সংক্ষিপ্ত বিশ্ব সংবাদ
১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১০:৩৬
ভারতে স্কুলেও সাম্প্রদায়িক বিষ!
ভারতে একটি বেসরকারি স্কুলে হিন্দু ও মুসলিম শিক্ষার্থীদের জন্য পৃথক বার্ষিক অনুষ্ঠানের আয়োজনকে কেন্দ্র করে তীব্র বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। মধ্যপ্রদেশের ইন্দোরের এ ঘটনায় স্কুল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে সাম্প্রদায়িক বিভাজনের অভিযোগ তুলেছেন অভিভাবকরা। ইন্দোরের খজরানা এলাকায় অবস্থিত ‘ইন্টারন্যাশনাল স্কুল অব বোম্বে’ নামক একটি বেসরকারি স্কুলে এ ঘটনা ঘটেছে। স্কুলটি সিবিএসই অধিভুক্ত এবং এখানে প্রায় ৭০ শতাংশ শিক্ষার্থী মুসলিম। অভিযোগ উঠেছে, স্কুল কর্তৃপক্ষ গত ২ ও ৩ ফেব্রুয়ারি ধর্মের ভিত্তিতে দুটি আলাদা বার্ষিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
অভিভাবকদের দাবি, তাদের না জানিয়েই এই বিভাজন করা হয়েছে। গত ২ ফেব্রুয়ারি শুধুমাত্র মুসলিম শিক্ষার্থীদের নিয়ে একটি অনুষ্ঠান করা হয়, যেখানে কোনো প্রধান অতিথি ছিলেন না এবং আয়োজন ছিল অত্যন্ত সাধারণ। অন্যদিকে ৩ ফেব্রুয়ারি হিন্দু শিক্ষার্থীদের জন্য আয়োজিত অনুষ্ঠানটি ছিল অত্যন্ত জাঁকজমকপূর্ণ, যেখানে বিশিষ্ট অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন। মির গুলরেজ আলী নামে এক অভিভাবক জানান, ‘মুসলিমদের অনুষ্ঠানে কোনো প্রধান অতিথি ছিল না, এমনকি স্টাফদের উপস্থিতিও ছিল সীমিত। কিন্তু পরের দিন হিন্দু শিক্ষার্থীদের অনুষ্ঠানে সব আয়োজন ছিল রাজকীয়।’ অন্য এক অভিভাবক অভিযোগ করেন যে, বোরকা বা টুপি পরে আসা অভিভাবকদের ৩ ফেব্রুয়ারির অনুষ্ঠানে প্রবেশ করতে বাধা দেওয়া হয়েছে। বিতর্ক শুধু অনুষ্ঠানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই। স্থানীয় বাসিন্দা সৈয়দ কাসিম আলী অভিযোগ করেছেন যে, স্কুলের শ্রেণিকক্ষেও ধর্মের ভিত্তিতে শিক্ষার্থীদের আলাদা বসানো হয়। এমনকি গত বছর স্কুলের ম্যাগাজিনে মুসলিম শিক্ষার্থীদের পদবি বাদ দিয়ে শুধু নাম ছাপা হয়েছিল অথচ হিন্দু শিক্ষার্থীদের পুরো নাম ছাপা হয়। স্কুল কর্তৃপক্ষ অবশ্য কোনো ধরনের বৈষম্যের কথা অস্বীকার করেছে। স্কুলের অ্যাডমিশন অফিসার জয় জোসেফ জানান, ৩ ফেব্রুয়ারি ‘শব-ই-বরাত’ থাকায় মুসলিম শিক্ষার্থীরা হয়তো উপস্থিত থাকতে পারবে না এই চিন্তা থেকেই তাদের জন্য ২ ফেব্রুয়ারি আলাদা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল। এছাড়া জায়গার স্বল্পতার কারণেও অনুষ্ঠান দুটি ভাগে করা হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। এ ঘটনার প্রতিবাদে প্রায় ৩০ জন অভিভাবক শিক্ষা দপ্তরে লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছেন এবং তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। স্থানীয় মিউনিসিপ্যাল কাউন্সিলর রুবিনা ইকবাল খান এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে জেলা প্রশাসকের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। বিষয়টি নিয়ে এলাকায় বেশ উত্তেজনা বিরাজ করছে, তবে এখন পর্যন্ত কোনো পুলিশি মামলা দায়ের করা হয়নি। এ ঘটনাটি ভারতের শিক্ষাঙ্গনে ধর্মীয় মেরুকরণ এবং বৈষম্য নিয়ে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। সিয়াসত ডেইলি।
মন্দিরে মুসলিম মন্ত্রী প্রবেশ করায় গোমূত্র ছিটিয়ে ‘শুদ্ধিকরণ’
