সংক্ষিপ্ত বিশ্ব সংবাদ
২৬ জুন ২০২৫ ১০:৪৪
ওআইসি সম্মেলনে মুসলিম বিশ্বকে ঐক্যের ডাক এরদোগানের
বিশ্বজুড়ে ইসরাইল ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধাবস্থা যখন তুঙ্গে, তখন শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রশ্নে গর্জে উঠেছে মুসলিম বিশ্বের প্রতিনিধিরা। গত শনিবার (২১ জুন) তুরস্কের ইস্তাম্বুলে অনুষ্ঠিত ইসলামী সহযোগিতা সংস্থা (ওআইসি)-র সম্মেলনে মুখোমুখি হন ৪৩টি মুসলিম দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তাদের মাঝে সবচেয়ে উচ্চকণ্ঠে বক্তব্য রাখেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তৈয়ব এরদোগান। তিনি ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুকে সরাসরি ‘শান্তির পথে সবচেয়ে বড় বাধা’ বলে আখ্যা দিয়েছেন। ইস্তাম্বুলে শুরু হওয়া দুদিনব্যাপী এ সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান। অংশগ্রহণ করেন ৪৩ দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও ৫ জন উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী। বিভিন্ন দেশের উচ্চ পর্যায়ের প্রায় হাজার খানেক প্রতিনিধি সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন। সম্মেলনে তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি ওআইসির সব সদস্যকে ইসরাইলের পদক্ষেপের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ অবস্থান নিতে হবে। সত্যিকার অর্থেই সবাইকে ইরানের সাথে সংহতি প্রকাশ করা উচিত’। তিনি আরো বলেন, ইসরাইলের আগ্রাসন বন্ধে বিশ্ব মুসলিম জাতিকে একসাথে এক সুরে কথা বলতে হবে। ইরানের বিরুদ্ধে যেভাবে সন্ত্রাসী আচরণ করা হচ্ছে, তা কেবল মধ্যপ্রাচ্যের নয়, গোটা মুসলিম বিশ্বের নিরাপত্তার জন্য হুমকি।
ওআইসি সম্মেলনের অন্যতম আকর্ষণ ছিল তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তৈয়ব এরদোগানের কড়া বক্তব্য। তিনি বলেন, ‘একের পর এক দেশে হামলা চালিয়ে নেতানিয়াহু প্রমাণ করেছেন, আঞ্চলিক শান্তি প্রতিষ্ঠায় তিনিই সবচেয়ে বড় বাধা। আমি ইসরাইলের এসব হামলার জন্য তাদের তীব্রভাবে অভিশাপ দিচ্ছি। নেতানিয়াহু সরকার কূটনৈতিকভাবে কোনো সমস্যার সমাধান চান না। এরই মধ্যে সেটি স্পষ্ট হয়েছে’। সম্মেলনে অংশ নিয়ে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি স্পষ্ট করে বলেন, ইসরাইলি আগ্রাসন চলাকালীন সময়ে তারা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো আলোচনায় বসবে না। তুরস্কের আহ্বান এবং ইরানের হুঁশিয়ারির পর মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনা নতুন মাত্রায় পৌঁছেছে। ওআইসি সম্মেলনটি এ সংকট নিরসনে মুসলিম বিশ্বের একটি কৌশলগত অবস্থান নিতে পারে কি না, তা সময়ই বলে দেবে। তবে নেতানিয়াহুর ভূমিকা ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য অংশগ্রহণকে কেন্দ্র করে কূটনৈতিক মেরুকরণ এখন আরো স্পষ্ট। আল-জাজিরা।
‘সিরিয়াকে আর অস্থিতিশীল’ হতে দেবে না তুরস্ক : এরদোগান
তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তৈয়ব এরদোগান বলেছেন, চরমপন্থিদের সিরিয়াকে আবারও বিশৃঙ্খলা ও অস্থিতিশীলতার দিকে নিয়ে যাওয়ার সুযোগ দেবে না তুরস্ক। গত রোববার (২২ জুন) দামেস্কের একটি গির্জায় আত্মঘাতী হামলায় অন্তত ২৫ জন নিহত হওয়ার প্রতিক্রিয়ায় এ মন্তব্য করেন এরদোগান। এরদোগান বলেন, ‘আমরা কখনই আমাদের প্রতিবেশী এবং ভাই সিরিয়াকে… প্রক্সি সন্ত্রাসী সংগঠনের মাধ্যমে অস্থিতিশীলতার নতুন পরিবেশে টেনে নিয়ে যেতে দেবো না।’ ‘প্রক্সি’ গোষ্ঠী বলতে কাদের বোঝানো হয়েছে, তা ব্যাখ্যা না করলেও এরদোগান প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন যে তুরস্ক ‘সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে সিরিয়া সরকারের লড়াইকে সমর্থন অব্যাহত রাখবে’।
সিরিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা সানা গত ২৩ জুন সোমবার দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, দামেস্কের ডোয়াইলা এলাকার মার ইলিয়াস গির্জায় আত্মঘাতী বোমা হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ২৫ জনে দাঁড়িয়েছে। ডিসেম্বরে সিরিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের পতনের পর দামেস্কে এটিই প্রথম আত্মঘাতী বোমা হামলা।
সিরিয়ার সরকার এ হামলার জন্য ইসলামিক স্টেট (আইএস) এর জঙ্গিদের দায়ী করেছে। তবে আইএস বা অন্য কোনো গোষ্ঠী এখনো হামলার দায় স্বীকার করেনি। এই হামলাকে ‘জাতীয় সহাবস্থানকে দুর্বল করার এবং দেশকে অস্থিতিশীল করার’ প্রচেষ্টা হিসেবে অভিহিত করেছে সিরিয়ার অন্তর্বর্তী সরকার। আসাদকে ক্ষমতাচ্যুত করা ইসলামপন্থি এইচটিএস বিদ্রোহীদের মূল সমর্থক ছিল তুরস্ক। বর্তমানে এইচটিএস এর নেতা আহমেদ আল-শারা সিরিয়ার অন্তর্বর্তী সরকারের প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। আইএস এবং অন্যান্য জঙ্গি গোষ্ঠীর হুমকির বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য সামরিক সহায়তারও প্রস্তাব দিয়েছে তুরস্ক। সানা।
ইউক্রেনে রাশিয়ার ‘ব্যাপক’ বিমান হামলায় ১০ জন নিহত
ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভ এবং এর আশপাশের এলাকায় ‘ব্যাপক’ রাশিয়ান ড্রোন এবং ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় কমপক্ষে ১০ জন নিহত হয়েছেন বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। ইউক্রেনীয় বিমান বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, রাশিয়া রাতারাতি ৩৫২টি ড্রোন এবং ডেকয়, ১১টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং পাঁচটি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে যে, লক্ষ্যবস্তুতে পৌঁছানোর আগেই বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বেশিরভাগ প্রজেক্টাইলকে আটকে দেয়। কিয়েভ সামরিক প্রশাসনের প্রধান তৈমুর তাকাচেঙ্কো এক বিবৃতিতে বলেছেন, ‘রাজধানীর ওপর আরেকটি বড় আক্রমণ। সম্ভবত শত্রুপক্ষের ড্রোনের বেশ কয়েকটি ঢেউ’। তাকাচেঙ্কো টেলিগ্রামে বলেন, ‘রাশিয়ানদের ধরন বদলে গেছে- যেখানেই মানুষ আছে সেখানেই হত্যা করা’। ‘আবাসিক ভবন, আশ্রয়কেন্দ্র থেকে বেরিয়ে আসার পথ- এটি রাশিয়ান স্টাইল’।
