সংক্ষিপ্ত বিশ্ব সংবাদ
২৭ মার্চ ২০২৫ ১৬:১৭
রাখাইনে জান্তার সাথে আরাকান আর্মির তীব্র লড়াই
রাখাইন রাজ্যের সীমান্তবর্তী আয়ারওয়াদি অঞ্চলের তিনটি শহরতলিতে আরাকান আর্মি এবং মিয়ানমারের জান্তা সেনাবাহিনীর মধ্যে সংঘর্ষ তীব্র আকার ধারণ করেছে। এর ফলে হাজার হাজার বেসামরিক মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে বলে স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন। মিয়ানমারের সংবাদমাধ্যম ইরাবতী জানিয়েছে, সম্প্রতি জান্তা বাহিনীর বিমান হামলা এবং গোলাবর্ষণের ফলে লেমিয়েথনা, ইয়েগি এবং থাবাউং টাউনশিপে লড়াই শুরু হয়। ফলে বন্যপ্রাণী সংরক্ষণাগার চিন লেল, টাইন কিয়াও এবং খো পিয়া অঞ্চলে লড়াই শুরু হয়। লেমিথনা শহরের একটি মঠে আশ্রয় নেওয়া খো পিয়া বলেন, তীব্র লড়াই চলছে। সব বেসামরিক লোক শহরে পালিয়ে যাচ্ছে। জান্তা বাহিনী ১৮ মার্চ থেকে পাথেইন-মোনিওয়া এবং গওয়া-নগাথাইংচাং সড়কে বেসামরিক যানবাহন বন্ধ করে দিয়ে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে।
ইরাবতী জানিয়েছে, আয়েয়ারওয়াদি অঞ্চলের রাজধানী পাথেইন থেকে ২৬ কিলোমিটার উত্তরে এবং রাখাইন রাজ্য সীমান্ত থেকে ৩৫ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থিত থাবাউংয়ে জান্তা সেনারা শহরতলির গ্রামীণ ফাঁড়ি থেকে পিছু হটছে। থাবাউং টাউনশিপের ১০টি গ্রামের ৩,০০০ বাসিন্দা তাদের বাড়িঘর ছেড়ে পালিয়ে গেছে এবং লেমিয়েথনা টাউনশিপে প্রায় ১,০০০ বাসিন্দা বাস্তুচ্যুত হয়েছে। জানুয়ারিতে আরাকান এবং তার মিত্ররা শোয়ে থাউং ইয়ান সমুদ্রসৈকতে আক্রমণ করলে সংঘাতটি আয়েয়ারওয়াদি অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে। এরপর থেকে তারা ইরাবতি ব-দ্বীপের ইয়েগি, লেমিয়েথনা এবং থাবাউং শহরতলিতে এবং বাগো ও মাগওয়ে অঞ্চলে আক্রমণ চালিয়ে যাচ্ছে। ২০২৩ সালের নভেম্বরে শাসকগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে বড় আক্রমণ শুরু করার পর থেকে সশস্ত্র গোষ্ঠী আরাকান আর্মি ১৭টি রাখাইন শহরতলির মধ্যে ১৪টি এবং পার্শ্ববর্তী চিন রাজ্যের পালেতোয়া শহরতলি দখল করেছে। ইরাবতী।
কূটনৈতিক সম্পর্কোন্নয়নে কাবুলে আফগান-পাকিস্তান উচ্চপর্যায়ের বৈঠক
আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের মধ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই কাবুলে উচ্চপর্যায়ের কূটনৈতিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত শনিবার (২৩ মার্চ) আফগান পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাওলাভি আমির খান মোত্তাকির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন আফগানিস্তানবিষয়ক পাকিস্তানের বিশেষ প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ সাদিক। এই বৈঠকে উভয় দেশ পারস্পরিক সম্পর্কোন্নয়নের পাশাপাশি বাণিজ্য, নিরাপত্তা ও শরণার্থী ইস্যুতে সহযোগিতার ওপর গুরুত্বারোপ করে। বৈঠকে আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও দৃঢ় করার বিষয়ে আলোচনা হয়। পাকিস্তানের বিশেষ দূত আফগানিস্তানের সঙ্গে কূটনৈতিক সংলাপ বজায় রাখার প্রতি তার দেশের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন। আফগান পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোত্তাকি বাণিজ্য ও ট্রানজিটের বাধা দূর করার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়ে বলেন, দুই দেশের অগ্রগতির জন্য এসব বাধা ক্ষতিকর। পাশাপাশি আফগান শরণার্থীদের সম্মানজনক প্রত্যাবর্তনের বিষয়টি আলোচনায় উঠে আসে। পাকিস্তানের বিশেষ দূত আফগান নাগরিকদের ভিসা প্রক্রিয়া সহজ করার প্রতিশ্রুতি দেন।
