ছড়া ও কবিতা
৩ জুলাই ২০২৫ ১২:৩৭
ঠা ঠা
নূরুন্নাহার নীরু
রোদ পড়ে ঠা ঠা
মাঠে কী বা ঘরেতে,
গ্রীষ্মের দাবদাহ
বাতাসের পরেতে।
খালে বিলে খাঁখাঁ
জল নেই জলাধারে,
দাবানল ছড়াতে
নেই যেন বাধারে।
সূর্যের ঝিকঝিকি
কমে নাতো বাড়ে যে,
অভিমান মেঘেদের
আকাশের পাড়ে তে।
কুণ্ঠিত ফুলগুলো
বাগানের অঙ্গে,
অবেলায় ঝরে যায়
হুতামা এ বঙ্গে।
মেঘ-রোদ লুকোচুরি
খেলা নেই আহারে,
জল নেই জল নেই
মরে জীবে হাহাকারে।
ডেঙ্গু মশা
কাজী আবুল কাসেম রতন
ডেঙ্গু মশা,
কামড় দিলে।
যেতে হবে
হাসপাতালে।
বাঁচতে হলে,
জমে থাকা
পাত্রের পানি।
করতে হবে,
ডাবের খোসা
পরিষ্কার জানি।
তা না হলে
বাঁধবে বাসা।
সব জায়গায়
ডেঙ্গু মশা।
আর নয় দেরি
প্রতিরোধ করি।
ইসরাইলের ধমনী
আবুল খায়ের বুলবুল
আকাশজুড়ে উড়ছে মিসাইল
দেখছি ধোঁয়া শুধু
যতই মেলি চোখটা নভে
দেখছি শুধু ধু-ধু।
ইসরাইলের গর্ব গুহায়
লাগুক এবার আগুন
ইরানিদের নিশ্বাসে আজ
পুড়ুক তাদের ফাগুন।
ওরা এক্কেবারই নষ্ট জালিম
বিদ্বেষী আক্রোশ
মুসলিম ওদের ঘৃণার পাত্র
নেই মুখে সংকোচ।
সুযোগ বুঝে মারছে ওরা
বিশ্বের মুসলমান
ইরান তাদের শিক্ষা দিতে
মারছে ছুড়ে কামান।
এই ইহুদির শক্ত বাহু
ভাঙতে হবে এবার
না হয় মুসলিম ক্ষতি হবে
খাইবে যে মাইর আবার॥
তাই তো এবার ইরান সেনা
গর্জে উঠলো দেখো
ঐ জানোয়ার করবে সোজা
এইটি মনে রেখো।
ছাড় দিতে আর নয়তো রাজি
ইরান দেশের খামেনি
ধুলোয় হয়তো মিশে দিবে
ইসরাইলের ধমনী॥
রঙিলা মেঘ
আবু বকর ছিদ্দীক
আমার বাড়ি বৃষ্টি এসে,
সবার বাড়ি ডুবলো যে।
উঠোন প’রে গড়াগড়ি,
আসতে তারে বললো কে?
পালিয়ে গেল আলোর বুড়ি,
আজকে নাকি ছুটি তার!
বড়শি হাতে খাটের কোণে,
মাছ ধরিতে কী দরকার?
পাখির বাসায় ঢুকলো পানি,
ব্যাঙের গর্ত যায়নি বাদ।
চুলোজুড়ে ইলশে গুঁড়ি,
মটরশুঁটি খাওয়ার সাধ।
রান্না হবে কোথায় বলো,
পেটের পোকা মরলো যে।
ঘরের ভেতর চুপিসারে,
আসতে তারে বললো কে?
ক্ষমা করে দাও
আনোয়ারুল ইসলাম
ক্ষমা করে দাও গো প্রভু
সব অধমের পাপ
দিবানিশি জ্বলছি পাপে
কর্মে অভিশাপ।
বাঁচার জন্য স্বপ্ন দেখি
মনের বলে চলি
ন্যায়ের পথে চলতে গিয়ে
মিথ্যে কথাই বলি।
সুদ ঘুষেতে ছেয়ে গেছে
এ পৃথিবী ভরে
ন্যায় নীতিতে মানবতা
গেছে দূরে সরে।
ধার হাওলাত হয় না এখন
সুদের টাকায় চলি
সব কাজেতে ঘুষের তরে
বিবেক পায়ে দলি।
হে রহিম, রহমান তুমি
ক্ষমা করে দাও
অভাগা মোরা, আমাদের
আপন করে নাও।
কথার ঝড়
ফরিদ আহমদ ফরাজী
কালবোশেখি ঝড়ের মতো
কথার ঝড়ে অকস্মাৎ
দুমড়েমুচড়ে গেলো বুঝি
জাতির অদূর ভবিষ্যৎ।
কথায় কথায় ধাক্কাধাক্কি
হচ্ছে কথার ঝড়-তুফান
সে তুফানে আমজনতার
যাচ্ছে ফেটে তাদের কান।
কথাগুলো টক-শো হয়ে
বেসামালে ছুটছে
কথা যেন মুখের ভেতর
খইয়ের মতো ফুটছে।
কথার ঝড়ে কাঁপছে স্বদেশ
কথা কখন হবে শেষ
এতো কথার খলখলানি
কোথায় পেলো বাংলাদেশ?
মিষ্টি কথা তেলতেলানো
ঝড়ের বেগে ছোটে
আড়াইপ্যাঁচের জিলাপিটার
রসালো ভাব ঠোঁটে।
কথার বানে ভেসে গেলাম
মূল কথারে খবর দে
পা চাটাদের তেলমাখানো
মিষ্টি কথার কবর দে।
নির্বাচন
মুহাম্মদ জাকির খান
আর দেরি নয় তাড়াতাড়ি
ভোট দিব ভাই ভোট,
পনেরো বছর অধিকার
করলো তারা লুট!