জরুরি পরিষেবাগুলো জানিয়েছে যে, বিশাল আক্রমণটি আবাসিক ভবন, হাসপাতাল, ক্রীড়া অবকাঠামো এবং বোমা আশ্রয়স্থল হিসেবে ব্যবহৃত একটি মেট্রো স্টেশনের প্রবেশপথকে লক্ষ করে করা হয়। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ইহোর ক্লাইমেনকো টেলিগ্রামে বলেছেন, হামলায় কিয়েভের ১০টি জেলার মধ্যে ছয়টি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং কমপক্ষে ১০ জন আহত হয়েছে। ক্লাইমেনকো বলেন, ‘কিয়েভের শেভচেনকিভস্কি জেলায় বেশ কয়েকজন নিহত হয়েছেন, যেখানে একটি আবাসিক বহুতল ভবনের সম্পূর্ণ প্রবেশপথ ধ্বংস হয়ে গেছে। ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনও মানুষ আটকে আছে’। কর্তৃপক্ষের মতে, গত ২২ জুন রোববার গভীর রাতে চেরনিহিভ অঞ্চলে একটি স্বল্প-পাল্লার ড্রোন হামলায় দুইজন নিহত এবং তিন শিশুসহ ১০ জন আহত হয়েছেন। কিয়েভ থেকে প্রায় ৮৫ কিলোমিটার (৫৩ মাইল) দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত বিলা তেরকভা শহরে রাতে আরো একজন নিহত এবং আটজন আহত হয়েছেন। আল-জাজিরা।
মধ্যপ্রাচ্যের ক্যানসার ইসরাইল : কিম জং উন
ইসরাইলকে মধ্যপ্রাচ্যের ক্যানসার বলে মন্তব্য করেছেন উত্তর কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট কিম জং উন। একইসাথে দেশটি এ অঞ্চলে শান্তি বিনষ্ট করছে বলেও উল্লেখ করেছেন তিনি। গত বৃহস্পতিবার (১৯ জুন) উত্তর কোরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতি এ তথ্য জানিয়েছে। বিবৃতিতে ইসরাইলের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধেরও অভিযোগ আনা হয়। উত্তর কোরিয়ার ভাষ্য অনুযায়ী, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা শক্তিগুলোর পৃষ্ঠপোষকতায় ইসরাইল এ ধরনের কার্যকলাপ চালিয়ে যাচ্ছে। উল্লেখ্য, গত ১৩ জুন ইসরাইল ইরানের রাজধানী তেহরানে বিমান হামলা চালায়। এতে সামরিক ও পারমাণবিক স্থাপনায় ক্ষয়ক্ষতির পাশাপাশি ইরানের একাধিক শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তা ও পরমাণু বিজ্ঞানী নিহত হন। পাল্টা জবাবে ইরান ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় ইসরাইলের বিভিন্ন স্থানে। এ সংঘাত সাত দিন ধরে চলছিল। রয়টার্স।
ইরানে মার্কিন হামলার তীব্র নিন্দা ইসলামাবাদের
২০২৬ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কারের জন্য মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে মনোনীত করার ইসলামাবাদের আকস্মিক সিদ্ধান্তের মাত্র ২৪ ঘণ্টা পর গত রোববার (২২ জুন) ভোরে ইরানের ফোর্দো, নাতাঞ্জ এবং ইস্ফাহানে দেশটির পারমাণবিক স্থাপনাগুলোয় বিমান হামলার মাধ্যমে আমেরিকার আন্তর্জাতিক আইনের সব নিয়ম লঙ্ঘন করেছে বলে নিন্দা জানিয়েছে পাকিস্তানের শাহবাজ শরীফ সরকার। পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় একটি বিবৃতি জারি করে বলেছে, ‘ইসরাইলের ধারাবাহিক হামলার পর ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোয় মার্কিন হামলার নিন্দা জানাচ্ছে পাকিস্তান। আমরা এ অঞ্চলে উত্তেজনা আরও বৃদ্ধির সম্ভাব্যতা নিয়ে গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। জাতিসংঘের সনদের অধীনে ইরানের আত্মরক্ষার বৈধ অধিকার রয়েছে। উত্তেজনা আরও বৃদ্ধি পেলে এ অঞ্চল এবং তার বাইরেও মারাত্মক ক্ষতিকারক প্রভাব পড়বে।’