এছাড়া রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ সাদিক আফগানিস্তানের ভারপ্রাপ্ত শিল্প ও বাণিজ্যমন্ত্রী নূরউদ্দিন আজিজির সঙ্গেও বৈঠক করেন। এ বৈঠকে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য, অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও আঞ্চলিক সংযুক্তি বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা হয়। উভয় পক্ষ আঞ্চলিক বাণিজ্যের সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে পারস্পরিক কল্যাণ নিশ্চিত করার বিষয়ে একমত হয়। আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের মধ্যে সুষ্ঠু বাণিজ্যিক সম্পর্ক গড়ে তোলার লক্ষ্যে ট্রানজিট সুবিধা সহজ করার বিষয়টিও আলোচনার অংশ ছিল। পাকিস্তানের পক্ষ থেকে আফগানিস্তানের সঙ্গে কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক জোরদারের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়। রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ সাদিক পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ ইসহাক দারের নির্দেশে এ সফর করছেন। আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে নানা ইস্যুতে মতবিরোধ রয়েছে। তবে এ বৈঠক উভয় দেশের মধ্যে আস্থার পরিবেশ তৈরির একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ হতে পারে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা। শান্তিপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রেখে পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে দুই দেশের জন্যই দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। আরওয়াই নিউজ।
‘যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত’, যুক্তরাষ্ট্রকে চ্যালেঞ্জ ইরানের
ট্রাম্পের সময় বার বার ইরানের সঙ্গে মতবিরোধ হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের। এর আগে আমেরিকা ইরানকে নতুন পরমাণু চুক্তিতে সম্মত হতে দুই মাসের সময়সীমা বেঁধে দিয়েছিলেন। ট্রাম্পের এ নির্দেশকে ‘ঔদ্ধত্য’ বলে দাবি করেছিল ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা খামেইনি। পাল্টা ট্রাম্প হুঙ্কার দিয়েছিল ইরানকে ধ্বংস করে দেবে। এরপরই খামেইনি ট্রাম্পকে সরাসরি হুমকি দেন, আমেরিকা যেন ইরানকে নিয়ে মাথা না ঘামায়। এর ফল ভালো হবে না। আমেরিকার সঙ্গে যখন ইরানের আদায় কাঁচকলা সম্পর্কের টানাপড়েন চলছে তখন এমন আবহে মুখ খুললেন ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ। স্থানীয় সময় গত ২৩ মার্চ রোববার এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ জানান, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ইরানের সর্বোচ্চ নেতার কাছে একটি সম্ভাব্য নতুন পারমাণবিক চুক্তি নিয়ে আলোচনার প্রস্তাব পাঠিয়েছেন। এতে ইরান রাজি হলে ভালো হবে। এই চুক্তিতে দুই দেশের মধ্যে শান্তি রক্ষা সম্ভব। সবকিছু সামরিক উপায়ে সমাধান করার প্রয়োজন হবে না।