ভারতের মহারাষ্ট্রের ছত্রপতি সম্ভাজিনগর এলাকায় এক চাঞ্চল্যকর বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে যে, মন্দিরের ভেতরে রাজ্যের একজন মুসলিম মন্ত্রী প্রবেশ করায় একদল উগ্র হিন্দুত্ববাদী যুবক গোমূত্র ছিটিয়েছেন। তাদের দাবি, মহা শিবরাত্রি উপলক্ষে রাজ্যমন্ত্রী আব্দুল সাত্তারের পরিদর্শনের ফলে মন্দির প্রাঙ্গণ ‘অশুচি’ হয়ে গিয়েছিল। রহিমাবাদের নাগেশ্বর মহাদেব মন্দিরে এ ঘটনাটি ঘটে। সেখানে ওইদিন সকালেই সাত্তার প্রার্থনা করেছিলেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কিছু যুবক তার উপস্থিতিতে আপত্তি জানান এবং দাবি করেন যে, এই শুভ রাত্রিতে তার মন্দিরে প্রবেশ করা উচিত হয়নি। তারা আরও অভিযোগ করেন যে, সাত্তার সকালে আমিষ আহার গ্রহণ করেন, তাই তাকে দর্শনের অনুমতি দেওয়া উচিত হয়নি। মন্ত্রীর পরিদর্শনের পরপরই, ওই যুবকরা এটিকে একটি ‘শুদ্ধিকরণ আচার’ হিসেবে বর্ণনা করে মন্দির প্রাঙ্গণে গোমূত্র ছিটান। তাদের মতে, এর মাধ্যমে মন্দিরের পবিত্রতা রক্ষা করা হয়েছে। এই বিতর্ক আরও তীব্র হয় যখন মহারাষ্ট্রের ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) আধ্যাত্মিক শাখার প্রধান তুষার ভোঁসলে এ নিয়ে মন্তব্য করেন। ওয়ার্ধায় সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে ভোঁসলে সাত্তারের গর্ভগৃহে প্রবেশ নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। ভোঁসলে বলেন, ‘আব্দুল সাত্তার কি হিন্দু? তিনি কি হিন্দুধর্ম গ্রহণ করেছেন? যদি না করে থাকেন, তবে তার উচিত ছিল গর্ভগৃহের বাইরে থেকে দর্শন করা। আমাদের মন্দিরগুলো কোনো সাধারণ স্মৃতিস্তম্ভ নয়। গর্ভগৃহের জন্য নির্দিষ্ট ধর্মীয় নিয়ম আছে। রাজনৈতিক সুবিধার জন্য আমাদের ধর্মীয় ঐতিহ্য ভাঙবেন না।’ তিনি আরও যোগ করেন, ‘যদি তার এতই প্রবল ইচ্ছা থাকে, তবে তার উচিত হিন্দুধর্ম গ্রহণ করা এবং তারপর অবাধে আমাদের দেবতাদের আশীর্বাদ নেওয়া।’ আনন্দবাজার।
দেশ ছেড়ে পালাতে গিয়ে ইউক্রেনের সাবেক জ্বালানিমন্ত্রী গ্রেপ্তার
দুর্নীতির গুরুতর অভিযোগ মাথায় নিয়ে দেশ ছাড়ার চেষ্টা করতে গিয়ে গ্রেপ্তার হয়েছেন ইউক্রেনের সাবেক জ্বালানিমন্ত্রী গেরমান গালুশচেঙ্কো। ইউক্রেনের জাতীয় দুর্নীতি দমন সংস্থা ন্যাশনাল অ্যান্টি-করাপশন ব্যুরো অব ইউক্রেন (নাবু) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, গত ১৫ ফেব্রুয়ারি রোববার গোপনে দেশত্যাগের সময় তাকে আটক করা হয়। বর্তমানে তিনি কারা হেফাজতে রয়েছেন এবং আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে তদন্ত কার্যক্রম শুরু হয়েছে। নাবুর বিবৃতিতে বলা হয়, বহুল আলোচিত ‘মিডাস’ দুর্নীতি মামলার অন্যতম অভিযুক্ত গালুশচেঙ্কো দেশ ছাড়ার চেষ্টা করছিলেন। তদন্ত সংস্থার ভাষ্যানুযায়ী, আইনানুগ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে এবং পরবর্তী সময়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হবে।
গালুশচেঙ্কো ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির ঘনিষ্ঠ মন্ত্রীদের একজন হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তবে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে তার বিরুদ্ধে প্রায় ১০ কোটি ডলার অবৈধভাবে উপার্জন এবং সেই অর্থ বিদেশে পাচারের অভিযোগ ওঠে। অভিযোগের পর থেকেই রাজনৈতিক অঙ্গনে তাকে ঘিরে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, গালুশচেঙ্কো নিজের প্রভাব ব্যবহার করে অর্থের বিনিময়ে ইউক্রেনীয় ব্যবসায়ী তিমরুর মিন্ডিচকে দেশের জ্বালানি খাতে বিনিয়োগের সুযোগ করে দেন। এছাড়া রাষ্ট্রায়ত্ত বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রতিষ্ঠান ও পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্র পরিচালনাকারী সংস্থা এনার্জোঅ্যাটম-এর ঠিকাদারদের কাছ থেকে বিভিন্ন চুক্তির বিপরীতে ১০ থেকে ১৫ শতাংশ পর্যন্ত ঘুষ নেওয়ার অভিযোগও তার বিরুদ্ধে রয়েছে। এসব অভিযোগ সামনে আসার পর গত নভেম্বরে মন্ত্রিত্ব থেকে পদত্যাগ করতে বাধ্য হন গালুশচেঙ্কো। এরপর কয়েক মাস নীরব থাকার পর হঠাৎ দেশত্যাগের চেষ্টাকালে তার গ্রেপ্তার হওয়ার ঘটনা নতুন করে আলোড়ন তুলেছে। ২০২৫ সালে ইউক্রেনের রাজনৈতিক অঙ্গনে দুর্নীতির অভিযোগে একাধিক উচ্চপদস্থ ব্যক্তির নাম সামনে আসে। তাদের মধ্যে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইউলিয়া তাইমোশেঙ্কোসহ কয়েকজন মন্ত্রীর বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে। গালুশচেঙ্কো সেই তালিকার অন্যতম আলোচিত নাম। বিশ্লেষকদের মতে, দুর্নীতি দীর্ঘদিন ধরেই ইউক্রেনের সরকারি প্রশাসনের বড় চ্যালেঞ্জ। প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে না পারায় দেশটির আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তিও প্রশ্নের মুখে পড়েছে।
