আলোকে তিমিরে

সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় এ দেশের মানুষ দুর্নীতিবাজ হয়েছে

মাহবুবুল হক
৩ জুলাই ২০২৫ ১২:২০

ঢাকা থেকে জেদ্দা হয়ে লন্ডনে এসেছি। পুরো ভ্রমণে হুইল চেয়ার থাকবে, সে শর্ত দিয়েই সৌদিয়া এয়ারলাইন্সের টিকিট কাটা হয়েছে। এক জায়গা ছাড়া কোথাও কোনো সেবক আমাদের কাছে টিপ্স চায়নি। চেয়েছে বাংলাদেশে অর্থাৎ হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে। তাও ওপরতলা থেকে নিচতলায় আমাদের হেঁটেই নামতে হয়েছে। অন্যান্য জায়গায় তো মাইলেরও বেশি সেবকদের হুইল চেয়ার পুশ করে করে বা ব্যাটারিচালিত ছোট গাড়ি দিয়ে গন্তব্যে পৌঁছাতে হয়েছে। আশ্চর্যের বিষয় ছিল, আমার জীবনসঙ্গীর কাছ থেকে দুজন মহিলা সেবক সবার সামনেই টিপসের টাকা অবলীলাক্রমে গ্রহণ করেছে।
বিষয়টি খুবই ছোট এবং দরিদ্রদের মধ্যকার খুঁটি-নাটি বিষয়। জেদ্দায় যে দুজন সেবক ছিলেন, তাদের দায়িত্ব ছিল আমাদের এক বিমান থেকে নামিয়ে দূরবর্তী আরেক বিমানে তুলে দেয়া। ট্রানজিট ছিল আমাদের। তারা ছিলেন পশ্চিমবঙ্গের বাঙালি। দরিদ্র বাঙালি। কথায় কথায় বলছিলেন, বর্তমান বেতনকাঠামোয় তাদের পোষায় না।
ইংল্যান্ডের গ্যাটউইক এয়ারপোর্টে ছিলেন মাত্র একজন সেবক। দুটি হুইল চেয়ার তিনি পালাক্রমে একাই বহন করেছেন এবং একাই বিল্ডিংয়ের ভেতর দিয়ে ব্যাটারিচালিত গাড়ি চালিয়ে ‘এক্সিট পয়েন্টে’ আমাদের নামিয়ে দিয়েছেন। পাকিস্তানি মধ্যবয়সী। অর্থের অভাবে বিয়ে-শাদী করতে পারেননি। তবে তার দাদা চারজন এবং তার বাবা তিনজনকে বিয়ে করেছেন।
ভারতীয় ও পাকিস্তানি তাদের নিজ নিজ দেশের সম্মান ও মর্যাদা এবং নিজেদের ইজ্জত রক্ষা করতে পেরেছেন, আমরা পারিনি। যদিও বাংলাদেশি, পাকিস্তানি ও ভারতীয়- সবাই ছিলেন দরিদ্র বা হতদরিদ্র। দারিদ্র্য মানুষকে সবসময় আত্মপরিচয় ভোলাতে শেখায় না। গরিব মানুষ সবসময় হীনম্মন্য হয় না। সহায়-সম্বলহীন মানুষ সবসময় ডুবে যাওয়ার ভয়ে সন্ত্রস্ত থাকেন না। বিশ্বাস করুন, শাহজালাল বিমানবন্দরের নারী সেবকদের সাজ-সজ্জা ছিল ভারতীয় ও পাকিস্তানি সেবকদের তুলনায় অনেক কালারফুল ও অনেক দামি। তাহলে আমাদের জাতিসত্তা কি দুর্নীতির সাথে সম্পৃক্ত?