পাল্টা ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি জানান, আমেরিকার অহংকার না কমলে কোনোভাবেই আলোচনায় বসা সম্ভব নয়। ইরানের সঙ্গে চুক্তিতে বসতে হলে চাপের নীতি পরিবর্তন আনা চাই। তা আদতেও কি ট্রাম্প প্রশাসন করবে? তা নিয়ে যথেষ্ট সংশয় রয়েছে। তাই আপাতত ট্রাম্পের সঙ্গে আলোচনার বসার কথা ভাবছে না ইরান। ট্রাম্পের চিঠিকে কি হিসেবে দেখছে ইরান এ নিয়ে প্রশ্ন করা হলে আরাঘচি জানান, ‘ট্রাম্প যেটা চাইছে সেটাই যে সবসময় হবে এমন কোনো মানে নেই। আমরা আমাদের নিজস্ব স্বার্থে কাজ করি। যা কল্যাণকর সেটাই করা হয়।’ ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও স্পষ্ট করে বলেন, ‘আমরা যে ট্রাম্পের সঙ্গে আলোচনায় রাজি হচ্ছি না এর কারণ একগুঁয়েমি নয়, বরং অভিজ্ঞতা ও ইতিহাস থেকে শিক্ষা নিয়েছি। এখন যে পরিস্থিতি তাতে কিছু পরিবর্তন না এলে আমেরিকার সঙ্গে আলোচনায় বসা যাবে না। আগে আমরা পরিবর্তন দেখতে চাই। এরপর আলোচনায় বসার কথা ভাবা হবে।’ পাসটুডে।
সংঘাতে জড়ালে চীন ও যুক্তরাষ্ট্র উভয়েরই ক্ষতি : লি কিয়াং
শুল্ক যুদ্ধের উত্তেজনার মধ্যে চীন ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক এক গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণে পৌঁছেছে। বেইজিংয়ে মার্কিন সিনেটর স্টিভ ডেইনস এবং শীর্ষস্থানীয় আমেরিকান ব্যবসায়ীদের সাথে আলোচনার সময় চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াং এ বিষয়ে তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য করেন। লি কিয়াং বলেন, ‘চীন ও যুক্তরাষ্ট্র যদি শান্তিপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখে, তাহলে উভয় পক্ষই লাভবান হবে। কিন্তু যদি সংঘাতে জড়িয়ে পড়ে, তাহলে উভয় পক্ষই ক্ষতির সম্মুখীন হবে। আমাদের পারস্পরিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা নয়, সহযোগিতার মাধ্যমে সমাধানের পথ খুঁজতে হবে।’ তিনি আরো যোগ করেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র-চীন সম্পর্কের সুস্থ, স্থিতিশীল ও দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নের জন্য উভয় দেশকে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করতে হবে।’ চীনের প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, চীন সর্বদা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বব্যাপী বিনিয়োগকারীদের স্বাগত জানায়। বৈধ দাবি ও সমস্যার দ্রুত সমাধানের জন্য কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে, যাতে দেশি-বিদেশি কোম্পানিগুলোর জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত হয় এবং একটি স্থিতিশীল ব্যবসায়িক পরিবেশ গড়ে ওঠে।
