সংক্ষিপ্ত বিশ্ব সংবাদ
১০ এপ্রিল ২০২৫ ১৩:১৫
মিয়ানমারে যুদ্ধবিরতির মধ্যেও চলছে লড়াই
জাতিসংঘের মানবাধিকার কার্যালয়ের পাওয়া খবর অনুযায়ী, মিয়ানমারে যুদ্ধবিরতি ঘোষণা হওয়ার পর থেকে গত ৪ এপ্রিল শুক্রবার পর্যন্ত সেনাবাহিনী ১৪টি হামলা চালিয়েছে। খবরে বলা হয়, মিয়ানমারে স্মরণকালের ভয়াবহ ভূমিকম্পে হাজার হাজার মানুষের মৃত্যু আর বেঁচে যাওয়াদের টিকে থাকার সংগ্রামের মধ্যে ত্রাণকাজ জোরদার করতে সামরিক জান্তা সরকার এবং বিদ্রোহী গোষ্ঠীর জোট উভয়ই সাময়িক যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করার পরও লড়াই চলার খবর পাওয়া গেছে। জাতিসংঘের মানবাধিকার কার্যালয়ের পাওয়া খবর অনুযায়ী, গত ২ এপ্রিল মিয়ানমারে যুদ্ধবিরতি ঘোষণা হওয়ার পর থেকে ৪ এপ্রিল শুক্রবার পর্যন্ত সেনাবাহিনী ১৪টি হামলা চালিয়েছে। ওদিকে, মিয়ানমারের সেনাবাহিনী যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করা বিদ্রোহী জোটের দুই গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে হামলা চালানোর অভিযোগ করেছে। এ দুটি বিদ্রোহী গোষ্ঠীর একটি বলেছে, সেনাবাহিনীর চালানো হামলার জবাব দিতে গিয়েই যুদ্ধবিরতি লংঘন হয়েছে। সামরিক পরিষদের মুখপাত্র মেজর জেনারেল জ মিন তুন এক বিবৃতিতে বলেছেন, ‘অকারণেই সামরিক ঘাঁটিগুলোয় হামলা হলে আমরা এর জবাব দেব।’ তবে এ বিষয়ে মন্তব্যের জন্য বিবিসি বার্মিজের অনুরোধে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর মুখপাত্র কোনো জবাব দেননি। জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনার ভলকার তুর্ক মিয়ানমারে সামরিক অভিযান বন্ধ করে ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জন্য সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেওয়ার দিকে মনোনিবেশ করার আহ্বান জানিয়েছেন। মানবিক ত্রাণ সংস্থাগুলোকে অবাধে মিয়ানমারে প্রবেশ করতে দেওয়ারও আহ্বান জানান তিনি। মিয়ানমারে ৭ দশমিক ৭ মাত্রার ভয়াবহ ভূমিকম্প হয় গত ২৮ মার্চে। এ ভূমিকম্পে হাজার হাজার ভবন মাটির সঙ্গে মিশে গেছে। ভূমিকম্প কেড়ে নিয়েছে ৩ হাজারেরও বেশি মানুষের প্রাণ। মিয়ানমার জান্তা অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে ২০২১ সালে ক্ষমতা দখলের পর থেকেই দেশটিতে গৃহযুদ্ধ চলে আসছে। দেশজুড়ে সেনাবাহিনীর সঙ্গে বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোর লড়াই চলে আসছে। মিয়ানমারের মিলিটারি কাউন্সিল গত ২ এপ্রিলে ২০ দিনের যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করে। বিবিসি।
পাকিস্তানে ১৫ এপ্রিল কৃষক আন্দোলনের ডাক জামায়াতে ইসলামীর
পাকিস্তানে আসন্ন কৃষি সংকট ও গাজা ইস্যুতে দেশজুড়ে প্রতিবাদ কর্মসূচি ঘোষণা করেছে জামায়াতে ইসলামী। দলটির আমীর হাফেজ নাঈম উর রহমান এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, ১৫ এপ্রিল সারা দেশের কৃষকরা আন্দোলনে নামবেন, যার কেন্দ্রস্থল হবে লাহোর এবং সেখান থেকে মিছিল যাবে ইসলামাবাদে। তিনি বলেন, ‘আমরা কোনো কৃতিত্ব নিতে চাই না, তবে কৃষকদের পাশে থাকব, আন্দোলনের আয়োজন করব।’ কৃষকদের সমস্যা নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে শিগগিরই আলোচনায় বসবেন বলেও জানান হাফেজ নাঈম। সরকারের বিরুদ্ধে কৃষকদের সঙ্গে প্রতারণার অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, ‘ইউরিয়া সারের দাম আকাশছোঁয়া, সরকার দাম নির্ধারণ করলেও কৃষকদের কাছ থেকে ফসল কিনছে না।’ কৃষকদের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করতে প্রতি মণ গমের দাম ৪ হাজার রুপি নির্ধারণের দাবিও জানান তিনি। এর আগে ১১ এপ্রিল গাজায় ফিলিস্তিনিদের হত্যাযজ্ঞ ও ইসরাইলি আগ্রাসনের বিরুদ্ধে দেশব্যাপী বিক্ষোভ কর্মসূচির ঘোষণা দেয় জামায়াতে ইসলামী পাকিস্তান। লাহোরের মানসুরায় এক প্রেস কনফারেন্সে এ কর্মসূচি ঘোষণা করেন হাফেজ নাঈম উর রহমান। ডন।