বিশেষ করে ইউরোপীয় দেশগুলোর জোট ইউরোপীয় ইউনিয়নে সদস্যপদ পাওয়ার প্রক্রিয়া এখনো ঝুলে থাকার পেছনে দুর্নীতিকে একটি প্রধান অন্তরায় হিসেবে দেখা হচ্ছে। সব মিলিয়ে, সাবেক জ্বালানিমন্ত্রীর গ্রেপ্তার ইউক্রেনের দুর্নীতি দমন প্রচেষ্টায় একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হয়ে উঠতে পারে। তদন্তের অগ্রগতি ও আদালতের রায়ই নির্ধারণ করবে এ অভিযোগগুলো কতটা প্রমাণ হয় এবং তা দেশের রাজনীতি ও আন্তর্জাতিক অবস্থানের ওপর কী প্রভাব ফেলে। আল-জাজিরা।
তেহরানকে সহায়তা করবে আফগানিস্তান
আফগানিস্তান জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ইরানে কোনো সামরিক হামলা চালালে এবং ইরান সাহায্য চাইলে তারা এগিয়ে আসবে। গত রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) তালেবান সরকারের মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ এ ঘোষণা দেন। মুখপাত্র জানান, ইরানের প্রতি আফগানদের সহমর্মিতা থাকবে এবং ইরান চাইলে সহায়তা করা হবে। আফগানিস্তান যুদ্ধের পক্ষে নয়; তারা আলোচনার মাধ্যমে শান্তিপূর্ণ সমাধান চান।’ ইরান সাম্প্রতিক সময়ে সহনশীলতা দেখিয়েছে এবং আফগানিস্তানের প্রত্যাশা থাকবে, ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে কোনো যুদ্ধ বাধবে না। গত কয়েকদিন ধরে মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিতিশীলতা বিরাজ করছে। যুক্তরাষ্ট্র ইরানে সম্ভাব্য হামলার প্রস্তুতিতে যুদ্ধবিমানবাহী রণতরী আব্রাহাম লিংকনসহ অন্যান্য যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন করেছে। এছাড়া আরেকটি রণতরীও অঞ্চলে আসছে। মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো সম্ভাব্য যুদ্ধ আটকানোর চেষ্টা করছে। তাদের আশঙ্কা, একবার বড় যুদ্ধ শুরু হলে পুরো অঞ্চলে আর্থিক ও মানবিক ক্ষয়ক্ষতির প্রভাব পড়বে। ইরনা।
ইমরান খানের সুচিকিৎসার দাবি ওয়াসিম-ওয়াকারের
পাকিস্তানের সাবেক অধিনায়ক ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের জন্য কারাগারে যথাযথ চিকিৎসাসেবার দাবি জানিয়েছেন দেশটির দুই কিংবদন্তি ক্রিকেট তারকা ওয়াসিম আকরাম ও ওয়াকার ইউনিস। পাকিস্তানি বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ডান চোখের বেশিরভাগ দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছেন ৭৩ বছর বয়সী ইমরান। কয়েক মাস ধরে তিনি কারাবন্দী হয়ে একাকি জীবন কাটাচ্ছেন। তার আইনজীবীদের দাবি, চোখে সংক্রমণের পর এখন তা মারাত্মক আকার নিয়েছে এবং চিকিৎসার ঘাটতির কারণে পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। সরকারের মুখপাত্ররা অবশ্য এসব অভিযোগ নাকচ করেছেন। এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইমরানের যথাযথ চিকিৎসার দাবিতে সরব হয়েছেন ‘সুলতান অব সুইং’খ্যাত ওয়াসিম। এক্স হ্যান্ডলে নিজের গুরু ইমরানকে নিয়ে ওয়াসিম লিখেছেন, ‘আমাদের অধিনায়ক ইমরান খানের অসুস্থতার খবরটা হৃদয়বিদারক। আমি আন্তরিকভাবে আশা করি, কর্তৃপক্ষ বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখবে এবং তিনি যেন সর্বোচ্চ চিকিৎসাসেবা পান তা নিশ্চিত করবে। তাঁর জন্য শক্তি, দ্রুত আরোগ্য ও সম্পূর্ণ সুস্থতায় ফিরে আসার প্রার্থনা করছি।’ একই আহ্বান জানান আরেক কিংবদন্তি ফাস্ট বোলার ওয়াকারও। ইমরানের ‘আবিষ্কার’ খ্যাত ওয়াকার লিখেছেন, ‘রাজনীতি একপাশে রাখি। খেলার মাঠে আমাদের সবচেয়ে বড় গৌরব এনে দেওয়া জাতীয় নায়ক। যিনি একটি ক্যানসার হাসপাতালও গড়ে তুলেছেন, যা আমার নিজের মাসহ অসংখ্য মানুষকে সহায়তা করেছে। সেই মানুষটিই এখন স্বাস্থ্য সংকটে ভুগছেন। তাঁর জরুরি চিকিৎসা প্রয়োজন। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে বিনীত অনুরোধ, তাঁকে যেন দ্রুত ও যথাযথ চিকিৎসা দেওয়া হয়। দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠুন স্কিপার (অধিনায়ক)।’ এর আগে শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) পাকিস্তানের সাবেক পেসার শোয়েব আখতার বলেছেন, তিনি গত তিন মাস যুক্তরাষ্ট্রে ছিলেন, সেখানে শওকত খানম মেমোরিয়াল ক্যানসার হাসপাতালের জন্য তহবিল সংগ্রহ করেছেন। ক্যানসারে মারা যাওয়া নিজের মায়ের স্মৃতিতে ইমরান খান এই হাসপাতাল গড়ে তুলেছিলেন। শোয়েব লিখেছেন, ‘তাঁর এক চোখের দৃষ্টিশক্তি হারানোর খবর শুনে আমি গভীরভাবে মর্মাহত। আশা করি, তিনি সর্বোচ্চ চিকিৎসা পাবেন। তাঁর দ্রুত আরোগ্য কামনা করছি।’ ‘বুম বুম’ খ্যাত শহিদ আফ্রিদিও ১৯৯২ বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়কের জন্য মুখ খুলেছেন। তিনি এক্সে লিখেছেন, ‘চিকিৎসা পাওয়া মৌলিক অধিকার।’ সাবেক অধিনায়ক ও বোর্ড সভাপতি রমিজ রাজা সহমর্মিতা প্রকাশ করেছেন, ‘মানবিকতা যেন প্রাধান্য পায়। ইমরান খানকে ভুগতে দেখে এবং দৃষ্টিশক্তি হারাতে দেখে মানসিকভাবে ধাক্কা খেলাম।’ সর্বকালের অন্যতম সেরা অলরাউন্ডার ইমরানের চিকিৎসা নিয়ে কথা বলেছেন ভারতের সাবেক ক্রিকেটার অজয় জাদেজাও। তিনি পাকিস্তানের ক্রিকেটারদের ইমরানের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন। ২০২৩ সালের আগস্টে গ্রেপ্তার হওয়ার পর ইমরান একাধিক মামলায় দণ্ডিত হয়েছেন। তিনি ও তাঁর সমর্থকদের দাবি, এসব মামলা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। ডন।
ট্রাম্পের বর্ণবাদী ভিডিও বিতর্কে ‘রাজনীতির শালীনতা হারাচ্ছে’ : ওবামা
বারাক ওবামা ট্রুথ সোশ্যালে ছড়ানো বর্ণবাদী ভিডিও বিতর্কে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে শালীনতা ও লজ্জাবোধের অবক্ষয় নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা দেশের রাজনৈতিক বক্তব্যে লজ্জাবোধ ও শালীনতার অভাব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাকাউন্টে প্রচারিত একটি ভিডিওতে তাকে ও তার স্ত্রীকে বানরের সাথে তুলনা করে দেখানোর ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় ওবামা এ মন্তব্য করেন। গত ৫ ফেব্রুয়ারি ট্রাম্পের প্ল্যাটফর্ম ট্রুথ সোশ্যালে শেয়ার করা একটি ভিডিও যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দেয়। শুরুতে হোয়াইট হাউস এ নিয়ে ‘অতিরঞ্জিত প্রতিক্রিয়া’ বলে মন্তব্য করলেও পরে জানায়, এক কর্মীর ভুলে ভিডিওটি পোস্ট হয়েছিল এবং তা সরিয়ে নেয়া হয়। প্রায় এক মিনিটের ওই ভিডিওতে ২০২০ সালের নির্বাচনে কারচুপির ষড়যন্ত্রতত্ত্ব তুলে ধরা হয়। ভিডিওর শেষাংশে কয়েক সেকেন্ডের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ও ফার্স্ট লেডি মিশেল ওবামার মুখ বানরের শরীরে বসানো একটি দৃশ্য দেখানো হয়। বামঘেঁষা রাজনৈতিক পডকাস্টার ব্রায়ান টাইলার কোহেনকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে ওবামা প্রথমবারের মতো বিষয়টি নিয়ে প্রকাশ্যে কথা বলেন। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক কথাবার্তা এমন এক নিষ্ঠুরতার পর্যায়ে নেমে গেছে, যা আগে দেখা যায়নি। ট্রাম্পের নাম সরাসরি উল্লেখ না করে ওবামা বলেন, বেশিরভাগ আমেরিকান এ ধরনের আচরণকে গভীরভাবে উদ্বেগজনক বলে মনে করেন। তার ভাষায়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও টেলিভিশনে এক ধরনের ‘বিদ্রƒপাত্মক প্রদর্শনী’ চলছে এবং যাদের আগে শালীনতা ও দায়িত্ববোধের প্রত্যাশা করা হতো, তাদের মধ্যেও এখন সে বোধের ঘাটতি দেখা যাচ্ছে। ওবামা আরো বলেন, এ ধরনের বার্তা শেষ পর্যন্ত মধ্যবর্তী নির্বাচনে ট্রাম্পের রিপাবলিকানদের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে এবং এর জবাব শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের জনগণই দেবে। এদিকে ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, নির্বাচনী জালিয়াতি-সংক্রান্ত ভিডিওটির মূল বক্তব্যের সাথে তিনি একমত, তবে শেষাংশের আপত্তিকর ক্লিপটি তিনি দেখেননি বলে দাবি করেন। বাসস।
