবতায় এই ইফতারে ভারত সরকারের কেউ না আসা এবং সাংবাদিকদের যোগদানে বিরত থাকা এই দুই ঘটনা ইঙ্গিত বহন করে।
প্রথমত, ভারত সরকার সম্ভবত সচেতনভাবেই এই আয়োজনকে ‘এড়িয়ে গেছে’। এর মাধ্যমে তারা বোঝাতে চেয়েছে, আওয়ামী লীগের পক্ষে কোনো অবস্থান নেওয়ার আগ্রহ তাঁদের নেই। বরং বাংলাদেশের বর্তমান নির্বাচিত সরকারের সঙ্গে সম্পর্ক স্থিতিশীল রাখাই এখন তাদের মূল অগ্রাধিকার।
দ্বিতীয়ত, এটি ভারতের পক্ষ থেকে আওয়ামী লীগকে একটি ‘শক্ত দূরত্বের বার্তা’। যেখানে একসময় এই দলের নেতারা দিল্লির বিভিন্ন মহলে স্বাগত অতিথি ছিলেন, সেখানে এখন তাদের ‘কূটনৈতিকভাবে বর্জন’ দেখিয়ে দেওয়া হয়েছে।
অনুষ্ঠানটি তাই আওয়ামী লীগের জন্য আড়ম্বরের চাইতে একরকম ‘বর্জনের মহড়া’ হয়ে গেল।
সূত্র : ঢাকা টাইমস।