ইসরাইলি বাহিনীকে এআই সরবরাহের প্রতিবাদ করায় দুই মাইক্রোসফট ইঞ্জিনিয়ার বরখাস্ত
মাইক্রোসফট সম্প্রতি দুই সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারকে বরখাস্ত করেছে, যারা ইসরাইলি সেনাবাহিনীকে এআই প্রযুক্তি সরবরাহের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন। তারা অভিযোগ করেছেন যে মাইক্রোসফট ইসরাইলি সেনাবাহিনীর গণহত্যা ও নজরদারি কার্যক্রমে সহযোগিতা করছে। এর মাধ্যমে প্রযুক্তি ও মানবাধিকার সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন উঠে এসেছে। গত সোমবার (৭ এপ্রিল) মাইক্রোসফটের এআই বিভাগের সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার ইবতিহাল আবুসাদকে ‘অনৈতিক আচরণ ও কর্তব্যে অবহেলা’র কারণে বরখাস্ত করা হয়। অপরদিকে ভানিয়া আগরওয়াল, আরেক ইঞ্জিনিয়ার, ১১ এপ্রিল কোম্পানি ছেড়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন, তবে মাইক্রোসফট তার পদত্যাগকে তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর করেছে। প্রতিবাদ শুরু হয় গত শুক্রবার (৪ এপ্রিল), যখন আবুসাদ মাইক্রোসফটের ৫০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন এবং তিনি এআই সিইও মুস্তফা সুলেমানের উপস্থাপনা থামিয়ে চিৎকার করে বলেন, ‘তোমাদের হাতে রক্ত লেগে আছে এবং মাইক্রোসফট এ গণহত্যায় সাহায্য করছে।’
এরপর আগরওয়াল এক আলাদা প্যানেলে, যেখানে উপস্থিত ছিলেন মাইক্রোসফটের সিইও সৎয়া নাদেলা, সাবেক সিইও স্টিভ বলমার এবং প্রতিষ্ঠাতা বিল গেটস, প্রতিবাদ জানিয়ে চিৎকার করেন, ‘তোমাদের সবার লজ্জা! ইসরাইলের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করো।’ এ প্রতিবাদের পর আবুসাদ মাইক্রোসফটের স্টাফ এবং এক্সিকিউটিভদের কাছে একটি ইমেইল পাঠান, যেখানে তিনি অভিযোগ করেন যে, কোম্পানি কর্মচারীদের মত প্রকাশের স্বাধীনতা দমনের চেষ্টা করছে। ইসরাইলি সেনাবাহিনী বর্তমানে এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করছে গাজার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করতে, যেখানে ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে ৫০,৭০০ এরও বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে অধিকাংশই নারী ও শিশু। এ পরিস্থিতি আরও জটিল করেছে আন্তর্জাতিক আদালতে ইসরাইলের বিরুদ্ধে চলমান গণহত্যার অভিযোগ, যা বিশ্বে এ বিষয়টির গুরুত্ব আরও বৃদ্ধি করেছে। আনাদলু এজেন্সি।
মার্কিন নৌবহরে হামলার দাবি হুথিদের
ইয়েমেনের হুথি গোষ্ঠী তেলআবিব ও মার্কিন যুদ্ধজাহাজে হামলার দাবি করেছে। গত সোমবার (৭ এপ্রিল) রাতে হুথি গোষ্ঠীর সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারে এক টেলিভিশন বক্তব্যে জানান, তারা ইসরাইলের দখলকৃত ইয়াফা এলাকায় একটি সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে। একইসঙ্গে, তারা রেড সি-তে দুইটি মার্কিন যুদ্ধজাহাজে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন দিয়ে হামলা করেছে। তবে মার্কিন পক্ষ থেকে এখনো এ হামলার বিষয়ে কোনো মন্তব্য করা হয়নি। ইসরাইলি সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তারা পূর্ব দিক থেকে আসা একটি ড্রোন প্রতিহত করেছে, যা ইসরাইলি সীমান্তে পৌঁছানোর আগে নষ্ট করা হয়। ইসরাইলের সামরিক রেডিও নিশ্চিত করেছে যে, ড্রোনটি ইয়েমেন থেকে উড়ে এসেছে। হুথি গোষ্ঠী একে তাদের শক্তি প্রদর্শন হিসেবে দেখছে বিশেষ করে ইসরাইলের গাজায় আক্রমণের পরিপ্রেক্ষিতে।