বিশ্ব ঐতিহ্য হিসেবে নিবন্ধিত হচ্ছে ইরানের ৬টি মসজিদ
৬টি মসজিদÑ জামে আরদেস্তান, জামে জাভারে, আগাবোজর্গ কাশান, জামে নাটাঞ্জ, জামে এশতারজান এবং জামে নাইইন- বিশ্ব ঐতিহ্য তালিকায় নিবন্ধনের জন্য নির্বাচিত হয়েছে। এ নির্বাচনটি মন্ত্রণালয়ের সদর দফতর এবং ইউনেস্কোর বিশেষজ্ঞদের দ্বারা সম্পাদিত পেশাদার মূল্যায়নের ভিত্তিতে করা হয়েছে। ফারস সংবাদ সংস্থার ইসফাহান কার্যালয়ের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি সপ্তাহে ফালাভারজান কাউন্টি ইসফাহান প্রদেশের গভর্নর ও একদল প্রাদেশিক কর্মকর্তার আতিথ্য করেছে। এ সফরে ইসফাহানের গভর্নর প্রদেশের ঐতিহাসিক ও মূল্যবান নিদর্শনগুলোর জাতীয় ও আন্তর্জাতিক নিবন্ধনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। পর্যটন উন্নয়ন ও প্রসার এই প্রশাসনিক মেয়াদে ইসফাহানের গভর্নরের অন্যতম কর্মসূচি। এ সফরে ইসফাহান প্রদেশের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য, পর্যটন ও হস্তশিল্প বিভাগের মহাপরিচালক আমির করমজাদে ঘোষণা করেন যে, ঐতিহাসিক ইশতারজান জামে মসজিদ ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্য তালিকায় নিবন্ধনের প্রার্থী তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছে এবং এই স্থাপনার জরুরি সংস্কারের জন্য অর্থায়ন নিশ্চিত করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। তার মতে, মসজিদের তাৎক্ষণিক সংস্কারের জন্য প্রায় ৫ বিলিয়ন তুমান এবং ফালাভারজান কাউন্টিতে সংশ্লিষ্ট প্রকল্পগুলোর জন্য মোট ১৫ বিলিয়ন তুমান বাজেট বরাদ্দের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। ইসফাহান প্রদেশের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য, পর্যটন ও হস্তশিল্প বিভাগের মহাপরিচালক আরও জানান, এই মসজিদটি ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্য তালিকায় নিবন্ধনের জন্য মনোনীত ৩৬টি মসজিদের একটি; এর মধ্যে ইসফাহান প্রদেশ থেকে ছয়টি মসজিদ এই তালিকায় রয়েছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, বিশ্ব ঐতিহ্য হিসেবে নিবন্ধনের প্রক্রিয়ায় আইনি ও ব্যবস্থাপনাগত বাধা দূর করা অপরিহার্য। করমজাদে আরো জানান, মসজিদের পার্শ্ববর্তী একটি জমির ভূমি ব্যবহারের পরিবর্তন সমস্যা সমাধান করে সাংস্কৃতিক পরিসর ও হোসেইনিয়া উন্নয়নের বিষয়টি চলমান কর্মসূচিগুলোর অন্যতম। তিনি স্পষ্ট করেন যে, এক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সঙ্গে আলোচনা ও সমন্বয় করা হচ্ছে, যাতে ঐতিহাসিক নিদর্শনের সুরক্ষা সীমার কোনো ক্ষতি না করে সাংস্কৃতিক উন্নয়ন নিশ্চিত করা যায়। ইসফাহান প্রদেশের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য বিভাগের মহাপরিচালক জোর দিয়ে বলেন যে, বিশ্ব ঐতিহ্য হিসেবে নিবন্ধনের জন্য ঐতিহাসিক ভবনগুলোতে ন্যূনতম হস্তক্ষেপ অপরিহার্য। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, এই মসজিদে সীমিত পরিসরে যে সংস্কারকাজ করা হয়েছে, তা বিবেচনায় নিলে এর বিশ্ব ঐতিহ্য হিসেবে নিবন্ধনের সম্ভাবনা অনেক বেশি।