ইতোমধ্যে বিএনপির ব্যারিস্টার জমির উদ্দীন সরকারের সুসন্তান লন্ডনপ্রবাসী ব্যারিস্টার নওশাদ জামির ও তার জীবনসঙ্গী ড. সোনিয়া জামান খান (সলিসিটর) জামাই ও মেয়েসহ আমাদের সবাইকে তার বাসভবনে ডিনারের দাওয়াত দিয়েছেন। আমাদের পায়ের অবস্থা ভালো ছিল না বলে আমরা ক্ষমা চাই। আমরা বরং মেয়ে-জামাইবাবাজীকে বলি, তোমরা বরং তাদেরসহ আরো কলিগদের তোমাদের বাসায় দাওয়াত দাও, দেশ নিয়ে কিছু আলাপ-আলোচনা করি। মেয়ে-জামাই রাজি হয়ে সাথে সাথে অনেককে ফোন করলো। সবাইকে পাওয়া গেল না। সমবেত হলেন উপর্যুক্ত দুজন ছাড়া ব্যারিস্টার আশিকুর রহমান (সলিসিটর) ও তার জীবনসঙ্গী তিথি রহমান (ঢাবি), আইনজীবী আবরার রহমান, ব্যারিস্টার আরাফাত হাবীব, ব্যারিস্টার সাবাবা তাবাসসুম (সলিসিটর), আইনজীবী হাবীব (সলিসিটর) এবং আমি ও আমার জীবনসঙ্গী।
শুরুতেই এমআইটি ও অক্সফোর্ডের মেধাবী ও ধীমান ছাত্র ব্যারিস্টার নওশাদ জামির মাগরিব সালাতের কথা বললেন- আমরা খুশি হলাম এবং জামাতে সালাত আদায় করলাম। ড. সোনিয়া হাসতে হাসতে বললেন, আমাকে ডাকলেন না কেন, আমি তো আপনাদের পেছনে নামাজ পড়তে পারতাম। বললাম, ভুল হয়ে গেছে। বললেন, ‘আব্বার ইমামতিতে আমরা সবাই বাসায় জামাতের সাথে নামাজ পড়তাম।’
জায়নামাজ গুছিয়ে যার যার আসনে বসতে বসতেই ড. সোনিয়া আমাকে উদ্দেশ করে বললেন, আচ্ছা চাচা, ইলেকশন কি হবে? আমি পজিটিভ কিছু বলার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম। এর মধ্যে কে যেন বলে ফেলল, আরে ভবিষ্যদ্বাণী বলার জন্য চাচাজানকে বিরক্ত করছো কেন? সোনিয়া তখন নিজেই বলল, নানা অজুহাতে ইলেকশন পেছাতে পেছাতে অবস্থা এমন দাঁড়াবে যে, ইলেকশনই হবে না।
আমি বললাম, নওশাদ চাচা যদি নির্বাচনে জিতে যান, তাহলে তার ক্ষতি হবে এবং হেরে গেলেও তো ক্ষতি হবে। এক সাথে সবাই যেন বলে উঠলেন, এটা আবার কেমন ধরনের পোলারাইজেশন বা ন্যারেটিভ! আমার জবাব শোনার জন্য সবাই উৎসুক হয়ে উঠলো। বললাম, খুব সহজ সমীকরণ। যেসব দলের সুনির্দিষ্ট আদর্শ আছে বা আদর্শিক গোল আছে, তাদের ক্যান্ডিডেট জিতলে তো উত্তম, তাদের ডেসটিনির দিকে তারা কিছুটা হলেও এগিয়ে গেল। আর হেরে গেলেও ইত্যবসরে তারা তো দলের উদ্দেশ্য, লক্ষ্য, আদর্শ বা কর্মসূচি জনগণের সামনে তুলে ধরতে পারল। এটা বড় ধরনের লাভ। দলের ভবিষ্যতের জন্য লাভ। কিন্তু চাচার দল বিএনপির কোনো সুনির্দিষ্ট আদর্শ, উদ্দেশ্য, লক্ষ্য বলতে তেমন কিছু নেই। এবার এ জায়গায় ব্যক্তি তথা ক্যান্ডিডেট ইনভল্ব। প্রার্থীর কমিটমেন্ট এবং ইনভল্বমেন্ট এখানে এখন চূড়ান্ত কথা। নির্বাচনে প্রার্থী, তার আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু-বান্ধব, পাড়া-প্রতিবেশী, দল এবং সরকার- এ তিন বা চার ইনস্টিটিউশন খরচ করবে। প্রার্থী হারলে সরকার ছাড়া অন্য সবাই নিজ নিজ ক্ষেত্রে বিপুল ক্ষতির সম্মুখীন হবে। এই ক্ষতি পূরণ হওয়ার নয়। প্রার্থী ও দলের সুনাম নষ্ট হবে, জনপ্রিয়তা নষ্ট হবে। জিতলে বা বিএনপির সৎ প্রার্থী জয়লাভ করলে লাভ হবে শুধু বিএনপির। সৎ প্রার্থী তো ঘুষ খাবে না, অন্যায়ভাবে সম্পদ অর্জন করবে না, সরকারি সম্পদ-সম্পত্তি দখল করবে না, তখন তার লাভ হবে কীভাবে? যেমন নওশাদ চাচার কথাই যদি ধরি, তার এলাকার সরল মানুষ তার ঐতিহ্যিক পরিবার এবং তাকে সৎ, শিক্ষিত ও ভালো মানুষ বলে জেনে আসছেন। কিন্তু এটাই তো এখন নির্বাচনে জেতার ক্রাইটেরিয়া নয়, বরং পরাজিত হওয়ার প্রধান অনুষঙ্গ বা ক্রাইটেরিয়া। বাংলাদেশের সহজ-সরল মানুষ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারুক বা না পারুক, একটা বিষয়ে স্থির সিদ্ধান্ত নিয়ে বসে আছে, ‘যে নিজে খেতে পারবে এবং নির্বাচনী এলাকার মানুষকে দিতে পারবে বা খাওয়াতে পারবে, তাকেই আমরা ভোট দেব বা নির্বাচিত করবো।’ এটা একটা চরম সত্য ও বাস্তব বিবেচনা হলেও খুবই স্বার্থপর ও অনৈতিক বিষয়। নওশাদ চাচা নিজে খেতে পারবেন না বা খাওয়াতে পারবেন না- এ বিষয়টি তার নির্বাচনী এলাকার প্রতিটি মানুষ জানে। এ জায়গায় পৌঁছে তাহলে আমরা কী সিদ্ধান্ত নিতে পারব?