এই বিবৃতির একদিন আগে ইসলামাবাদ মে’তে ভারত-পাকিস্তান সংঘাত বন্ধে ট্রাম্পের ভূমিকার কথা উল্লেখ করে ঘোষণা করেছিল যে তারা আনুষ্ঠানিকভাবে তাকে নোবেল শান্তি পুরস্কারের জন্য মনোনীত করবে। এরপর মাত্র একদিনের মধ্যেই পাকিস্তানের অবস্থান পরিবর্তন ট্রাম্পের শান্তি প্রতিষ্ঠাতা থেকে আগ্রাসনকারীতে রূপান্তরের মতোই নাটকীয়। তবে পাকিস্তানের সাবেক রাষ্ট্রদূত মালিহা লোধি বলেন, ‘আপনি শান্তির জন্য একদিন এক ব্যক্তির প্রশংসা করলেন এবং পরের দিন সে বোমা হামলার নির্দেশ দিলে নীরব থাকতে পারেন না। পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার ইরানের সাথে সংহতি প্রকাশ করে এক্সএ একটি বার্তায় লিখেছেন, আজ ইস্তাম্বুলে ৫১তম ওআইসি সিএফএম-এ আমার প্রিয় ভাই ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সৈয়দ আব্বাসের সাথে দেখা হয়েছে। আমি জাতিসংঘ সনদের অধীনে ইরানের সার্বভৌমত্ব, আঞ্চলিক অখণ্ডতা এবং আত্মরক্ষার অধিকারের প্রতি আমাদের অটল সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছি।’ ডন।
ইসরাইলেরও পারমাণবিক কর্মসূচি পরিত্যাগ করা উচিত : রাশিয়া
রাশিয়ান নিরাপত্তা পরিষদের ডেপুটি চেয়ারম্যান দিমিত্রি মেদভেদেভ বলেছেন, ইসরাইল এবং ইরান উভয়েরই তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি পরিত্যাগ করা উচিত। ‘ইরানের কি পারমাণবিক অস্ত্র আছে? আমরা জানি না, তবে আমরা জানি যে, ইসরাইলের একটি গোপন পারমাণবিক কর্মসূচি রয়েছে। আচ্ছা, জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ এবং আইএইএ-এর তত্ত্বাবধানে তাদের উভয়কেই এ ধরনের কর্মসূচি পরিত্যাগ করতে চাপ দেওয়া উচিত,’ রাজনীতিবিদ তার ভিকন্টাক্টে পৃষ্ঠায় লিখেছেন। এর আগে, রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত ভ্যাসিলি নেবেনজিয়া বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র একটি ‘প্যান্ডোরার বাক্স’ খুলে দিয়েছে এবং ‘ওয়াশিংটন মোটেই কূটনীতিতে আগ্রহী নয়’। জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস আরেকটি ধ্বংস চক্রের অবসানের আহ্বান জানিয়েছেন। এপি।
ইরান-ইসরাইল যুদ্ধবিরতি কার্যকর
টানা ১২ দিনের সংঘাতের পর ইরান ও ইসরাইলের মধ্যে যুদ্ধবিরতি শুরু হয়েছে। ইরান ও ইসরাইলের সংবাদমাধ্যমগুলো যুদ্ধবিরতি শুরুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। তবে যুদ্ধবিরতির সুনির্দিষ্ট বিবরণ এবং সময় নিয়ে এখনো বিভ্রান্তি রয়েছে। গত মঙ্গলবার (২৪ জুন) মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে। এর আগে সোমবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিকমাধ্যমে দেয়া এক পোস্টে জানান, ইরান ও ইসরাইল সম্পূর্ণ ও পুরোপুরি যুদ্ধবিরতিতে রাজি হয়েছে, যা আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পর্যায়ক্রমে কার্যকর হবে। এটি ঘোষণার প্রায় ছয় ঘণ্টা পর কার্যকর হবে। তার হিসাবে, রাত ১২টা (ইস্টার্ন টাইম) নাগাদ যুদ্ধবিরতি শুরু হওয়ার কথা।
এরপর ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন পরিচালিত ইরানের প্রেস টিভি জানিয়েছে, ইসরাইল অধিকৃত এলাকায় ইরানের চার দফা হামলার পর যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছে। ইরানের আধাসরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিম তাদের টেলিগ্রাম চ্যানেলে জানিয়েছে, যুদ্ধবিরতি ‘বাস্তবায়নের পর্যায়ে’ প্রবেশ করেছে। তবে ইরানের রাষ্ট্রীয় মিডিয়া একধাপ এগিয়ে দাবি করেছে, এই যুদ্ধবিরতি ‘শত্রুর ওপর চাপিয়ে দেয়া হয়েছে’। যদিও সুনির্দিষ্ট সময় উল্লেখ করেনি তারা। ইসরাইলি সম্প্রচারমাধ্যম চ্যানেল টুয়েলভ ও ওয়াইনেট জানিয়েছে, যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছে। তবে ইসরাইল সরকার এখন পর্যন্ত যুদ্ধবিরতি নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেয়নি। সিএনএন, তাসনিম।