ইশতারজান জামে মসজিদের ইরানি ইসলামি স্থাপত্য বিষয়ক জাতীয় উৎসবটিও এই ঐতিহাসিক নিদর্শনের সক্ষমতা তুলে ধরা এবং এর বিশ্ব নিবন্ধনের জন্য জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর দৃষ্টি আকর্ষণের লক্ষ্যে আয়োজন করা হয়েছে- যে পথ এই প্রাচীন ঐতিহ্য সংরক্ষণ ও পরিচিতির ক্ষেত্রে এক নতুন ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে পারে। প্রায় ১,৫০০ বর্গমিটার আয়তনবিশিষ্ট ইশতারজান জামে মসজিদ ফালাভারজান কাউন্টির অন্যতম অতি মূল্যবান নিদর্শন। এর নির্মাণকাল অন্তত সেলজুক যুগ পর্যন্ত গড়ায় এবং ইলখানি আমলে এটি আরও বিকশিত ও সম্প্রসারিত হয়। এই সুন্দর মসজিদে ইরানি মসজিদের সব বৈশিষ্ট্যই বিদ্যমান, যেমন প্রধান প্রবেশদ্বার ও পৃথক প্রবেশপথ, সাহন (উন্মুক্ত প্রাঙ্গণ), পূর্ব ও পশ্চিম এবং শীতকালীন নামাজঘর, গম্বুজকক্ষ, মেহরাব ও মাকসুরা। মসজিদের উত্তর দিকের প্রধান প্রবেশদ্বারটি ইরানি স্থাপত্যের বিবর্তনের ধারায় বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। এই অংশে দুটি মিনার ও ১২ মিটার উচ্চতার একটি উঁচু ইওয়ান রয়েছে, যা উৎকৃষ্ট মানের স্টুকো কাজ, টাইলস ও ইটের অলংকরণে সুশোভিত। এছাড়া টাইলস, পাথর ও প্লাস্টার দিয়ে তৈরি বহু গুরুত্বপূর্ণ শিলালিপি এই মসজিদের আরেকটি উল্লেখযোগ্য ঐতিহাসিক বৈশিষ্ট্য। ইশতারজান জামে মসজিদটি ১৩১৫ সালের ১২ এসফান্দ (১৯৩৭ খ্রিষ্টাব্দ) তারিখে ২৬৩ নম্বর হিসেবে ইরানের জাতীয় ঐতিহ্য তালিকায় নিবন্ধিত হয়। পর্যটন খাতের কর্মীরা ইসফাহান প্রদেশের ৬টি ঐতিহাসিক ও প্রাচীন মসজিদকে ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্য তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার জন্য প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। ইসফাহান প্রদেশের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য, হস্তশিল্প ও পর্যটন বিভাগের মহাপরিচালক জানান যে, এই প্রদেশের ৬টি ঐতিহাসিক মসজিদকে বিশ্ব ঐতিহ্য তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা এবং একই সঙ্গে ২০০টি ব্যতিক্রমধর্মী প্রকল্পের সংস্কারকাজের জন্য নিরবচ্ছিন্ন প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে। করমজাদে আরও বলেন, ইসফাহান প্রদেশের অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো এর ঐতিহাসিক ও সুন্দর মসজিদসমূহ। ইসফাহান প্রদেশের ৬টি মসজিদকে বিশ্ব ঐতিহ্য হিসেবে নিবন্ধনের জন্য নির্বাচন করা হয়েছে। এই নির্বাচন মন্ত্রণালয়ের সদর দপ্তর এবং ইউনেস্কোর বিশেষজ্ঞদের দ্বারা সম্পাদিত পেশাদার মূল্যায়নের ভিত্তিতে করা হয়েছে। নির্বাচিত মসজিদগুলো হলো জামে আরদেস্তান মসজিদ, জামে জাভারে মসজিদ, আগা বোযর্গ কাশান মসজিদ, জামে নাটাঞ্জ মসজিদ, জামে ইশতারজান মসজিদ এবং জামে নাইইন মসজিদ। ফার্স নিউজ এজেন্সি।
পশ্চিমতীরের জমিকে রাষ্ট্রীয় সম্পত্তি হিসেবে অনুমোদন ইসরাইলের
১৯৬৭ সালে দখলের পর এই প্রথম অধিকৃত পশ্চিমতীরের বিস্তীর্ণ এলাকাকে ‘রাষ্ট্রীয় সম্পত্তি’ হিসেবে নিবন্ধনের প্রস্তাব অনুমোদন করেছে ইসরাইল। তেলআবিবের এ সিদ্ধান্ত নতুন করে অঞ্চলটিতে উত্তেজনা বাড়িয়েছে এবং আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা জানিয়েছে, ইসরাইলি পাবলিক ব্রডকাস্টার কেএএন-এর বরাতে গত রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) এ তথ্য প্রকাশ করা হয়। প্রস্তাবটি জমা দেন উগ্র ডানপন্থি অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোট্রিচ, বিচারমন্ত্রী ইয়ারিভ লেভিন এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ। প্রতিবেদন অনুযায়ী, পশ্চিম তীরের অধিকাংশ ফিলিস্তিনি জমি আনুষ্ঠানিকভাবে নিবন্ধিত নয়। কারণ জমি নিবন্ধন প্রক্রিয়াটি দীর্ঘ ও জটিল যা ১৯৬৭ সালে দখলের পর ইসরাইল স্থগিত করে দেয়। নতুন এ পদক্ষেপ সেই প্রক্রিয়া পুনরায় চালু করার পথ তৈরি করছে। এর আগেও পশ্চিম তীরের ওপর নিয়ন্ত্রণ জোরদারে একাধিক কঠোর সিদ্ধান্ত অনুমোদন দেয় ইসরাইলি নিরাপত্তা মন্ত্রিসভা। এসব ব্যবস্থার মাধ্যমে