মার্কিন সিনেটর স্টিভ ডেইনস, যিনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ সমর্থক। তিনি বলেন, ‘আমরা যখন ১৯৯১ সালে চীনে প্রবেশ করি, তখন চীনের অর্থনীতি ছিল প্রায় ৫০০ বিলিয়ন ডলার। গত তিন দশকে আমরা চীনের বিস্ময়কর প্রবৃদ্ধি ও পরিবর্তনের প্রত্যক্ষদর্শী হয়েছি।’ তিনি দুই দেশের মধ্যে আরো উচ্চস্তরের সংলাপের আশাবাদ ব্যক্ত করেন। ডেইনস বেজিংয়ে অনুষ্ঠিত বার্ষিক চীন উন্নয়ন ফোরাম ২০২৫-এ অংশ নেন। সেখানে মার্কিন ও আন্তর্জাতিক ব্যবসায়ীরা চীনের অর্থনৈতিক সম্ভাবনা ও চ্যালেঞ্জ নিয়ে আলোচনা করেন। এ ফোরামের অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে অনেকে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সাথে সাক্ষাতের প্রত্যাশা করছেন। শীর্ষ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াং বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য বাজার অ্যাক্সেস সম্প্রসারণের পরিকল্পনার ঘোষণা দেন। আনাদলু এজেন্সি।
সরকারবিরোধী বিক্ষোভে উত্তাল তুরস্ক
তুরস্কের রাজধানী আঙ্কারাসহ দেশজুড়ে বিক্ষোভের অভিযোগে অন্তত ৩৪৩ বিক্ষোভকারীকে গ্রেফতার করেছে দেশটির পুলিশ। গত শুক্রবার (২১ মার্চ) বিক্ষোভ চলাকালীন তাদের গ্রেফতার করা হয় বলে তুরস্কের কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। গত ১৯ মার্চ সন্ত্রাসবাদে জড়িত অভিযোগে তুরস্কের ইস্তাম্বুলের মেয়র একরেম ইমামোগলুকে গ্রেফতার করে দেশটির পুলিশ। আগামী নির্বাচনে দেশটির প্রেসিডেন্ট রজব তৈয়ব এরদোগানের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী এ মেয়রকে গ্রেফতারের পর তার মুক্তির দাবিতে দেশজুড়ে বিক্ষোভ শুরু করেন সমর্থকরা। দুর্নীতি এবং সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোকে অর্থায়নের অভিযোগে ইস্তাম্বুলের এ মেয়রকে গ্রেফতার করা হয়েছে। দেশটির আগামী ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে এরদোগানের প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে ইমামোগলুর নাম ঘোষণার কয়েক দিন আগে তাকে গ্রেফতার করা হয়। এদিকে, বিক্ষোভকারীরা মেয়রের গ্রেফতারকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত আখ্যা দিয়ে তার দ্রুত মুক্তি এবং এরদোগানের পদত্যাগের দাবি তুলেছেন। দেশটিতে তিনদিন ধরে চলা এ বিক্ষোভকে ২০১৩ সালের সরকারবিরোধী আন্দোলনের পর সবচেয়ে বড় আন্দোলন বলে দাবি করেছেন বিরোধীরা। সরকারবিরোধী এ বিক্ষোভ সামলাতে দেশটির আইনশৃঙ্খলাবাহিনীকে রীতিমতো হিমশিম খেতে হচ্ছে।
সিএইচপির নেতা ওজগুর ওজেল স্থানীয় সময় গত ২২ মার্চ শনিবার রাত সাড়ে ৮টায় ইস্তাম্বুলের সিটি হলের বাইরে তৃতীয় রাতের মতো বিক্ষোভের ডাক দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, প্রেসিডেন্ট রজব তৈয়ব এরদোগান বিক্ষোভে ভীত হয়ে পড়েছেন। তিনি একই সময়ে দেশজুড়ে লোকজনকে শান্তিপূর্ণভাবে বিক্ষোভ কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। সিএইচপির এ নেতা পুলিশের ক্ষতি করা ছাড়াই রাস্তার প্রতিবন্ধকতা গুঁড়িয়ে দিতে নেতাকর্মীদের নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি দলের নেতাকর্মীদের রাস্তা ও শহরের প্রধান কেন্দ্রগুলোতে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ পালনের আহ্বান জানিয়েছেন। গত ২২ বছর ধরে প্রধানমন্ত্রী এবং প্রেসিডেন্ট হিসেবে তুরস্কের ক্ষমতায় আছেন রজব তৈয়ব এরদোগান। ক্ষমতার মেয়াদ নিয়ে আইনি বাধা থাকায় সংবিধান পরিবর্তন ছাড়া ২০২৮ সালে আবারও প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হতে পারবেন না তিনি। বিবিসি, রয়টার্স।
