বেনাপোল-মোংলা কমিউটার ট্রেনে লোকসান দেখিয়ে লিজ দেওয়ার চক্রান্ত
২০ মার্চ ২০২৫ ১৫:১৯
সেলিম রেজা, বেনাপোল : বেনাপোল-মোংলা চলাচলকারী কমিউটার ট্রেনটিতে লোকসান দেখিয়ে দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলের একমাত্র লাভজনক ট্রেনটি বেসরকারি খাতে লিজ দেওয়ার চক্রান্ত করছে বাংলাদেশ রেলওয়ের কয়েকজন অসাধু কর্মকর্তা।
রেলের আর্নিং কম দেখানোর জন্য কয়েক মাস আগে থেকেই পরিকল্পিতভাবে কোচ কমিয়ে রাখা হয়। ৭ কোচের জায়গায় ৫টি কোচ দিয়ে রেল চালানো হয়। ফলে যাত্রীরা সিট না পেয়ে অনেকে দাঁড়িয়ে যাতায়াত করতো। কেউ কেউ টিকিট হাতে নিয়ে প্ল্যাটফর্মে দাড়িয়ে থাকত।
দেশের একমাত্র স্কুলের সৌন্দর্য্য উপভোগ করার জন্য গদখালীতে আসতো শত শত পর্যটক, তারা ঝিকরগাছা অথবা নাভারন স্টেশনে নামতো। বেতনা এক্সপ্রেস ট্রেনটি প্রথমে সকাল ৬টা ১০ মিনিটে খুলনা থেকে ছেড়ে এসে ৮টা ৩০ মিনিটে বেনাপোল পৌঁছায়। পরবর্তীতে সকাল ৯টা ১৫ মিনিটে বেনাপোল ছেড়ে মোংলা কমিউটার নাম দিয়ে মোংলায় পৌঁছায় দুপুর ১টায়। পুনরায় ১টা ৩০ মিনিটে মোংলা থেকে ছেড়ে বেনাপোলে পৌঁছায় বিকাল ৪টা ৩০ মিনিটে, আবার বিকাল ৫টায় বেনাপোল ছেড়ে সন্ধ্যা ৭টা ৪৫ মিনিটে খুলনায় পৌঁছায়। ট্রেনটি সপ্তাহে মঙ্গলবার ১ দিন বন্ধ থাকে।
যাওয়ার সময় ফুলতলা, মোহাম্মদ নগর, কাটাখালী, ফয়লা ও মোংলায় থামে। পথিমধ্যে ফুলতলা ও দৌলতপুরের মাঝে আড়ংঘাটা নামে একটি স্টেশন থাকলেও সেখানে থামে না, ফলে স্টেশনটি প্রায় অরক্ষিত হয়ে পড়েছে। কয়েকটি ফ্যান ও চুরি হয়েছে বলে জানা যায়। বেসরকারি খাতে ট্রেনটি পরিচালিত হলে মাঠের মধ্যে স্টেশনে ইটও থাকবে না বলে অনেকে মনে করেন। বেনাপোল, খুলনা, মোংলা যাতায়াতের ক্ষেত্রে ট্রেন ভাড়া বাসের ভাড়ার তুলনায় অর্ধেকেরও কম। সে কারণেই যাত্রীরা বেশ স্বাচ্ছন্দ্যে ট্রেন ভ্রমণ করে থাকে।
যদিও ভারতীয় ট্যুরিস্ট ভিসা বন্ধ সে কারণে যাত্রীও কম। তথাপিও বেতনা এক্সপ্রেস অথবা মোংলা কমিউটার ট্রেনে ২০২৪ সালের নভেম্বরে কাউন্টার ক্যাশ ১৯ লাখ ৪৩ হাজার ৬৫৫ টাকা এবং টিটিই ক্যাশ ২ লাখ ৯৮ হাজার ৮০ টাকা। ডিসেম্বর মাসে কাউন্টার ক্যাশ ২১ লাখ ৪৪ হাজার ৮৪০ টাকা এবং টিটি ক্যাশ ৩ লাখ ১৩ হাজার ৮৫ টাকা। এছাড়া ২০২৫ সালের জানুয়ারি মাসে কাউন্টার ক্যাশ ২১ লাখ ৩৯ হাজার ৮১৫ টাকা এবং টিটি ক্যাশ ৩ লাখ ৪০ হাজার ২৯৫ টাকা।
বেতনা এক্সপ্রেস ও মোংলা কমিউটার ট্রেনটি বেসরকারি খাতে লিজের ব্যাপারে ডি.আর.এম পাকশী এর সাথে ০১৭১১৫০৬১৩০ নাম্বারে কথা হলে তিনি জানান, বিগত ২-৩ মাস আগে ট্রেনটি বেসরকারি খাতে লিজ দেওয়ার ব্যাপারে কথা হচ্ছিলো। কিন্তু এখনো পর্যন্ত ফাইনাল কিছু হয়নি। বিষয়টি আর সামনেও এগোয়নি পেছনেও যায়নি। একরকম ঝুলে আছে। তিনি অন্য একটি জরুরি ফোন এসেছে বলে এ প্রতিবেদকের ফোন কেটে দেন।
ট্রেনটি বেসরকারি খাতে লিজ দিলে সরকারের তেল, জনবল, স্টেশন, রেলওয়ে পুলিশ, আর.এন.বি সবকিছুই দিতে হবে। শুধু টিটিই থাকবে না। বেসরকারিভাবে লিজ গ্রহণকারী তার লোকজন দিয়ে ভাড়া আদায় করে সরকারকে চুক্তি মতো টাকা দিবে।
এলাকাবাসী ও রেল যাত্রীদের দাবি তারা লাভজন এ ট্রেনটি বেসরকারি খাতে দেখতে চায় না। বিষয়টি নিয়ে তারা রেলের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ সহ রেল মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টার সুদৃষ্টি কামনা করেছেন।