ফিলিস্তিনি জমি ইহুদি বসতকারীদের কাছে বিক্রি সহজ করা এবং ফিলিস্তিনি-নিয়ন্ত্রিত এলাকাগুলোয় ইসরাইলি কর্তৃত্ব বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হচ্ছে। নতুন নীতিমালার আওতায় পশ্চিমতীরে ভূমি নিবন্ধন পদ্ধতি উন্মুক্ত করা হবে, যা ইসরাইলি বসতকারীদের জন্য জমি কেনার প্রক্রিয়া সহজ করবে। একই সঙ্গে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের এখতিয়ার সীমিত করে ইসরাইলি সামরিক ও প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষের ক্ষমতা আরও সম্প্রসারিত করা হচ্ছে বলে জানা গেছে। ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস এ সিদ্ধান্তকে ‘বিপজ্জনক’ ও ‘অবৈধ’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। তিনি বিষয়টিতে হস্তক্ষেপের জন্য মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। অন্যদিকে হামাস পশ্চিম তীরের ফিলিস্তিনিদের দখলদারিত্ব ও বসতকারীদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ জোরদার করার আহ্বান জানিয়েছে। সংগঠনটির মতে, এ সিদ্ধান্ত অঞ্চলটিতে সংঘাত আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে। এদিকে সৌদি আরব, জর্ডান, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত, তুরস্ক, ইন্দোনেশিয়া, পাকিস্তান এবং মিশরসহ একাধিক দেশ এ সিদ্ধান্তের নিন্দা জানিয়েছে। তাদের বক্তব্য, এটি পশ্চিমতীরে অবৈধভাবে ইসরাইলি সার্বভৌমত্ব চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা। সব মিলিয়ে পশ্চিমতীরের জমিকে রাষ্ট্রীয় সম্পত্তি হিসেবে অনুমোদনের এ পদক্ষেপ মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকটকে আরও জটিল করে তুলেছে। ফিলিস্তিনি নেতৃত্ব, আঞ্চলিক শক্তি ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতিক্রিয়া ইঙ্গিত দিচ্ছে, এ সিদ্ধান্তের রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক প্রভাব সুদূরপ্রসারী হতে পারে। আল-জাজিরা।
সিনাই উপদ্বীপে ১০ হাজার বছরের প্রাচীন শিলাচিত্র আবিষ্কার
মরুভূমি আর পাহাড়ঘেরা রহস্যময় ভূখণ্ড সিনাই উপদ্বীপে মিলেছে প্রায় ১০ হাজার বছরের প্রাচীন শিলাচিত্র ও প্রত্নস্থলের সন্ধান। হাজার বছরের ইতিহাসে মোড়ানো এই অঞ্চল আবারও আলোচনায় এসেছে নতুন এক প্রত্নতাত্ত্বিক আবিষ্কারের কারণে। শিলার গায়ে খোদাই ও আঁকা প্রাচীন চিত্রকর্ম ঘিরে গবেষকদের মধ্যে তৈরি হয়েছে ব্যাপক আগ্রহ। সিনাই উপদ্বীপের ভৌগোলিক অবস্থান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি অবস্থিত মিসর-এ; এক পাশে ইসরায়েল এবং অন্য পাশে ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকা। ১৯৬৭ সালের আরব-ইসরায়েল যুদ্ধের সময় উপদ্বীপটি ইসরায়েলের দখলে চলে যায়। পরে ১৯৮২ সালে এক চুক্তির মাধ্যমে এটি আবার মিসরের নিয়ন্ত্রণে ফিরে আসে। ইতিহাসের এমন গুরুত্বপূর্ণ প্রেক্ষাপটে দাঁড়িয়ে সিনাইয়ের নতুন প্রত্নআবিষ্কার অঞ্চলটির অতীতকে আরও গভীরভাবে তুলে ধরছে। মিসরের পর্যটন ও পুরাকীর্তিবিষয়ক মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আবিষ্কৃত স্থানটি সিনাইয়ের উম ইরাক মালভূমিতে অবস্থিত। সেখানে প্রায় ১০০ মিটার দীর্ঘ একটি বিশাল শিলাকাঠামো রয়েছে। এই শিলার গায়েই পাওয়া গেছে অসংখ্য খোদাই ও আঁকা চিত্র। প্রাগৈতিহাসিক যুগ থেকে শুরু করে ইসলামি যুগ পর্যন্ত শিল্পচর্চার বিবর্তন এই চিত্রগুলোর মাধ্যমে স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। দেশটির সুপ্রিম কাউন্সিল অব অ্যান্টিকিউটিস একে সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রত্নতাত্ত্বিক আবিষ্কার হিসেবে উল্লেখ করেছে। কাউন্সিলের মহাসচিব হিশাম এল-লেইথি বলেন, এ স্থানের ঐতিহাসিক ও শিল্পমূল্য অত্যন্ত উচ্চমানের। বিভিন্ন সময়ের নিদর্শন একসঙ্গে উপস্থিত থাকায় জায়গাটি যেন খোলা আকাশের নিচে এক