আওয়ামী লোপাটে ফোকলা অর্থনীতি

বাড়ছে বেকারত্ব ও দারিদ্র্য


২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ১১:৫২

॥ সাইদুর রহমান রুমী ॥
আওয়ামী লীগের বিগত ১৬ বছরের লুুটপাট ও অন্তহীন দুর্নীতির ফলে ফোকলা অর্থনীতির জের এখনও বহন করছে পুরো দেশ। অন্তর্বর্তী সরকারের বছরাধিকাল পর ক্রমেই প্রকট হয়ে উঠছে এর কুফল। বেকারত্ব আর দারিদ্র্য বাড়ার পাশাপাশি বাড়ছে সামাজিক হতাশা আর পারিবারিক অশান্তি। বিনিয়োগ শূন্য পরিস্থিতি আর ব্যবসা-বাণিজ্যের চরম মন্দা পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল করে তুলছে।
চরম সংকটে ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীরা
মো. ইদ্রিস আলী। রাজধানীর বাড্ডা এলাকায় থাকেন বিগত ২০ বছর ধরে। উত্তর বাড্ডা এলাকায় মুদি দোকানের ব্যবসা করেন। বিগত সময়ে দোকান ও ব্যবসা বড় হওয়ায় কর্মচারীর সংখ্যা ৩ জন করেছিলেন। তিনি সাপ্তাহিক সোনার বাংলাকে জানান, ভাই, আওয়ামী লীগ পালিয়েছে আর দেশের ব্যবসা-বাণিজ্যও শেষ করে দিয়ে গেছে। হঠাৎ করে যেন দোকানের বিক্রি অর্ধেকের বেশি কমে গেছে। তাই বাধ্য হয়ে কর্মচারী দুজন ছাঁটাই করতে হয়েছে। দোকান ভাড়া দিয়ে টিকে থাকতেই কষ্ট হয়ে যাচ্ছে। কী করবো, ভেবে পাচ্ছি না।
তোফায়েল আহমেদ। নিয়ন সাইনসহ এ জাতীয় ব্যবসায় প্রায় এক দশক। অফিস ছিল পল্টন এলাকায়। খরচ কুলাতে না পারায় বর্তমানে বনশ্রীতে অফিস স্থানান্তর করেছেন। তিনি জানান, অর্ডার একদম কমে গেছে। আর অর্ডার যাও কিছু পাচ্ছি, এসব কাজ উঠানোর জন্য কোনো ধরনের ব্যাংক সাপোর্ট পাচ্ছি না। বিনিয়োগের জন্য অনেক ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে যোগাযোগ করেও কোনো বিনিয়োগ পাচ্ছি না। আমাদের মতো ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের কাছে ব্যাংকগুলো কোটি কোটি টাকার স্থাবর সম্পত্তির গ্যারান্টি চাচ্ছে। কোনো কোনো ব্যাংকের সদিচ্ছা থাকলেও ব্যাংকের আর্থিক সক্ষমতা আওয়ামী চোরেরা ধ্বংস করে দিয়ে গেছে। নামে-বেনামে কোটি কোটি টাকার ঋণ দেয়ার ফলে ব্যাংকগুলো শেষ হয়ে গেছে। আমাদের মতো ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা এখন পথে বসার জোগাড়।
বাড়ছে কর্মহীন মানুষের সংখ্যা
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস)-এর সর্বশেষ ত্রৈমাসিক শ্রমশক্তি তথ্যানুযায়ী, চলতি ২০২৪-২৫ অর্থবছরে দেশের বেকারত্বের হার বেড়ে ৪.৬৩% পৌঁছেছে, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ে বেকারত্বের হার ছিল ৩.