ইসরাইলি হামলায় নিহত আরও ৪৩ ত্রাণপ্রার্থী
ইসরাইলি বাহিনীর আগ্রাসী হামলায় গত সোমবার (২৩ জুন) অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় আবারও প্রাণ গেল কমপক্ষে ৪৩ ফিলিস্তিনির। যুদ্ধবিধ্বস্ত এ ভূখণ্ডে অব্যাহত বোমা বর্ষণে ত্রাণপ্রার্থীদের মাঝেও ছড়িয়ে পড়েছে আতঙ্ক ও শোক। নিহতদের মধ্যে অন্তত ২০ জন ছিলেন ত্রাণ নিতে আসা সাধারণ মানুষ, যারা বিতর্কিত একটি ত্রাণসংস্থার কেন্দ্রে খাবারের আশায় জড়ো হয়েছিলেন। সোমবার ভোর থেকে গাজা উপত্যকার বিভিন্ন স্থানে ইসরাইলি সেনাবাহিনী বিমান হামলা চালায়। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা জানায়, হামলায় মোট ৪৩ জন প্রাণ হারিয়েছেন, যাদের মধ্যে ২০ জন ছিলেন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল-সমর্থিত বিতর্কিত সংস্থা গাজা হিউম্যানিটারিয়ান ফাউন্ডেশন (জিএইচএফ)-এর ত্রাণ কেন্দ্রের সামনে অবস্থানকারী ত্রাণপ্রার্থী। এ সংঘর্ষ ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হয়ে এখন পর্যন্ত অব্যাহত রয়েছে, যেখানে ফিলিস্তিনি প্রাণহানির সংখ্যা ইতোমধ্যে ৫৬ হাজার ছাড়িয়েছে। গাজার মেডিকেল সূত্রগুলো জানিয়েছে, ইসরাইলি বিমান হামলা মূলত গাজা সিটির আশপাশে, রাফা ও নেটজারিম করিডোর এলাকায় সংঘটিত হয়েছে। এসব এলাকায় বহু মানুষ খাবারের সন্ধানে জিএইচএফ পরিচালিত বিতরণ কেন্দ্রগুলোয় জড়ো হন।
গত ২৩ জুন সোমবার সকালেই ওই কেন্দ্রগুলোয় হামলার ঘটনা ঘটে, যেখানে অন্তত ১৩ জন ত্রাণপ্রার্থী গুলিবিদ্ধ হয়ে প্রাণ হারান। অন্যান্য নিহতদের মধ্যে আছেন নারী, শিশু ও বৃদ্ধরাও, যারা নিজেদের ঘরে বা তাঁবুতে অবস্থান করছিলেন। আল-জাজিরার গাজা প্রতিনিধি হানি মাহমুদ বলেন, “ইসরাইল বর্তমানে ইরানের সঙ্গে সরাসরি সংঘাতে জড়ালেও, গাজায় সামরিক অভিযান থামাচ্ছে না। একইসঙ্গে তারা একদিকে ফিলিস্তিনিদের আবাসস্থলে বোমাবর্ষণ করছে; অন্যদিকে ত্রাণ নিতে আসা ক্ষুধার্ত জনতাকে গুলি করছে।’ তিনি আরও জানান, ২৭ মে থেকে জিএইচএফ কর্তৃক বিতরণ শুরুর পর থেকেই ইসরাইল বার বার এ কেন্দ্রগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করছে। এখন পর্যন্ত ত্রাণ নিতে আসা অন্তত ৪০০ ফিলিস্তিনি নিহত ও ১,০০০ জনের বেশি আহত হয়েছেন। জাতিসংঘ ইতোমধ্যেই জিএইচএফ নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছে। সংস্থাটি অভিযোগ করেছে, এ ত্রাণ সংস্থাকে ইসরাইল একটি ‘হাতিয়ার’ হিসেবে ব্যবহার করছে এবং মানবিক সহায়তা দেওয়ার আড়ালে ফিলিস্তিনি জনগণের ওপর নির্যাতন চালাচ্ছে। এতে আন্তর্জাতিক মহলেও তীব্র সমালোচনার ঝড় উঠেছে। আল-জাজিরা।
কাতারের পরিস্থিতি ‘সম্পূর্ণ স্বাভাবিক’
আল-উদেইদ মার্কিন বিমানঘাঁটিতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে কাতারের শীর্ষ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দেশের নিরাপত্তা পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং নাগরিকদের উদ্বেগের কোনো কারণ নেই। প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ড. মজিদ বিন মোহাম্মদ আল-আনসারি কাতার টেলিভিশনে সম্প্রচারিত এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘এ হামলাকে কাতার একটি গুরুতর ও