গত মাসে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হুথি গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে ‘শক্তিশালী এবং সিদ্ধান্তমূলক সামরিক ব্যবস্থা’ গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছিলেন এবং তাদের ‘সম্পূর্ণ ধ্বংস’ করার হুমকি দিয়েছিলেন। এ পরিস্থিতিতে মার্কিন বিমান হামলায় ইয়েমেনে ৭৬ জন বেসামরিক নিহত এবং ১৮২ জন আহত হয়েছে বলে হুথি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে। হুথি গোষ্ঠী ২০২৩ সালের নভেম্বর থেকে রেড সি, আরব সাগর, বাব আল-মান্ডেব প্রণালী ও গালফ অফ অ্যাডেনের জলসীমায় হামলা চালাচ্ছে, যা গাজায় ইসরাইলের হামলার প্রতিবাদে তাদের সমর্থন হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। বিশেষত ইসরাইল গাজায় মানবিক সহায়তা প্রবাহ বন্ধ করার পর, হুথি গোষ্ঠী তাদের আক্রমণ আরও তীব্র করেছে। আনাদলু এজেন্সি।
ইসরাইলের বিরুদ্ধে ‘জিহাদের’ ফতোয়া জারি
বিশ্বের সব মুসলিম ও মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশকে ইসরাইলের বিরুদ্ধে ‘জিহাদ’ করার আহ্বান জানিয়ে একটি বিরল ধর্মীয় ফরমান বা ‘ফতোয়া’ জারি করেছেন বেশ কয়েকজন বিশিষ্ট মুসলিম আলেম। গত শনিবার (৫ এপ্রিল) মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম মিডল ইস্ট আইয়ের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অবরুদ্ধ গাজার বাসিন্দাদের ওপর ১৭ মাস ধরে চলা নৃশংস ও নির্বিচার ইসরাইলি হামলার প্রতিক্রিয়ায় গত ৪ এপ্রিল শুক্রবার তারা এ ফতোয়া জারি করেন। ইউসুফ আল-কারযাভীর নেতৃত্বে গঠিত ইন্টারন্যাশনাল ইউনিয়ন অব মুসলিম স্কলারসের (আইইউএমএস) মহাসচিব আলী আল-কারদাঘি শুক্রবার সব মুসলিম দেশকে ‘এই গণহত্যা এবং ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ বন্ধে অবিলম্বে সামরিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিকভাবে হস্তক্ষেপ করার’ আহ্বান জানিয়েছেন।
আলী আর কারদাঘি ১৫ দফা-সংবলিত ওই ফতোয়ায় বলেন, ‘গাজায় ধ্বংসযজ্ঞ বন্ধে আরব ও ইসলামিক সরকারগুলো ব্যর্থ হলে তা ইসলামিক আইন অনুযায়ী আমাদের নিপীড়িত ফিলিস্তিনি ভাইদের বিরুদ্ধে বড় অপরাধ বলে গণ্য হবে।’ কারদাঘি মধ্যপ্রাচ্যের সবচেয়ে সম্মানিত ধর্মীয় নেতাদের একজন। তার ফতোয়াগুলো বিশ্বের ১৭০ কোটি সুন্নি মুসলমানের কাছে উল্লেখযোগ্য গুরুত্ব বহন করে। ‘ফতোয়া’ হলো ইসলামিক আইনি আদেশ, যা সাধারণত কুরআন বা সুন্নাহর (মহানবী হজরত মুহাম্মদ সা.-এর বাণী ও অনুশীলন) ওপর ভিত্তি করে তৈরি হয়। তিনি বলেন, ‘গাজায় আমাদের ভাইদের সহায়তার লক্ষ্যে দখলদার শত্রুদের স্থল, আকাশ ও সমুদ্রপথে অবরুদ্ধ করার দাবি জানিয়ে কমিটি (আইইউএমএস) একটি ফতোয়া জারি করেছে।’
তিনি আরো বলেন, ‘গাজার মুসলমানদের নির্মূলে কাজ করা কাফের শত্রুকে (ইসরাইল) সমর্থন করা নিষিদ্ধ, তা সে যে ধরনের সমর্থনই হোক না কেন।’ এদের কাছে অস্ত্র বিক্রি করা অথবা স্থল, পানি বা আকাশপথে সুয়েজ খাল, বাব এল-মান্দেব ও হরমুজ প্রণালির মতো আন্তর্জাতিক পানিসীমা বা বন্দরের মাধ্যমে তাদের পরিবহনকে সহায়তা করা নিষিদ্ধ। কারদাঘির বিবৃতির প্রতি অন্য আরো ১৪ জন মুসলিম আলেম সমর্থন জানিয়েছেন। ওই বিবৃতিতে বিশ্বের সব মুসলিম দেশের প্রতি তাদের সাথে ইসরাইলের শান্তিচুক্তিগুলো পর্যালোচনা করার আহ্বান জানানো হয়েছে। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের মুসলিমদের প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে চাপ দেয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে, যাতে তিনি আগ্রাসন বন্ধে এবং শান্তি প্রতিষ্ঠায় তার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতিগুলো পূরণ করেন। মিডল ইস্ট আই।
গ্রন্থনা ও সম্পাদনা : আবদুল কাইউম খান