৯৫%। জরিপে দেখা যায়, দেশে এখনো স্নাতক ডিগ্রিধারীদের ৩ জনের একজন বেকার। সবচেয়ে বেশি বেকার ঢাকা বিভাগে। এই বিভাগে বেকার আছে ৬ লাখ ৮৭ হাজার জন। যোগ্যতা অনুসারে চাকরি পাচ্ছে না মানুষ। বিশেষ করে শিক্ষিত তরুণদের ক্ষেত্রে বেকারত্বের চিত্র ভয়াবহ। ১৫ থেকে ২৯ বছর বয়সী যুব বেকারদের মধ্যে প্রায় ২৯ শতাংশ স্নাতক। শ্রমশক্তি জরিপের তথ্য বলছে, ডিসেম্বর শেষে দেশের বেকার জনগোষ্ঠী বেড়ে ২৭ লাখ ৩০ হাজারে দাঁড়িয়েছে। গত বছরের একই সময়ে তা ছিল ২৪ লাখ। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে দেশে বেকার বেড়েছে আরো ৩ লাখ ৩০ হাজার।
মো. কাইয়ুম। অনার্সে পড়েন বরিশাল কলেজে। ঢাকার গুলশানে একটি প্রতিষ্ঠানে পিয়ন হিসেবে কাজ করছেন মাসিক ৮ হাজার টাকা বেতনে। জানালেন, ভাই, এ বেতনে ঢাকার মেসে থাকা-খাওয়া চালাতেই কষ্ট হয়ে যায়। মনে করেছিলাম ঢাকায় চাকরি করে এ খরচ দিয়ে পড়াশোনাটা চালিয়ে যেতে পারব এবং পরিবারকে কিছু সাপোর্ট দিতে পারব, কিন্তু এখন কিছুই হচ্ছে না। হতাশায় আছি।
রাজধানীর শান্তিনগর এলাকায় কথা হয় তরুণ অটোচালক ইয়াসিনের সাথে। জানালেন, বিকম পাস করেছেন কয়েক বছর হলো। সম্মানজনক ভালো বেতনের কোনো চাকরি না পেয়ে শেষে গত ৬-৭ মাস হতে অটো চালাচ্ছেন। ইনকাম দৈনিক ভালো হলেও প্রচুর কষ্ট হয় এবং তার সঙ্গী-সাথীরা সবাই অশিক্ষিত। আক্ষেপ করে জানালেন, তাহলে লেখাপড়া করতে গিয়ে মা-বাবাকে অনেক কষ্ট দিয়েছি। এখন আর কী লাভ হলো।
আয় অসঙ্গতি আর ঋণের ভারে জর্জরিত মানুষ
ব্যয় অনুযায়ী আয়ের কোনো যোগসূত্র না থাকায় দেশজুড়ে পরিবারগুলোয় ঋণের ভারে জর্জরিত মানুষের সংখ্যা বাড়ছে। বাড়ছে হতাশা আর পারিবারিক অশান্তি। এর ব্যাপক প্রভাব পড়তে শুরু করেছে অর্থনীতিতে। সম্প্রতি খোদ সরকারি এক জরিপে ভয়ংকর তথ্য উঠেছে যে, দেশের পরিবারপ্রতি ঋণ বিগত ছয় বছরে দ্বিগুণ হয়ে গেছে।
বিবিএস জরিপ বলছে, দেশের ৩৭ শতাংশ পরিবার গত এক বছরে হয় কোনো আর্থিক প্রতিষ্ঠান, নয়তো বন্ধু-বান্ধবের কাছ থেকে ঋণ বা ধার করেছে। বিগত আওয়ামী লীগের সময় ২০১৬ সালের এক জরিপে দেখা যায়, ধার বা ঋণ করে চলা পরিবার ছিল গড়ে ২৯ দশমিক ৭০ শতাংশ। এটি পরের গত ছয় বছরে বেড়ে পরিবার প্রতি আরো সোয়া ৭ শতাংশীয় পয়েন্ট বেশি বাড়ে। তার মানে জীবনমান বাড়ার বদলে দিনকে দিন কমছেই। এছাড়া বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য থেকেও দেখা যায়, সাম্প্রতিক বছরগুলোয় ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে ঋণে জর্জরিত হবার পরিমাণ বাড়ছে বিদ্যুৎ গতিতে। জরিপের তথ্যানুযায়ী, ২০২২ সাল শেষে পরিবারপ্রতি গড় ঋণের পরিমাণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭০ হাজার ৫০৬ টাকা। ২০১৬ সালে এ ঋণের পরিমাণ ছিল ৩৭ হাজার ৭৪৩ টাকা। বিবিএসের জরিপের তথ্য বলছে, এটির