নওশাদ চাচা বললেন, বিএনপির লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য আছে, আর তা হলো বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ ও ইসলাম। ইসলামী দলগুলোর সাথেই তো বিএনপির সম্পর্ক ভালো। এ বিষয়ে জিয়া ও খালেদা জিয়ার আমলের অনেক ভালো ভালো উদাহরণ তিনি পেশ করলেন। যেমন তার শ্রদ্ধাভাজন আব্বাজানসহ ডানপন্থী বহু প্রাজ্ঞ, বিজ্ঞ ও দেশপ্রেমিক রাজনীতিবিদকে জিয়াউর রহমান বিএনপির সাথে সম্পৃক্ত করে বিএনপিকে সমুজ্জ্বল করেছিলেন। দেশকে একটা মডেল দেশে পরিণত করতে চেয়েছিলেন। প্রতিটি মুসলিম দেশের সাথে সম্পর্ক বৃদ্ধির চেষ্টা করেছিলেন। জিও পলিটিক্সের দিকে দৃষ্টি নিক্ষেপ করলে দেখা যায়, শুধু প্রতীচ্যে নয়, প্রাচ্যের দিকে তিনি আন্তরিকভাবে হাত বাড়িয়েছিলেন। বললাম, এখন তো চাচা সেসব কিছু নেই। আপনার দলে ইসলামপন্থি বলে নাÑ বোঝা বা অবুঝ কিছু লোক থাকতে পারে, যাদের কোনো ভূমিকা নেই। খালেদা জিয়ার আমল থেকেই দেখুন, আপনার দলে মহাসচিব কারা হয়েছেন! হয় তারা বামপন্থি, না হয় আওয়ামী লীগের মতো সেক্যুলার। বামপন্থিদের মধ্যে যারা চীনপন্থি, তারাই বেশিরভাগ আশ্রয় নিয়েছে বা আশ্রয় পেয়েছে বিএনপিতে। জিও পলিটিক্সের কারণে কমিউনিজমের শুরু থেকেই ভারত রাশিয়ার দিকে ঝুঁকেছে। রাশিয়াও বড় দেশ হিসেবে ভারতকে বন্ধু দেশ হিসেবে বরণ করে নিয়েছে। চীনাদের মধ্যে নিজস্ব মূল্যবোধ সৃষ্টির জন্য মাওসেতুং সাংস্কৃতিক বিপ্লবের ডাক দিয়েছিলেন। এই ডাক বা বাধ্যতা তেমন কোনো কাজে আসেনি। বরং পাশ্চাত্যের কৃষ্টি ও সংস্কৃতি চীনারা গ্রহণ করে নিয়েছে এবং সাথে সাথে প্রতীচ্যের গুণগত বিষয়, মানগত বিষয়, সাসটেইনবল বিষয়, টেকসই উৎপাদন বিষয়কে বাদ দিয়ে নন-সাসটেইনবল উৎপাদনকে গ্রহণ করে। প্রতীচ্য ছিল যেখানে ‘লাইফলং’, সেখানে চীনারা আনলো ‘ওয়ানটাইম।’ এই ‘ওয়ানটাইম’ ফিলসফি চীনাদের সমৃদ্ধ করলো। প্রতীচ্য উৎপাদনে হেরে গেল। ভারী, মজবুত, দৃষ্টিনন্দন উৎপাদন ধীরে ধীরে বন্ধ হওয়ার উপক্রম হলো। এর পরিবর্তে বিশ্বব্যাপী এসে গেল চীনাদের হালকা, পাতলা, ক্ষণভঙ্গুর উৎপাদন। বাজারজাত করে ফেললো চীনারা। সস্তা এবং আপাত কাজের, এদিকেই ঝুঁকে গেল গোটা বিশ্ব। অস্ত্রশস্ত্র, কামান, বিমান সবই চলে এলো সস্তায়। প্রতীচ্যে উৎপাদনে ছিল ‘লংলাইফ’ বা ‘লাইফলং’, কিন্তু মানুষের সাথে মানুষের সম্পর্কের ক্ষেত্রে ‘লং’ বিষয়টা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে বিলীন হতে শুরু করে। ফিলসফি, সংস্কৃতি, দর্শন, সভ্যতা ধীরে ধীরে ‘ওয়ানটাইম’-এর দিকে ধাবিত হয়। এরই নাম বিশ্বায়ন। এরই নাম ‘ফ্রি ইকোনমি’।