অপ্রত্যাশিত উত্তেজনা বৃদ্ধির ঘটনা হিসেবে বিবেচনা করছে। বিশেষত যখন কাতার ক্রমাগত আঞ্চলিক সংকটের শান্তিপূর্ণ সমাধানে সংলাপ ও মধ্যস্থতার চেষ্টা করে যাচ্ছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘কাতার দ্বন্দ্ব নিরসনে কূটনীতি ও সংলাপকেই একমাত্র পথ হিসেবে দেখে। আমরা সব পক্ষকে আলোচনায় ফিরে আসার এবং সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানাচ্ছি, যাতে আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা বজায় থাকে।’
কাতারি সশস্ত্র বাহিনীর ডেপুটি চিফ অব জয়েন্ট অপারেশন্স শায়েক আল-হাজরি জানান, গোয়েন্দা তথ্যের মাধ্যমে আগেই ইঙ্গিত পাওয়া গিয়েছিল, আল-উদেইদসহ আঞ্চলিক বেশ কিছু সামরিক ঘাঁটি হামলার লক্ষ্যবস্তু হতে পারে। তিনি জানান, স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৭টা ৩০ মিনিটে (২৩ জুন) কাতারের বিমান প্রতিরক্ষা ও নজরদারি ব্যবস্থা উত্তর ও উত্তর-পশ্চিম ইরান থেকে ছোড়া সাতটি ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত করে। সবগুলো ক্ষেপণাস্ত্র কাতারের আকাশসীমায় প্রবেশের পরপরই সাগরের ওপরেই সফলভাবে ধ্বংস করা হয়। প্রথম দফার পর আরও একটি ক্ষেপণাস্ত্র হামলা হয়, যেখানে ১২টি ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়। এর মধ্যে ১১টি প্রতিহত করা গেলেও একটি ক্ষেপণাস্ত্র আল-উদেইদ ঘাঁটির ভেতরে পড়ে। তবে এতে কোনো প্রাণহানি বা বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটেনি। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র জাবর আল-নুয়াইমি জানান, ভেঙে পড়া ক্ষেপণাস্ত্রের ধাতব খণ্ড থেকে ঘাঁটির কিছু অংশে ছোট-খাটো আগুন লাগলেও তা দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা হয় এবং কোনো ব্যক্তি আহত হননি। আল জাজিরা।
গাজাবাসীর দুর্দশা নিয়ে উপহাসকারী ইসরাইলি ইনফ্লুয়েন্সারের বাড়িতে ইরানের বোমা হামলা
সাম্প্রতিক ইরানের এক হামলায় ফিলিস্তিনের গাজার বাসিন্দাদের দুর্দশা নিয়ে উপহাসকারী ইসরাইলি ইনফ্লুয়েন্সার ইভ কোহেনের বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে কান্নায় ভেঙে পড়ে সে। ইরানের নিন্দা জানাতে একটি আবেগঘন ভিডিও পোস্ট করেছে সে। স্পষ্ট দ্বৈত নীতির কারণে তার এমন দুর্দশা ও কান্নার দৃশ্য সহানুভূতি পেতে ব্যর্থ হয়েছে নেটিজেনদের। উল্টো সমালোচকরা তার অতীতের ভিডিওগুলোর কথা মনে করিয়ে দিয়েছেন, যেখানে তাকে গাজার ধ্বংসপ্রাপ্ত ফিলিস্তিনিদের বাড়িগুলোকে নিয়ে উপহাস করতে দেখা গেছে। গাজাবাসীদের উপহাস করতে তৈরি করা সেই ভিডিওতে নিজেকে ক্ষতবিক্ষত দেখানোর জন্য মেকআপ পরা এ ইনফ্লুয়েন্সার ক্যামেরার সামনে নাটকীয় ভঙ্গিতে কথা বলেন। ‘কাট’ বলে চিৎকার করে ওঠেন। সে হাতে থাকা ফলটি একপাশে ফেলে দেয় এবং করতালি বাজতে থাকে।
নেটিজেনরা সমালোচনা করে লিখেছেন, ফিলিস্তিনি মায়েদের উপহাসকারী এ মহিলা হলেন- ইসরাইলি মেকআপ শিল্পী ইভ কোহেন। এই ইসরাইলি ইনফ্লুয়েন্সারের বাড়িতে বোমা হামলা হয়েছে এবং তিনি ইরানকে একটি দুর্বৃত্ত রাষ্ট্র হিসেবে সমালোচনা করে একটি ভিডিও পোস্ট করেছেন। কিন্তু তিনি মনে হয় ভুলে গেছেন যে, গাজার জনগণের ধ্বংসপ্রাপ্ত বাড়িঘর নিয়ে উপহাস করার সময় তিনি কতটা নির্লজ্জভাবে আনন্দিত ছিলেন। ডায়লগ পাকিস্তান।
গ্রন্থনা ও সম্পাদনা : আবদুল কাইউম খান