প্রাকৃতিক জাদুঘরে পরিণত হয়েছে। শিলাকাঠামোর ওপরের অংশে লাল রঙে আঁকা বহু প্রাণীর অবয়ব ও প্রতীকচিহ্ন দেখা গেছে। অন্যদিকে খোদাই করা চিত্রগুলোয় প্রাচীন মানবগোষ্ঠীর দৈনন্দিন জীবনযাপন, শিকার, অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড এবং সামাজিক রীতিনীতির প্রতিফলন মিলেছে। গবেষকদের মতে, এসব চিত্র সেই সময়কার মানুষের জীবনধারা ও বিশ্বাস সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিচ্ছে। কাঠামোর অভ্যন্তরে দেয়াল ও আগুন জ্বালানোর চুলার চিহ্নও পাওয়া গেছে। এসব নিদর্শন থেকে ধারণা করা হচ্ছে, এখানে দীর্ঘসময় ধরে মানুষের বসবাস ছিল। অর্থাৎ এটি কেবল শিল্পকর্মের স্থান নয়, বরং একটি বসতিস্থল হিসেবেও ব্যবহৃত হতো। ফলে স্থানটির প্রত্নতাত্ত্বিক গুরুত্ব আরও বেড়ে গেছে। মিসরের পর্যটন ও প্রত্নতত্ত্বমন্ত্রী শরিফ ফাতহি বলেছেন, এই আবিষ্কার প্রমাণ করে যে হাজার হাজার বছর ধরে বিভিন্ন সভ্যতার মানুষ এ এলাকায় বসবাস করেছে। তার মতে, এটি মিসরের সমৃদ্ধ প্রত্নসম্পদের ভাণ্ডারে একটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন। এদিকে সিনাই অঞ্চলের সেন্ট ক্যাথরিন শহরকে কেন্দ্র করে বড় একটি উন্নয়ন প্রকল্প হাতে নিয়েছে কায়রো। এ শহরটি ইউনেসকোর বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকাভুক্ত। সরকারের লক্ষ্য, ঐতিহাসিক ও ধর্মীয় গুরুত্বসম্পন্ন এ এলাকাকে আন্তর্জাতিক পর্যটকদের জন্য আরও আকর্ষণীয় করে তোলা। সিনাই উপদ্বীপের নতুন শিলাচিত্র আবিষ্কার শুধু অতীতের শিল্প ঐতিহ্যেরই নয়, বরং মানবসভ্যতার দীর্ঘ ইতিহাসের এক অনন্য দলিল হয়ে উঠেছে। মরুভূমির নিস্তব্ধতার আড়ালে লুকিয়ে থাকা এই প্রাচীন শিল্পকর্ম আবারও মনে করিয়ে দিলো মানুষের সৃজনশীলতা ও বসতির ইতিহাস কতটা গভীর এবং বিস্তৃত। এএফপি।
ইউক্রেনের প্রধান অস্ত্র কারখানা ধ্বংস
ইউক্রেনের অন্যতম প্রধান সমরাস্ত্র উৎপাদন কেন্দ্রে বড় ধরনের আঘাত হেনেছে রাশিয়া। মিউনিখ নিরাপত্তা সম্মেলনের এক সংবাদ সম্মেলনে প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি নিজেই জানিয়েছেন যে, ইউক্রেনের একটি বিশাল ‘ফ্ল্যামিঙ্গো’ মিসাইল উৎপাদন কারখানা রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ধ্বংস হয়ে গেছে। ইউক্রেন তাদের পরিকল্পিত ফ্ল্যামিঙ্গো মিসাইল উৎপাদন পুনরায় শুরু করতে পেরেছে কি নাÑ এমন প্রশ্নের জবাবে জেলেনস্কি বলেন, ‘মাদের কাছে এ ধরনের উৎপাদন ব্যবস্থা খুব বেশি নেই। একটি বড় উৎপাদন কারখানা ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে।’ প্রেসিডেন্ট আরও জানান যে, ঘটনাটি বেশ কিছুদিন আগে ঘটায় তিনি এখন এটি প্রকাশ্যে আনতে পারছেন। এ ক্ষয়ক্ষতির ফলে ইউক্রেনের দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনা বড় ধরনের বাধার মুখে পড়ল বলে মনে করা হচ্ছে। গত বছরের ২১ আগস্ট জেলেনস্কি দাবি করেছিলেন যে, ইউক্রেনের কাছে এমন একটি ফ্ল্যামিঙ্গো মিসাইল রয়েছে যার পাল্লা বা রেঞ্জ প্রায় ৩ হাজার কিলোমিটার। তবে তিনি সে সময় জানিয়েছিলেন, এর ব্যাপক উৎপাদন শুরু করতে আরও কয়েক মাস সময় লাগবে। পরবর্তীতে ইউক্রেনীয় গণমাধ্যমে সেই মিসাইল তৈরির কারখানার কিছু ভিডিও প্রকাশিত হয়। তবে এই মিসাইলের উৎস নিয়ে সামরিক বিশ্লেষকদের মধ্যে বিতর্ক রয়েছে। ইউক্রেন এটিকে নিজেদের উদ্ভাবন হিসেবে দাবি করছে। কিন্তু অনেক ইউক্রেনীয় বিশ্লেষক লক্ষ্য করেছেন যে, তথাকথিত এই ‘ইউক্রেনীয় মিসাইল’ দেখতে অনেকটা ব্রিটিশ এফপি-৫ মিলানিয়ন-এর মতো। যুদ্ধের এ পর্যায়ে উৎপাদন কেন্দ্র ধ্বংস হওয়া জেলেনস্কি প্রশাসনের জন্য একটি বড় ধাক্কা। রাশিয়ার অব্যাহত বিমান হামলা ও ড্রোন আক্রমণের মুখে নিজেদের অস্ত্রভাণ্ডার সমৃদ্ধ করা এখন ইউক্রেনের জন্য কঠিন চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাস।
গ্রন্থনা ও সম্পাদনা : আবদুল কাইউম খান