কেন্দ্রগুলো কুকুর দিয়ে
রেখেছিল ভরে,
আমরা তো ভাই ভীতু ছিলাম
যাইনি কভু ডরে।
কেন বলেন ভীতু ছিলাম?
করিনি বুক টান,
মরার ভয়টা অনেক ছিল
চলে গেলে প্রাণ!
ভয়কে যখন জয় করা যায়
জেতা বড় সোজা,
জেতার জন্য সবার আগে
সাহস টাকেই খোঁজা।
সামনে তোমার করতে হবে
বড় একটা বিসর্জন,
চোখ কান খোলা রেখে
করতে হবে নির্বাচন।
এক জীবনে
কুলসুম বিবি
দুঃখগুলো আকাশ ছুঁয়ে
হৃদে রক্ত ঝরে
এক জীবনে মাটির মানুষ
কত যে রূপ ধরে।
সীমার হয়ে অস্ত্র ধরে
শিরñেদের নেশা
কথার তীরে তীব্র আঘাত
এইটাই বুঝি পেশা।
সুখ পাখিটা বাসা বাঁধে
মনে হাজার কথা
কী কারণে স্বপ্ন ভাঙলো
পেলো এত ব্যথা।
মজনুর ছায়া পড়েছিল
রঙিন চোখের ভাঁজে
লাইলীর মতো তাই তো কাঁদে
সকাল দুপুর সাঁঝে।
সংস্কার ও নির্বাচন
ইব্রাহীম মনির
সবাই চায় সংস্কার,
কেউ কেউ নির্বাচন।
ব্যক্তির চেয়ে দল বড়
দলের চেয়েও জনগণ।
কারো কারো ঘাড়ে চাপে,
ফ্যাসিবাদের ভূত।
গদি দখল চিন্তা মাথায়
আধিপত্যের দূত।
দুর্নীতি দুঃশাসন চাই না,
আবার আসুক ফিরে।
গুম রাজ্যে নিখোঁজ কেউ
না হোক চিরতরে।
ক্ষমতার হাতবদল নয়,
সিস্টেমের হোক বদল।
গণবিপ্লবের উদ্দেশ্য
তবেই হবে সফল।
জ্যৈষ্ঠের দুপুর
শারমিন নাহার ঝর্ণা
জ্যৈষ্ঠ মাসের দুপুর বেলা
রোদে উষ্ণ মাখা,
গাঁয়ের বধূ বাতাস করে
হাতে নিয়ে পাখা।
দুপুর হলে টিনের চালে
রোদের ঝিলিক পড়ে,
পাকা আমের সুঘ্রাণ ভাসে
সবার ঘরে ঘরে।
দুপুর হলে গরম থাকে
পুকুর পাড়ের জল,
খোকা-খুকু নাইতে গিয়ে
করে কোলাহল।
বানভাসি
মুহা. খোরশেদ আলী মণ্ডল
আষাঢ়ে প্রসার ঘটে
খাল, বিল, নদী
বন্যার জলধারা
বহে নিরবধি।
দু’কূল উপচে পড়ে
রাক্ষসী জল,
কেড়ে নেয় কৃষকের
শেষ সম্বল।
খাল, বিল, নদনদী
জল আর জল
চারদিকে শোনা যায়
নানা কোলাহল।
বানভাসি মানুষেরা
হয়ে অসহায়,
সোনার পালঙ্ক ছেড়ে
মাটিতে লুটায়।
চাল নেই চুলা নেই
নেই ঘরবাড়ি,
মুক্ত আকাশতলে
লাখ নর-নারী।
সারা দিন অন্তেও
জোটে না রান্না,
কে শোনে বানভাসির
বুকফাটা কান্না?
আমাদের হামজা
আসাদ সরকার
নতুন করে বিশ্ববাসী
চিনবে সোনার দেশটা,
ফুটবলটাকে রঙিন করতে
হামজা করছে চেষ্টা।
দেশের জন্য নিজের জীবন
রাখতে পারে বাজি,
টিভির পর্দায় নয়ন মেলে
দেখতে পারো আজি।
দেখতে পারো ফুটবলপ্রেমী
হামজার পায়ের জাদু,
টিভির পর্দায় বসে বসে
ছোট্ট বড় দাদু।
ইউরোপে মেসি নেইমার
ম্যারাডোনা পেলে,
পল্লী মায়ের টুকরা হামজা
বাংলার দামাল ছেলে।
হামজা ভাইয়ের খেলা দেখে
সবাই গিয়ে মাঠে,
খেলা থাকলে হামজা ভাইয়ের
কেউ বসে না পাঠে।
শাস্তি দিতে
মেছবাহ উদ্দিন মারুফ
যখন তুমি হাসতে থাকো
কাউকে দিয়ে ঘাত,
প্রলয় তখন প্রস্তুতি নেয়
ভাঙতে তোমার হাত।
অবাক হচ্ছো, আপনা-আপনি
কীভাবে হয় তা-
কেমন করে গায়ে এসে
পড়বে আজিব ঘা!
বলছি খুলে ওই বিস্ময়ের
উৎপত্তি কোথায়-
অপরাধের শাস্তি দিতে
কে প্রলয় পাঠায়।
সেটা মূলে দুর্বলের শাপ
জলদি পান মালিক,
পেয়েই তাকে পাঠিয়ে দেন
বানিয়ে সৈনিক।