বর্তমানে কোনো উন্নতি নেই। মানুষের ঋণ বেড়ে যাওয়ার কারণ হিসেবে আওয়ামী লীগের সময় থেকে চলে আসা দ্রব্যমূল্য বা জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাওয়াকে অন্যতম কারণ বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা। শহরের মানুষের বাসাভাড়া ইউটিলিটিসহ নানা ব্যাপারে বিভিন্ন ফি পরিশোধ করতে করতেই জান বের হবার জোগাড়।
আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে দারিদ্র্য
সম্প্রতি পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিসিপেশন রিসার্চ সেন্টারের (পিপিআরসি) গবেষণায় বলা হয়েছে, মানুষের বড় একটি অংশ পূর্ণাঙ্গ কর্মসংস্থানে যুক্ত নেই। এসব কর্মজীবীর প্রায় চারজনের মধ্যে একজন (৩৮ শতাংশ) পূর্ণ সময় (সপ্তাহে ৪০ ঘণ্টা) কাজ করছেন না। তাঁরা পছন্দমতো কাজ পাচ্ছেন না। তারা হলেন আন্ডারএমপ্লয়েড বা ছদ্মবেকার।
আরেকটি উদ্বেগের বিষয় হলো, তিন বছরের বেশি সময় ধরে দেশে উচ্চ মূল্যস্ফীতি বিরাজ করছে। এ সময়ে ধারাবাহিকভাবে মানুষের মজুরি বৃদ্ধির হার মূল্যস্ফীতির চেয়ে কম ছিল। ২০২২ সালের এপ্রিল থেকে শুরু করে মূল্যস্ফীতির হার ধারাবাহিকভাবে মজুরি বৃদ্ধির হারকে ছাড়িয়ে গেছে। ফলে ভোক্তাদের ক্রয়ক্ষমতা হ্রাস পেয়েছে এবং প্রকৃত আয় কমেছে। আর এসব কিছুর সম্মিলিত ফল হলো, দারিদ্র্য বৃদ্ধি। বিশ্বব্যাংকের শঙ্কা, বাংলাদেশে এ বছর আরও ৩০ লাখ মানুষ ‘অতিদরিদ্র’ হবে। ফলে অতিদারিদ্র্যের হার বেড়ে ৯ দশমিক ৩ শতাংশ হবে। ২০২৪ সালে এই হার ছিল ৭ দশমিক ৭ শতাংশ। পিপিআরসির হিসাবে, গত মে মাসে দেশের দারিদ্র্যের হার দাঁড়িয়েছে প্রায় ২৮ শতাংশে। ২০২২ সালে সরকারি হিসাবে (পরিসংখ্যান ব্যুরোর খানা আয়-ব্যয় জরিপ) ছিল ১৮ দশমিক ৭ শতাংশ।
কী বলছেন অর্থনীতিবিদরা
অর্থনীতিবিদরা বলছেন, দেশের চলমান সংস্কার আলোচনায় রাজনীতির পাশাপাশি অর্থনৈতিক সংস্কারকেও প্রাধান্য দেওয়া উচিত। বিশেষ করে তরুণ জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থানে কী কী করা উচিত, আলোচনায় থাকা দরকার। পিপিআরসি আয়োজিত ‘দারিদ্র্য না কমে কেন বাড়ছে’ শীর্ষক অনলাইন সেমিনারে অংশ নিয়ে দেশের শীর্ষস্থানীয় কয়েকজন অর্থনীতিবিদ এ কথা বলেন। পিপিআরসির নির্বাহী চেয়ারম্যান হোসেন জিল্লুর রহমান বলেন, গত তিন বছরে দারিদ্র্যের হার ১০ শতাংশীয় পয়েন্ট বেড়ে ২৮ শতাংশ হয়েছে। দেশের ১৮ শতাংশ মানুষ রয়েছে অর্থনৈতিকভাবে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায়। সুতরাং দারিদ্র্য ও ঝুঁকিতে থাকা মানুষের হার প্রায় ৪৬ শতাংশ। গ্রামেই দরিদ্রতা বেড়েছে সবচেয়ে বেশি। এ ছাড়া ৫১ শতাংশ পরিবারে কেউ না কেউ দীর্ঘস্থায়ী রোগে