চীনের ‘ওয়ানটাইম’ ফিলসফি বিএনপি দ্রুতই গ্রহণ করে। এখন এদিকেই এগিয়ে যাচ্ছে বিএনপি। একসময় বিএনপি ছিল স্বৈরাচারের (ফ্যাসিবাদের) অলটারনেটিভ বা বিকল্প। যারা আওয়ামী লীগ করতো না, তারা (সেক্যুলাররা) বিএনপির দিকে মুখ ফেরাতো। এখন এই দুই বড় সেক্যুলার দল একই পাটাতনে।
আমার কথা শুনে সবাই একটু নড়েচড়ে বসল। হাতে হাতে ডিনারের প্লেট এসে গেল। বললাম, আসো আমরা খেতে খেতে আলাপ করি।
সম্ভবত ব্যারিস্টার আশিক সবার কাছেই জিজ্ঞেস করলেন, আচ্ছা আমাদের দেশের মানুষ কবে থেকে ‘এত খাই খাই’ বা ‘পাই পাই’ অবস্থায় চলে গেল? ছোটবেলায় তো শুনেছিলাম বা দেখেছিলাম এ দেশের মানুষ ভালো ছিল। তো ভালো মানুষ হঠাৎ খারাপ হতে গেল কেন?
ব্যারিস্টার নওশাদ বলতে লাগলেন, মুক্তিযুদ্ধের পর দেখা গেল সমাজের একশ্রেণির মানুষ শত্রু-সম্পত্তি থেকে শুরু করে পরিত্যক্ত সম্পত্তি, সম্পদ, সরকারি জমি-জমা, হাট-বাজার, ঘাট, গাছপালা, পুকুর, দীঘি, হাওর, বিল, বাড়িঘর, দুয়ার সব লুটপাট করতে লাগল এবং এসব তারা নিজেদের নামে রেজিস্ট্রারিও করতে পারল, তখন থেকেই মানুষের মনের লোভ-মোহ জাগ্রত হতে থাকলো। মুক্তিযুদ্ধের নাম করেই এ হীন কাজ শুরু হয়েছিল। পরবর্তীতে দেখা যায়, এদের অধিকাংশই ছিল ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব তো বলেছিলেন, আমার চারদিকে শুধু চাটার দল। বিদেশ থেকে সাড়ে সাত কোটি কম্বল এলো, আমার কম্বলটা তো আমি পেলাম না।
সলিসিটর হাবীব বললেন, আমি তো শুনেছি, প্রথমে নির্বিঘ্নে লুটপাট করেছে ভারতীয় সৈন্যরা। তারপর ভারতীয়দের সাথে যোগসাজশ করে চোর-ডাকাতরা। এরপর ধীরে ধীরে মুক্তিযোদ্ধারা আওয়ামী লীগের এবং তাদের অঙ্গ সংগঠনের লোকজন। শেখ মুজিবের আমলে ব্যাপকভাবে লুটতরাজ হয়েছিল, ফলে ১৯৭৪ সালে দেশময় দুর্ভিক্ষ সৃষ্টি হয়েছিল। সেই পরম্পরা চলতে থাকে। এরশাদের ৯ বছর শাসনামলে দেশের ৫০% মানুষ অন্যায়কারী ও লুটপাটকারী বনে যায়। একানব্বুইয়ের পর থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত এ দেশের অধিকাংশ মানুষ দুর্নীতিপরায়ণ হয়ে ওঠে। কোনোরকম বাধা-বিঘ্ন ছাড়াই অন্যায়কারী মানুষ হাজার হাজার কোটি টাকার মালিক বনে গেছে। পতিত সাবেক প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, আমার পিয়নও তো চারশত কোটি টাকার মালিক হয়েছে। তাই দেখা যায়, মূলত সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় ও প্রযোজনায় এ দেশের ভালো মানুষ খারাপ মানুষে পরিণত হয়েছে। যার প্রতিক্রিয়া ও সিলসিলা আরো বেশ কয় বছর চলবে।