পুঠিয়ায় সারের কৃত্রিম সংকট


১১ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ১৪:৫৮

পুঠিয়া (রাজশাহী) সংবাদদাতা: রাজশাহীর পুঠিয়ায় উপজেলা কৃষি কর্মকর্তাদের অনিয়ম, তদারকির অভাব আর গাফিলতির কারণে সারের কৃত্রিম সংকট দেখা দিয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, বিসিআইসি ডিলারদের যোগসাজশে খুচরা সার ডিলাররা বেশি দামে সার বিক্রি করছেন। অবশ্য সারের বেশি দাম দিলে খুচরা ডিলারদের নিকট পর্যাপ্ত পরিমাণ সার পাওয়া যাচ্ছে।
পুঠিয়া উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর অফিস সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার ৬টি ইউনিয়ন আর ১টি পৌরসভায় বিসিআইসি সার ডিলার রয়েছে ৮টি। আর বিএডিসি সার ডিলার রয়েছে ১৩টি। ৬টি ইউনিয়ন এলাকায় সাব-ডিলার খুচরা বিক্রেতা রয়েছে ৬৩টি। বর্তমানে বোরো মৌসুমে ধানের জমিতে সার দেওয়ার কাজ চলছে। কিন্তু কৃষকরা সরকারি বাজার মূল্য অনুযায়ী সার কিনতে পাচ্ছেন না। এতে করে অনেক গরিব শ্রেণির কৃষকরা ধান রোপণ করে বিভিন্ন সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন।
সরকার নির্ধারণ করে দেওয়া সারের বাজার মূল্য পটাশ ২০ টাকা, ইউরিয়া ও টিএসপি ২৭ টাকা, ডিএপি ২১ টাকা কেজি করে খুচরা বিক্রি করতে হবে। কৃষকদের অভিযোগ, যে সারগুলো ধানে দেওয়ার বেশি প্রয়োজন রয়েছে, সে সারগুলো ডিলাররা বিভিন্ন অজুহাত দেখায়ে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে রেখেছেন। অবশ্য বেশি টাকা দিলে সবরকম সার খোলা বাজারে পাওয়া যাচ্ছে। গণ্ডগোহালী গ্রামের কৃষক দুলাল মিয়া বলেন, সারের কোনো সংকট নেই। বিসিআইসি ডিলাররা যোগসাজশ করে খুচরা ডিলারদের দিয়ে বেশি দামে সার বিক্রি করাচ্ছেন। শুধুমাত্র কৃষি অফিসের কর্মকর্তাদের অনিয়ম ও গাফিলতির কারণে বেশি দামে কৃষকদের সার কিনতে হচ্ছে। বর্তমানে প্রতিটি ডিলারের গোডাউনে শত শত বস্তা বিভিন্ন রকম সার রয়েছে। কৃষকদের সঙ্গে প্রতারণা করে খুচরা বাজারে পটাশ বিক্রি হচ্ছে ৩০ থেকে ৩৫ টাকা, ইউরিয়া ও টিএসপি ৪০ থেকে ৫০ টাকা, ডিএপি ২৫ থেকে ৩০ টাকা কেজি করে বিক্রি করা হচ্ছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিসিআইসি এক ডিলার বলেন, সংশ্লিষ্ট কৃষি অফিসের কর্মকর্তার গাফিলতির কারণে ও তদারকির অভাবে আমাদের কয়েকজন বিসিআইসির ডিলার বেশি দাম দিয়ে গোপনে সাব-ডিলারদের নিকট সার বিক্রি করে দিয়েছেন। এরপর খুচরা বিক্রেতারা কৃত্রিম সংকট তৈরি করে অতিরিক্ত দামে বাজারে সার বিক্রি করছেন। তিনি আরো বলেন, প্রতি মাসে কৃষি অফিস সার ও বালাইনাশক ডিলারদের নিকট হতে টাকা নিয়ে থাকেন। তাই ডিলারদের বিরুদ্ধে অফিস কোনো কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারছে না। ধনঞ্জয়পাড়া গ্রামের সেলিম হোসেন নামে এক কৃষক বলেন, বিসিআইসি ডিলাররা সরাসরি কৃষকদের মাঝে সার বিক্রি করাকে ঝামেলা মনে করছে। কারণ কৃষকদের মাঝে সারের দাম বেশি নিলে মুহূর্তের মধ্যে গোপন ফাঁস হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তাই খুচরা ডিলারদের নিকট বেশি দামে সার বিক্রি করলে কোনো ঝামেলায় পড়ার সম্ভাবনা নেই। ভালুকগাছি ইউনিয়নের গোয়ালপাড়া গ্রামের সবুজ আলি বলেন, আমি ৫ বিঘা জমিতে এ বছর ধান চাষ করে বিপদে পড়ে গিয়েছি। ডিলাদের নিকটে সার নিতে গেলে তারা শুধু সার নাই নাই বলছেন। আমার মতো উপজেলার অনেক ধান চাষিরা শুধুমাত্র সারের সংকটের জন্য এবছর কম ধান লাগিয়েছেন। বেলপুকুর ইউনিয়নের কৃষক কাশেম আলি বলেন, উপজেলা কৃষি অফিস সঠিকভাবে সারের বিষয়টি দেখাশোনা করলে ডিলাররা বেশি দামে সার বিক্রি করার সাহস পেত না।
এ ব্যাপারে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা স্মৃতি রানী সরকার বলেন, এ উপজেলায় সারের কোনো সংকট নেই। চলতি মাসের ভেতর আবার নতুন করে ডিলারদের কাছে সার পৌঁছে যাবে। আর সেই সারগুলো আমরা তদারকি করে কৃষক পর্যায়ে বিক্রি করব। ক্ষুদ্র ডিলাররা অতিরিক্ত দামে সার বিক্রি করলে বা কেউ অভিযোগ দিলে তাদের বিরুদ্ধে মোবাইলকোর্ট পরিচালনা করা হবে।