আক্রান্ত। বেকারত্বের হার ৩ দশমিক ৯৫ শতাংশ থেকে বেড়ে ৪ দশমিক ৬৩ শতাংশ হয়েছে। বেকার মানুষের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৭ লাখ ৩০ হাজারে। আর বর্তমান অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিস্থিতি মানুষের আর্থিক অবস্থাকে আরও নাজুক করে তুলেছে। তাই কর্মসংস্থানের জরুরি পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক রেহমান সোবহান বলেন, অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকার নানা সংস্কারের উদ্যোগ নিলেও দরিদ্রতা দূরীকরণের কোনো উদ্যোগ গ্রহণ করেনি। এ বিষয়ক কোনো আলোচ্যসূচিও সরকারের ছিল না।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক সেলিম রায়হান বলেন, ২০২২ সালে বিবিএসের করা দারিদ্র্য জরিপে করোনার কোনো প্রভাব উঠে না আসাটা আমাকে বিস্মিত করেছিল। অতীতে আমরা দেখেছি অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি কর্মসংস্থান বৃদ্ধি বা দারিদ্র্য কমাতে তেমন কোনো ভূমিকা রাখেনি। বরং একদিকে প্রবৃদ্ধি হয়েছে; অন্যদিকে বৈষম্য বেড়েছে। এমনকি পোশাক খাতের অধিকাংশ শ্রমিকদের বেতন দরিদ্রদের আয়সীমার নিচে। ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করে সেলিম রায়হান বলেন, বর্তমান রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি রাতারাতি হয়তো পরিবর্তন হবে না। ফলে দারিদ্র্য সমস্যা আরও ঘনীভূত হতে পারে। আর বর্তমানের প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের উদ্যোগ পরবর্তী সরকার চালিয়ে নেবে কি নাÑ সেই প্রশ্নও রয়ে গেছে। ব্যক্তি খাতের বিনিয়োগ নিয়ে বিশেষভাবে উদ্বেগ প্রকাশ করে সেলিম রায়হান বলেন, এক্ষেত্রে পরিস্থিতি অত্যন্ত খারাপ। জানুয়ারি-মার্চ প্রান্তিকে এফডিআইয়ের প্রবাহ বাড়লেও তা বড় পরিবর্তন নয় বলেই মনে করেন তিনি। এছাড়া নতুন এফডিআই তেমন একটা আসেনি, যা এসেছে তা মূলত পুনর্বিনিয়োগ। এই মুহূর্তে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি না হলে বিনিয়োগে গতি আসবে না।
অন্যদিকে সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুন বলেন, গত কয়েক দশকে আমরা কর্মসংস্থানহীন প্রবৃদ্ধি দেখেছি। দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ থমকে ছিল। গত ১৫ বছরে জিডিপি প্রবৃদ্ধি হলেও শিল্প খাতে নতুন কর্মসংস্থান তৈরি হয়নি। তাই কাজের সুযোগ বাড়েনি। কিন্তু বিবিএসের হিসাবে সপ্তাহে ১ ঘণ্টা কাজ করলে তাকে কর্মসংস্থানে যুক্ত ধরা হচ্ছে। এটা বাংলাদেশের সঙ্গে যুক্তিযুক্ত নয়। কারণ এই বেতনে চলা যায় না।