ক্ষমা চাইলে ইমরান খানের মুক্তি সম্ভব: রানা সানাউল্লাহ
পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) প্রতিষ্ঠাতা ইমরান খান যদি ২০২৩ সালের ৯ মের দাঙ্গার ঘটনায় আন্তরিকভাবে ক্ষমা চান, তবে তার মুক্তি সম্ভব। দেশটির প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফের রাজনৈতিক উপদেষ্টা রানা সানাউল্লাহ এ কথা বলেছেন। ইমরান খানকে গ্রেফতারের পর ওই দিন তার সমর্থকরা বিভিন্ন স্থাপনায় ব্যাপক ভাঙচুর চালায়। ওই দাঙ্গার ঘটনার জন্য পিটিআইকে দায়ী করা হলেও তা অস্বীকার করে আসছে দেশটির সাবেক ক্ষমতাসীন দলটি। জিও নিউজের জিরগা অনুষ্ঠানে সানাউল্লাহ বলেন, ইমরান খান দেশকে রাজনৈতিক অচলাবস্থার দিকে ঠেলে দিয়েছেন। কারণ তিনি মনে করেন যে, তার কার্যক্রমের মাধ্যমে বিপ্লব আনতে পারবে। সানাউল্লাহ বলেন, কিন্তু না, বিপ্লবের কোনো সম্ভাবনা নেই। কেবল রাজনৈতিক সংগ্রামই এখানে বিজয়ের দিকে নিয়ে যাবে।
তিনি ইমরান খানের বর্তমান পদক্ষেপের মাধ্যমে সাফল্যের কোনো সম্ভাবনা দেখছেন না। এ সময় সানাউল্লাহ সাম্প্রতিক সময়ের পিটিআইয়ের কিছু লং মার্চের কথা উল্লেখ করেন। যেগুলো সরকারের নেওয়া পাল্টা পদক্ষেপে ব্যর্থ হয়। ৯ মে তারিখের জন্য ক্ষমা চাইলে কি খানের মুক্তি সম্ভব? এমন প্রশ্নের জবাবে সানাউল্লাহ বলেন, আমি মনে করি, ৯ মে তারিখের জন্য যদি তিনি ক্ষমা চান, তাহলে আলোচনা এগিয়ে যেতে পারে অথবা হয়তো আমরা কথা বলতে পারি। এর আগে তিনি বলেছিলেন, আদালত যদি পিটিআই প্রতিষ্ঠাতা ইমরান খানকে মুক্তি দেয় তবে প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফের নেতৃত্বাধীন সরকারের কোনো আপত্তি থাকবে না। গত এক বছরেরও বেশি সময় ধরে আদিয়ালা কারাগারে বন্দি রয়েছেন ইমরান খান । জিও নিউজ।
ইসলাম ও আফগান সংস্কৃতিবিরোধী বিষয় সিলেবাস থেকে বাদ দেয়ার ঘোষণা তালেবানের
আফগানিস্তানে নতুন শিক্ষাবর্ষ শুরু হয়েছে। রাজধানী কাবুলে এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন তালেবান সরকারের ভারপ্রাপ্ত শিক্ষামন্ত্রী হাবিবুল্লাহ আঘা। তিনি জানান, স্কুলের সিলেবাস পুনরায় পর্যালোচনা করা হবে এবং ইসলাম ও আফগান সংস্কৃতিবিরোধী সব বিষয় সম্পূর্ণভাবে বাদ দেয়া হবে। শিক্ষামন্ত্রী বলেন, নতুন কারিকুলাম ধর্মীয় শিক্ষা ও আধুনিক বিজ্ঞানের ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা হবে। তিনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন, ‘কারিকুলামে যেসব ইসলাম ও আফগান সংস্কৃতিবিরোধী বিষয় আছে, তা আমরা বাদ দেব। এটি কেউ মানুক বা না মানুক, আমরা এমন একটি কারিকুলাম তৈরি করব, যা ধর্মীয়, আধুনিক ও আফগান সংস্কৃতির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ।’ উল্লেখ্য, গত শুক্রবার (২১ মার্চ) দেশটিতে ১৪০৪ সৌরবর্ষের শিক্ষাবর্ষ শুরু হয়েছে। শিক্ষাবর্ষ শুরুর এ অনুষ্ঠানে শিক্ষামন্ত্রীর পাশাপাশি সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন। তোলো নিউজ।
গ্রন্থনা ও সম্পাদনা : আবদুল কাইউম খান