তাই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য বেসরকারি বিনিয়োগ বাড়ানো দরকার। কিন্তু সেক্ষেত্রে গত এক বছরে ইতিবাচক খবর নেই। চলতি বছর শেষে জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার আরও কমার আভাস দিয়েছে বিশ্বব্যাংক, আইএমএফ। ২০২৫ সালে জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৩ দশমিক ৯৭ শতাংশ নেমে আসবে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর পক্ষ থেকে। জুলাই অভ্যুত্থানের পর দেশের অর্থনীতি যথেচ্ছতার ফাঁদ থেকে মুক্তি পাবে বলে আশা করা হয়েছিল। কিন্তু সে আশা দুরাশায় পরিণত হয়েছে।
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি এম এ সাত্তার মণ্ডল বলেন, গ্রামে দারিদ্র্যতার হার বৃদ্ধির কিছু কারণ থাকতে পারে। যেমন এখন কৃষি উৎপাদনে সার, সেচ এসবের ব্যয় বেড়ে গেছে। খরার কারণে দীর্ঘসময় সেচ দিতে হচ্ছে, ফলে ডিজেল ব্যয় বাড়ছে। এতে কৃষকের লাভের পরিমাণ কমে গেছে। সেই সঙ্গে ক্রয়ক্ষমতাও কমেছে। কিন্তু প্রকৃত মজুরি সেভাবে বাড়েনি।
কী বলছেন ব্যবসায়ী নেতারা
ঢাকা চেম্বারের সাবেক পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান বলেন, অর্থনীতিতে যেভাবে সংস্কার হবার কথা সেরকমভাবে হয়নি। আর তৃণমূল পর্যায়ে দুর্নীতি ও হয়রানি কমেনি। ফলে মানুষ আশাহত।
ঢাকার সাভার পৌর জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি ও বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আবদুস সালাম সোনার বাংলাকে বলেন, বিগত আওয়ামী লীগ দেশের অর্থনীতির মেরুদণ্ড ভেঙে দিয়ে গেছে। ফলে বর্তমানে অর্থনীতি দিন দিন আরও খারাপের দিকে যাচ্ছে। তিনি বলেন, অর্থনীতি ভালো হতে তিনটি খাতকে অতি দ্রুত গুরুত্ব দিতে হবে। সেগুলো হলো কৃষি খাত, জনশক্তি তথা রেমিট্যান্স এবং রফতানিমুখী গার্মেন্টস খাত। এসব খাতকে শক্তিশালী করতে সকল ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করে ঐক্যবদ্ধভাবে জোর প্রচেষ্টা চালাতে হবে।
বাংলাদেশ পাদুকা ব্যবসায়ী নেতা আলমাস উদ্দিন বলেন, বিগত আওয়ামী লীগের সময়ের ব্যাপক লুটপাটের ফলে দেশের উচ্চ মূল্যস্ফীতি আর অর্থনৈতিক বৈষম্যের কবলে পড়ে সচ্ছল ও ধনীদের একটি বিরাট অংশ মধ্যবিত্তের কাতারে এবং মধ্যবিত্তের অধিকাংশই বর্তমানে দারিদ্র্যসীমায় নেমে এসেছেন। বিশেষ করে বর্তমান সার্বিক পরিস্থিতিতে মধ্যবিত্ত শ্রেণি বেশি পেরেশানিতে পড়েছেন। তাদের যাওয়ার কোনো জায়গা নেই। তারা না পারছেন লোকলজ্জার কারণে রাস্তায় টিসিবির লাইনে দাঁড়াতে না পারছেন ঘনিষ্ঠ ধনীদের নিকট হাত পাততে। ফলে ওলট-পালট হয়ে গেছে দেশের বিশাল এই জনগোষ্ঠীর চিরাচরিত জীবনব্যবস্থা। অন্যদিকে দেশে রাতারাতি একটি শ্রেণি হঠাৎ করে যুক্ত হয়ে গেছে কোটিপতির কাতারে।